(ফেব্রুয়ারি’২৬ সংখ্যায় প্রকাশিতের পর)
[যে হাদীছের ব্যাখ্যা চলছে:
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ هُوَ المَقْبُرِيُّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ النَّبِيِّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي المَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ، فَأَنَاخَهُ فِي المَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَالنَّبِيُّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَقُلْنَا: هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ المُتَّكِئُ. فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا ابْنَ عَبْدِ المُطَّلِبِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَجَبْتُكَ». فَقَالَ الرَّجُلُ لِلنَّبِيِّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي المَسْأَلَةِ، فَلاَ تَجِدْ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ؟ فَقَالَ: «سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ» فَقَالَ: أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الخَمْسَ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ نَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ فَقَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ». فَقَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ وَرَوَاهُ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الحَمِيدِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّصَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا.[
সনদে সূক্ষ্ম মতভেদ ও ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ-এর তা‘লীক্ব:
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ আলোচ্য হাদীছটি যে সূত্রে বর্ণনা করেছেন তা নিম্নরূপ— লায়ছ ইবনে সা‘দ সাঈদ আল-মাক্ববূরী থেকে, তিনি শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
ইমাম নাসাঈ[1] রাহিমাহুল্লাহ যখন হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, তখন সনদটি নিম্নরূপ— লায়ছ ইবনে সা‘দ, মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাক্ববূরী থেকে…। তথা নাসাঈর সনদে লায়ছ ইবনে সা‘দ ও সাঈদ আল-মাক্ববূরীর মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে আজলান অতিরিক্ত আছেন।
বিশ্লেষণ: উক্ত মতভেদের দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে— প্রথমত, ইমাম নাসাঈর সনদটি মাযীদ ফী মুত্তাছিলিল আসানীদ তথা বর্ণনাকারীর ওহম অথবা দুটি বর্ণনাই বিশুদ্ধ। সেক্ষেত্রে লায়ছ ইবনে সা‘দ প্রথমে হাদীছটি মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে শ্রবণ করেছেন। পরবর্তীতে সরাসরি সাঈদ আল-মাক্ববূরীর থেকে শ্রবণ করেছেন। ফলত দুটি বর্ণনাই সঠিক।
হাদীছটির বর্ণনাকারী ছাহাবী নিয়ে মতভেদ?
ছহীহ বুখারীর উক্ত বর্ণনায় বর্ণনাকারী ছাহাবী আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু। অন্যদিকে সুনানে নাসাঈতে[2] কিছু সনদে বর্ণনাকারী ছাহাবীর নাম আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সনদে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমার ও যাহহাক ইবনে উছমান হাদীছটি সাঈদ আল-মাক্ববূরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মিযযী ও ইমাম দারাকুত্বনীসহ অনেকেই আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই সনদকে ওহম বা ভুল বলেছেন। কেননা লায়ছ তুলনামূলক বেশি মযবূত উবায়দুল্লাহ এবং যাহহাকের তুলনায়। অন্যদিকে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাক্ববূরীর বর্ণনা একটি অতি পরিচিত সনদ। অসংখ্য হাদীছ এই সনদে বর্ণিত হয়েছে। পরিচিত সনদের বিরোধিতা করে হাদীছটি মাক্ববূরীর আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করা প্রমাণ করে যে, লায়ছ হাদীছটিকে বেশি মযবূতভাবে স্মরণে রেখেছে। আর যাহহাক ও উবায়দুল্লাহ অন্যান্য পরিচিত সনদের মতো স্বভাবজাত গতি অনুযায়ী মাক্ববূরী, আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই পরিচিত সূত্রেই হাদীছটি বর্ণনা করেছে।[3]
ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ এই বিতর্ককে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য মাক্ববূরীর সনদকে বাদ দিয়েই এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তার সনদ হচ্ছে— সুলায়মান, ছাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
এই সনদের মাধ্যমে মাক্ববূরীর বিতর্ক থেকেও বাঁচা গেল এবং হাদীছটি যে আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত, সেটিও প্রমাণিত হলো।[4]
যদিও এই হাদীছটি যখন ছাবিত আল-বুনানী থেকে হাম্মাদ ইবনে সালামা বর্ণনা করেছেন, তখন মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম বুখারীও ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার এই প্রাধান্য বুঝাতেই তিনি হাদীছের শেষে মুতাবাআত হিসেবে ইমাম মুসলিমের এই সনদ উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَرَوَاهُ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَعَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الحَمِيدِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا.
রাবীগণের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
(১) মূসা ইবনে ইসমাঈল আত-তাবুযাকী: তিনি ইমাম বুখারীর উস্তায। তার পরিচয় পূর্বে চলে গেছে।
তার থেকে এই হাদীছ ইমাম মুসলিমও গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি আবূ আওয়ানা ও ইবনু মান্দা তার ‘কিতাবুল ঈমান’-এ উল্লেখ করেছেন।
(২) আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আল-আযদী আল-কূফী: ইমাম বুখারী তার থেকে শুধু এই মুতাবাআত গ্রহণ করেছেন। অন্য কোথাও তার থেকে কোনো হাদীছ গ্রহণ করেননি। ইমাম আবূ হাতিম, আবূ যুরআ ও ইজলী উক্ত রাবীকে মযবূত বলেছেন।
ছহীহ বুখারীর সনদ:
সুনানে নাসাঈর সনদ যেখানে মুহাম্মাদ ইবনে আজলান অতিরিক্ত:
ছাহাবীর নাম আবূ হুরায়রা:
ছহীহ মুসলিমে ভিন্ন সনদে ছাহাবীর নাম আনাস ইবনে মালেক:
(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক
ফাযেল, দারুল উলূম দেওবান্দ, ভারত; বিএ (অনার্স), মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
এমএসসি, ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ইউনিভার্সিটি অফ ডান্ডি, যুক্তরাজ্য।
[1]. নাসাঈ, হা/২০৯০-২০৯২।
[2]. নাসাঈ, হা/৪৫৮-৪৬০।
[3]. দারাকুত্বনী, আল-ইলাল, হা/১০৮৯; মিযযী, তাহযীবুল কামাল, পৃ. ১১/৬৬-৬৮।
[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১।
