কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে লজ্জাশীলতা

post title will place here

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের অন্যতম একটি দিক হলো লজ্জাশীলতা, যা ক্রমান্বয়ে আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমশ নির্লজ্জতাকে সমর্থন করতে শুরু করেছি। কারো লজ্জাশীলতা দেখলে আমরা বলি, এত লজ্জা করতে নেই; অথচ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা ছিল সম্পূর্ণ এর বিপরীত।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার এক ভাইকে লজ্জা বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন (বেশি লজ্জা করতে নিষেধ করছিলেন)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেই ব্যক্তিকে সম্বোধন করে) বললেন, دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الإِيمَانِ ‘তুমি তাকে ছেড়ে দাও (লজ্জা করতে নিষেধ করো না), কারণ লজ্জা ঈমানের একটি অংশ’।[1]

ঈমান মূলত বিশ্বাস, কথা ও কর্মের সমন্বিত রূপ। লজ্জা একটি স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে ঈমানের অংশ বলার কারণ হলো এই যে, লজ্জা যদি শরীআত অনুযায়ী করতে হয়, তাহলে সেই লজ্জার নিয়্যত ও তা শেখার প্রয়োজন হবে। এভাবে লজ্জার মধ্যেও হৃদয় ও অঙ্গের কাজ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় কারণ হলো ঈমান যেমন ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করে এবং মন্দ কাজে বাধা দেয়, তেমনি লজ্জাও এ কাজগুলোই করে। তাই লজ্জাকে ঈমান বলা হয়েছে।[2]

জীবিত হৃদয় লজ্জাবোধ করে; মৃত হৃদয় নয়। জীবিত হৃদয় ভেজা মাটির মতো, যা পায়ের চাপে প্রভাবিত হয়। তেমনি জীবিত হৃদয় নির্লজ্জতা ও নোংরামি দেখে প্রভাবিত হয় এবং কষ্ট পায়।[3]

ইবনুল ক্বাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ লজ্জার কিছু প্রকার উল্লেখ করেছেন। এখানে তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি।

১. ভালোবাসার লজ্জা অর্থাৎ প্রিয়জনকে লজ্জা করা, এমনকি তার অনুপস্থিতিতেও কেবল তাকে স্মরণ করেই হৃদয়ে লজ্জা উত্থিত হয় এবং চেহারায় তা পরিলক্ষিত হয়। এই লজ্জা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে আমাদের হৃদয়েও আসা উচিত। কারণ তার চেয়ে প্রিয়জন কেউ নেই।

২. উপাসনার লজ্জা, এই লজ্জায় ভয় ও ভালোবাসার সংমিশ্রণ থাকে। যদি বান্দা আল্লাহ তাআলার অবস্থান ও মর্যাদার তুলনায় নিজের উপাসনাকে লক্ষ করে, তাহলে সে বুঝতে পারবে যে, তার উপাসনা কত তুচ্ছ! তখন সে আল্লাহকে লজ্জা করবে, এরই নাম উপাসনার লজ্জা।

৩. নিজেকে লজ্জা করা আর তা হলো উঁচু ও মর্যাদাবান আত্মা অল্পতে সন্তুষ্ট হওয়ায় এবং নিজের দোষ-ত্রুটিকে পছন্দ করায় লজ্জাবোধ করে। এটি লজ্জার সর্বোচ্চ স্তর, কারণ যে নিজেকে লজ্জা করে, সে অন্যকে আরও বেশি লজ্জা করবে। যার মধ্যে এই লজ্জা থাকবে, সে কখনও গুনাহ ও অশ্লীলতার রাস্তায় অটল থাকতে পারবে না। পাপাচারকে বড় একটা খুঁত বিবেচনা করে সে সর্বদা তা থেকে দূরে থাকবে।[4]

ইলম অর্জন ও হক্ব প্রচার ছাড়া অন্য সকল অবস্থায় লজ্জাশীলতা প্রশংসনীয়। লজ্জায় কখনো ক্ষতি হয় না। ইমরান ইবনে হুছাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْحَيَاءُ لاَ يَأْتِى إِلاَّ بِخَيْرٍ ‘লজ্জা কেবল কল্যাণই বয়ে আনে’।[5]

লজ্জাশীলতা জ্ঞানের পরিচায়ক। কারণ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বড় জ্ঞানী এবং তিনি কুমারী নারীর থেকেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন।

আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দার অন্তরালে থাকা কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন সেটা তার চেহারায় দেখতে পাওয়া যেত।[6] অর্থাৎ লজ্জায় তিনি নীরব থাকতেন।[7]

লজ্জা দ্বীন ইসলামের চরিত্র। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّ لِكُلِّ دِينٍ خُلُقًا وَإِنَّ خُلُقَ الإِسْلاَمِ الْحَيَاءُ ‘প্রত্যেক ধর্মের একটি চরিত্র হয়। ইসলামের চরিত্র হলো লজ্জা’।[8]

যখন লজ্জা নিয়ে আমরা আলোচনা করি, তখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আল্লাহ তাআলাকে লজ্জা করা। যদি কেউ আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের সাথে নিজের গুনাহগুলোর তুলনা করে, তাহলে সে অবশ্যই লজ্জিত হবে। শ্রমিক যখন নিজের মালিকের উপস্থিতিতে কাজ করে, তখন যেই নিষ্ঠা ও উদ্যমের সাথে কাজ করে; তার অনুপস্থিতিতে সেরূপ করতে পারে না। অনুরূপভাবে যে স্মরণ করতে পারে যে, আল্লাহ আমাকে সর্বদা প্রত্যক্ষ করছেন, সে গুনাহকে ঘৃণা করবে এবং আনুগত্যের রাস্তায় সব দুঃখ হাসিমুখে সহ্য করবে। কিন্তু যখন হৃদয় এ কথা ভুলে যায়, তখনই তার মধ্যে নির্লজ্জতা সৃষ্টি হয়।[9]

আজ তরুণ-তরুণীরা যেই নির্লজ্জতার জীবন অতিবাহিত করছে, তার একটা কারণ হলো আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাওয়া এবং আল্লাহকে ভুলার কারণ হলো, তার সাথে পরিচিত না হওয়া। তাদেরকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনতে হলে আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলাকে লজ্জা করতেন। মে‘রাজের সফরে যখন ছালাত পাঁচ ওয়াক্ত থেকেও কম করার পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন তিনি বলেন, اسْتَحْيَيْتُ مِنْ رَبِّى ‘(আমি এতবার আল্লাহ তাআলাকে আবেদন করেছি যে) এখন আমার লজ্জা করছে’।[10]

এত বেহায়াপনা করার পরও বহু মুসলিম দাবি করে যে, তারা আল্লাহকে লজ্জা করে। তাই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটির প্রমাণ উল্লেখ করেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বললেন, ‘তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহ তাআলাকে লজ্জা করো’। ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল-হামদুলিল্লাহ, আমরা আল্লাহ তাআলাকে লজ্জা করি। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি সেই লজ্জার কথা বলিনি। আল্লাহ তাআলাকে যথাযথ লজ্জা করা হলো এই যে, তুমি তোমার মাথা ও মাথার অন্তর্ভুক্ত যা কিছু আছে, তার হেফাযত করবে। তুমি তোমার পেট ও পেটের অন্তর্ভুক্ত যা কিছু আছে, তার হেফাযত করবে এবং তুমি মৃত্যু ও এ পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়াকে স্মরণ করতে থাকবে’।[11] মাথা ও মাথার অন্তর্ভুক্ত যা আছে, তা থেকে উদ্দেশ্য হলো কান, চক্ষু, জিহ্বা ইত্যাদি। পেট ও পেটের অন্তর্ভুক্ত বস্তু অর্থাৎ হৃদয়।

যারা দাড়ি চাঁচে কিংবা খাটো করে, টাখনুর নিচে প্যান্ট পরে, অমুসলিমদের মতো চুল রাখে, পোশাক-পরিচ্ছদে কাফেরদের অনুকরণ করে, প্রকাশ্যে ও গোপনে গান শোনে, বিয়েতে ডিজে বাজায়, গাড়িতে চেপে ড্যান্স করে, প্রকাশ্যে জুয়া কিংবা অনলাইন জুয়া খেলে, ছালাত ছেড়ে ক্যারম খেলে, নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল জুমআর ছালাত আদায় করে, নানা ধরনের নেশায় আসক্ত থাকে, সূদ খায়, সূদে লোন নেয়, বিড়ি বাঁধে ও বাঁধায়, হারাম পণ্য বিক্রি করে, ব্যবসায় মিথ্যা বলে, মানুষকে ঠকায়, ছালাতের সময় দোকান চালায়, দোকানে বসে মোবাইলে নোংরামি করে, গেম খেলে সময় নষ্ট করে, যে সকল নারীরা মুখ-হাত খোলা রেখে আকর্ষণীয় পোশাক পরে, কালো মুখে সাদা মেকআপ করে রাস্তা-ঘাটে পুরুষদের মাঝে বিচরণ করে, রাস্তার পাশে বা পাড়ার মোড়ে আড্ডা দেয়, নিজের মতো বেহায়া এক ঝাঁক মেয়েদের সাথে বসে নেশাখোর মেয়েলি পুরুষদের খোরাক তৈরি করে, যে পিতামাতা আরশ থেকে আসা ইলম তথা কুরআন ও হাদীছের জ্ঞানকে তুচ্ছ মনে করে নিজের সন্তানকে খ্রিষ্টানদের সভ্যতা দিয়ে বড় করে, দিনে-রাতে ছালাত ছাড়া সব আদেশ-নিষেধ করে তারা কেউই আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করে না মুসলিম শব্দের অর্থ হলো আত্মসমর্পণকারী। সে এমন একজন, যে আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সামনে মাথা নত করে এবং তা মেনেই জীবন পরিচালনা করে। কিন্তু সেই মুসলিম আজ পৃথিবীর সমস্ত অশ্লীল কাজে জড়িত। সমাজের সৎ ও প্রভাবশালী মানুষগুলোকে আলেমদের দিকনির্দেশনায় সমাজের এই করুণ অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য উঠেপড়ে লাগতে হবে।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক আগেই বলেছেন,إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلاَمِ النُّبُوَّةِ الأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحِى فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ ‘প্রাচীন নবুঅতের বার্তার মধ্য হতে যা কিছু মানুষ পেয়েছে, তার একটি হলো এই যে, যখন তুমি লজ্জা করবে না, তখন তুমি যা চাও, তাই করো’।[12]

উপর্যুক্ত হাদীছের একটি অর্থ হলো, যে ব্যক্তি লজ্জা করবে না, তার দ্বারা সমস্ত কুকর্ম সম্পাদন করা সম্ভব।

আমাদের ভাষার অবস্থা এই যে, আমরা কথা বলার সময় অশ্লীলতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যাই। ভাষা শুনে মনে হয় না যে, আমাদের মধ্যে অণু পরিমাণও লজ্জা আছে। অথচ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ তো দূরের কথা, গোপনীয় কোনো বিষয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলতে লজ্জাবোধ করতেন

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, এক মহিলা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন এবং রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গোসল কীভাবে করবেন, এ মর্মে জিজ্ঞেস করলেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলাকে গোসল করার নিয়ম শেখালেন, তারপর বললেন, ‘তুমি মিশক (সুগন্ধি বিশেষ) মাখানো একটি কাপড় নিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো’। সে মহিলা আবার জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ‘তুমি সেই কাপড় নিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো’। সে পুনরায় একই প্রশ্ন করলেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! তুমি সেই কাপড় নিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো’। তখন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বললেন, রক্তের চিহ্নের স্থানে তুমি কাপড়টি ব্যবহার করো।[13]

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়িতে যখন অতিথি আসতেন, তখন তাদের সামনেও তিনি লজ্জাবোধ করতেন। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যায়নাব বিনতু জাহশ রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর সাথে বিয়ের পর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়ালীমার দাওয়াতে অতিথিদের সামনে মাংস ও রুটি পেশ করলেন এবং আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রেরণ করলেন। প্রায় মানুষ খাবার খেয়ে বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু কয়েকজন খাওয়া শেষ হওয়ার পরেও কথা বলতে থাকলেন। ততক্ষণ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। আবার ফিরে এসে দেখলেন যে, তারা এখনও বের হননি। তবুও তিনি লজ্জায় তাদেরকে কিছু বললেন না...।[14]

আমরা বহু মানুষকে দেখি বিবস্ত্র হয়ে ঘুরে বেড়ায়, কত যুবক আবার খ্রিষ্টানদের অনুকরণে এত ছোট প্যান্ট বা হাফপ্যান্ট পরে যে তার অর্ধেক ঊরু দৃশ্যমান থাকে। কিন্তু রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল পর্যন্ত পর্দার আড়ালে করতেন।

উম্মু হানী রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম, যখন তিনি গোসল করছিলেন। আমি দেখলাম যে, ফাতেমা রাযিয়াল্লাহু আনহা একটি কাপড় দিয়ে তাকে ঘিরে রেখেছেন।

আসুন! আমরাও আমাদের রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতো লজ্জাশীল হই, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যে মানুষকে নয়, আল্লাহকে লজ্জা করি। কিন্তু ইলম অর্জন ও হক্ব প্রচারে কোনো লজ্জাবোধ না করি।

পরিশেষে বলা যায়, লজ্জা মানুষের চরিত্রের এমন একটি দিক, যা মানুষকে বিভিন্ন অন্যায় ও অশ্লীলতা হতে রক্ষা করে। প্রতিটি মানুষের মাঝে তার স্বভাবগত লজ্জাশীলতা থাকা উচিত। এই লজ্জাশীলতা না থাকলে মানুষ বিনা দ্বিধায় যেকোনো অশ্লীলতায় ডুব দিতে পারে। আল্লাহ আমাদের হিফাযত করুন- আমীন!

হাসান আল-বান্না মাদানী

কালিয়াচক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত; মুহাদ্দিছ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৫৯।

[2]. ফাতহুল বারী, ১/৫২।

[3]. ইবনু তায়মিয়্যাহ, আমরাযুল কুলূব, পৃ. ১৩।

[4]. মাদারিজুস সালেকীন, ২/২৫২।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৬১১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৭।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৬১০২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩২০।

[7]. শারহুন নববী, ১৫/৭৮।

[8]. ইবনু মাজাহ, হা/৪১৮২, হাসান।

[9]. মাদারিজুস সালেকীন, ২/২৫৩।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩।

[11]. তিরমিযী, হা/২৪৫৮।

[12]. ছহীহ বুখারী, হা/৬১২০; মিশকাত, হা/৫০৭২।

[13]. ছহীহ বুখারী, হা/৩১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৩২।

[14]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৭৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪২৮।

Magazine