উত্তর: আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিচু (দুনিয়ার) আকাশে অবতরণ করেন, এ বিষয়ে বহু ছহীহ হাদীছ মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই অবতরণ তাঁর মহিমা ও জালালের উপযোগী। আমরা এর ধরন ও প্রকৃতি নির্ধারণ করতে বা কল্পনা করতে সক্ষম নই। এটি সৃষ্টির অবতরণের মতো নয়। যেমন- এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়া, যাতে তার উপর আরেকটি কিছু থাকে। বরং তিনি দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, অথচ তিনি তাঁর আরশের উপর আছেন এবং সমগ্র সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আছেন, তাঁর উপরে কিছুই নেই। এটি সৃষ্টির অবতরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বান্দার পক্ষে তা কল্পনা করা সম্ভব নয় এবং তার জন্য কল্পনা বা অনুমান করা বৈধও নয়। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে কল্পনা ধারণ করতে পারে না এবং বোধশক্তি তাঁকে সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারে না। যেমন- তিনি বলেন, ‘তারা তাঁকে জ্ঞানে পরিবেষ্টন করতে পারে না’ (ত্বা-হা, ২০/১১০)। তাঁর অবতরণের প্রকৃতি কেবল তিনি জানেন, যেমন কেবল তিনি তাঁর নিজস্ব সত্তার প্রকৃতি জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা’ (আশ-শূরা, ৪২/১১)। তিনি আরও বলেন, ‘তাই তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ স্থাপন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না’ (আল-আনআম, ৬/১০০; আল-মাজমূ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৪/৪২০)।
প্রশ্নকারী : হাসান
কুড়িগ্রাম।
