উত্তর: প্রতিটি নারী ও তার অভিভাবকের উচিত বিবাহে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এমন পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করা, যা সামর্থ্যের মধ্যে এবং হালকা হবে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা ছিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরকতময় সে নারী, যার ব্যয়ভার (মোহর ও বিবাহের খরচ) সবচেয়ে সহজ’ (আহমাদ, হা/২৫১১৯; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৯২২৯)। উক্ববা ইবনু আমির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মোহরের মধ্যে সর্বোত্তম হলো যা সবচেয়ে সহজ’ (আবূ দাঊদ, হা/২১১৭)। বিবাহের মোহর সামর্থ্যের বাইরে নির্ধারণ করলে ফিতনা সৃষ্টি হবে। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কাছে এমন কেউ বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট; তবে তার সঙ্গে বিবাহ দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে বড় ফিতনা ও ব্যাপক অশান্তি সৃষ্টি হবে’ (তিরমিযী, হা/১০৪৮)। বিবাহ করতে সামর্থ্যহীন ব্যক্তি সংযম অবলম্বন করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে’ (আন-নূর, ২৪/৩৩)। বিবাহে যা মোহর নির্ধারণ করা হবে তাই প্রদান করতে হবে। কাবিননামায় এক মোহর আর বিবাহের সময় আলাদা মোহর নির্ধারণ করা যাবে না। কেননা তা প্রতারণার শামিল। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১)।
প্রশ্নকারী : মোহাম্মদ সাদেক
