উপস্থাপনা :
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হল ইসলাম। যেখানে শুরু থেকে শেষ তথা জীবনের প্রারম্ভ ভূমিষ্ঠ হওয়া থেকে অনন্তকাল আখিরাতের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন কোন বিধান নেই, যা ইসলামে বর্ণিত হয়নি। এরপরও এক শ্রেণীর মানুষ আছে তাদের কাছে মনে হয় যে, কুরআন-হাদীছ দিয়ে যেন তাদের জীবন পরিপূর্ণ নয়। তাদের প্রয়োজন পড়ে বাপ-দাদার ধর্ম অনুসরণের। আসলে তাদের জীবন কি কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পরিপূর্ণ নয় নাকি তারা কুরআন-হাদীছ পূর্ণভাবে মেনে নিতে রাযী নয়? আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত ৩০ পারা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসংখ্য হাদীছ থাকার পরও তাদের আবার প্রয়োজন হয় পূর্ব থেকে চলে আসা বাপ-দাদার ধর্ম ও প্রথার অনুসরণের।
কুরআন ও হাদীছকে বর্জন করার কারণসমূহ :
মানুষরা যে সমস্ত কারণে কুরআন-সুন্নাহর পথকে ছেড়ে দিয়ে বাতিলকে গ্রহণ করে, তার অনেক কারণ মুহাদ্দিছগণ উল্লেখ করেছেন। যা পবিত্র কুরআন ও হাদীছে অসংখ্য জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। তবে সবগুলোর মধ্যে হতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ নিয়ে আমি এখানে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
(১) বাপ-দাদার ধর্মের অনুসরণ বা পূর্ব থেকে চলে আসা প্রথার অনুসরণ।
(২) বড় বড় আলেমদের দোহাই দিয়ে কাজ করা।
(৩) অধিকাংশ লোকের দোহাই দিয়ে শিরক-বিদ‘আতসহ অন্যান্য খারাপ কাজে অংশগ্রহণ করা।
উপরিউক্ত তিনটি বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কুরআন-সুন্নাহকে সঠিকভাবে মেনে না নেয়ার পিছনে অন্যান্য কারণও এই তিনটি কারণের অন্তর্ভুক্ত। আসুন আমরা উক্ত কারণগুলো একটু আলোচনা করে দেখি।
বাপ-দাদা বা পূর্ব-পুরুষের নীতির অনুসরণ :
কোন ব্যক্তি যখন কোন আমল করে আর সেটা কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিরোধী হয়, তখন সে বলে উঠে যে, আমরা এতদিন থেকে এ কাজ করে আসছি, আমাদের পিতৃপুরুষদের সময় থেকে করে আসছি আর আজ বলছে এটা করা যাবে না? আমরা তা মেনে নিতে পারব না। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
وَإِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَا أَنْزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُوْنَ.
‘যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তারই অনুসরণ কর, যা আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে, না, আমরা তারই অনুসরণ করব, যার উপর আমাদের পূর্ব-পুরুষদের পেয়েছি। যদিও তারা কিছু জানত না এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না’ (বাক্বারাহ, ১৭০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوْا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُوْنَ.
‘আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন, তার দিকে ও তাঁর রাসূলের দিকে আসো। তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যার উপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না তবুও’ (মায়েদাহ, ১০৪)।
আর যখন তারা কোন অশস্নীল কাজ করত, তখন সেটা বাপ-দাদার বা পিতৃপুরুষের নামে চালিয়ে দিত। এর প্রমাণে আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
وَإِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً قَالُوْا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُوْلُوْنَ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ.
‘আর যখন তারা কোন অশস্নীল কাজ করে, তখন বলে, আমরা এর উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন। বলুন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা অশস্নীল কাজের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ্র ব্যাপারে এমন কিছু বলছো, যা তোমরা জান না? (আ‘রাফ, ২৮)। বিভিন্ন নবী-রাসূলের জীবন বৃত্তান্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা মানুষের নিকটে খুব প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহ তা‘আলার দাওয়াতের বাণী পেশ করেছেন, তখনই এক শ্রেণীর ব্যক্তি তাদেরকে বলেছেন, আমরা তো তোমাকে খুব ভাল মনে করতাম কিন্তু এখন দেখছি তুমি সমাজের মধ্যে ফিৎনা সৃষ্টিকারী। নিম্নে কয়েকজন নবী-রাসূলের জীবনী থেকে এর নমুনা উল্লেখ করা হল:
ছালেহ আলাইহিস সালাম: পৃথিবীতে এক শ্রেণীর ব্যক্তি রয়েই গেছে, যারা অহির বিধানকে লঙ্ঘন করে বাপ-দাদার আমলকে প্রাধান্য দিয়েছে। যেমন ইতোপূর্বে করেছিল ছালেহ আলাইহিস সালাম-এর সময়ে। ছালেহ আলাইহিস সালাম যখন তার ক্বওমকে দাওয়াত দিলেন, তখন তারা বলল,
قَالُوْا يَا صَالِحُ قَدْ كُنْتَ فِيْنَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَنْ نَعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِيْ شَكٍّ مِمَّا تَدْعُوْنَا إِلَيْهِ مُرِيْبٍ.
‘তারা বলল, হে ছালেহ! ইতিপূর্বে আপনি আমাদের কাছে আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। আপনি কি বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা উপাস্যদের পূজা করা থেকে আমাদের নিষেধ করছেন? অথচ আমরা আপনার দাওয়াতের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান’ (হূদ, ৬২)।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম : মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম একনিষ্টভাবে তাঁর পিতাসহ তাঁর ক্বওমকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে তারা কেউ দাওয়াত গ্রহণ না করে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন তার পিতা ও ক্বওমকে বললেন,
إِذْ قَالَ لِأَبِيْهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيْلُ الَّتِيْ أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُوْنَ - قَالُوْا وَجَدْنَا آبَاءَنَا لَهَا عَابِدِيْنَ.
‘যখন সে তার পিতা ও তার ক্বওমকে বলল, এ মূর্তিগুলো কী, যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছো? তারা বলল, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এদের পূজা করতে দেখেছি’ (আম্বিয়া, ৫২-৫৩)।
সমাজে এই ধরনের কিছু ব্যক্তি আছে যারা সঠিক বিষয়টিকে মেনে নিতে চায় না, পিতৃপুরুষের আমলকে অনুসরণ করে। যদিও তারা ছিল ভ্রষ্ট পথে।
মূসা আলাইহিস সালাম: ঐ ধরনের মানুষগুলো সবসময়ই চায় যে, তারা যেটা করছে এটাই যেন চালু থাকে। আর এজন্য বিশেষ করে সমাজের কিছু দায়িত্বশীল, অহংকারী, ধনী ব্যক্তিবর্গ কিছু মানুষকে বিশেষ করে আলেমদেরকে জোর করে, চাপ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে নিজেদেরকে মূর্খ, অসভ্য ও অশিক্ষিত সাজিয়ে তাদেরকে ঐ পিতৃপুরুষের আমলকে টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করতে বাধ্য করে। তারা এ সময় কাজ করার জন্য খুবই আগ্রহী থাকে এবং যে কোন পরিস্থিতিতে তা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। যেমন তারা মূসা আলাইহিস সালাম-কে বলল,
قَالُوْا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا وَتَكُوْنَ لَكُمَا الْكِبْرِيَاءُ فِي الْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِيْنَ.
‘তারা বলল, তুমি কি এসেছ আমরা পিতৃপুরুষদের যার উপর পেয়েছি, তা থেকে আমাদেরকে ফেরাতে এবং যেন যমীনে তোমাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়? আমরা তো তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নই’ (ইউনুস, ৭৮)। এভাবে নবীদের জীবন বিশেস্নষণ করলে দেখা যায় যে, কিছু মানুষ পূর্বে থেকে চলে আসা প্রথার দোহাই দিয়ে কুরআন-সুন্নাহকে বর্জন করেছে। বর্তমান সমাজেও এমন জাহেলী যুগের মন মানসিকতার মানুষের অভাব নেই।
বড় বড় আলেমদের দোহাই দিয়ে কথা বলা :
বর্তমানে মানুষের সবচেয়ে বড় অজুহাত হল, বড় বড় আলেমদের দোহাই দিয়ে কথা বলা। তাদেরকে কোন বিষয়ে নিষেধ করলে তারা বলে, আমাদের বড় হুজুর বলেছেন এটা করা যাবে। বড় হুজুর ছাহেব মানুষের মন জয় করার জন্য প্রমাণবিহীন বিভিন্ন ফৎওয়া দিয়ে থাকেন, যেন সাধারণ মানুষ তার উপর অসন্তোষ প্রকাশ না করে। যেহেতু মানুষকে খুশি রাখা এবং সুনাম অর্জন করা তার একমাত্র লক্ষ্য, তাই তিনি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করেন না। তিনি সঠিক ফৎওয়া দিতে পারেন না। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের কথা বলতে পারেন না। জাল ও যঈফ হাদীছের আশ্রয় নিয়ে উপার্জন করে যাচ্ছেন। টাকার জন্য এবং গদিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ছাত্রদের ভুল ফৎওয়া শিক্ষা দিচ্ছেন। মানুষের মন জয় করার জন্য তাদের মনমত, খেয়াল খুশি অনুযায়ী ফৎওয়া প্রদান করছেন। বড় শ্রেণীর লোকদের থেকে সম্মান পাওয়ার জন্য শিরক-বিদ‘আতের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। তখন উক্ত এলাকার মানুষেরা ভাবছে, বাহ! কত বড় আলেম! তিনি কত কিছু জানেন! তিনি এলাকার বা গ্রামের সবচেয়ে বড় আলেম। ঠিক সেই সময়ে যদি কেউ পাশ থেকে কুরআন-সুন্নাহর হক্ব কথা বলেন, তখন আর কেউ সেটা মেনে নিতে রাযী হয় না। আর সে সময়েই তারা বড় হুজুরের দোহাই দিয়ে কথা বলে। আসলে এই সমস্ত আলেম মানুষকে দুনিয়াতে বিভ্রান্ত করে জাহান্নামের দিকে আহবান করে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের ব্যাপারে বলেন,
دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيْهَا قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صِفْهُمْ لَنَا قَالَ هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُوْنَ بِأَلْسِنَتِنَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِىْ إِنْ أَدْرَكَنِىْ ذَلِكَ قَالَ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ قَالَ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ.
‘জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়িয়ে কিছু নামধারী আলেম কিংবা নামধারী ধর্মীয় নেতা মানুষকে জাহান্নামের পথে ডাকবে। যারা এসব আলেমের ডাকে সাড়া দিবে, তারা তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদেরকে তাদের পরিচয় দিন। তিনি বললেন, ‘তারা আমাদের মতই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে’।১ সুতরাং এ ধরনের নামধারী আলেমদের থেকে বিরত থাকা একান্ত যরূরী।
অধিকাংশ লোকের দোহাই দেয়া :
আমাদের দেশের একটা কালচার হয়ে গেছে যে, যখন মানুষকে কোন খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার কথা বলা হয়, তখন তারা বলে এটা করা যাবে না কেন, অধিকাংশ মানুষই তো এটা করে? তারা অধিকাংশ মানুষের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নাজায়েয ও হারাম কাজ করার সুযোগ খোঁজে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা অধিকাংশ মানুষের ব্যাপারে বলেন,
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوْكَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ إِنْ يَتَّبِعُوْنَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُوْنَ.
‘আপনি যদি অধিকাংশ লোকের কথা মানেন, তবে তারা আপানাকে আল্লাহ্র পথ হতে গোমরাহ করে দিবে’ (আন‘আম, ১১৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُوْنَ ‘অধিকাংশ লোক আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক’ (ইউসুফ, ১০৬)।
আল্লাহ আরো বলেন, وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا ‘আর অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে’ (ইউনুস, ৩৬)। আল্লাহ আরো বলেন, بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ ‘বরং অধিকাংশ মানুষই জানে না’ (নামল, ৬১)। আল্লাহ আরো বলেন, وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَشْكُرُوْنَ ‘আর অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না’ (নামল, ৭৩)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিনে আদম আলাইহিস সালাম বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! কতজন জাহান্নামী? আল্লাহ বলবেন, ‘প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন’।২
সুধী পাঠক! এই যদি হয় অধিকাংশ লোকের অবস্থা, তাহলে আপনার অবস্থা কী হবে? অধিকাংশ লোকের কথা মানলে বা তাদের কথা অনুযায়ী চললে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
উপসংহার :
বর্তমান যুগের এই ঘৃণ্যতম জাহেলিয়াত থেকে বাঁচতে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য আর পূর্ব পুরুষদের নীতির অনুসরণ বর্জন করা একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। আসুন, আমরা সকলে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ করি এবং জাহেলী প্রথাকে বর্জন করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন- আমীন!
-মুহাম্মাদ যাকির হোসেন
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৭; মিশকাত, হা/৫৩৮২।
২. ছহীহ বুখারী, হা/৪৭৪১।
