কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

ইসলামে সফরের গুরুত্ব ও সফরের আদব

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের জন্য তা করেছেন মনোহরি। তার সৃষ্টিকর্মের মাঝে রেখেছেন অসংখ্য আশ্চার্যকর বিষয় এবং এর মাঝে জ্ঞানীদের গবেষণার খোরাক। তাই এই সুশোভিত ধরিত্রীতে বিচরণ করে মহান প্রভুর পরিচয় খুঁজতে তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন।

সফরের গুরুত্ব অত্যধিক। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে কীভাবে সাজিয়েছেন, তা অবলোকন করতে সফরের বিকল্প নেই। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلْ سِيْرُوْا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوْا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ.

‘বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ তিনি কীভাবে সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন’ (আনকাবূত, ২০)। নবী-রাসূলগণের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ভ্রমণ করলে তাদের সেই দীপ্ত ঈমানের ইতিহাস আমাদের চোখের সামনে আয়নার মতো ভেসে উঠবে।

মহান আল্লাহ যুগে যুগে যালেমদের পরিণতি কীরূপ করেছেন, তা সেসব স্থান ভ্রমণ করলে বোঝা যাবে। আদ, ছামূদ, ফেরাঊনের জঘন্যতম পার্থিব পরিণতি দেখতে এবং শিক্ষা নিতে মাদায়েন, মিসর ইত্যাদি সফর করা যায়। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلْ سِيْرُوْا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِيْنَ.

‘বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণাম কী হয়েছে তা গভীর অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ্য কর’ (আন‘আম, ১১)। তিনি পৃথিবীকে কীভাবে সুশোভিত করেছেন তা অবলোকন করা এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা সফরেই সহজতর হয়। কেননা মুসাফির যখন ‘পাহাড়ের’ বিশাল আকৃতির দিকে দৃষ্টি দিবে, তখন আল্লাহ তা‘আলার কথা স্মরণে আসবে, যিনি পাহাড়কে বিশাল এ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার জন্য পেরেক স্বরূপ করেছেন (নাবা, ৭; নাযি‘আত, ৩২)

এ ধরার মাঝে কোন্ সে রূপকার যিনি সৃষ্টিকূলের তরে কত ফল-ফলাদী, সাগর, নদী, ঝর্ণা, খাল-বিল ইত্যাদি প্রস্ত্তত করে রেখেছেন। তিনি হলেন ‘আল্লাহ’। তাই তাঁর বাণী হল,

هُوَ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فَامْشُوْا فِيْ مَنَاكِبِهَا وَكُلُوْا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ.

‘তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে চলাচলের উপযোগী করেছেন। অতএব তোমরা ওর দিক-দিগন্তে ও রাস্তাসমূহে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক হতে আহার কর, পুনরুত্থান তো তাঁরই নিকট’ (মুল্ক, ১৫)। সাগরের গর্জন এবং বিশাল জলরাশি অবলোকন করলে সেই মহান প্রভুর কথা মনে পড়ে, মনের অজান্তে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। যে মহান আল্লাহ মাখলূক্বাতের কল্যাণে আকাশ হতে বারিধারা বর্ষণ করেন, ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করেন এবং তারই আদেশে সাগরের ঢেউয়ের উত্তালতা, সাগরের জলরাশি নীল রং এবং কালো রং ধারণ করে, একে অপরকে অতিক্রম করে না (আর রহমান, ১৯-২০)

তাই সফরের গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। যদিও সফরে কষ্ট-ক্লেশকে সঙ্গী করে দেয়া হয়েছে।[1] ভবঘুরে মুসাফির সফরের মাধ্যমে আল্লাহ্র আশ্চর্য নিদর্শনাবলী দেখে প্রকৃত প্রভুকে খুঁজে পেতে সক্ষম হয় এবং তার উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনয়ন করতে পারে। কেননা একজন মুসাফির আল্লাহ্র সুনিপুণ সৃষ্টিকর্ম দেখে আবেগে আপস্নুত হয় আর জ্ঞনীরাই এসব আঁচ করতে পারে (কাহ্ফ, ১৭)। মুসাফিরের জন্য আলাদা সুবর্ণ একটি সুযোগ হল, একজন মুসাফির মহান আল্লাহ্র নিকটে যা চান, তা দিয়ে থাকেন। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ دَعْوَةُ الْمَظْلُوْمِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের দু‘আ কবুল করা হয়। নির্যাতনের দু‘আ, মুসাফিরের দু‘আ এবং সন্তানের উপর পিতার অভিশাপ’।[2]

সফরের আদব :

সফরের কিছু (আদব) শিষ্টাচার রয়েছে। যা মান্য করলে একজন মুসলিমের সফর হবে স্বাচ্ছন্দ্যময়, কল্যাণময় এবং রহমতপূর্ণ। তা নিমেণ কিছু পেশ করা হল-

সৎ নিয়্যত : মানুষের প্রতিটা কাজই নিয়্যত অনুযায়ী হয়ে থাকে। একজন মুসাফির তার নিয়্যতের বিশুদ্ধতার কারণেই সফরে আল্লাহ্র রহমত লাভে ধন্য হবে। পক্ষান্তরে মন্দ পরিকল্পনার কারণে সে আল্লাহ্র রহমত থেকে বঞ্চিত ও অকল্যাণ লাভ করবে। যার দরুন এই সফর তার জন্য পাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সফর আল্লাহ্ সন্তুষ্টির কাজে হওয়া : সফরের মাঝে আল্লাহ্র নাফরমানীর কারণ হয় এমন কাজ হতে মুসাফিরকে অবশ্যই সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে। কেননা একজন মুসাফির তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী ফেরেশতা কর্তৃক সাহায্যপ্রাপ্ত হয়, যতক্ষণ না নিরাপদে বাড়ীতে ফেরে। অর্থাৎ মুসাফির আল্লাহ্র তত্ত্বাবধানে থাকে। পক্ষান্তরে পাপের উদ্দেশ্যে, আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচরণমূলক কাজে সফরকারীর সঙ্গী বানানো হয় শয়তানকে। তাকে শয়তান পরিচালনা করে যতক্ষণ না সে বাড়ীতে ফেরে। অর্থাৎ মুসাফির শয়তানের তত্ত্বাবধানে থাকে।[3]

সফরে যাওয়ার আগে দেনা পরিশোধ করা : মুসাফির সফরের আগে তার দেনা পরিশোধ করবে এবং তার আমানতসমূহ পৌঁছিয়ে দিবে। কেননা সফর অবস্থায় মারা গেলে আর তার ঋণ থাকলে সে ঋণের বোঝা নিয়ে কবরে যাবে, তাহলে তার অবস্থা কী হতে পারে? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময় আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে রেখে যান তার নিকট মানুষের গচ্ছিত আমানতকে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য।

পরিবারকে উপদেশ প্রদান করা : দ্বীন ইসলাম হচ্ছে উপদেশ।[4] একজন মুসাফির সফরের প্রাক্কালে তার পরিবারকে নছীহত করবে, তার অনুপস্থিতিতে যাতে করে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়ে বিভিন্নমুখী উপদেশ দিবে।

সৎ সঙ্গী নির্বাচন করা : একজন সৎ সঙ্গী মানুষকে সৎ ও কল্যাণের কাজে সহযোগিতা করে। এজন্য একজন মুসাফির অবশ্যই সৎ ও তাক্বওয়াশীল বন্ধু (সাথি) নির্বাচন করবে। এ সম্পর্কে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

الرَّجُلُ عَلَى دِيْنِ خَلِيْلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ.

‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে’।[5]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِى الْوَحْدَةِ مَا أَعْلَمُ مَا سَارَ رَاكِبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ.

ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘যদি লোকেরা একা সফরে কী ক্ষতি আছে তা জানত, যা আমি জানি, তবে কোন আরোহী রাতে একাকী সফর করত না’।[6]

দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে সফর শুরু করা : আল্লাহ্র নিকট দু’রাক‘আত ছলাত আদায় করে তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে একজন মুসাফির তার যাত্রা শুরু করবে। তাহলে তার সফরে আল্লাহ্র রহমত ও তার উপর আল্লাহ্র তাওয়াক্কুল থাকবে। আর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল এটাই। তিনি কোথাও সফর করলে দু’রাক‘আত ছালাত পড়ে বের হতেন। অনুরূপ সফর থেকে ফিরে মসজিদে গিয়ে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে তারপর বাড়ীতে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবে।[7]

বৃহস্পতিবারে সফর শুরু করা : রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবারে সফরে বের হতেন।[8] তাই আমাদের এই দিনে বের হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

দিনের প্রথম প্রহরে সফর আরম্ভ করা :  রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সৈন্যদলকে অথবা কাউকে কোথাও প্রেরণ করতেন, তখন তাদেরকে দিনের প্রথম প্রহরে প্রেরণ করতেন এবং তাদের জন্য বরকতের দু‘আ করতেন।[9]

পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের নিকট থেকে বিদায় গ্রহণ : একজন মুসলিমের কর্তব্য হল সফরে বের হবার আগে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদেরকে নছীহত করা এবং তাদের থেকে দু’আ চাওয়া। মুসাফিরকে বিদায় জানাবে এই দু‘আ বলে,

أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ أَعْمَالِكُمْ.

উচ্চারণ : আসতাওদি‘উল্লা-হা দীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খাওয়া-তীমা আ‘মা-লিকুম।

অর্থ : আমি (আপনার বা আপনাদের) দ্বীন, আমানত এবং শেষ আমল সমূহকে আল্লাহ্র হেফাযতে ন্যস্ত করলাম।[10]

বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় দু‘আ পড়া : উম্মু সালামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমার ঘর হতে বের হতেন, তখন আকাশের দিকে মাথা তুলে বলতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَىَّ.

‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট করা, গুনাহ করা বা গুনাহের দিকে ধাবিত করা, উৎপীড়ন করা বা উৎপীড়িত হওয়া, অজ্ঞতা প্রকাশ করা বা অজ্ঞতা প্রকাশের পাত্র হওয়া হতে আশ্রয় চাইছি’।[11]

সফরের আমীর নির্ধারণ করা : মুসাফিরের মধ্যে থেকে একজনকে ‘আমীর’ নির্ধারণ করা, যার আনুগত্যের মাধ্যমে সফরের কার্য পরিচালিত হবে।[12] মূলত এই ইমারত সফরের সাথেই খাছ।

যানবাহনে উঠে দু‘আ পড়া : রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হয়ে যানবাহনে উঠে প্রথমে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। অতঃপর এই দু’আ পড়তেন,

سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ أَللهم إِنَّا نَسْأَلُكَ فِيْ سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَي وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَي أَللهم هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَهُ أَللهم أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ أَللهم إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَ الْأَهْلِ.

অর্থ : মহা পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অনুগত করার ক্ষমতা রাখি না। আর আমরা সবাই আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকটে আমাদের এই সফরে কল্যাণ ও তাক্বওয়া এবং এমন কাজ প্রার্থনা করি, যা আপনি পসন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের উপরে এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি এই সফরে আমাদের একমাত্র সাথী এবং পরিবারে ও মাল-সম্পদে আপনি আমাদের একমাত্র প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে পানাহ চাই সফরের কষ্ট, খারাব দৃশ্য এবং মাল-সম্পদ ও পরিবারের নিকটে মন্দ প্রত্যাবর্তন হতে।[13]

যিকির-আযকার ও দু‘আ পড়া : মুসাফিরের উচিত নিজের ও অপর ভাইয়ের জন্য বেশি বেশি দু‘আ করা। কেননা মুসাফিরের দু‘আ বেশি কবুল করা হয়।[14] উপরের দিকে উঠতে ‘আল্লাহু আকবার’ এবং নিচে নামতে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে।[15] গন্তব্যস্থানে গিয়ে এই দু‘আ বলবে,

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

উচ্চারণ : আঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্ তা-ম্মা-তি মিন্ শাররি মা-খালাক্ব।

অর্থ : আমি আল্লাহ্র পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে আল্লাহ্র সৃষ্ট সকল কিছুর অনিষ্টতা হতে আশ্রয় চাই।[16] তাহলে সেখানে কোন কিছু সামন্যতম অনিষ্টও করতে পারবে না। এই দু‘আও রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বলতেন।[17]

মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করা : একজন মুসাফির তার অপর ভাইয়ের সাথে, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, দুর্বলদের সাথে কোমল ও ভালো আচরণ করবে ।

ল্লাহ্ক্ষ থেকে ইবাদতের রুখছাত বা ছাড় গ্রহণ করা : আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন ইবাদতে রুখছাত দিয়েছেন; যেমন : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ফরয ছালাত দুই রাক‘আত করে আদায় করা (ক্বছর), দুই ওয়াক্তের ছালাত একত্রে আদায় করা (জমা করা), সুন্নাত ছালাতসমূহ ছেড়ে দেয়া (বিতর ও ফজরের সুন্নাত বাদে), কষ্টকর হলে ফরয ছিয়াম ছেড়ে দেয়া (পরে ফিরে এসে ক্বাযা আদায় করবে)।

দ্রুত সফর থেকে ফিরে আসা : সফরে কাজ শেষ হলে গড়িমসি না করে দ্রুত বাড়ীতে ফিরে আসা। কেননা সফরকে বলা হয়েছে ‘আযাবের অংশ’, সফরে ভালো মত না হয় ঘুম, না হয় আহার।[18]

মুসাফিরের উচিত, উপরিউক্ত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখে সফর করা। আল্লাহ তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮০৪।

[2]. তিরামযী, হা/৩৪৪৮।

[3]. আহমাদ, হা/৭৯৩৬।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫৫।

[5]. আবুদাঊদ, হা/৪৮৩৩।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/২৯৯৮।

[7]. ইবনে আবী শায়বা, হা/৪৯১২।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২৯৪৯।

[9]. আবুদাঊদ, হা/২৬০৬।

[10]. তিরমিযী, হা/৩৪৪৩।

[11]. আবুদাঊদ, হা/৫০৯৪।

[12]. আবুদাঊদ,হা/২৬০৮।

[13]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪২; মিশকাত, হা/২৪২০।

[14]. তিরমিযী, হা/৩৪৪৮।

[15]. ছহীহ বুখারী, হা/২৯৯৩; মিশকাত, হা/২৪৫৩।

[16]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০৮; মিশকাত, হা/২৪২২।

[17]. প্রাগুক্ত।

[18]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮০৪।

Magazine