প্রশংসা মাত্রই মহান রবের, যিনি আমাদেরকে অতি উত্তমরূপে মুসলিম হিসেবে সৃষ্টি করে এই ধরণিতে পাঠিয়েছেন তাঁর দাসত্বের জন্য। দাসত্বের প্রতিদানস্বরূপ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসবে; তখন যারা আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না’ (আল-বাকারা, ২/৩৮)। ওইদিকে শয়তান আল্লাহর সামনে শপথ করে বলেছিল, ‘আপনার ইযযতের কসম! আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করে ছাড়ব’ (ছোয়াদ, ৩৮/৮২)।
কিন্তু শয়তান মানুষকে কীভাবে বিপথগামী করে তার অনুসারী বানাবে আর মানুষই-বা কীভাবে তার প্ররোচনায় জাহান্নামের অভিমুখী হবে? মূলত শয়তান ধর্মীয় মোড়কে ধার্মিকদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দল, নেতা ও দুনিয়ার চাকচিক্যের আকার ধারণ করে মানবজাতির সামনে উপস্থিত হয়, তাদের অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণে প্রলুব্ধ করে এবং পরোক্ষভাবে তাদেরকেই আল্লাহর আসনে বসিয়ে শয়তানের দাসে পরিণত করে। আর মুসলিম জাতি সেই ধর্মীয় মোড়কে শয়তানী ধোঁকাকে স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করে নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দল, ভ্রান্ত আক্বীদা বা বিশ্বাস ও মানহাজে বিভক্ত হচ্ছে। প্রত্যেক দলের অনুসারীরা সেই দলের দলীয় সংবিধান আর দলীয় নেতাকে প্রশ্নাতীতভাবে অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ করাকেই দ্বীন মনে করছে আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলে প্রত্যেকেই বলছে, আমাদের কাছে যা আছে, আমরা তা নিয়েই আনন্দিত। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে (তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)। প্রত্যেক দলই নিজেদের যা আছে, তা নিয়ে আনন্দিত’ (আর-রূম, ৩০/৩২)।
মূলত ইসলামে অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ ও বিভক্তির কোনো সুযোগ নেই। সেটা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, আকাবির, পীর, অলী-আউলিয়া, দল, নেতা, দেশ বা দুনিয়ার চাকচিক্য যে নামেই বা দোহাই দিয়ে হোক-না কেন! আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে বর্ণনা করেছেন, ‘আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা অনুসরণ করো, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন; তখন তারা বলে, বরং আমরা অনুসরণ করব আমাদের পিতৃপুরুষদের যার উপর পেয়েছি’ (আল-বাকারা, ২/১৭০)।
ইসলামে অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ ও বিভক্তি নিষিদ্ধ হলেও এটি প্রতিটি মুসলিম দেশ ও জাতিকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং উম্মাহকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে এর কারণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করব, ইনশা-আল্লাহ!
১. ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ:
আমাদের মাঝে অধিকাংশ মানুষকেই দেখা যায় যে, শুধু একজন আলেম, শিক্ষক, পীর বা নেতার অন্ধ অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি যা বলেন, তার নিকট সবই সঠিক বলে বিশ্বাস করেন এবং অন্য কারও কথা শুনেন না বা মানেন না। একটু ভেবে দেখুন তো! সত্য ও সঠিক একজনের মধ্যেই কি সীমাবদ্ধ? আমরা যদি ছাহাবীদের দিকে নযর দেই, তাহলেই সবকিছু দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে। এ বিষয়ে রফউল মালাম আন আয়িম্মাতিল আ‘লাম (رفع الملام عن أئمة الأعلام) বইটি পড়লে কিছুটা হলেও ভুল ধারণার নিরসন হবে। যদি বিষয়টি এমনই হতো যে, একজনের নিকট সব ইলম বা সত্য রয়েছে, তাহলে যেকোনো একজন ছাহাবীর কথা মেনে চলাই যথেষ্ট হতো। আর যদি মনে করি যে, বড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; তাহলে বড় ছাহাবীরা অধঃস্তন ছাহাবীদের থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না। অথচ একাধিক মাসআলা ও ফতওয়ার ক্ষেত্রে আশারায়ে মুবাশশারা-সহ বড় বড় ছাহাবীগণ তাদের চেয়ে অধঃস্তন ছাহাবীদের থেকে অনেক বিষয়ে ইলম আহরণ করেছেন।
২. নেতার অন্ধ অনুসরণ:
পার্থিব জীবনের স্বার্থে আমরা পরকাল বিক্রি করে ফেলি এবং নেতা যা বলেন, তাই অনুসরণ করি। এটা আমরা করি সামান্য কিছু পাওয়ার আশায় অথবা তার নিকট ভালো ও প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভের আশায়। মূলত পরকাল সম্পর্কে আমাদের সঠিক ও স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই অথবা দৃঢ় বিশ্বাস নেই, তাছাড়া কেন আমি আমরা স্রষ্টার সেই অঙ্গীকারের কথা ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মোহে পড়ে শরীআত বিরোধী কাজে জড়িয়ে যাচ্ছি? যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নেতার অন্ধ অনুসরণ করবে, তাদের পরিণতির বর্ণনা কুরআনে এভাবে এসেছে,وَقَالُوا رَبَّنَا إِنَّا أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَاءَنَا فَأَضَلُّونَا السَّبِيلَا ‘তারা আরও বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় বড় লোকের (বুযুর্গদের) আনুগত্য করেছিলাম, ফলে তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে’ (আল-আহযাব, ৩৩/৬৭)। অর্থাৎ আমরা তোমার পয়গম্বর ও দ্বীনের প্রতি আহ্বানকারীদেরকে বর্জন করে নিজেদের নেতা, বুযুর্গ ও বড়দের কথামতো চলেছিলাম; কিন্তু আজ আমরা বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাদেরকে তোমার পয়গম্বর থেকে দূরে রেখে পথভ্রষ্ট করেছিল। বাপ-দাদাদের প্রথার অনুসরণ ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ আজও বহু মানুষের পথভ্রষ্টতার কারণ।
হায়! মুসলিমরা যদি মানুষের তৈরিকৃত পথ বর্জন করে আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনা করত এবং কুরআন ও হাদীছের সরল পথ অবলম্বন করত, তাহলে তাদের কতই না মঙ্গল হতো! কারণ পরিত্রাণ একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণেই নিহিত আছে; বুযুর্গ ও বড়দের অন্ধ অনুকরণে অথবা বাপ-দাদার প্রাচীন পথ অবলম্বনে নয়।
৩. দলের অন্ধ অনুসরণ:
বর্তমানে অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণের বড় একটি প্ল্যাটফর্ম হলো দল বা সংগঠন, হোক সেটা ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক। নিজ দল-সংগঠন ব্যতীত অন্য কোনো দল-সংগঠন এখানে মূল্যহীন। যদিও ভিন্ন কোনো দল অথবা তাদের কোনো কথা-কাজ হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত হোক-না কেন! যদিও উম্মাহ, দেশ এবং জাতির খেদমতে তাদের বৃহৎ বৃহৎ অবদান থাকুক-না কেন! ভিন্ন দলের ছিদ্রান্বেষণ, গীবত চর্চা, পরনিন্দা ও ক্ষতিসাধনের অসুস্থ চিন্তায় আমরা ভয়ানকভাবে আক্রান্ত। চুন থেকে পান খসতেই ভিন্ন দল বা দলীয় নেতাদের নীতিকথা শোনানো এবং সংশোধনির নামে সম্মানহানির মহোৎসবে আমরা মেতে উঠি, সেই সাথে ফেসবুকসহ যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়াকে সরগরম করে ফেলি আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। কিন্তু ঠিক একই ধরনের বা তার চেয়ে বড় অপরাধ কিংবা ভুল নিজ দল কিংবা সংগঠনের কেউ করলে মুমিনের দোষ ঢেকে রাখার ফযীলত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীছগুলো কিতাবের পাতায় পাতায় তন্নতন্ন করে চষে বেড়াই অথবা সেগুলোর শারঈ ভিত্তি সাব্যস্ত করতে বিভিন্ন গোঁজামিল দেওয়ার চেষ্টা করি।
৪. পরিবারের অনুসরণ:
সাধারণত একটি পরিবারের সন্তানেরা বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানির অনুসরণ করে চলে। সে মনে করে যে, তার পরিবারের লোকেরা যা করেন, সবই সঠিক অথবা ভালো বলেই তো তারা করেন, তাহলে আমার করতে বাধা কোথায়? কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- আমরা যারা পরিবারের অভিভাবক রয়েছি, তারা সেই সন্তানদের সামনে কোনো কাজ করার সময় চিন্তা করি না। ভালোমন্দ যেকোনো কাজ বা কথা হুটহাট করে ফেলি। কিন্তু কোনো কাজ করা ও কোনো কথা বলার পূর্বে আমার একটু ভাবার প্রয়োজন ছিল যে, আমি যা করব অথবা বলব, আমার সন্তানেরাও সেটার অনুসরণ করে বসবে।
যদি কোনো পিতা টাখনুর নিচে কাপড় পরে; মদ, জুয়া, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, পান, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা ইত্যাদি খাওয়াতে অভ্যস্ত হয়; অপর নারীর সাথে অবাধে কথাবার্তায় (পরকীয়ায়) লিপ্ত হয় এবং অশ্লীল ভাষী হয়, তাহলে তার সন্তান তার মতো হওয়া কি অসম্ভব? কোনো মা যদি বেপর্দা, বেহায়া, অহংকারী, স্বামীর অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য, গীবতকারী ও কর্কশভাষী হয়; তাহলে সে মায়ের আচার-আচরণের প্রভাব কি তার সন্তানদের প্রতি পড়বে না? অবশ্যই পড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্যই তো সাড়ে ১৪০০ বছর আগে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বিষয়ে আমদেরকে সতর্ক করে গেছেন।
عن أَبِي هُرَيْرَةَ t قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ كَمَا تنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيرَةَ رضي الله عنه: فِطْرَةَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لاَ تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللهِ، ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতকই ফিত্বরাতের উপর জন্মলাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী, নাছারা বা মাজূসী (অগ্নিপূজারি) হিসেবে গড়ে তোলে। যেমন- চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোনো (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও? অতঃপর আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু (কুরআনের একটি আয়াত) বললেন, ‘আল্লাহর দেওয়া ফিত্বরাতের অনুসরণ করো, যে ফিত্বরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন’ (আর-রূম, ৩০/৩০)।[1]
যদিও আমরা আমাদের সন্তানদের আদর্শবান সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু এগুলোই তাদের আদর্শবান হিসেবে গড়ে ওঠার প্রতিবন্ধক। আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতামণ্ডলী, আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তাঁর অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে, যা তাদেরকে আদেশ করা হয়’ (আত-তাহরীম, ৬৬/৬)।
এতে মুমিনদের পালনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আর তা হলো নিজেদেরকে সংস্কার ও সংশোধন করার সাথে সাথে পরিবারের লোকদেরকেও সংস্কার ও সংশোধন করতে হবে এবং তাদেরকে ইসলামী শিক্ষা ও তারবিয়াত দেওয়ার প্রতি যত্নবান হতে হবে। যাতে তারা জাহান্নামের জ্বালানি হওয়া থেকে বেঁচে যায়। আর এই কারণেই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘শিশুরা যখন সাত বছর বয়সে পৌঁছে যাবে, তখন তাদেরকে ছালাত আদায়ের আদেশ দাও। আর দশ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়ার পর (তারা ছালাতের ব্যাপারে উদাসীন হলে) তাদেরকে (শিক্ষামূলক) প্রহার করো’।[2]
ফক্বীহগণ বলেন, এভাবে তাদেরকে ছিয়াম রাখারও আদেশ দিতে হবে এবং অন্যান্য শরীআতের বিধিবিধান অনুসরণ করার শিক্ষা দিতে হবে। যাতে সাবালক হওয়ার সাথে সাথে তাদের মধ্যে সত্য দ্বীন মানার অনুভূতি সৃষ্টি হয়ে যায়।
৫. সমাজের অনুসরণ:
মানুষ হিসেবে অবশ্যই কোনো না কোনো সমাজে বসবাস করতে হয়। আর একটি সমাজে বিভিন্ন ধরনের পরিবারের লোকজনের সাথে চলাফেরা করতে হয়। এই সুবাদে আমাদের সন্তানেরা সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন ধরনের ছেলেমেয়েদের অনুসরণ করে। সন্তানেরা মনে করে, তারা তো আমাদের প্রতিবেশী এবং এক সমাজে একই সাথে চলাফেরা করি, উঠাবসা করি, তারা তো আলাদা কোনো জাতি না; তাহলে তাদের মতো চলাফেরা করাতে সমস্যা কোথায়? এজন্য নিজ পরিবার ভালো হলেও সমাজের কারণে সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যায়। আর একটি সমাজ ও পরিবারকে নষ্ট করার জন্য একটি নষ্ট ছেলেই যথেষ্ট, ১০/২০ জনের প্রয়োজন নেই। সে নষ্ট সন্তানটি হতে পারে আমার বা আপনারই ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নি বা নাতি-পুতি। এজন্যই তো আল্লাহ তাআলা বলেন,وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ ‘আর জেনে রেখো! তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি তো এক পরীক্ষা। আর নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁরই কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার’ (আল-আনফাল, ৮/২৮)।
সাধারণত সন্তান ও সম্পদ মানুষকে খেয়ানত করতে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্য হতে প্ররোচিত করে। সেজন্য সে দুটিকে ফেতনা (পরীক্ষা) বলা হয়েছে। অর্থাৎ এর দ্বারা মানুষের পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে যে, তাদের ভালোবাসায় আমানত ও আনুগত্যের হক্ব পূর্ণরূপে তারা আদায় করে কি-না? যদি সে তা পূর্ণরূপে আদায় করে, তাহলে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়; অন্যথা সে অনুত্তীর্ণ ও অসফল বলে গণ্য হয়। এই অবস্থায় এই সম্পদ ও সন্তান তার জন্য আল্লাহর শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যারা তোমাদেরকে হারাম উপার্জন করতে প্ররোচিত করে এবং আল্লাহর অধিকার আদায় করতে বাধা দেয়। আর এই পরীক্ষায় তোমরা তখনই সফল হতে পারবে, যখন আল্লাহর সাথে অবাধ্য আচরণে তাদের আনুগত্য করবে না। অর্থাৎ ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি আল্লাহর নেয়ামতও বটে এবং তা মানুষের পরীক্ষার মাধ্যমও বটে। আল্লাহ দেখতে চান যে, তাঁর অনুগত ও অবাধ্য কে?
৬. বাপ-দাদা, বুযুর্গ ও বড়দের অন্ধ অনুকরণ:
প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি প্রজন্মে শিরক-বিদআত ও গোমরাহিতে নিমজ্জিত হওয়ার সব থেকে বড় উপকরণের একটি হলো বাপ-দাদা, বুযুর্গ ও বড়দের অন্ধ অনুকরণ। নবী-রাসূল ও সৎ মানুষদের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করে শিরক করার পাশাপাশি মানুষের শিরকে নিমজ্জিত হওয়ার অপর কারণ মূলত এটিই। এর ফলে তারা পূর্বপুরুষদেরকে যে সকল কর্মকাণ্ড করতে দেখেছে, সেটাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে। পূর্বপুরুষদের কাজগুলো সুস্থ বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য কি-না, মুহূর্তের জন্যও তারা তা ভেবে দেখার অবকাশ পায়নি। উদাহরণস্বরূপ ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর জাতির কথাই বলা যাক, তিনি যখন তার জাতিকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে একটু ভাবতে বললেন এবং বললেন, তোমরা যে সকল মূর্তির পার্শ্বে অবস্থান করছ এবং প্রয়োজনের সময় আহ্বান করে উপাসনা করছ, তারা কি তোমাদের ডাক শুনতে পায় অথবা তারা কি তোমাদের কোনো কল্যাণ বা ক্ষতি করতে পারে? তখন তারা এ বিষয়ে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই এক বাক্যে বলেছিল, قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এমনটি করতে দেখেছি’ (আশ-শুআরা, ২৬/৭৪)।
তাদের এ বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে- তারা যা করছে তা সঠিক কি-না, এ নিয়ে তাদের ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তাদের দেব-দেবীগুলো তাদের ডাক শ্রবণ করে কি-না বা এরা বাস্তবে তাদের কোনো লাভ বা ক্ষতি করতে পারে কি-না, তাও খতিয়ে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা বংশ পরম্পরায় এসব মূর্তির উপাসনার বিষয়টি পেয়ে এসেছে। আর এ পাওয়াটুকুই তাদের নিকট এদের উপাসনা করা সঠিক বলে প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই তাদের অনুসরণ করা থেকে তারা বিন্দু পরিমাণও বিচ্যুত হতে প্রস্তুত নয়।
একইভাবে আমরা যখন মক্কার মুশরিকদের দিকে লক্ষ করি, তখনও দেখতে পাই যে তারাও কা‘বা ও অন্যান্য স্থানে রাখা মূর্তিসমূহের উপাসনা করার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করেছে। তারাও অতীত জাতির ন্যায় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছিল,وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ ‘আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো, তখন তারা বলে, বরং আমরা সেটাই অনুসরণ করব, যা আমাদের পিতৃপুরুষগণ হতে প্রাপ্ত হয়েছি; যদিও তাদের পূর্বপুরুষদের কোনোই জ্ঞান ছিল না এবং তারা সুপথগামীও ছিল না’ (আল-বাকারা, ২/১৭০)।
উক্ত আয়াত দ্বারা পূর্বপুরুষের তাক্বলীদ বা অন্ধ অনুকরণ-অনুসরণের যেমন নিন্দা প্রমাণিত হয়েছে।
মূলত কুরআন কারীম বিভিন্নভাবে বাপ-দাদা, বুযুর্গ ও বড়দের অন্ধ অনুকরণকে নিন্দা জানিয়েছে। যেমন কুরআনে এসেছে,وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ‘যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা তা অনুসরণ করো, জবাবে তারা বলে, আমরা বরং তারই অনুসরণ করব, যার উপর আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি’ (লুকমান, ৩১/২১)।
আজও যদি বিদআতীদেরকে বুঝানো হয় যে, দ্বীন ইসলামে এই বিদআতগুলোর কোনো ভিত্তি নেই; তবে তারা এই উত্তরই দেয় যে, এগুলো তো আমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকেই চলে আসছে। অথচ হতে পারে যে, পূর্বপুরুষরাও দ্বীনী ব্যাপারে অজ্ঞ এবং হেদায়াত থেকে বঞ্চিত ছিল। কাজেই শরীআতের দলীলের মোকাবেলায় বাপ-দাদার বা ইমাম ও আলেমদের (অন্ধ) অনুসরণ করা ভুল। মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে (ভ্রষ্টতার) এই কর্দম থেকে বের করুন- আমীন!
৭. খেলা এবং খেলোয়াড়দের ভক্তিতে মাত্রাতিরিক্ত সীমালঙ্ঘন:
আজ আমাদের সন্তানেরা খেলোয়াড়দের ভক্তিতে সীমালঙ্ঘনের মাত্রা এতটাই ছাড়িয়েছে যে, তারা শুধু পরকালই নয়; বরং ইহকালকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়ে এক ভয়ানক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পৃথিবীর একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ মাঠে-ময়দানে ও খেলাধুলার আনন্দমেলায় নিজেদের অবসর-বিনোদন ছাড়াও তাদের অমূল্য সময় নষ্ট করে চিত্তবিনোদন করছে।
অবশ্য এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিছু খেলাধুলা আছে, যাতে সত্যিই মানুষ উপকৃত হয়ে থাকে। সুস্থ শরীর গঠনে ও মানসিকভাবে মনে ফুর্তি আনতে অথবা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে খেলাধুলার একটা বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু মুসলিম যুবসমাজের জন্য তা নিয়ম-ছাড়া, বাঁধন-হারা ও সীমাহীন নয়। জীবনের একটি মাত্র লক্ষ্য ঠিক রেখে (বৈধ) উপলক্ষ্যে যদি যথানিয়মে ব্যবহার করা হয়, তবেই আমাদের মঙ্গল; নচেৎ উপলক্ষ্য যদি লক্ষ্যে পরিণত হয়, তাহলেই আমাদের সর্বনাশ। নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু খেলার মধ্যে উপকার থাকলেও তার অপকারিতার দিকটা ভুলে গেলে চলে না। ভুললে হয়তো এমনও হতে পারে যে, জীবনের জমা-খরচের হিসাবে কেবল ‘নাকের বদলে নরুন’ পেয়ে সন্তুষ্ট থেকে যাব। সাধারণত প্রায় সকল খেলাতে যেমন খেলোয়াড় ও তাদের দর্শক-সমর্থকদের মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়, তেমনি সৃষ্টি হয় বিদ্বেষ ও শত্রুতা এবং কখনো কখনো তা হিংসা থেকে শুরু করে মারামারি ও দাঙ্গাতে গিয়ে পৌঁছে। এই খেলার টানে মুসলিম যুবকের কত ছালাত নষ্ট হয়, ছালাতের জামাআত ছুটে যায় তার ইয়ত্তা নেই। এমনকি যারা নিয়মিত ছালাত আদায় করে, তাদেরও অনেকে খেলার কারণে সময় পার করে ক্বাযা পড়ে নেয়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন,فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ‘দুর্ভোগ (ওয়ায়েল নামক জাহান্নাম) সেই মুছল্লীদের জন্য, যারা তাদের ছালাতের ব্যাপারে উদাসীন’ (আল-মাঊন, ১০৭/৫-৬)। তিনি আরও বলেন,فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ‘অতঃপর তাদের পর এলো অপদার্থ পরবর্তীরা, যারা ছালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। যার ফলে তারা অচিরেই গায় (জাহান্নামের এক উপত্যকা) প্রত্যক্ষ করবে’ (মারইয়াম, ১৯/৫৯)।
এই খেলাধুলা ও বিভিন্ন শরীর-চর্চায় অনেক মুসলিম যেভাবে তাদের লজ্জাস্থানকে উন্মুক্ত করে তা যেন মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকাশ্য বিরোধিতা করার শামিল। একজন নারীর পুরো শরীর হলো লজ্জাস্থান, কেবল গুপ্তাঙ্গ ও বক্ষযুগলই নয়; বরং তার দেহের অন্যান্য অঙ্গও লজ্জাস্থানের অন্তর্ভুক্ত, যা স্বামী ছাড়া অন্যের সামনে প্রকাশ করতে লজ্জা হওয়া উচিত। অনুরূপভাবে পুরুষের কেবল প্রস্রাব ও পায়খানার দ্বারই লজ্জাস্থান নয়; বরং তার পার্শ্ববর্তী উপর দিকে নাভি পর্যন্ত এবং নিচের দিকে হাঁটু পর্যন্ত লজ্জাস্থান, যা উন্মুক্ত করতে একজন পুরুষকে লজ্জা করা উচিত। কিন্তু খেলোয়াড় যুবক-যুবতিরা লজ্জার মাথা খেয়ে কেবল নাম কেনার উদ্দেশ্যে নিজেদের লজ্জাস্থান খুলে দেখাতে এতটুকুও সংকোচ করে না। কারণ তাদের গোড়ার শিক্ষাই হলো ‘সংকোচের বিহ্বলতায় নিজেরে করো না ম্রিয়মাণ’। অথচ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘লজ্জা হলো ঈমানের অন্যতম শাখা’।[3] মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘নারী হলো পুরোটাই লজ্জার জিনিস’।[4] তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত লজ্জাস্থান’।[5] তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘তুমি তোমার ঊরু খুলে রেখো না এবং কোনো জীবিত অথবা মৃতের ঊরুর দিকে তাকিয়ে দেখো না’।[6] অন্যত্র তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তুমি তোমার ঊরু ঢেকে নাও। কারণ ঊরু হলো লজ্জাস্থান’।[7]
এমনও কিছু খেলার উদ্ভব হয়েছে যেখানে যৌনচারিতা, চোখ ও হাতের ব্যভিচার দৃশ্যমান। যে খেলায় সুপ্ত যৌন অনুভূতিকে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগ্রত করা হয়। আর এটা তখন হয়, যখন প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনো কিশোরী বা যুবতি দল! যখন শুধু নাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে নারী প্রগতিবাদের দোহাই দিয়ে নারীবাদী স্বার্থপর পুরুষ উদ্যোক্তা ও দর্শকদের সামনে কতক যুবককে উষ্ণ ছোঁয়া দিয়ে থাকে এবং গরম পরশ খেয়ে থাকে।
অনেক খেলায় অর্থের অপচয় হয়। জুয়া ও জুয়া-জাতীয় এসব খেলায় কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ হয়। একটি টুর্নামেন্ট চালাতে, বাইরের টিম আনতে, খেলার বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম, পুরস্কারসহ আরও অন্যান্য খাতে অপব্যয় হয় লক্ষ লক্ষ ডলার। একদিকে দেশের এক শ্রেণির মানুষ দারিদ্র্যের কারণে না খেয়ে মরে, আর অন্য দিকে আরেক শ্রেণির বিলাসী মানুষ ৫ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় কিনে খেলা দেখতে দূরদূরান্তে সফর করে। একদিকে সরকারের বিশেষ খাতে ঘাটতি পূরণের জন্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের উপর বিভিন্নভাবে ট্যাক্স বসানো হয়, অপরদিকে খেলার পেছনে ব্যয় করা হয় তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি টাকা।
ভাবতে আরো অবাক লাগে যে, একটা কাঠের ব্যাট বিক্রয় কয়েক লক্ষ টাকায়। আর তা এ জন্য যে, ঐ ব্যাট বিশ্বকাপ জিতে জাতির মান রক্ষা করেছে এবং এই ক্রয়ের ফলে ক্রেতার নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে। খেলার পাগল বন্ধু আমার! মহান প্রতিপালক আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ’ (আল-ইসরা, ১৭/২৬-২৭)। মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘পাঁচটি বিষয়ে কৈফিয়ত না দেওয়ার পূর্বে ক্বিয়ামতের দিন কোনো মানুষের পা সরবে না। (তন্মধ্যে একটি বিষয় হলো এই যে) সে তার ধনসম্পদ কোন উপায়ে অর্জন করেছে এবং কোন পথে তা ব্যয় করেছে?’[8]
খেলা তার খেলোয়াড় ও দর্শকদের মানসিক বিকারগ্রস্ত করে ছাড়ে। খেলার নেশা খেলাপ্রেমীদের হার-জিতের সময় এক প্রকার মাতাল করে তোলে। জেতার খবর শোনামাত্র কেউ কেউ খুশিতে কেঁদে ফেলে! বিজয়-উল্লাসে যুবক-যুবতির দল কাপ মাথায় নিয়ে নাচতে শুরু করে।
পক্ষান্তরে হারার খবর শোনামাত্র কেউ কেউ মূর্ছা যায়, কেউ ক্ষোভ ও দুঃখে ফেটে পড়ে নিজের রেডিও-টিভি ভেঙে ফেলে, কেউ কেউ খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। মনের বিষণ্নতায় অনেকের ঘুম আসে না কয়েক রাত! কেউ আত্মহত্যা করে খেলার মস্তান বা খেলার শহীদ হয়ে খেলাধুলার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নযির সৃষ্টি করে! আর এভাবে খেলা যেন আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে পড়েছে, যার দরুণ তার উন্নতি-অবনতিও আমাদের জীবনে বিরাট আন্দোলন ও পরিবর্তনের তুফান ডেকে আনে।
এতএব, আসুন! গোঁড়ামি, অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণ পরিহার করে একমাত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে নিরপেক্ষভাবে নিজের জীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সচেতনতা বৃদ্ধি করি। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন- আমীন!
-আব্দুল গাফফার মাদানী
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/ ১৩৫৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৮।
[2]. আবূ দাঊদ, হা/৪৯৫।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৫।
[4]. তিরমিযী, ছহীহুল জামে‘, হা/৬৬৯০।
[5]. ছহীহুল জামে‘, হা/৫৫৮৩।
[6]. আবূ দাঊদ, ছহীহুল জামে‘, হা/৭৪৪০।
[7]. আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাকেম, ইবনু হিব্বান, ছহীহুল জামে‘, হা/৭৯০৬।
[8]. তিরমিযী, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১২১।
