কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রামাযানের শিক্ষা সারা বছরের পাথেয়

post title will place here

হে মুসলিম! রামাযান মাস শেষ হয়েছে। এটি ছিল ইবাদতকারীদের মাস। রামাযান মাস চলে গেছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে, সে ব্যক্তির জানা উচিত, আল্লাহ জীবিত, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি। ছিয়ামের মাস, ক্বিয়ামের মাস, কুরআন তেলাওয়াতের মাস শেষ হয়েছে। ভালো কাজের মাস, দানের মাস ও সদ্ব্যবহারের মাস শেষ হয়েছে। যে ব্যক্তি লাভবান হওয়ার মতো কাজ করেছে, সে লাভবান হয়েছে আর যে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো কাজ করেছে, সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হে মুসলিম! এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত মাস ও সময়গুলোর মধ্যে রামাযান মাসকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন এবং এ মাসের ভালো কাজগুলোর প্রতিদান দ্বিগুণ করেছেন। এ মাসটিকে বিভিন্ন রহমত ও বরকত দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন। এ মাসে বান্দার জন্য ইবাদত করা সহজ করেছেন। এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করেছেন, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দিয়েছেন এবং বিতাড়িত জিন ও শয়তানকে বন্দি করেছেন।

ঐ ব্যক্তির জন্য তোমার অন্তর কি চিন্তিত হয় না? তোমার নফস কি কষ্ট পায় না? তুমি দেখবে কতক মানুষ যারা ছিয়াম পালন করছিল, ছালাত আদায় করছিল, এমনকি ক্বিয়ামুল লায়ল আদায় করছিল, যাকাত প্রদান করছিল, দান-ছাদাক্বা করছিল এবং এই মহান মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ভালো কাজ করার চেষ্টা-প্রচেষ্টা করছিল। এখন তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা সমস্ত ভালো কাজগুলো থেকে বিমুখ হয়ে যাবে, মসজিদগুলোকে তারা পরিত্যাগ করবে, জামাআতে লোকসংখ্যা কমে যাবে, ছালাত ছেড়ে দিবে, দান-ছাদাক্বা করার ব্যাপারে কৃপণ হয়ে যাবে, ভালো কাজের পরে আবার মন্দ কাজে ফিরে যাবে, বাকি মাসগুলোকে তারা হত্যা করে ফেলবে। তাদের দেখে মনে হবে যেন তারা অন্য কোনো রবের ইবাদত করছিল অথবা তারা শুধু রামাযান মাসকে আল্লাহর ইবাদতের মাস মনে করে।

হে মুসলিম! যদিও রামাযান শেষ হয়েছে, কিন্তু মুসলিমদের জন্য অন্য মাসগুলোও রামাযানের মতোই। তার জন্য নেকী রয়েছে। এ থেকে বিমুখ হওয়া বা আমল পরিত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। ছালাত, ছিয়াম, কুরআন তেলাওয়াত, ভালো কাজ, দান-ছাদাক্বা, সদ্ব্যবহার, আল্লাহর যিকির, ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা সব ভালো কাজগুলোই চলমান রয়েছে, এগুলো থেমে যায়নি অথবা এগুলো থেকে বিরত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সুতরাং ছালাত হলো দ্বীনের দ্বিতীয় রুকন বা স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা সর্বদাই ছালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا للهِ قَانِتِينَ ‘তোমরা ছালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী ছালাতের প্রতি এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে’ (আল-বাক্বারা, ২/২৩৮)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ করো, সিজদা করো, তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং ভালো কাজ করো, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে’ (আল-হাজ্জ, ২২/৭৭)

যারা এই ছালাতকে বিনষ্ট করবে এবং অলসতাবশত তা ত্যাগ করবে তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন বলেন, فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاَةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ‘তাদের পরে আসল অযোগ্য উত্তরসূরীরা, তারা ছালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। কাজেই অচিরেই তারা ক্ষতিগ্রস্ততার সম্মুখীন হবে’ (মারইয়াম, ১৯/৫৯)। তিনি আরও বলেন, كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ-إِلاَّ أَصْحَابَ الْيَمِينِ-فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ-عَنِ الْمُجْرِمِينَ-مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ-قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ ‘প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়। তারা থাকবে জান্নাতে এবং তারা পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে, তোমাদেরকে কীসে সাক্বার (জাহান্নাম)-এ নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে, আমরা ছালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’ (আল-মুদ্দাছছি, ৭৪/৩৮-৪৩)

যাকে আল্লাহ তাআলা এ রামাযান মাসে ছালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য সাহায্য করেছেন, তুমি সেই ছালাতকে বিনষ্ট করো না। কেননা এ ছালাতই তোমার রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী। এই ছালাত তোমার পাপ থেকে তোমাকে উদ্ধার করতে সাহায্য করবে এবং তোমাকে পবিত্র করবে, সুবহানাল্লাহ!

عن أبي هريرةَ رضي الله عنه أن النبيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: مَن غدا إلى المسجدِ أو راح، أَعَدَّ اللهُ له نُزلاً في الجنةِ كُلَّمَا غَدَا أو راح.

আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন, যতবারই সে সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে যায়’।[1]

ছহীহ বুখারীতে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা কী বলো, যদি তোমাদের কারো দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে; তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?’ ছাহাবীগণ বললেন, না, তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। তখন তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এটাই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের দৃষ্টান্ত; আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে গুনাহসমূহ মুছে দেন’।[2]

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপরে ছালাত ফরয করেছেন এবং তিনি তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে তা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি তারা যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সর্বপ্রথম তিনি তাদেরকে ছালাত সম্পর্কেই জিজ্ঞেস করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর ছালাত ফরয করেছেন এবং প্রত্যেক সময় ও প্রত্যেক অবস্থায় তাদেরকে এর মাধ্যমে ইবাদতে আবদ্ধ করেছেন, যতক্ষণ না তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম তাদেরকে ছালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন, যেমনটি হাদীছে এসেছে,

عن أبي هريرةَ رضي الله عنه أن النبيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: إن أَوَّلَ ما يُحاسَبُ بِهِ العبدُ يَومَ القيامةِ مِن عَملِهِ صلاتُهُ فَإِنْ صَلَحَت فقد أفلح وأنجح وإِنْ فسدت فقد خاب وخسر.

আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যার হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো তার ছালাত। যদি তার ছালাত সঠিক হয়, তবে সে সফল ও কৃতকার্য হবে আর যদি তার ছালাত নষ্ট হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।[3]

শাওয়াল মাসের ছিয়াম:

ছিয়াম রামাযানের হলে তা ফরয হয়, অন্যথা নফল হয়, যা সারা বছর শরীআতে অনুমোদিত। এখানে শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম আছে, সে সম্পর্কে হাদীছে এসেছে,

عَن أَبي أَيُّوبَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتّاً مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ.

আবূ আইয়ূব আনছারী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রামাযানের ছিয়াম পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয় দিন ছিয়াম রাখল, সে যেন সারা বছর ছিয়াম রাখল’।[4]

আরাফার ছিয়াম, শূরার ছিয়াম, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ছিয়াম এবং প্রত্যেক মাসে তিন দিন ছিয়াম:

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা ও আশূরার দিনের ছিয়াম সম্পর্কে বলেছেন,صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ‘আরাফার দিনের ছিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর আশূরার দিনের ছিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন’।[5]

قال أبو هريرةَ رضي الله عنه أوصاني خليلي بثلاثٍ: أن أصومَ مِن كُلِّ شهرٍ ثَلاثةَ أيَّامٍ وأن أُصَلِّيَ ركعتي الضُّحى وأن أوترَ قَبلَ أن أنامَ. ويقولُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ في يومِ الاثنينِ: ذاك يومٌ وُلِدتُ فيه ويومٌ بُعِثتُ فيه ويومٌ أُنزِل عليَّ فيه وتقولُ عائشةُ رضي الله عنها كان رسولُ اللهِ يَتَحَرَّى صيامَ الخميسِ والاثنينِ.

আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার বন্ধু (রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তিনটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন দিন ছিয়াম রাখা, যুহার দুই রাকআত ছালাত আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর ছালাত পড়ে নেওয়া। আর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবারের ছিয়াম সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটি সেই দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমাকে নবুঅত দেওয়া হয়েছে এবং যেদিন আমার উপর অহী নাযিল করা হয়েছে’। আর আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারের ছিয়াম রাখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।[6]

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, ‘এই দুই দিনে (সোমবার ও বৃহস্পতিবার) বান্দার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়’ আর তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি পছন্দ করি, আমার আমল আমার রবের কাছে পেশ করা হোক এমন অবস্থায় যে আমি ছিয়াম পালনকারী’।[7]

আর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাসে এত বেশি ছিয়াম রাখতেন, যতটা অন্য মাসগুলোতে রাখতেন না। কারণ এটি রামাযানের আগে এমন একটি মাস, যার ব্যাপারে মানুষ গাফেল থাকে।[8]

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও জানিয়েছেন যে, ‘রামাযানের পর সর্বোত্তম ছিয়াম হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের ছিয়াম’।[9] তিনি দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর ছিয়ামের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন, এক দিন ছিয়াম রাখা এবং এক দিন ইফতার করা।[10]

কুরআন তেলাওয়াত:

কুরআন আত্মার পানীয় ও আহার, রূহের নিরাময় ও তার শক্তি, স্থায়িত্ব ও জাগরণের মূল উৎস। বলুন, রূহ ছাড়া কি কোনো মুমিন জীবিত থাকতে পারে? জীবনের মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কি কোনো মুমিনের অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেন,إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ ‘নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিশা দেয়, যা সবচেয়ে সরল ও সঠিক’ (আল-ইসরা, ১৭/)

কুরআন হলো এক সুদৃঢ় রজ্জু, যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে আর অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে। যে এই মযবূত রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং কখনো ধ্বংসও হবে না। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

اقرؤوا القرآنَ فإنه يأتي يَومَ القيامةِ شفيعًا لأصحابِهِ اقرؤوا الزَّهرَاوَينِ: البقرةَ وآلَ عمرانَ؛ فإنهما تأتيانِ يَومَ القِيامةِ كأنهما غمامتانِ أو غيايتانِ، أو كأنهما فِرقانِ مِن طَيرٍ صَوَافَّ تحاجان عن صاحبِهما.

‘তোমরা কুরআন তেলাওয়াত করো, কেননা ক্বিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। তোমরা দুই উজ্জ্বল বস্তু সূরা বাক্বারা ও আলে ইমরান পাঠ করো। কারণ ক্বিয়ামতের দিন এ দুটি এমনভাবে আসবে, যেন দুটি মেঘ অথবা দুটি ছায়ামণ্ডল কিংবা যেন সারিবদ্ধ পাখির দুটি ঝাঁক, যা তাদের পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে’।[11]

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,لا حَسَدَ إلا في اثنتينِ: رجلٍ آتاه اللهُ القرآنَ فهو يتلوه آناءَ الليلِ وآناءَ النهارِ، ورجلٍ أعطاه اللهُ مالاً فهو يُنفِقُهُ آناءَ الليلِ وآناءَ النهارِ". أَيْ في سائرِ العامِ ‘দুটি বিষয় ছাড়া হিংসা (ঈর্ষা) নেই— এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, সে রাতদিন সবসময় তা তেলাওয়াত করে। আর আরেক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, সে রাতদিন সবসময় তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে’।[12] অর্থাৎ সারা বছর জুড়েই।

অতএব, হে কুরআনের উম্মত! রামাযানের পরে কুরআনকে পরিত্যাগ করো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য কুরআন থেকে একটি দৈনিক নির্ধারিত পাঠ স্থির করো এবং নিয়মিতভাবে কুরআন তেলাওয়াত বজায় রাখো।

[অনুবাদ সোর্স: যাদুল খত্বীব আদ-দাওয়াহ]

অনুবাদ: আব্দুল মোমিন তাজেমুল হক

শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

 

[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬৯।

[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬৭।

[3]. আবূ দাঊদ, হা/৮৬৪, হাদীছটি ছহীহ।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৮১৫; আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৫; তিরমিযী, হা/৭৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৭১৬।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯৮১।

[7]. তিরমিযী, হা/৭৪৭, হাদীছটি ছহীহ।

[8]. নাসঈ, হা/২১৫১, ‘হাসান’।

[9]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; মিশকাত, হা/২০৩৯।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯।

[11]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৪।

[12]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০২৬।

Magazine