সমকামিতা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশে সমকামিতা[1]:
বাংলাদেশে বিকৃত যৌনতা সমকামিতার বিষয়টিকে স্বাভাবিক করার কার্যক্রম শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে। তবে উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, ১৯৮০-এর দশকে ঢাকার পতিতালয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যৌনকর্মী (সমকামী)-এর খোঁজ পাওয়া যায়।[2]
বাংলাদেশে এলজিবিটি আন্দোলনের ইতিহাসকে চার পর্যায়ে ভাগকরা যায়:
১. প্রথম পর্যায়: এইডস প্রতিরোধ ও যৌন স্বাস্থ্য
নব্বইয়ের দশকে আমেরিকাসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এইডস মহামারিকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে। এইডস মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক খাত থেকে আসে প্রচুর ফান্ড। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় এবং এখনও বাংলাদেশে এইডস আক্রান্তদের প্রায় সবাই ছিল সমকামী অথবা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ ব্যবহারকারী। এই অর্থের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ যায় এইডস সচেতনতা এবং এইডস রোগীদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলোর কাছে। এইডস নিয়ে কাজ করা অধিকাংশ সংগঠন কোনো না কোনোভাবে সমকামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল।
ফলে এইডস মোকাবেলায় আসা ফান্ডিংয়ের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ পৌঁছে যায় সমকামী অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের কাছে। ফান্ডিংয়ের সাথে সাথে তাদের প্রভাব বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি এইডস ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিষদের উপদেষ্টা পদও পেয়ে যায় কিছু কিছু সমকামী সংগঠন। এভাবে গড়ে উঠে এলজিবিটি আন্দোলনের বৈশ্বিক প্রভাব ও বিস্তৃতি।
এইডস মহামারির আরেকটা অপ্রত্যাশিত প্রভাব ছিল। প্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সমকামিতার ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নেতিবাচক। কিন্তু সমকামিতাকে ঘৃণ্য অপরাধ মনে করা হলেও এইডস সংক্রান্ত উদ্যোগে এসব দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সাহায্য পাওয়া যায়। আর এর মাধ্যমে সমকামী সংগঠনগুলো এসব দেশে কাজ করার সুযোগ পায়। এভাবে গড়ে ওঠে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশেও এভাবেই শুরু হয় এলজিবিটি আন্দোলনের কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এলজিবিটি অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার জন্য আক্ষরিক অর্থে শত শত কোটি কোটি টাকা খরচ করছে পশ্চিমারা। ফ্লোরিডা রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ২০২৪ এর জানুয়ারিতে মার্কিন সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, ইউএসএইডের মাধ্যমে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রচারে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করছে। এটা আমেরিকান জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয়। তবে সিএনএন জানিয়েছে, এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ২০১৮ সালে। এ অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের হয়ে কাজ করছে দেশীয় এনজিও আর সমকামী সংগঠনগুলো। আর একাজ করা হচ্ছে ট্রান্সজেন্ডার শব্দের আড়ালে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়: ‘স্বাস্থ্য সেবা’ থেকে ‘অধিকার’
সেই অধিকার হচ্ছে, যৌন অধিকার, যৌন সংখ্যালঘু, যৌন বৈচিত্র্যের অধিকার। বাংলাদেশে এলজিবিটি কার্যক্রমের প্রথম ১০ বছর কার্যক্রম চলে ‘এইডস প্রতিরোধ’ আর ‘যৌন স্বাস্থ্য সেবা’র ব্যানারে। পরিবর্তন আসতে শুরু করে ২০০৬/০৭-এর দিকে। এ সময় থেকে সমকামীদের ‘যৌন সংখ্যালঘু’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ‘যৌন অধিকার’ এর দাবি তোলা হয়। এই বিকৃত যৌনতাকে অধিকার হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ব্র্যাক।
৩. তৃতীয় পর্যায়: প্রকাশ্যে এলজিবিটি কার্যক্রম
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইন্টারনেট চ্যাট গ্রুপ, মেইল গ্রুপ এবং ফোরামের মাধ্যমে সমলিঙ্গের সাথে যৌনতায় আসক্ত ব্যক্তিদের একধরনের অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। সমকামীরা এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যৌন সঙ্গী খুঁজে বের করত। ১৯৯৯ সালে রেঙ্গু নামে একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি ‘গে বাংলাদেশ’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপ তৈরি করে। এটি ছিল বাংলাদেশে এধরনের প্রথম গ্রুপ। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের শুরু বিলেত ফেরত ভারতীয় শিবানন্দ খানের মাধ্যমে।
‘গে বাংলাদেশ’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০২ গড়ে ওঠে আরেকটি ই-গ্রুপ, ‘বয়েস অফ বাংলাদেশ’ (Boys of Bangladesh/BoB)। কাজী হক নামে একজন ব্যক্তি (অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী) ইয়াহু চ্যাটে এই গ্রুপটি চালু করে।
অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে ‘গেট টুগেদার’ এবং ‘ডিজে পার্টি’-র আয়োজন করতে শুরু করে ‘বয়েস অফ বাংলাদেশ’। এই অনুষ্ঠানগুলো ছিল সমকামীদের জন্য যৌন সঙ্গী বাছাইয়ের আর একসাথে ফুর্তি করার সুযোগ। ২০০৫ সালে বন্ধু-র সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ‘বয়েস অফ বাংলাদেশে’র।
প্রথম পাঁচ বছরে ‘বয়েস অফ বাংলাদেশে’র কার্যক্রম অনলাইন নেটওয়ার্কিং আর অফলাইন ‘ডিজে পার্টি’-র মধ্যে সীমিত থাকে। পরিবর্তন আসতে শুরু করে ২০০৭ থেকে। সে বছর ব্র্যাকের জেইমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করে ‘বয়স অফ বাংলাদেশ’।
ব্র্যাকের অনুষ্ঠানের পর প্রকাশ্যে কাজ করা শুরু করে ‘বয়েস অফ বাংলাদেশ’। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো এলজিবিটির প্রতীক রংধনু পতাকা টাঙিয়ে ধানমন্ডির জার্মান ইন্সটিটিউটের ছাদের ক্যাফেতে অনুষ্ঠান করে তারা। এটাকে সমকামী অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বলা যেতে পারে।
ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে এবং বয়েস অফ বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে গড়ে ওঠে আরও কিছু সমকামী সংগঠন। ২০০৮ সালে কুইয়ার বাংলা (Queer Bangla) এবং গে বাংলা (Gay Bangla) নামে দুটো সংগঠন তৈরি হয়। তবে সক্রিয় হয় ‘রূপবান’ নামে আরেকটি উদ্যোগ। ২০১৪ সালে ‘রূপবান’ নামে দেশের প্রথম সমকামী ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়।
৪. চতুর্থ পর্যায়:
(১) ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া
এ পর্যায়ে এসে ২০১৬ সালের দিকে তারা হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার শব্দ দুটোকে গলিয়ে-মিশিয়ে একাকার করে ফেলার চেষ্টা করে। কারণ শুধু সমকামিতা নিয়ে তারা এগুতে পারবে না বলে তারা বুঝতে পারে। আমরা জানি, হিজড়া হচ্ছে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী, যাদের ব্যাপারে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে এবং আমাদের দেশের আইনেও তাদের অধিকার আছে।
(২) ট্রান্সজেন্ডারবাদ: আইন, পাঠ্যপুস্তক এবং যৌন শিক্ষা
আইন: বাংলাদেশে রীতিমতো আইন প্রণয়ন করে ট্রান্সজেন্ডারবাদ তথা এলজিবিটি অ্যাজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া চলমান। ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাম্প্রতিক দেশকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইন দ্রুত পাশ হবে’ শিরোনামের এক খবরে বলা হয়, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমরা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় আইনের খসড়া প্রণয়ন করতে পেরে খুশি। এই কমিউনিটির সদস্যদের সমাজের মূলস্রোতধারায় আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে…’।[3]
৫ ডিসেম্বর ২০২৩-এ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘সম্পত্তিতে অধিকার পাবেন ট্রান্সজেন্ডার সন্তানরা’, শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০২৩’ শীর্ষক আইন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পাস করা হবে বলে জানান সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ। তিনি বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশ করার জন্য আমরা কাজ করছি। এক বছরের মধ্যে আইনটি করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সরকার চায় এই বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় হোক’।[4]
অ্যাজেন্ডা আর পয়সা দিয়েছে আমেরিকা ও এডিবি, তাদের ফরমায়েশ অনুযায়ী আইনের খসড়া বানিয়েছে বন্ধু, আর সেটাই গৃহীত হয়ে গেছে!
শিক্ষা: শিশু-কিশোরদের মাথায় শুরুতেই যদি ঢুকিয়ে দেওয়া যায় যে, মানুষ ইচ্ছেমতো যৌন সঙ্গী বেছে নিতে পারে, ইচ্ছেমতো যৌনতায় লিপ্ত হতে পারে, নিজের পরিচয় বেছে নিতে পারে ইচ্ছেমতো; এসবই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারের বিষয়, তাহলে এক প্রজন্মের মধ্যেই সমাজের মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের অবনতি নিয়ে আসা সম্ভব।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড NCTB-এর ২০২৩ সালের সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বইয়ে ৫১-৫৬ পৃষ্ঠায় ‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের লেখায় সরাসরি ট্রান্সজেন্ডারবাদের দীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ৫১ পৃষ্ঠায় দেওয়া সেই গল্পে মূল চরিত্র শরীফা বলছে, ‘আমার শরীরটা ছেলেদের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে…’। ৫২ পৃষ্ঠায় মূল চরিত্র শরীফাকে একজন বলছে, ‘…আমরা নারী বা পুরুষ নই। আমরা হলাম ট্রান্সজেন্ডার’।
একই বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় নতুন প্রশ্ন অনুচ্ছেদে পাঁচজন শিক্ষার্থীর কথোপকথনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই কথোপকথনে এক শিক্ষার্থী বলছে, তার মা তাকে শিখিয়েছে, ‘…ছোটদের কোনো ছেলে-মেয়ে হয় না। বড় হতে হতে তারা ছেলে বা মেয়ে হয়ে ওঠে’।
৫৫ এবং ৫৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘আমরা যে মানুষের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখেই কাউকে ছেলে বা মেয়ে বলছি, সেটা হয়তো সবার ক্ষেত্রে সত্যি নয়’।
‘…এখন বুঝতে পারছি, ছেলে-মেয়েদের চেহারা, আচরণ, কাজ বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নেই’।
যৌনতার শিক্ষা: ইউনিসেফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওর ক্রমাগত চাপে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষার অংশ যুক্ত করা হয়। এসব অংশ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন অভিভাবক, সাধারণ জনগণ, এমনকি শিক্ষকরাও। প্রতিবাদের মুখে ২০১৪/১৫ সালে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
কিন্তু সন্তুষ্ট হয় না পশ্চিমারা। ২০১৬ সালে সুইডেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিডা (SIDA), আঞ্চলিক নারীবাদী এনজিও অ্যারো (ARROW) এবং দেশীয় নারীবাদী এনজিও ‘নারীপক্ষ’-এর যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যৌন শিক্ষার অবস্থা নিয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে সহায়তা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এ প্রতিবেদনে পাঠ্যবইগুলোর যৌন শিক্ষা অংশের বেশ কিছু দিকের সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন-
- বইগুলোতে পর্নোগ্রাফি দেখার মতো কাজগুলো সমাজের জন্য হুমকি বলা হয়েছে।
- মাদরাসা বোর্ডের বইতে বলা হয়েছে যেনা, সমকামিতা হারাম।
- বলা হয়েছে, যৌনতা কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যেই হতে পারে।
লক্ষ করুন, এনজিওর বানানো প্রতিবেদনে এই অবস্থানগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের মতে যৌন শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শেখানো উচিত যে, পর্নোগ্রাফি সমাজের জন্য হুমকি না, যেনা এবং সমকামিতা নিষিদ্ধ কিছু না আর যৌনতা কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যৌন শিক্ষা কারিকুলামের ব্যাপারে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ‘ইসলামী উগ্রবাদের!’ সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এ প্রতিবেদনের লেখিকা!
একই সুরে, ব্র্যাকের তৈরি ২০১৮-এর এক প্রতিবেদনে সমালোচনা করা হয়েছে এই কারিকুলামের। কারিকুলামটিকে অপূর্ণ বলা হয়েছে। কারণ এতে—
- হস্তমৈথুন সংক্রান্ত আলোচনা নেই।
- জেন্ডার আইন্ডিন্টিটি (ট্রান্সজেন্ডারবাদ) সংক্রান্ত আলোচনা নেই।
- বিবাহপূর্ব যৌনতা নিয়ে আলোচনা নেই।
ব্র্যাকের মতে, এগুলোও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা দরকার।
বাংলাদেশে যত ধরনের এলজিবিটি কর্মকাণ্ড হয়েছে, সবগুলোর মধ্যে নিচের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে—
বিদেশী কানেকশন: বাংলাদেশে এলজিবিটি আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল:
- পশ্চিমা ফান্ডিং
- আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও
- আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এলজিবিটি নেটওয়ার্ক
- দেশীয় এনজিও
শব্দজাদু: বাংলাদেশে সরাসরি এলজিবিটি বা সমকামী শব্দটা ব্যবহার করে কাজ করা কঠিন। তাই এখানে শুরু থেকে কাজ হয়েছে বিভিন্ন অপরিচিত শব্দ, পরিভাষা এবং শব্দসংক্ষেপের আড়ালে। যেমন-
- যৌন স্বাস্থ্য
- MSM (Men Who Have Sex With Men/এমন পুরুষ যে অন্য পুরুষের সাথে যৌনতায় লিপ্ত হয়)
- Gender Identity (লিঙ্গ পরিচয়)
- SRHR (Sexual and Reproductive Health and Rights/যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার)
- SOGI (sexual orientation [যৌন রুচি], gender identity/মনস্তাত্ত্বিক লিঙ্গ পরিচয়)
- যৌন সংখ্যালঘু
- যৌন অধিকার
- যৌন বৈচিত্র্য
- বৈচিত্র্যময় লিঙ্গ পরিচয়
- CSE (Comprehensive Sexuality Education/যৌনতা সম্পর্কিত বিস্তারিত শিক্ষা)
- ট্রান্সজেন্ডার (শারীরিকভাবে সুস্থ পুরুষ, যে নারী সাজে অথবা শারীরিকভাবে সুস্থ নারী, যে পুরুষ সাজে)
দুটি সূত্র:
যখনই এধরনের আলোচনায় ‘অধিকার’ শব্দটা আসবে, বুঝবেন এখানে বিকৃত যৌনকর্মের বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। যেমন-
- যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার = বিকৃত যৌনতার অধিকার
যখনই ‘বৈচিত্র্য’ শব্দটা আসবে, বুঝবেন এখানে বিকৃতির কথা বলা হচ্ছে। যেমন-
- বৈচিত্রময় যৌন পরিচয় = সমকামী বা উভকামী
- বৈচিত্রময় যৌন রুচি = বিকৃত যৌনতা
- বৈচিত্রময় লিঙ্গ পরিচয় = নারী সাজা পুরুষ বা পুরুষ সাজা নারী
মহান আল্লাহ গভীর ষড়যন্ত্র থেকে আমাদেরকে হেফাযত করুন।
(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)
-আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী
বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
[1]. এ সম্পর্কিত তথ্যগুলো বেশিরভাগই আসিফ আদনানের লেখা থেকে নেওয়া। দ্রষ্টব্য:
https://chintaporadh.com/behind-the-curtain-1
https://chintaporadh.com/behind-the-curtain-2
[2]. https://bn.wikipedia.org/wiki/বাংলাদেশে_সমকামিতার_ইতিহাস
[3]. https://www.shampratikdeshkal.com/bangladesh/news/2309123862/ট্র্যান্সজেন্ডার-ব্যক্তির-অধিকার-সুরক্ষায়-আইন-দ্রুত-পাশ-হবে
[4]. https://www.ittefaq.com.bd/669275/সম্পত্তিতে-অধিকার-পাবে-ট্রান্স-জেন্ডার-সন্তানরা
