اَلْحَمْدُ لِلهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ
মানুষ সামাজিক জীব। তারা একাকী চলতে পারে না। তাদেরকে পরস্পর মিলেমিশে থাকতে হয়। কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। প্রত্যেককেই কারো না কারো দ্বারস্থ হতে হয়। সর্বশ্রেণীর মানুষের বেলায়ই এটা ঘটে এবং সবক্ষেত্রেই ঘটে। আল্লাহ্র পথে দাওয়াতী ময়দানও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং এখানে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সহযোগিতা কর। কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না’ (আল-মায়েদাহ, ৫/২)। তিনি আরো বলেন, ‘তুমি বলে দাও, এটাই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীরা স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে আল্লাহ্র পথে আহবান করি’ (ইউসুফ, ১২/১০৮)। মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ্র কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আর আমার পরিবার হতে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী বানিয়ে দাও। আমার ভাই হারূনকে। তার দ্বারা আমার শক্তি বৃদ্ধি কর এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার কর’ (ত্বহা, ২০/২৯-৩২)। তিনি আরো সাহায্যের আবেদন করেছিলেন এভাবে, ‘আর আমার ভাই হারূন আমার চেয়ে প্রাঞ্জলভাষী, কাজেই তাকে তুমি সাহায্যকারীরূপে আমার সঙ্গে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশঙ্কা করছি, তারা আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করবে’ (আল-ক্বাছাছ, ২৮/৩৪)। আবেদনের জবাবে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার হাতকে শক্তিশালী করব এবং তোমাদেরকে প্রমাণপঞ্জি দান করব, যার ফলে তারা তোমাদের কাছে পৌঁছতেই পারবে না’ (ঐ, ২৮/৩৫)। এসব আয়াত থেকে দাওয়াতী কাজে দাঈগণের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব দিবালোকের ন্যায় ফুটে উঠে। প্রথমোক্ত আয়াতটির তাফসীরে বলা হয়েছে, ‘সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে পারস্পরিক সহযোগিতার এই আদেশ কুরআনে বর্ণিত সামষ্টিক হেদায়াতের একটি রুকন। কেননা এটি মানুষের উপর সব ধরনের ভাল কাজে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ওয়াজিব করে, যেগুলো তাদের একার বা অনেকের ইহকাল ও পরকালে উপকারে আসতে পারে’ (তাফসীরুল মানার, ৬/১০৮)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যাকে আল্লাহ মুসলিমদের কোন দায়িত্ব দেন এবং তার কল্যাণ চান, তার জন্য একজন সত্যিকারের সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দেন। সে ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় আর স্মরণে থাকলে তাকে সাহায্য করে’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪১৪, ছহীহ)। অতএব, আল্লাহ্র পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে দাঈগণকে এপথেই এগুতে হবে, এর বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর অভাবই সবচেয়ে প্রকট। আল্লাহ্র পথের দাঈগণের অনেকেই আজ পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতায় ব্যস্ত। পরস্পরের প্রতি ভালবাসা, আন্তরিকতা, হৃদ্যতা আর সহযোগিতার যতটুকু বাক্বী আছে, তাও মুখ থুবড়ে পড়েছে মাযহাব, দল ও সংগঠনের চার দেওয়ালের সংকীর্ণ কোণায়। এ সম্পর্ক যেন কোনমতেই দলীয় গণ্ডি টপকানোর নয়; দল ও সংগঠনই যেন সব সহযোগিতা ও সম্পর্কের মূল! বিশুদ্ধ-অশুদ্ধ সব দল, সংগঠন, ফেরক্বা ও তরীক্বার বেলায়ই তা প্রযোজ্য। বলা চলে, এর বাইরে তাদের কোন ধারণাই নেই। এ বদ্ধমূল ধারণার পেছনে যুগে যুগে কিছু আলেম-উলামার ভূমিকাই ছিল মূল। তারা জাতিকে এভাবেই বুঝিয়েছেন এবং দল, সংগঠন, ফেরক্বা ও তরীক্বার বেড়ী তাদের গলায় পরিয়েছেন। তারা দল-মতের ঊর্ধ্বে মুসলিমদের পারস্পরিক ভালবাসা, সাহায্য-সহযোগিতার রূপরেখা খুব কমই তুলে ধরেছেন। এমনকি সেটা আমাদের বর্তমান সমাজের আহলেহাদীছদের বেলায়ও ঘটছে না। অন্যদের তুলনায় আহলেহাদীছদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশী দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক এ কারণে যে, তাদের আক্বীদা ও ফিক্বহী আমলে কোন মতভেদ নেই। শরী‘আতের শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে গোঁড়ামি ও ফতওয়াবাজির দ্বন্দ্বও তাদের মধ্যে নেই। সুতরাং আহলেহাদীছ হিসাবে সত্যিকারের ঈমানী ভ্রাতৃত্ব ও ‘অলা’র যথার্থ প্রয়োগ তাদের মধ্যেই থাকা বেশী যরূরী ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এমনকি তারাও আজও ‘অলা ও বারা’র এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটিতে আহলেহাদীছ হতে পারেনি। তাদের পরস্পর মিলেমিশে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করা এবং বৃহত্তর ঐক্যের পথে সংগঠনগুলোর গোড়ামিই মূল বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। কতইনা ভাল হত যদি সকল আহলেহাদীছ জনগোষ্ঠী এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করত! বিভিন্ন সংগঠনের নামে কোন বিভক্তি না থাকত!
আমরা বলি, সংগঠন আল্লাহ্র পথে দা‘ওয়াতের একটি মাধ্যম হিসাবে গণ্য হতে পারে; বরং পরিস্থিতির আলোকে কেথাও কোথাও যরূরীও হতে পারে। তবে অবশ্যই কিছু শর্তসাপেক্ষে। যেমন- (১) সংগঠনকে ‘জামা‘আত’ মনে করা যাবে না; বরং সংগঠন হবে সংস্থার মত। যাতে সংগঠনকে হক্ব ও বাতিলের মানদণ্ড মনে না করা হয় এবং পরস্পরের সম্পর্কের ভিত্তি না বানানো না হয়। (২) জামা‘আতবদ্ধ জীবনযাপনের হাদীছগুলোকে সংগঠনে থাকার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। ঠিক তেমনি আমীর, ইমারত ও ইমামের আনুগত্যের হাদীছগুলোকে সংগঠনের আমীরের আনুগত্যের জন্য ব্যবহার করা চলবে না। কেননা এই হাদীছগুলোতে আমীর ও ইমাম দ্বারা শাসকশ্রেণী উদ্দেশ্য। (৩) মানুষের তৈরী সংগঠন থেকে কেউ বের হয়ে গেলে তাকে জামা‘আতত্যাগী ও আমীরের আনুগত্য ত্যাগের মত অপরাধী মনে করা চলবে না। এটি একটি চরম ভ্রান্ত আক্বীদা, যা কোন আহলেহাদীছের থাকতে পারে না। সংগঠনগুলো থেকে ধার করা বিদ‘আতী বায়‘আত; ইসলামের নামে সেগুলো চালানো বিভ্রাট বৈ কিছুই নয়। (৫) এককথায় সংগঠনে কুরআন-হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি পরিপন্থী কোন কার্যক্রম থাকবে না। বরং কুরআন-হাদীছ সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী বুঝতে হবে। (৬) বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমলকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। (৭) ঈমানী মহান ও প্রশস্ত ভ্রাতৃত্বের গণ্ডিকে সাংগঠনিক সংকীর্ণ ভ্রাতৃত্বের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা থেকে দূরে থাকতে হবে। ‘অলা ও বারা’র সত্যিকার বাস্তবায়ন সংগঠনে থাকতে হবে। (৮) হৃদয়ের কালিমা দূর করে সংগঠনের ভেতরের এবং বাইরের সকল মুসলিম ভাইয়ের সাথে দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে চলতে হবে; বরং এই ভ্রাতৃত্বকে সব সম্পর্কের উপরে রাখতে হবে। (৯) সকল মুসলিমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকতে হবে, একে অন্যের দোষত্রুটি না বলে ভাল দিকগুলো বলতে হবে এবং কারো মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য হিকমতের সাথে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মনে রাখতে হবে, হৃদয় পরিস্কার না হলে জান্নাতে যাওয়া কঠিন। (১০) সংগঠনকে দা‘ওয়াতের একটি মাধ্যমের বাইরে অন্য কিছু মনে করা যাবে না; সংগঠন কখনই হক্ব-বাতিলের মানদণ্ড বিবেচিত হবে না। (১১) মানুষকে সংগঠনের পতাকাতলে আহ্বান না জানিয়ে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের শীতল ছায়াতলে আহ্বান জানাতে হবে। (১২) নির্দিষ্ট কোন সংগঠনকে ফিরক্বায়ে নাজিয়া মনে করা যাবে না; বরং ফিরক্বায়ে নাজিয়ার বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর যেখানে যার মধ্যেই পাওয়া যাবে, সে-ই ফিরক্বায়ে নাজিয়া বা নাজাতপ্রাপ্ত দলের অমর্ত্মভুক্ত হবে চাহে সে একাই হোক ইত্যাদি।
বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠতম ফক্বীহ শায়খ উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ দাঈদের বিভক্তির ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার খুব দুঃখ হয় তখন, যখন শুনি কোন ক্বওম হক্ব অন্বেষণের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রচেষ্টাকারী, অথচ তারা পরস্পর বিভক্ত! আবার তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট নাম বা বৈশিষ্ট্য আছে। প্রকৃতপক্ষে এটা ভুল। কারণ আল্লাহ্র দ্বীন এক এবং মুসলিম উম্মাহ্ও এক। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত এক উম্মত। আর আমি তোমাদের রব; অতএব, তোমরা আমাকে ভয় কর (আল-মুমিনূন, ৫২)’ (যাদুদ-দা‘ইয়া ইলাল্লাহ, পৃ: ২৬-২৭)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ শায়খ আলবানী সংগঠন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায়ে বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন জামা‘আত ও সংগঠনের অবস্থা হচ্ছে, তারা পরস্পরে বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করছে, প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন কর্মপদ্ধতি ও মূলনীতি রয়েছে এবং প্রত্যেকটি জামা‘আতের পৃথক পৃথক অনুসরণীয় দলপ্রধান রয়েছে...’ (‘আল-হুদা ওয়ান-নূর’ ক্যাসেট সিরিজের ৩৪০নং ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত)। উলামায়ে কেরামের এজাতীয় বক্তব্যকে আমাদের কেউ কেউ তাদের স্ব স্ব দেশের জন্য খাছ বলে মন্তব্য করে থাকেন। দল ও সংগঠন সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের এজাতীয় বক্তব্যগুলো যে শুধু তাদের দেশ ও সমাজের জন্য খাছ নয়, বক্তব্যগুলো পড়লে তা খুব সহজেই বুঝা যায়। তথাপিও ঐসব বক্তব্য তাদের দেশের জন্য খাছ না হওয়ার কয়েকটি যথার্থ কারণ পাঠক সমীপে তুলে ধরা হলো: (১) বক্তব্যগুলো ‘আম’ বা সাধারণ, যেগুলো সব মুসলিম সমাজের জন্য প্রযোজ্য। সেগুলোকে তাদের স্ব স্ব দেশ ও সমাজের জন্য খাছ করার কোন প্রকার ইঙ্গিতই সেখানে নেই; বরং সেগুলো যে সব মুসলিম সমাজের জন্য প্রযোজ্য, সে ইঙ্গিতই সেখানে রয়েছে। (২) ঐসকল উলামায়ে কেরামের সবাই আরব বিশ্বের নন; বরং তাদের মধ্যে ভারত উপমহাদেশের আলেমও আছেন। তাহলে সেগুলো শুধু আরব বিশ্বের জন্য খাছ হয় কি করে? (৩) তাদের কারো কারো বক্তব্য শুধুমাত্র আমাদের ভারত উপমহাদেশের সাংগঠনিক অবস্থাকে কেন্দ্র করেই; যেমনটি কুয়েতের বিখ্যাত লেখক ও দাঈ শায়খ আব্দুর রহমান আব্দুল খালেক্ব এবং সঊদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতী আল্লামা শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ-এর মধ্যকার লিখিত কথোপকথনে পাওয়া যায় (দ্র: আল-ওয়াছায়া আল-‘আশ্র, পৃ. ৭১; মাজমূঊ ফাতাওয়া, ৮/২৪০-২৪৫; তামবিহাত ও তা‘কীবাত, পৃ. ৩৯-৪০ ও ৫৪-৫৫)। তাহলে ভারত উপমহাদেশ আরব বিশ্ব হলো কবে? (৪) তাদের কাউকে কাউকে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন ও দলের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে এবং ঐ প্রশ্নের আলোকে তারা জবাব দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, সব মুসলিম রাষ্ট্র কি আরব বিশ্বে? তাহলে আরব বিশ্বের সাথে বক্তব্যগুলোকে খাছ করার উদ্দেশ্য কী?
এক্ষণে, আহলেহাদীছ সংগঠনগুলোকে এক হয়ে কাজ করতেই হবে; এর বিকল্প কোন রাস্তাই নেই। এক্ষেত্রে সংগঠনগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে সবাইকে এক সংগঠনে প্রবেশের আহবান জানালে তা সুফল বয়ে আনবে না। আবার কাউকে তার সংগঠন থেকে বের করে আনার কৌশলও সফলতার মুখ দেখবে না। নবীন বা প্রবীণ সেজে জিদ ধরে বসে থাকলেও কাজ হবে না। বরং সকলের হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন ও প্রশস্ত করতে হবে। পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করতে হবে। পরস্পরের সাথে মিশতে হবে। একে অন্যকে দাওয়াত দিতে হবে। পরস্পরের মঞ্চে যেতে হবে। আর এক্ষেত্রে আমাদের আলেম-উলামা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। এভাবেই সংকীর্ণতা দূর হবে, ধীরে ধীরে প্রকৃত ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, একসাথে কাজ করা সম্ভব হবে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ সম্প্রসারিত ও বেগবান হবে ইনশাআল্লাহ। এক পর্যায়ে কখন যে সংকীর্ণ দেওয়ালগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সবাই এক দেওয়ালের মধ্যে এসে যাবে, তা হয়তো কেউ ভাবতেও পারবে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ আন্তরিক আশাটুকু কবুল কর। আমীন!
