ভূমিকা :
ই‘তিকাফ মানুষকে দুনিয়ার ঝামেলা ত্যাগ করার শিক্ষা দেয় এবং অল্প সময়ের জন্য হলেও আল্লাহ্র সাথে বান্দার সম্পর্ক জুড়ে দেয়। এটাতে মানুষের পক্ষে অন্তিমকালে দুনিয়া ত্যাগ করা সহজ হয় এবং দুনিয়ার মহববতের স্থলে আল্লাহ্র মহববত বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার গুনাহ মাফ চাওয়ার জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়ে থাকেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পবিত্র মাহে রামাযান। আবার রামাযান মাসে আল্লাহ তা‘আলা লায়লাতুল ক্বদর (ليلة القدر) দিয়েছেন, সে রজনী পাবার জন্য ই‘তিকাফের পদ্ধতি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
ই‘তিকাফের পরিচয় :
ই‘তিকাফ (الاعتكاف) অর্থ, কোন বস্ত্তর উপর অবস্থান করা। যে ব্যক্তি মসজিদে বিশেষ পদ্ধতিতে ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত হয়, তাকে মু‘তাকিফ (معتكف) বলে এবং আকিফ (عاكف) বলে।[1] অন্যত্র বলা হয়েছে, ই‘তিকাফ বলা হয়, কোন বস্ত্তকে আবশ্যক করে নেয়া এবং কোন স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা।[2]
ইসলামী শরী‘আতের পরিভাষায়, দুনিয়াবী কর্ম থেকে অবসর গ্রহণ করে কেবল আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য মসজিদে অবস্থান করা। বিশেষ করে রামাযানের শেষ দশ দিন। ‘ইবাদতের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা’।[3] ইমাম বুখারী বলেন, ‘ইবাদতের ইচ্ছায় মসজিদে অবস্থান করা’।[4]
ই‘তিকাফের শারঈ বিধান :
ই‘তিকাফ শরী‘আত নির্দেশিত একটি ইবাদত, যা আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-কে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيْمَ وَإِسْمَاعِيْلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِيْنَ وَالْعَاكِفِيْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ.
‘আমি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম হতে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী ও রুকূকারীদের জন্য পবিত্র রেখো’ (বাক্বারাহ, ১২৫)।
উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ই‘তিকাফের বিধান আল্লাহ প্রদত্ত, যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-কে ই‘তিকাফকারীদের জন্য আল্লাহ্র ঘরকে পবিত্র রাখতে বলেছেন।
ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন এই মর্মে যে, ই‘তিকাফ একটি শরী‘আত নির্দেশিত ইবাদত। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন। এমনকি যেবার তিনি ইন্তেকাল করেছেন, সেবছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
يَعْتَكِفُ فِىْ كُلِّ رَمَضَانَ عَشْرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِىْ قُبِضَ فِيْهِ اعْتَكَفَ عِشْرِيْنَ يَوْمًا.
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রামাযান মাসে দশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর বিশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন’।[5]
ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য :
ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। নিজের গুনাহ মাফ করে নেয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল ই‘তিকাফ। ই‘তিকাফের আলাদা কোন মর্যাদা নেই। তবে লায়লাতুল ক্বদরকে (ليلة القدر) অন্বেষণ করা ই‘তিকাফের মূল উদ্দেশ্য। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত এ কারণেই ই‘তিকাফ করেছেন বলে হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।
আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বদরের রাত অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তা তাঁর কাছে স্পষ্ট হবার পূর্বে রামাযানের মধ্যেই দশ দিন ই‘তিকাফ করলেন। দশ দিন অতিবাহিত হবার পর তিনি তাঁবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতএব তা গুটিয়ে ফেলা হয়। অতঃপর তিনি জানতে পারেন যে, তা শেষ দশ দিনের মধ্যে আছে। তাই তিনি পুনরায় তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। তা খাটানো হল। এরপর তিনি লোকদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে লোক সকল! আমাকে ক্বদরের রাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং আমি তোমাদের তা জানানোর জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু দু’ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া করতে করতে উপস্থিত হল এবং তাদের সাথে ছিল শয়তান; তাই আমি তা ভুলে গেছি। অতএব তোমরা তা রামাযান মাসের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ কর। তোমরা ৯ম, ৭ম ও ৫ম রাতে অন্বেষণ কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবু সাঈদ! আপনারা সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরাই এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে অধিক হক্বদার, আমি বললাম, ৯ম, ৭ম ও ৫ম সংখ্যাগুলো কী? তিনি বলেলন, যখন ২১তম রাত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ২২তম রাত শুরু হয়, তখন তা হচ্ছে ৯ম তারিখ, ২৩ রাত অতিক্রান্ত হবার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৭ম তারিখ এবং ২৫তম রাত অতিবাহিত হবার পরের দিনটি হচ্ছে ৫ম তারিখ।[6]
ই‘তিকাফের প্রকারভেদ :
মূলত ই‘তিকাফ দুই প্রকার: (১) সুন্নাত (مسنون) (২) ওয়াজিব (واجب)।[7]
(১) সুন্নাত (مسنون) : সুন্নাত ই‘তিকাফ হল, যেটা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর স্ত্রীগণ এবং ছাহাবায়ে কেরাম করেছেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
اَنَّ النَّبِيَ النَّبِىُ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَواَخِرِ مِنْرَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثٌمَّ اِعْتَفَ اَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
‘নিশ্চয় নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্য পর্যন্ত রামাযান মাসে শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন। অতঃপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করেছেন।[8] আবু মালেক কামাল ইবনে সাইয়্যেদ সালেম রাযিয়াল্লাহু আনহু এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।[9]
(২) ওয়াজিব (واجب) : ওয়াজিব ই‘তিকাফ হল, যা ই‘তিকাফকারী নিজের উপর আবশ্যক করে নেয়। যেমন: যদি কেউ কোন ভালো কাজের উদ্দেশ্যে ই‘তিকাফ করার মানত করে, তাহলে তার মানত পূরণ করা আবশ্যক (واجب)। ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে,
اَنّ عُمَر سَأَلَ النَّبِىُ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُنْتُ نَذَرْتُ فِيْ الجَاهِلِيَةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيلةً فِي الْمَسْجِدِ الْحَرامِ قَالَ فَأَؤفِ بِنَذْرِكَ.
ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন, আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলাম (আমি কি এটা পূরণ করব?) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মানত পূরণ কর।[10]
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা :
জমহূর ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। আর ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এক দিন এক রাত। তার থেকে আরো একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হল তিন দিন। তার আরো একটি বর্ণনা মতে দশ দিন।[11]
ই‘তিকাফের স্থান :
একমাত্র মসজিদেই ই‘তিকাফ করা শরী‘আত সম্মত। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجِدِ.
‘আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলামিশা কর না’ (বাক্বারাহ, ১৮৭)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদেই ই‘তিকাফরত ছিলেন, তদ্রুপ তাঁর স্ত্রীগণও ছিলেন। মসজিদ ভিন্ন অন্য কোথাও ই‘তিকাফ শুদ্ধ নয়। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّم يُصْغِى إِلَىَّ رَأْسَهُ وَهْوَ مُجَاوِرٌ فِى الْمَسْجِدِ فَأُرَجِّلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ.
‘মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম’।[12]
জমহূর ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য অনুসারে, প্রত্যেক মসজিদে ই‘তিকাফ জায়েয। যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই জামে মসজিদ হওয়ার শর্তারোপ করেছেন।[13] আর আল্লাহ তা‘আলা সাধারণভাবে বলেন, (فِى المَسَاجِدِ) ‘মসজিদসমূহে’ (বাক্বারাহ, ১৮৭)।
ই‘তিকাফকারী মসজিদে কখন প্রবেশ করবে :
কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কয়েকদিন ই‘তিকাফ করার মানত করলে অথবা রামাযানের শেষ দশ দিনে ই‘তিকাফের ইচ্ছা করলে সুন্নাত হল, প্রথম দিনের ফজর ছালাতের পর মসজিদে প্রবেশ করা। রামাযানের ব্যাপারে একুশতম দিনে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করেছেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّم يَعْتَكِفُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً فَيُصَلِّى الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُهُ.
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন, আমি তার জন্য তাঁবু প্রস্তত করে দিতাম। তিনি ফজরের ছালাত পড়তেন। তারপর প্রবেশ করতেন।[14] এটা আওযাঈ, লাইছ এবং ছাওরীর বক্তব্য।[15]
চার ইমামসহ অনেকে বলেছেন, বিশতম দিনের সূর্যাস্ত যাওয়ার পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করবে। তারা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছের ব্যাখ্যা করেন এভাবে যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে রাতেই প্রবেশ করেছেন। কিন্তু তাঁবুতে প্রবেশ করেছেন পরের দিন ফজরের ছালাতের পরে। তারা আরো বলেন, দশ দিনের গণনার পূর্ণ হবে রাতসহ গণনার মাধ্যমে। তাই রাতকে গণনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাত শুরু হওয়ার পূর্বেই মসজিদে প্রবেশ করতে হবে।[16]
ই‘তিকাফকারী মসজিদ হতে কখন বের হবে :
এখানে দু’টি বক্তব্য পাওয়া যায়। প্রথম বক্তব্য অনুসারে ঈদের দিন সকালে ফজরের ছালাতের পর বের হয়ে একেবারে ঈদগাহে চলে যাবে। ইমাম মালেক এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। দ্বিতীয় বক্তব্য অনুসারে রামাযানের শেষ দিন সূর্যাস্তের পর বের হবে; আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।[17]
মহিলাদের ই‘তিকাফের বিধান :
মহিলাদের জন্য ই‘তিকাফ করা শরী‘আত সিদ্ধ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّم ذَكَرَ أَنْ يَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَاسْتَأْذَنَتْهُ عَائِشَةُ فَأَذِنَ لَهَا.
‘নিশ্চয় রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করবেন বলে উল্লেখ করলে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁর কাছে ই‘তিকাফের অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দিলেন’।[18] অন্যত্র আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
اَنَّ النَّبِيَ النَّبِىُ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَوَاخِرِ مِنْرَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثٌمَّ اِعْتكَفَ اَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
‘নিশ্চয় নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রামাযান মাসের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করেছেন। অতঃপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করেছেন’।[19]
দু’টি শর্ত সাপেক্ষে মহিলাদের ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ হবে :
(ক) স্বামী অনুমতি দিলে : কারণ স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মহিলা ঘর থেকে বের হতে পারবে না। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে এসেছে, তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ই‘তিকাফের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তদ্রুপ হাফছা এবং যায়নাব রাযিয়াল্লাহু আনহুমাও অনুমতি চেয়েছিলেন।[20]
(খ) মহিলাদের ই‘তিকাফ করার মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে : মহিলাদের জন্য ই‘তিকাফ করা বৈধ হবে না, যদি তার ব্যাপারে কোন আশঙ্কা কিংবা তার কারণে অন্য কোন পুরুষ ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। সব ধরনের ফিতনা থেকে নিরাপদ পাওয়া গেলে মহিলাকে ই‘তিকাফ করার আদেশ দেয়া বৈধ হবে।[21] পূর্বোক্ত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনার চেয়ে অধিক তুচ্ছ বিষয়ের কারণে নিজ স্ত্রীদেরকে ই‘তিকাফ থেকে বারণ করেছিলেন।[22]
মেয়েদের জন্য পর্দা দিয়ে মসজিদে আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ যখন ই‘তিকাফ করতেন, তখন তাদের জন্য আলাদা তাঁবু টাঙ্গানো হত। কেননা মসজিদে পুরুষরা উপস্থিত হয়, তাই মসজিদে মহিলাদের জন্য এমন স্থান নির্ধারণ প্রয়োজন, যেখানে পুরুষরা তাদের দেখবে না এবং তারাও পুরুষদের দেখবে না। মহিলাদের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে অধিক উত্তম হবে।[23]
ই‘তিকাফকারীর জন্য ছিয়াম রাখার শর্ত :
এ মাসআলায় ওলামায়ে কেরাম দু’টি অভিমত ব্যক্ত করেছেন।[24]
প্রথম বক্তব্য : ই‘তিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ছিয়াম পালন শর্ত :
এটা ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম মালেকের মত। ইমাম আহমাদের এক বর্ণনা অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা, ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা এবং ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও বর্ণনা পাওয়া যায়। তাদের দলীল :
(ক) রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসে ই‘তিকাফ করেছেন। এতে বুঝা যায়, ই‘তিকাফের শরী‘আত সিদ্ধতা ছিয়ামের সাথেই।
(খ) একই আয়াতে ছিয়ামের সাথে ই‘তিকাফের প্রসঙ্গ এসেছে।
(গ) রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
اَلسُّنَّةُ عَلَى المُعْتَكِفِ اَنْ لَا يَعٌوْدَ مَرِيْضًا ولَا يَشْهَدَ جَنَا زَةً وَلَا يَمَسَّ إِمْرَأَةً وَلَا يُبَاشِرَهَا وَلَا يَخْرُجَ لِحَاجَةٍ اِلَّا لمَا لَابُدَّ مِنهُ وَلَا اِعْتِكَافَ اِلَّا بِصَوْمٍ وَلَا اِعْتِكَافَ اِلَّافِى مَسْجِدٍ جاَمِعٍ.
‘ই‘তিকাফকারীর জন্য বৈধ হচ্ছে, সে কোন রোগীর সেবা করতে মসজিদ থেকে বের হবে না। কোন জানাযায় উপস্থিত হবে না। স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না। অতি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হবে না। ছিয়াম ব্যতীত কোন ই‘তিকাফ নেই। জামে‘ মসজিদ ব্যতীত কোন ই‘তিকাফ নেই।[25]
দ্বিতীয় বক্তব্য : ই‘তিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ছিয়াম পালন শর্ত নয় বরং মুস্তাহাব :
এটা ইমাম শাফেঈর বক্তব্য ও ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ একটি বর্ণনা। এ ধরনের বক্তব্য বর্ণিত আছে আলী এবং ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও। তাদের দলীল হল :
ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত যে,
اَنّ عُمَرَ سَأَلَ النَّبِىُ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُنْتُ نَذَرْتُ فِي الجَاهِلِيَةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيْلةً فِي الْمَسْجِدِ الْحَرامِ قَالَ فَأؤَفِ بِنَذْرِكَ.
‘ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন যে, আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলাম (আমি কি তা পূরণ করব?) নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মানত পূরণ কর।[26]
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদীছে এসেছে, যেখানে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাঁর স্ত্রীদের তাঁবু দেখলেন, তখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমরা কি ভালো নিয়তে ই‘তিকাফ করতে এসেছো? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবু গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলে তাঁবু গুটিয়ে ফেলা হয়। তিনি ঐ রামাযানে ই‘তিকাফ ছেড়ে দিয়ে শাওয়ালের প্রথম দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন।[27] অতএব বুঝা গেল, ছিয়াম ব্যতীত ই‘তিকাফ শুদ্ধ।
যেসব কাজ করলে ই‘তিকাফ বাতিল হয় :
নিমেণাক্ত কাজের যে কোন একটি করলে ই‘তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন:
(ক) স্ত্রী সহবাস : সকল ওলামায়ে কেরাম একমত যে, ই‘তিকাফের কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় স্ত্রী সহবাস করলে তার ই‘তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে।[28] কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجِدِ.
‘আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলামিশা কর না’ (বাক্বারাহ, ১৮৭)।
(খ) শরী‘আত সমর্থিত কোন ওযর ছাড়া এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হওয়া : ই‘তিকাফরত ব্যক্তি কোন অবস্থাতেই মসজিদ থেকে বের হবে না। তবে খাওয়া, পান করা, প্রস্রাব, পায়খানা এবং শরী‘আত সমর্থিত কোন ওযর ছাড়া। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّم يُصْغِى إِلَىَّ رَأْسَهُ وَهْوَ مُجَاوِرٌ فِى الْمَسْجِدِ فَأُرَجِّلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ.
‘মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম’।[29] অন্যত্র আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
اَلسُّنَّةُ عَلَى المُعْتَكِفِ اَنْ لَا يَعٌوْدَ مَرِيْضًا ولَا يَشْهَدَ جَنَا زَةً وَلَا يَمَسَّ إِمْرَأَةً وَلَا يُبَاشِرَهَا وَلَا يَخْرُجَ لِحَاجَةٍ اِلَّا لمَا لَابُدَّ مِنهُ وَلَا اِعْتِكَافَ اِلَّا بِصَوْمٍ وَلَا اِعْتِكَافَ اِلَّافِى مَسْجِدٍ جاَمِعٍ.
‘ই‘তিকাফকারীর জন্য নিয়ম হচ্ছে, সে কোন রোগীর সেবা করতে মসজিদ থেকে বের হবে না। কোন জানাযায় উপস্থিত হবে না। স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না। অতি প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হবে না। ছিয়াম ব্যতীত কোন ই‘তিকাফ নেই। জামে‘ মসজিদ ব্যতীত কোন ই‘তিকাফ নেই।[30]
ই‘তিকাফকারীর জন্য যা করা বৈধ :
(ক) ই‘তিকাফের জন্য মসজিদের এক অংশে তাঁবু টাঙ্গানো : রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ই‘তিকাফের ইচ্ছে করতেন, তখন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা মসজিদে তাঁবু টাঙ্গিয়ে দিতেন।[31]
(খ) মসজিদে ওযূ এবং গোসল করা : রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
تَوَضَّأ النَّبِىُ صَلَّى اللهُ علَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الَمَسْجِدِ وُضُوْءًاخَفِيْفًا.
‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব অল্প পানি খরচ করে মসজিদে ওযূ করেছেন’।[32] পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা ধুইয়ে দিতেন এবং চুল আঁচড়িয়ে দিতেন।
(গ) মসজিদে বিছানা বিছানো বা চৌকির ব্যবস্থা করা :
ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফ করলে উসতুয়ানা তাউবার পিছনে তাঁর জন্য বিছানা বিছানো হত অথবা চৌকি রাখা হত।[33] আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, فَلَمَّا كَانَ صَبِيْحَةَ عِشْرِيْنَ نَقَلْنَا مَتَاعَنَا ‘একুশতম দিনের সকালে আমরা আমাদের বিছানাপত্র সরিয়ে দিলাম’।[34]
(ঘ) অতি প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া : খাওয়া, পান করা, প্রস্রাব, পায়খানা এবং শরী‘আত সমর্থিত কোন কাজে বের হওয়া যাবে। যেমন পূর্বে আলোচনা হয়েছে।
(ঙ) ই‘তিকাফরত ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে কথা বলা : রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী ছাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর সাথে কথা বলেছেন। ছাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রামাযান মাসের শেষ দশ দিনে তিনি একবার রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে আসলেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে অনেকক্ষণ কথা বললেন। এরপর তিনি উঠে গেলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে উঠলেন এবং উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা-কে মসজিদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন।[35]
(চ) ই‘তিকারত অবস্থায় বিবাহের প্রস্তাব দেয়া এবংবিবাহ করা : ই‘তিকাফরত অবস্থায় বিবাহের প্রস্তাব দিতে ও বিবাহ করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ ই‘তিকাফের কারণে কোন পবিত্র এবং ভাল জিনিস হারাম হয় না। তাই ছিয়ামরত অবস্থায় যেভাবে বিবাহ বৈধ, ই‘তিকাফরত অবস্থাও তেমন বৈধ। তবে শর্ত হচ্ছে, ই‘তিকাফরত অবস্থায় সহবাস করা যাবে না।[36]
(ঝ) মুস্তাহাযা মহিলার ই‘তিকাফ করা জায়েয : মুস্তাহাযা মহিলার ই‘তিকাফ করা জায়েয, তবে তাকে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন মসজিদ অপবিত্র না হয়। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর এক মুস্তাহাযা স্ত্রী ই‘তিকাফরত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর লাল ও হলুদ বর্ণের রক্ত প্রবাহিত হত। ছালাত পড়ছেন এ অবস্থায় আমরা অনেক সময় তাঁর নিচে পাত্র রাখতাম।[37]
ই‘তিকাফকারীর শিষ্টাচার :
ই‘তিকাফকারীর জন্য করণীয় হল, সবসময় আল্লাহ তা‘আলার ধ্যানে মগ্ন থেকে বেশি বেশি ছালাত আদায়, কুরআন তেলাওয়াত, যিকির এবং আল্লাহ্র নিকট ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। বিশেষ করে বেজোড় রাত্রিগুলো লায়লাতুল ক্বদর (ليلة القدر) অন্বেষণ করার চেষ্টা করতে হবে। শুধু ঘুমালে ই‘তিকাফের উদ্দেশ্য হাছিল করা সম্ভব নয়। অনেককে দেখা যায়, ই‘তিকাফে বসে দুনিয়াবী অহেতুক কথা, কাজ এবং খোশগল্পে মেতে থাকে, যা ই‘তিকাফের বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী এবং ই‘তিকাফ ভঙ্গের অন্যতম কারণ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ছাহাবায়ে কেরামের ই‘তিকাফ এরূপ ছিল না।
উপসংহার :
ই‘তিকাফ একটি গুরত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী লোক দেখানো এবং দুনিয়াবী স্বার্থ পরিহার করে শুধু আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আদায় করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শরী‘আতের বিধান মেনে ই‘তিকাফ করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
[1]. আল-মিছবাহুল মুনীর, ২/৪২৪ পৃঃ, লিসানুল আরব, ৯/২৫২ পৃঃ।
[2]. ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ৫৩৯।
[3]. ইবরাহীম মুছত্বফা, মু‘জামুল ওয়াসীত্ব (দারুদ দা‘ওয়াহ, তাবি) ২/৬১৯ পৃঃ; আল-মিনহাজ শারহু মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, ৮/৬৬ পৃঃ।
[4]. www.almoslim.net/node/150496।
[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৪৪ (তাওহীদ প্রকাশনী, হা/১৯০১; আধুনিক প্রকাশনী, হা/১৯১৩)।
[6]. ছহীহ বুখারী, হা/২০১৮ (আধুনিক প্রকাশনী, হা/১৮৭৫; ই.ফা, হা/১৮৮৮); ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪ (ই.ফা, হা/২৬৩৮; ই.সে, হা/২৬৩৭)।
[7]. ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ৫৪০।
[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২।
[9]. ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ১৫০।
[10]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩২; মিশকাত, হা/২১০১।
[11]. বিদ‘আতুল মুজতাহিদ, ১/৪৬৮ পৃঃ; ফাতহুল বারী, ৪/৩১৯ পৃঃ ।
[12]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৮।
[13]. ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ১৫১।
[14]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৩।
[15]. ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ১৫২।
[16]. প্রাগুক্ত।
[17]. প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৫২।
[18]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৪৫; ছহীহ বুখারী, হা/১১৭২।
[19]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৬; ছহীহ বুখারী, হা/১১৭২।
[20]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৩।
[21]. ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, পৃঃ ১৫২।
[22]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৩।
[23]. ফিকহুস সুন্নাতুল্লিন্নিসা, পৃঃ ২৪৭।
[24]. বিদ‘আতুল মুজতাহিদ, ১/৪৭০ পৃঃ; তাহযিবুস সুনান, ৭/১০৪-১০৯ পৃঃ।
[25]. আবুদাঊদ, হা/২৪৭৩; বায়হাক্বী, ৪/৩১৫ পৃঃ।
[26]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩২; মিশকাত, হা/২১০১।
[27]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৩।
[28]. বিদ‘আতুল মুজতাহিদ, ১/৪৭০ পৃঃ; ফাতহুল বারী, ৪/২৭২ পৃঃ; আস-সায়লুল জাররার, ২/১৩৬ পৃঃ।
[29]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৮।
[30]. আবুদাঊদ, ২৪৭৩; বায়হাক্বী, ৪/৩১৫ পৃঃ।
[31]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৩।
[32]. আহমাদ, ৫/৩৬৪ পৃঃ।
[33]. ইবনে মাজাহ, হা/৬৪২, সনদ হাসান।
[34]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৪০।
[35]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৫।
[36]. মুওয়াত্ত্বা, ১/৩১৮ পৃঃ; আল-মুহাল্লা, ৫/১৯২ পৃঃ; আর-মুগনী, ৩/২০৫ পৃঃ।
[37]. ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৭।
