উত্তর : জিনের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে সে জান্নাতী হবে না জাহান্নামী হবে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায় না। তবে এমন ব্যক্তির জন্য রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছেন। আবু সায়েব রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট গেলাম। আমরা সেখানে বসা ছিলাম, এমন সময় হঠাৎ তাহার খাটের নীচে কোন কিছুর নড়াচড়া শুনতে পাই। তখন আমরা দেখলাম, সেখানে একটি সাপ। আমি তৎক্ষনাৎ তাকে মারার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। সে সময় আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু ছালাত পড়ছিলেন। তিনি আমাকে বসে থাকার ইঙ্গিত করলেন। তখন আমি বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি ছালাত শেষ করে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, তুমি কি ঐ ঘরটি দেখছ? আমি বলিলাম, জ্বি হ্যাঁ! তখন তিনি বললেন, এই ঘরে আমাদের বংশের এক যুবক থাকত। সে ছিল সদ্য বিবাহিত। তিনি আরও বলেন, উক্ত যুবকসহ আমরা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খন্দকের যুদ্ধে শরীক হয়েছিলাম। যুবকটি দ্বিপ্রহরে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে অনুমতি নিয়ে বাড়ীতে চলে যেত। একদিন সে তার নিকট অনুমতি চাইল। তখন তাকে বললেন, তুমি তোমার হাতিয়ারটি সঙ্গে নিয়ে যাও। কেননা আমি তোমার ব্যাপারে ভয় পাই। অতঃপর সে বনী কুরাইযার বাড়ীর দিকে প্রত্যাবর্তন করল। সে এসে দেখতে পেল, তার স্ত্রী উভয় দ্বারের মাঝখানে দণ্ডায়মান। তাকে এই অবস্থায় দেখে তার আত্মসম্ভ্রমে আঘাত লাগল। ফলে সে সাথে সাথে তার দিকে বর্শা ছুড়ার জন্য উদ্যত হল। তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে স্ত্রী বলে উঠল, তুমি তোমার বর্শা গুটিয়ে নাও। ঘরের ভিতরে প্রবেশ কর এবং দেখ, কিসে আমাকে বাইরে আসতে বাধ্য করেছে। লোকটি গৃহে প্রবেশ করতেই দেখল, বিশাল বড় একটি সাপ বিছানার উপর জড়ো হয়ে রয়েছে। তৎক্ষনাৎ সে বর্শা দ্বারা তাকে আক্রমণ করল এবং বর্শার ফলকে তাকে বেঁধে ফেলল। অতঃপর ঘরের বাইরে এনে বর্শাটি মাটিতে গেঁড়ে রাখল। এই অবস্থায় সাপটি ভয় পেয়ে তার উপর আক্রমণ করল। এরপর জানা যায়নি যে, তাদের উভয়ের মধ্যে কে আগে মৃত্যুবরণ করেছে। সেই সাপ, নাকি যুবক। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা এসে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঘটনাটি জানালাম এবং আমরা বললাম, আল্লাহ্র কাছে তার জন্য দু‘আ করুন, যেন তিনি তাকে আমাদের জন্য জীবিত করেন। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তিনি বললেন, এ ঘরগুলোতে কিছু আওয়ামের তথা বসবাসকারী জিন থাকে। অতএব যখনই তোমরা তাদেরকে ঘরের মধ্যে দেখতে পাও, তখনই তাদেরকে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তিনবার নির্দেশ দাও। অতঃপর যদি সে চলে যায়, তাহলে উত্তম। অন্যথা তাদেরকে হত্যা কর ফেল। কেননা, তা কাফের। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, ‘তোমরা যাও! তোমাদের সাথীকে দাফন কর’। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মদীনায় বহু জিন আছে। তাদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং যদি তোমরা তাদের কোন একটিকে ঘরের মধ্যে দেখতে পাও, তখন তিনদিন যাবৎ ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দাও। এরপরও যদি দেখতে পাও, তাহলে তাকে হত্যা করবে। কেননা তা শয়তান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক, হা/৩৫৮১; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৯৮৭; নাসাঈ, হা/১০৮০৮; আবুদাঊদ, হা/৫২৫৯)।
-তানভীরুল ইসলাম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
