উত্তর : হ্যাঁ, আযানের উত্তর দেওয়া যরূরী। কেননা এ মর্মে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিদের্শনা রয়েছে। তাছাড়া ইহা উত্তম যিকিরের অন্তর্ভুক্ত এবং উত্তরদাতার জন্য জান্নাত রয়েছে। ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন মুয়াযযিন বলে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’, তখন যদি তোমাদের কেউ বলে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’, অতঃপর যখন মুয়াযযিন বলে ‘আশহাদু আন-লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ সেও বলে ‘আশহাদু আন-লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’, মুওয়াযযিন বলে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ সেও বলে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’, এরপর মুয়াযযিন বলে, ‘হাইয়া ‘আলাছ ছালাহ’ সে বলে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, পুনরায় যখন মুয়াযযিন বলে ‘হাইয়া ‘আলাল ফালাহ’ সে বলে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, পরে যখন মুয়াযযিন বলে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ সেও বলে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। অতঃপর যখন মুয়াযযিন বলে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ সেও বলে ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। আর এই বাক্যগুলো যদি সে মনে-প্রাণে বলে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৫; আবুদাঊদ, হা/৫২৭; মিশকাত, হা/৬৫৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন তার জওয়াবে তাই বল যা মুয়াযযিন বলে। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়। কেননা যে আমার উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহ্র নিকট ‘ওয়াসীলা’ প্রার্থনা কর। আর তা হচ্ছে জান্নাতের একটি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন স্থান, যা আল্লাহ্র বান্দাদের মধ্যে মাত্র একজন বান্দার জন্য উপযোগী। আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য ‘অসীলা’ চাইবে তার জন্য আমার শাফা‘আত যরূরী হয়ে যাবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪; আবুদাঊদ, হা/৫২৩; তিরমিযী, হা/৩৬১৪; মিশকাত, হা/৬৫৭)।
-নাহিদ বিন বেলাল
খানসামা, দিনাজপুর।
