কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৯) : আল্লাহ তা‘আলা সপ্তম আসমানের উপরে আরশে সমুন্নত। তার তুলনায় সপ্তম আসমান অনেক ক্ষুদ্র। যেমনটা ক্ষুদ্র মরুভূমির মধ্যে এক টুকরো বালুকণা। তাহলে এত বড় মহান সত্তা আল্লাহ তা‘আলা কীভাবে এতো ছোট সপ্তম আসমানের দ্বিতীয় আসমানে তাহাজ্জুদ ছালাতের সময় নেমে আসেন?

উত্তর : আল্লাহ তা‘আলার নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে কুরআনুল কারীম ও ছহীহ হাদীছে যেভাবে যা বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। কোন রকম ব্যাখ্যা, রদ-বদল, কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য স্থাপন কিংবা সেগুলোকে অস্বীকার করা যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তার মত কোন কিছুই নেই। তিনি সবকিছু দেখেন ও শোনেন’ (আশ-শূরা, ১১)। অতএব, রাতের শেষ ভাগে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা প্রসঙ্গে যে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তার কোন রকম ব্যাখ্যা করা যাবে না। অনুরূপভাবে তার সাদৃশ্য বা পদ্ধতি বর্ণনা করা যাবে না। উল্লেখিত প্রশ্নটির সূত্রপাত হয়েছে মূলত, আল্লাহ মাখলূকের সাথে সাদৃশ্যশীল হওয়ার চিন্তা থেকে। কারণ মাখলূকের বৈশিষ্ট্য হল বড় বস্ত্ত ছোট বস্ত্তর মাঝে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা সকল সাদৃশ্যের উর্ধ্বে। তাই আল্লাহর ব্যাপারে এই ধরনের প্রশ্ন করা অবান্তর। আল্লাহ তা‘আলার নেমে আসার দলীল এসেছে। ব্যস! বিশ্বাস করতে হবে, আল্লাহ নেমে আসেন। ইমাম মালেককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আয়াতে বলা হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নত’ (ত্ব-হা, ০৫)। তো কীভাবে তিনি সমুন্নত? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, সমুন্নত হওয়াটা দলীল দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু সমুন্নত হওয়ার পদ্ধতিটা অজ্ঞাত। এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদ‘আত (ই’তিকাদু আহলিস সুন্নাহ শারহু আছহাবিল হাদীছ, ১/২২)। উল্লেখ্য যে, প্রশ্নে বলা হয়েছে, আল্লাহ দ্বিতীয় আসমানে নেমে আসেন। এখানে দ্বিতীয় আসমান কথাটি ঠিক নয়। আল্লাহ নেমে আসেন দুনিয়ার আসমানে (ছহীহ বুখারী, হা/১১৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৫৮; মিশকাত, হা/১২২৩)।

-সাবিবর

বাগমারা, রাজশাহী।


Magazine