সূরা ফাতিহা পড়তে হবে না মর্মে যঈফ ও জাল হাদীছসমূহ :
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সরব ক্বিরাআতবিশিষ্ট ছালাতে সালাম ফিরিয়ে বললেন, ‘এইমাত্র আমার সাথে তোমাদের কেউ কি ক্বিরাআত পড়ল? জনৈক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি পড়েছি। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি তোমাদের সাথে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করতে চাই না’। উক্ত কথা শুনার পর লোকেরা জেহরী ছালাত সমূহে ক্বিরাআত পড়া হতে বিরত থাকল।[1]
এ হাদীছ ছহীহ। তবে ছাহাবীগণ ক্বিরাআত হতে বিরত হলেন, একথা নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি। ইমাম আবুদাঊদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ফারেস বলেন, মানুষ ক্বিরাআত হতে বিরত হল একথা ইমাম যুহরী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন।[2]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ صَلَّى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةً فَلَمَّا قَضَاهَا قَالَ هَلْ قَرَأَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مَعِى بِشَىْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّىْ أَقُوْلُ مَا لِىْ أُنَازَعُ الْقُرْآنَ إِذَا أَسْرَرْتُ بِقِرَاءَتِىْ فَاقْرَءُوْا مَعِىْ وَإِذَا جَهَرْتُ بِقِرَاءَتِىْ فَلَا يَقْرَأَنَّ مَعِىْ أَحَدٌ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কোন এক ছালাত আদায় করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কি আমার সাথে কুরআনের কিছু পড়েছ? জনৈক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি পড়েছি। তখন তিনি বললেন, ‘কুরআনের সাথে আমার ঝগড়া করা উচিত নয়, যখন আমি নীরবে ক্বিরাআত পড়ব, তখন তোমরা আমার সাথে কেউ পড়বে না’।[3] হাদীছটি যঈফ।[4]
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى بِالنَّاسِ وَرَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ مَنْ ذَا الَّذِىْ يُخَالِجُنِىْ سُورَتِىْ فَنَهَاهُمْ عَنِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الإِمَامِ .
ইমরান ইবনে হুছাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মুছল্লীদেরকে নিয়ে ছালাত আদায় করছিলেন, আর জনৈক ব্যক্তি তাঁর পিছনে ক্বিরাআত পড়ছিলেন। যখন তিনি ছালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, ‘কোন্ ব্যক্তি আমার সূরা পড়ে আমার ছালাতে দ্বন্দ্ব করল’। অতঃপর তিনি ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়তে নিষেধ করলেন।[5] হাদীছটি যঈফ। ‘যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়বে, তার মুখে আগুন ধরিয়ে দিতে হবে’।[6] হাদীছটি জাল।[7]
ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, وَدِدْتُ أَنَّ الَّذِي يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ فِي فِيهِ حَجَرٌ ‘আমার ইচ্ছা করে ঐ ব্যক্তির মুখে পাথর মারতে, যে ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ করে’।[8] হাদীছটি মুনকার।
ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,وَدِدْتُ أَنَّ الَّذِيْ يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ مُلِئَ فُوهُ تُرَابًا ‘আমার ইচ্ছা করে ঐ ব্যক্তির মুখে মাটি মারতে, যে ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ করে’।[9] হাদীছটি যঈফ।[10]
সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,وَدِدْتُ أَنَّ الَّذِيْ يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ فِيْ فِيْهِ جَمْرَةٌ ‘যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ করে, আমার ইচ্ছা হয় তার মুখে আগুনের অঙ্গার ছুড়ে মারতে’।[11] বর্ণনাটি মুনকার।[12]
আলক্বামা ইবনে ক্বায়েস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,لَأَنْ أَعَضَّ عَلَى جَمْرَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَقْرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ ‘আমার নিকট জলন্ত অঙ্গার কামড়ে ধরা অধিক উত্তম ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়ার চেয়ে।[13] হাদীছটি যঈফ।[14]
আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, مَنْ قَرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ فَقَدْ أَخْطَأَ الْفِطْرَةَ ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ক্বিরাআত পাঠ করবে, সে ইসলামের উপর নেই’।[15] হাদীছটি যঈফ।[16]
যায়েদ ইবনে ছাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, مَنْ قَرَأَ خَلْفَ الْإِمَامِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ ‘যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে কিছু পড়বে, তার ছালাত হবে না’।[17] হাদীছটি বাতিল।[18]
জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ ‘যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের ক্বিরাআতই হচ্ছে তার ক্বিরাআত’।[19] হাদীছটি যঈফ।[20]
শা‘বী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আমি ৭০ জন বদরী ছাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছি, তারা প্রত্যেকেই ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়তে নিষেধ করেছেন’।[21] হাদীছটি যঈফ।[22]
সুধী পাঠক! দীর্ঘ আলোচনার পর আপনাদের মনে রাখা ভাল হবে যে, সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে যত হাদীছ পেশ করলাম, সেগুলো অগ্রহণযোগ্য। সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন ছহীহ হাদীছ নেই। অতএব এসব হাদীছ দলীলযোগ্য নয়। তারা নিছক মাযহাবের ভালবাসায় ছহীহ হাদীছ ছেড়ে এসব জাল-যঈফ ও বানোয়াট হাদীছের আশ্রয় নিয়েছে। তারা অন্ধভাবে মাযহাব না মানলে তাদেরকেও এসব হাদীছের আশ্রয় নিতে হত না। আমরা আল্লাহ্র কাছে দু‘আ করি, আল্লাহ যেন তাদেরকে এ মাযহাবী সংকীর্ণতা ও ছহীহ হাদীছ পরিত্যাগ করার অভিশপ্ত নীতি হতে রক্ষা করেন। তাদের উপর এ বিপদ নেমে এসেছে কূফাবাসীর পক্ষ থেকে। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারাক বলেন, আমি ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পাঠ করি এবং অন্য মানুষেরাও করে কিন্তু কূফাবাসী করে না।
ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে যা পেশ করা হয় :
সরবে-নীরবে কোন ছালাতেই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না। এ ব্যাপারে যেসব দলীল পেশ করা হয়, নিমেণ তা আলোকপাত করা হল :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهُ وَأَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ ‘আর যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। তোমাদের উপর রহম করা হবে’ (আ‘রাফ, ২০৪)।
উক্ত আয়াতটি সূরা ফাতিহা না পড়ার প্রমাণে পেশ করার দু’টি কারণ হতে পারে- (১) শরী‘আত না বুঝা (২) হঠকারিতা। কারণ যেসব ওয়াক্তে ক্বিরাআত নীরবে হয় অথবা যেসব রাক‘আতে ক্বিরাআত নীরবে হয় সে সময়ে কি তারা ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ে? তারা সেই সময়েও সূরা ফাতিহা পড়ে না এবং কলমেও তারা পড়ার কথা লিখেনি। অতএব ইমামের ক্বিরাআত শুনতে হবে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না- এটা তাদের পক্ষ থেকে জাতিকে প্রতারণার শামিল।
দ্বিতীয়ত, ছাহাবা, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এমনকি পৃথিবীর কোন বড় মুফাসসির ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না মর্মে অত্র আয়াতটি পেশ করেননি।
তৃতীয়ত, সূরা ফাতিহা এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই সূরা ফাতিহা মুক্তাদীকে পড়তে বলেছেন অথচ অন্য কোন ছোট সূরা বা কোন আয়াত পড়তে বলেননি।
চতুর্থত, আসলে এ আয়াত ছালাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং যে কোন কুরআন তেলাওয়াত হলে মনোযোগ সহকারে চুপ করে শুনতে হবে। ছালাতেও ইমামের ক্বিরাআত মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে।
পঞ্চমত, মুক্তাদীগণ সূরা ফাতিহা তো পড়বে পড়বেই, যোহর ও আছর ছালাতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য সূরাও পড়তে পারে। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
كُنَّا نَقْرَأُ فِى الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ الإِمَامِ فِى الرَّكْعَتَيْنِ الأُوْلَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُوْرَةٍ وَفِى الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.
‘আমরা যোহর ও আছর ছালাতের প্রথম দুই রাক‘আতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করতাম। আর শেষ দুই রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম’।[23]
ষষ্ঠত, ইমামের অনুসরণ করলে সূরা ফাতিহা পড়া লাগে না এ দাবী বহাল রাখলে রুকূ-সিজদার দু‘আও পড়া লাগে না। অথচ সবাই রুকূ-সিজদার দু‘আ পড়ে। তাহলে বুঝা গেল, এ দাবী বানোয়াট, ভিত্তিহীন। জামা‘আত চলাকালীন কেউ উপস্থিত হলে নিয়ত পড়ে, ছানা পড়ে এসব স্থানে তো ইমামের অনুসরণ করতে হয় না। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে শুধু সূরা ফাতিহাতে অনুসরণ করতে হবে। এটা এক আশ্চর্য শরী‘আত বিরোধী, ভিত্তিহীন কথা।
ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ সমূহ :
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةٍ جَهَرَ فِيْهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ هَلْ قَرَأَ مَعِيْ أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ إِنِّيْ أَقُوْلُ مَا لِيْ أُنَازَعُ الْقُرْآنَ قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْمَا جَهَرَ فِيْهِ بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِيْنَ سَمِعُوْا ذَلِكَ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেহরী ছালাত অর্থাৎ শব্দ করে ক্বিরাআত পড়া ছালাত শেষ করে ছালাত আদায়কারীদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এখন আমার সাথে ক্বিরাআত করেছ? এক ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল (আমি পড়েছি)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাই তো, আমি ছালাতে মনে মনে বলছিলাম, কী হল, আমি ক্বিরাআত পাঠ করতে আটকিয়ে যাচ্ছি কেন? আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলের এ কথা শুনার পর লোকেরা রাসূলের পেছনে জেহরী ছালাতে ক্বিরাআত পাঠ বন্ধ করে দিয়েছিল’।[24]
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوْا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوْا.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম নির্ধারণ করা হয় তার অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং যখন তিনি তাকবীর দিবেন, তখন তোমরাও তাকবীর দাও। আর যখন তিনি ক্বিরাআত পড়েন, তখন চুপ থাকো’।[25]
প্রথম হাদীছটির শেষাংশ ইমাম যুহরী বর্ধিত করেছেন। শেষাংশ মূল হাদীছের অংশ নয়।[26] দ্বিতীয় হাদীছের শেষাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ ইমাম যখন পড়বে, তখন তোমরা চুপ থাকো এ অংশ মূল কিতাবে নেই। ইমাম আবুদাঊদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এ অংশ নিরাপদ নয়। আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়েছে আবু খালেদের পক্ষ থেকে।[27]
উক্ত হাদীছগুলো কিছু সময়ের জন্য মেনে নিলেও চুপ থাকার বিষয়টি সূরা ফাতিহার ব্যাপারে ছিল না, অন্য সূরার ব্যাপারে ছিল। একাধিক হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সূরা ফাতিহা পড়তে হবে, অন্য সূরা নয়। সূরা ফাতিহা একটি ব্যতিক্রমী দু‘আ, যা সবাইকেই পড়তে হবে। সূরা ফাতিহার মূল কথা একটি, যা সবাইকেই বলতে হবে। তা হচ্ছে আমাদেরকে সঠিক, সোজা, সরল পথ দেখাও। আর ১১৪টি সূরার মধ্যে শুধু এ সূরাতেই ‘আমীন’ রয়েছে, এসব কিছু প্রমাণ করে সবাইকেই সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা যোহর ও আছর ছালাতে প্রথম দুই রাক‘আতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করতাম। আর পরে দুই রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতাম।[28] এই হাদীছ দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয় যে, ছাহাবীগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা তো পড়তেন, এমনকি যোহর ও আছরের ছালাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরাও পড়তেন। আর হাদীছে আরো প্রমাণ হয়, ছাহাবীগণ এ আমল নিয়মিত করতেন।
عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَقْرَأُ وَالإِمَامُ يَقْرَأُ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفِىْ كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ وَجَبَ هَذَا.
আবুদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একজন লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, আমি ক্বিরাআত পড়ব যখন ইমাম ক্বিরাআত পড়েন? তখন আবুদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, একজন লোক রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রত্যেক ছালাতেই কি ক্বিরাআত পাঠ করতে হবে? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’। জনগণের একজন বললেন, এটা যরূরী।[29]
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيْهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهِىَ خِدَاجٌ فَهِىَ خِدَاجٌ.
আমর ইবনে শু‘আইব রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পিতার মধ্যস্থতায় তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক যে ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়া হয় না, তা অসম্পূর্ণ, তা অসম্পূর্ণ’।[30]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ كُلُّ صَلَاةٍ لَا يُقْرَأُ فِيهَا بِأُمِّ الْكِتَابِ فَهِىَ خِدَاجٌ.
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘প্রত্যেক যে ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়া হয় না, তা অসম্পূর্ণ’।[31]
(চলবে)
[1]. আবুদাঊদ, হা/৮২৬; তিরমিযী, হা/৩১২; নাসাঈ, হা/৯১৯।
[2]. আবুদাঊদ, হা/৮২৭।
[3]. দারাকুৎনী, হা/১২৮০।
[4]. প্রাগুক্ত, হা/১২৮০, ইমাম দারাকুৎনী বলেন, হাদীছটি মুনকার; আয-যু‘আফাঊল কাবীল লিল আকীলী, ৩/১৮৭ পৃঃ।
[5]. দারাকুৎনী, হা/১২৫৩।
[6]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৫৬৯।
[7]. প্রাগুক্ত।
[8]. মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/২৮০৬।
[9]. মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/২৮০৭; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হা/৩৮১০।
[10]. ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮১ পৃঃ।
[11]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হা/৩৮০৩।
[12]. ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮১ পৃঃ।
[13]. মুছান্নাফ আবী শায়বা, হা/৩৮০৬।
[14]. ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮১ পৃঃ।
[15]. মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/২৮০১; মুছান্নাফ আবী শায়বাহ, হা/৩৮০২।
[16]. ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮২ পৃঃ; দারাকুৎনী, হা/১২৭৩।
[17]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হা/৩৮০৯।
[18]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/৯৯৩।
[19]. দারাকুৎনী, হা/১২৫১।
[20]. প্রাগুক্ত; ইরওয়াউল গালীল, ২/২৬৮ পৃঃ।
[21]. রূহুল মা‘আনী, ৯/১৫২ পৃঃ।
[22]. ত্বাহাবী, হা/১৩১৬।
[23]. ইবনে মাজাহ, হা/৮৪৩; ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮৮, হা/৫০৬।
[24]. আবুদাঊদ, হা/৮২৬; তিরমিযী, হা/৩১২; নাসাঈ, হা/৯১৯; মিশকাত, হা/৮৫৫।
[25]. আবুদাঊদ, হা/৬০৪; নাসাঈ, হা/৯২১; মিশকাত, হা/৮৫৭।
[26]. ছহীহ বুখারী, আল-ক্বিরাআতু খালফাল ইমাম, হা/৬৮, পৃঃ৭১।
[27]. আবুদাঊদ, হা/৬০৪ ও ৯৭৩।
[28]. ইবনে মাজাহ, হা/৮৪৩; ইরওয়াউল গালীল, ২/২৮৮, হা/৫০৬।
[29]. ইবনে মাজাহ, হা/৮৪২।
[30]. ইবনে মাজাহ, হা/৮৪১।
[31]. ইবনে মাজাহ, হা/৮৪০।
