কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

হজ্জ: গুরুত্ব, ফযীলত ও তাৎপর্য

হজ্জ মুসলিমদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক ইবাদত। প্রত্যেক জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন ও সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর আল্লাহ তা‘আলা হজ্জ ফরয করেছেন। হজ্জ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ও মৌলিক ইবাদত। আত্মিক উন্নতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও বিশ্বভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হজ্জের গুরুত্ব সর্বাধিক। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য-সংহতি গড়তেও হজ্জের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব মুসলিমের করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে সঠিক দিকনিদের্শনাও লাভ করা যায় হজ্জের বিশ্ব মহাসম্মেলন থেকে। হজ্জ শুধু ইবাদতই নয়, বরং আত্মিক পরিশুদ্ধতার এক অনস্বীকার্য পদ্ধতি। আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য হজ্জের বিনিময় নিশ্চিত জান্নাত।

হজ্জের গুরুত্ব :

ইসলামী শরী‘আতে হজ্জ পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। ছালাত, ছিয়াম ও যাকাতের মত হজ্জ পালন করা সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উপর ফরয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,فِيْهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيْمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِيْنَ ‘সেখানে রয়েছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ (এর মধ্যে একটি হচ্ছে) মাক্বামে ইবরাহীম। আর যে ব্যক্তি মক্কায় প্রবেশ করে, সে নিরাপদ হয়ে যায়। আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে কা‘বা ঘরে হজ্জ করা মানুষের উপর ফরয- যারা যাতায়াতের সামর্থ্য রাখে। আর যে তা অমান্য করবে, তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ বিশ্ববাসী থেকে অমুখাপেক্ষী’ (আলে ইমরান, ৯৭)। তিনি আরো বলেন,

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلَا تَحْلِقُوْا رُءُوْسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيْضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُوا اللهَ وَاعْلَمُوْا أَنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ.

‘তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরা সম্পন্ন কর; কিন্তু তোমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হও, তবে যা সহজপ্রাপ্য তাই কুরবানী কর। আর কুরবানীর জন্তুগুলো তার স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত তোমাদের মাথা মুণ্ডন কর না। কিন্তু তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয় বা তার মাথায় অসুখ থাকে, তবে সে ছিয়াম কিংবা ছাদাক্বাহ অথবা কুরবানী দ্বারা সেটার ফিদইয়া দিবে। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ অবস্থায় থাক, তখন যে ব্যক্তি হজ্জের সাথে উমরাও করতে চায়, সে যা সহজপ্রাপ্য তাই কুরবানী করবে। কিন্তু কেউ যদি তা না পায়, তবে হজ্জের সময় তিনদিন এবং যখন তোমরা ফিরে এসো, তখন সাত দিন এই পূর্ণ দশদিন ছিয়াম রাখবে; এটা তারই জন্যে, যে মসজিদে হারামের বাসিন্দা নয়। আল্লাহকে ভয় কর ও জেনে রেখো যে, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা’ (বাক্বারাহ, ১৯৬)। অন্যত্র তিনি বলেন,

وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوْكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِيْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ - لِيَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيْمَةِ الْأَنْعَامِ.

‘আর তুমি মানুষের মাঝে হজ্জের ঘোষণা প্রচার করে দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার (পথশ্রান্ত) কৃশকায় উটের উপর সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত হতে। যাতে তারা তাদের (দুনিয়া ও আখেরাতের) কল্যাণের জন্য সেখানে উপস্থিত হতে পারে এবং রিযিক হিসাবে তাদের দেওয়া গবাদিপশুসমূহ যবেহ করার সময় নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তাদের উপর আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করতে পারে’ (হজ্জ, ২৭-২৮)

ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপরে প্রতিষ্ঠিত। তন্মধ্যে অন্যতম হল হজ্জ। হাদীছে এসেছে-

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُنِيَ الْاِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ اَنْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللَّهُ وَاَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللّٰهِ،وَاِقَامِ الصَّلَاةِ وَاِيْتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ.

ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি: ১. আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. ছালাত ক্বায়েম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রামাযানের ছিয়ামব্রত পালন করা’।[1]

হজ্জের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীছে এসেছে-

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ فَحُجُّوْا فَقَالَ رَجُلٌ أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ ثُمَّ قَالَ ذَرُوْنِىْ مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَىْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَىْءٍ فَدَعُوهُ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে বললেন, ‘হে জনগণ! তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করা হয়েছে। অতএব তোমরা হজ্জ সম্পাদন কর’। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তা কি প্রতি বছর? তিনি নীরব থাকলেন এবং তিনি তিনবার কথাটি বললেন। এরপর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি হ্যাঁ বললে তা ওয়াজিব হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না’। তিনি পুনরায় বললেন, ‘তোমরা আমাকে ততটুকু কথার উপর থাকতে দাও, যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই, তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি, তখন তা পরিত্যাগ কর’।[2]

ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আক্বরা‘ ইবনে হাবেস রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! হজ্জ কি প্রতিবছর ফরয না জীবনে একবারই ফরয? তিনি বললেন, ‘না, বরং হজ্জ জীবনে একবার ফরয। যে অধিক করবে তা তার জন্য নফল হবে’।[3]

বায়তুল্লাহর ত্বাওয়াফ তথা হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামত হবে না। আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইয়াজূজ ও মাজূজ বের হওয়ার পরও বায়তুল্লাহর হজ্জ ও উমরাহ পালিত হবে’। আবান ও ইমরান রাযিয়াল্লাহু আনহুমা ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে হাদীছ বর্ণনায় হাজ্জাজ ইবনু হাজ্জাজের অনুসরণ করেছেন। আব্দুর রহমান রাযিয়াল্লাহু আনহু শু‘বাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, বায়তুল্লাহর হজ্জ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না। প্রথম রেওয়ায়েতটি অধিক গ্রহণযোগ্য।[4] অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ فَإِنَّهُ قَدْ يَمْرَضُ الْمَرِيْضُ وَتَضِلُّ الضَّالَّةُ وَتَعْرِضُ الْحَاجَةُ.

ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে, সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়’।[5]

হজ্জের ফযীলত :

ল্লাহর নিকট মাকবূল হজ্জের মর্যাদা :

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ ‏إِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ‏ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏جِهَادٌ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ‏ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ‏.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা’। জিজ্ঞেস করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা’। জিজ্ঞেস করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘হজ্জে মাবরূর (মাকবূল হজ্জ)’।[6]

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ أَفَلَا نُجَاهِدُ قَالَ لَا لَكُنَّ أَفْضَلُ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ‏.

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি বললেন, ‘না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হজ্জে মাবরূর (মাকবূল হজ্জ)’।[7]

হজ্জ পালনকারী নবজাতকের ন্যায় গুনাহমুক্ত :

عَنْ أبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ‏مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ‏.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হজ্জ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ হতে বিরত থাকল, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হজ্জ হতে ফিরে আসবে, যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিল’।[8]

হজ্জ দরিদ্রতা ও গুনাহসমূহ বিদূরিত করে :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَابِعُوْا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوْبَ كَمَا يَنْفِى الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُوْرَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ.

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা হজ্জ ও ওমরাহর মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখো (অর্থাৎ একটার পর একটা করতে থাকো)। কেননা এ দু’টি মুমিনের দরিদ্রতা ও গুনাহসমূহ দূর করে দেয়, যেমন (কামারের আগুনের) হাপর লোহা, স্বর্ণ ও রৌপ্যের ময়লা দূর করে দেয় আর কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত কিছুই নয়’।[9]

অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হজ্জ :

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ النَّبِىُّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيْمَانٌ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ قِيْلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘শ্রেষ্ঠ আমল হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান আনা’। বলা হল, তারপর কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা’। জিজ্ঞেস করা হল, তারপর কী? তিনি বললেন, ‘মাকবূল হজ্জ’।[10]

শ্রেষ্ঠ জিহাদ হজ্জ :

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَلاَ نَغْزُوْ وَنُجَاهِدُ مَعَكُمْ فَقَالَ لَكُنَّ أَحْسَنُ الْجِهَادِ وَأَجْمَلُهُ الْحَجُّ حَجٌّ مَبْرُوْرٌ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَلَا أَدَعُ الْحَجَّ بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধ ও জিহাদে অংশগ্রহণ করব না? তিনি বললেন, ‘তোমাদের জন্য উত্তম ও উৎকৃষ্ট জিহাদ হল হজ্জ, কবুল হজ্জ’। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একথা শোনার পর আমি আর কখনো হজ্জ ছাড়ব না।[11]

হজ্জ পূর্ববর্তী গুনাহকে ধ্বংস করে দেয় :

عَنِ ابْنِ شَمَاسَةَ الْمَهْرِىِّ قَالَ حَضَرْنَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ وَهُوَ فِيْ سِيَاقَةِ الْمَوْتِ فَبَكَى طَوِيْلًا وَحَوَّلَ وَجْهَهُ إِلَى الْجِدَار وَقَالَ فَلَمَّا جَعَلَ اللهُ الإِِسْلاَمَ فِيْ قَلْبِيْ أَتَيْتُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ابْسُطْ يَمِيْنَكَ لأُبَايِعَكَ فَبَسَطَ يَدَهُ َقَبَضْتُ يَدِيْ فَقَالَ مَا لَكَ يَا عَمْرُو قَالَ أَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِطَ قَالَ تَشْتَرِطُ مَاذَا قَالَ أَنْ يُغْفَرَ لِيْ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ يَا عَمْرُو أَنَّ الإِسْلاَمَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهَدَّمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ.

ইবনু শামাসা আল-মাহরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমর ইবনুল ‘আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদলেন এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ যখন আমার অন্তরে ইসলামের অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালাম যে, আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দিন, যাতে আমি বায়‘আত করতে পারি। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু আমি আমার হাত গুটিয়ে নিলাম। তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কী ব্যাপার হে আমর? আমি বললাম, আমি শর্ত করতে চাই। তিনি বললেন, ‘কী শর্ত করতে চাও? আমি বললাম, আল্লাহ যেন আমার (পিছনের সব) গুনাহ মাফ করে দেন। তিনি বললেন, ‘হে আমর! তুমি কি জান না, ইসলাম তার পূর্বেকার সকল পাপ বিদূরিত করে দেয় এবং হিজরত তার পূর্বেকার সকল কিছুকে বিনাশ করে দেয়। একইভাবে হজ্জ তার পূর্বের সব গোনাহকে বিনষ্ট করে দেয়’।[12]

হজ্জের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত :

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُوْرُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের (ছগীরা গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ। আর জান্নাতই হল কবুল হজ্জের একমাত্র প্রতিদান’।[13]

হজ্জের নিয়তকারীগণ কোন কারণে হজ্জ করতে সক্ষম না হলেও নেকী পাবে :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا أَوْ غَازِيًا ثُمَّ مَاتَ فِيْ طَرِيْقِهِ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِيْ وَالْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জ, ওমরাহ কিংবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হল এবং রাস্তয় মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ তার জন্য পূর্ণ নেকী লিখে দিবেন’।[14]

বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফের ফযীলত :

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ.

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর ত্বাওয়াফ করল ও শেষে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করল, সে যেন একটি গোলাম আযাদ করল’।[15]

বায়তুল্লায় ছালাত আদায়ের ফযীলত :

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةٌ فِىْ مَسْجِدِىْ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيْمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيْمَا سِوَاهُ.

জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘অন্যত্র ছালাত আদায়ের চেয়ে আমার মসজিদে (মসজিদে নববীতে) ছালাত আদায় করা এক হাযারের বেশী গুণ উত্তম এবং মসজিদুল হারামে ছালাত আদায় করা অন্য মসজিদে ছালাত অপেক্ষা এক লক্ষেও বেশী গুণ উত্তম’।[16]

হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার ফযীলত :

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مَسْحَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ وَالرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ يَحُطَّانِ الْخَطَايَا حَطًّا.

ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) স্পর্শ করবে, এ দু’টি তার সমস্ত গুনাহ ঝরিয়ে দিবে’।[17] তিনি হাজারে আসওয়াদের ব্যাপারে আরো বলেন,وَاللهِ لَيَبْعَثَنَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنِ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ ‘আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন হাজারে আসওয়াদকে উঠাবেন এমন অবস্থায় যে, তার দু’টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সে দেখবে ও একটি যবান থাকবে, যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং ঐ ব্যক্তির জন্য সাক্ষ্য দিবে, যে ব্যক্তি খালেছ অন্তরে তাকে স্পর্শ করেছে’।[18] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,نَزَلَ الْحَجَرُ الْأَسْوَدُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ فَسَوَّدَتْهُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ ‘হাজারে আসওয়াদ’ প্রথমে দুধের চেয়েও সাদা অবস্থায় জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর বনু আদমের পাপসমূহ তাকে কালো করে দেয়’।[19]

তিনি হাজারে আসওয়াদের কাছে পৌঁছে তাকবীর বলতেন,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ طَافَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ كُلَّمَا أَتَى الرُّكْنَ أَشَارَ إِلَيْهِ بِشَىْءٍ كَانَ عِنْدَهُ وَكَبَّرَ‏‏ تَابَعَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ‏.

ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফ করেন, যখনই তিন হাজারে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছুর দ্বারা তার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং তাকবীর বলতেন।[20]

রুকনে ইয়ামানী ও মাক্বামে ইবরাহীম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ يَاقُوتَتَانِ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ طَمَسَ اللهُ نورَهما وَلَو لم يطمِسْ نورَهما لأضاءا مَا بينَ المشرقِ والمغربِ ‘রুকনে ইয়ামানী ও মাক্বামে ইবরাহীম জান্নাতী ইয়াকূত পাথর। আল্লাহ এ দু’টির আলো নির্বাপিত করেছেন। যদি তিনি নির্বাপিত না করতেন, তাহলে এ দু’টির মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থান (পৃথিবী) আলোকিত হয়ে যেত’।[21] অন্যত্র রয়েছে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّ الرُّكْنَ وَالْمَقَامَ مِنْ يَاقُوتِ الْجَنَّةِ، وَلَوْلَا مَا مَسَّهُما مِنْ خَطَايَا بَنِي آدَمَ لَأَضَاءَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا مَسَّهُما مِنْ ذِي عَاهَةٍ وَلَا سَقِيمٍ إِلَّا شُفِيَ ‘রুকনে ইয়ামানী ও মাক্বামে ইবরাহীম দু’টি জান্নাতের ইয়াকূত পাথর। যদি আদম সন্তানের গুনাহ এ দু’টিকে স্পর্শ না করত, তাহলে এ দু’টির মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থান (পৃথিবী) আলোকিত হয়ে যেত আর যদি কোন দৈহিক বা মানসিক রোগী এ দু’টিকে স্পর্শ করে তাহলে তাকে সুস্থতা দান করা হবে’।[22]

উল্লেখ্য, পাথরের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। আমরা কেবলমাত্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের উপর আমল করব। যেমন ওমর ফারূক রাযিয়াল্লাহু আনহু উক্ত পাথরে চুমু দেওয়ার সময় বলেছিলেন,إِنِّى لأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ مَا تَنْفَعُ وَلاَ تَضُرُّ وَلَوْلاَ أَنِّى رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمbَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ ‘আমি জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র। তুমি কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারো না। তবে আমি যদি আল্লাহ্র রাসূলকে না দেখতাম তোমাকে চুমু দিতে, তাহলে আমি তোমাকে চুমু দিতাম না’।[23]

হাজীগণ আল্লাহ্ মেহমান :

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدُ اللهِ ثَلَاثَةٌ الْغَازِيْ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ্র মেহমান হল তিনটি দল- আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধকারী, হজ্জকারী ও ওমরাহকারী’।[24] অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ ‘হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারীগণ আল্লাহ্র মেহমান। তারা দো‘আ করলে তিনি কবুল করেন। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন’।[25]

হাজীদের প্রতিটি পদচারণায় নেকী অর্জিত হয় ও গুনাহ বিদূরিত হয় :

عن اِبْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ أُسْبُوْعًا لَا يَضَعُ قَدَمًا، وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلَّا حَطَّ اللهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيْئَةً وَكَتَبَ لَهُ بها حسنة وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً.

ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর সাতটি ত্বাওয়াফ করবে, এই সময় প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহ তার জন্য একটি করে নেকী লিখেন এবং একটি গুনাহ বিদূরিত করেন এবং একগুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন’।[26]

যমযমের পানি পান করার ফযীলত :

ত্বাওয়াফ শেষে দুই রাক‘আত ছালাতান্তে মাত্বাফ থেকে বেরিয়ে পাশেই যমযম কূপ। সেখানে গিয়ে যমযমের পানি বিসমিল্লাহ বলে পান করবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَقَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ‏‏ قَالَ عَاصِمٌ فَحَلَفَ عِكْرِمَةُ مَا كَانَ يَوْمَئِذٍ اِلَّا عَلَى بَعِيْرٍ‏

ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। রাবী আছিম রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইকরিমা রাযিয়াল্লাহু আনহু হলফ করে বলেছেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন।[27]

যমযমের পানি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,خَيْرُ مَاءٍ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ، وَفِيهِ طَعَامٌ مِنَ الطُّعْمِ، وَشِفَاءٌ مِنَ السُّقْمِ ‘ভূপৃষ্ঠের সেরা পানি হল যমযমের পানি। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর খাদ্য এবং রোগ মুক্তি’।[28] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘এই পানি কোন রোগ থেকে আরোগ্যের উদ্দেশ্যে পান করলে তোমাকে আল্লাহ আরোগ্য দান করবেন। এটি পানের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তোমাকে আশ্রয় দিবেন। আর তুমি এটা পরিতৃপ্তি বা পিপাসা মিটানোর জন্য পান করলে আল্লাহ সেটিই করবেন’।[29] রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযমের পানি বহন করে নিয়ে যেতেন। অতঃপর রোগীদের মাথায় ঢালতেন এবং তাদের পান করাতেন।[30]

হজ্জের তাৎপর্য:

(১) ইহরামের কাপড় গায়ে জড়িয়ে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে হজ্জের সফরে রওয়ানা হওয়া কাফন পরে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে আখেরাতের পথে রওয়ানা হওয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

(২) হজের সফরে পাথেয় সঙ্গে নেয়া আখেরাতের সফরে পাথেয় সঙ্গে নেয়ার প্রয়োজনয়ীতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

(৩) ইহরাম পরিধান করে পূত-পবিত্র হয়ে আল্লাহ্র দরবারে হাযিরা দেয়ার জন্য ‘লাববাইক’ বলা সমস্ত গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে পরকালে আল্লাহ্র কাছে হাযিরা দেয়ার প্রয়োজনীয়তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আরো স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইহরামের কাপড়ের মতো স্বচ্ছ-সাদা হৃদয় নিয়েই আল্লাহ্র দরবারে যেতে হবে।

(৪) ‘লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক’ বলে বান্দা হজ্জ বিষয়ে আল্লাহ্র ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহ্র যে কোন ডাকে সাড়া দেয়ার ব্যাপারে সদা প্রস্ত্তত থাকার কথা ঘোষণা দেয় এবং বাধা-বিঘ্ন, বিপদ-আপদ, কষ্ট-যাতনা পেরিয়ে যে কোন গন্তব্যে পৌঁছতে সে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে- এ কথা ব্যক্ত করে।

(৫) ইহরাম অবস্থায় সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলা স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে যে মুমিনের জীবন বল্গাহীন নয়। মুমিনের জীবন আল্লাহ্র রশিতে বাঁধা। আল্লাহ যেদিকে টান দেন, সে সেদিকে যেতে প্রস্ত্তত। এমনকি যদি তিনি স্বাভাবিক পোশাক- আশাক থেকে বারণ করেন, প্রসাধনী, আতর-সেণা ব্যবহার, স্বামী-স্ত্রীর সাথে বিনোদন নিষেধ করে দেন, তবে সে তৎক্ষণাৎ বিরত হয়ে যায় এসব থেকে। আল্লাহ্র ইচ্ছার সামনে বৈধ এমনকি অতি প্রয়োজনীয় জিনিসকেও ছেড়ে দিতে সে বিন্দুমাত্র ইতস্তত বোধ করে না।

(৬) ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া করা নিষেধ। এর অর্থ মুমিন ঝগড়াটে মেজাযের হয় না। মুমিন ক্ষমা ও ধৈর্যের উদাহরণ স্থাপন করে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। মুমিন শান্তিপ্রিয়। ঝগড়া-বিবাদের ঊর্ধ্বে উঠে সে পবিত্র ও সহনশীল জীবন যাপনে অভ্যস্ত।

(৭) বায়তুল্লাহর সান্নিধ্যে গিয়ে মুমিন নিরাপত্তা অনুভব করে। কেননা বায়তুল্লাহকে নিরাপত্তার নিদর্শন হিসাবে স্থাপন করেছেন আল্লাহ তা‘আলা ।

(৮) হাজারে আসওয়াদ চুম্বন, স্পর্শ মুমিনের হৃদয়ে সুন্নতের তাযীম-সম্মান বিষয়ে চেতনা সৃষ্টি করে। কেননা নিছক পাথরকে চুম্বন করার মাহাত্ম্য কী তা আমাদের বুঝের আওতার বাইরে। তবুও আমরা চুম্বন করি, যেহেতু রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন। বুঝে আসুক বা না আসুক কেবল রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের জন্যই আমরা চুম্বন করে থাকি হাজারে আসওয়াদকে। এ চুম্বন বিনা-শর্তে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যে নিজেকে আরোপিত করার একটি আলামত। ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন করার পূর্বে বলেছেন, ‘আমি জানি নিশ্চয়ই তুমি একটি পাথর। ক্ষতি-উপকার কোনটারই তোমার ক্ষমতা নেই। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

(৯) ত্বাওয়াফ আল্লাহ-কেন্দ্রিক জীবনের নিরন্তর সাধনাকে বুঝায়। অর্থাৎ একজন মুমিনের জীবন আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধকে কেন্দ্র করে ঘোরে। এক আল্লাহকে সকল কাজের কেন্দ্র বানিয়ে যাপিত হয় মুমিনের সমগ্র জীবন। বায়তুল্লাহর চার পাশে ঘোরা আল্লাহ্র মহান নিদর্শনের চার পাশে ঘোরা। তাওহীদের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের চার পাশে ঘোরা। তাওহীদ নির্ভর জীবনযাপনের গভীর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা। আর সাত চক্কর চূড়ান্ত পর্যায়কে বুঝায়। অর্থাৎ মুমিন তার জীবনের একাংশ তাওহীদের চার পাশে ঘূর্ণায়মান রাখবে আর বাকি অংশ ঘোরাবে অন্য মেরুকে কেন্দ্র করে, এরূপ নয়। মুমিনের শরীর ও আত্মা, অন্তর-বাহির সমগ্রটাই ঘোরে একমাত্র আল্লাহকে কেন্দ্র করে যা পবিত্র কুরআনে ‘পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর’ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।

(১০) আল্লাহ তা‘আলা নারীকে করেছেন সম্মানিতা। সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর, আল্লাহ্র রহমত-মদদ কামনায় একজন নারীর সীমাহীন মেহনত, দৌড়ঝাঁপকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যে শ্রম-মেহনতের পর প্রবাহিত হয়েছিল রহমতের ফোয়ারা ‘যমযম’। সাত চক্করে সম্পূর্ণ করতে হয় সাঈ, যা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ্র রহমত ও সাহায্য পেতে হলে সাত চক্কর অর্থাৎ প্রচুর চেষ্টা ও মেহনতের প্রয়োজন রয়েছে। মা হাজেরার মত গুটি গুটি পাথর বিছানো পথে সাফা থেকে মারওয়া, মারওয়া থেকে সাফায় দৌড়-ঝাঁপের প্রয়োজন আছে। পাথুরে পথে সাত চক্কর, তথা প্রচুর মেহনত ব্যতীত দুনিয়া-আখেরাতের কোন কিছুই লাভ হবার মত নয় এ বিধানটি আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয় পরিষ্কারভাবে।

(১১) উকূফে আরাফা ক্বিয়ামতের ময়দানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে সমগ্র মানবজাতি একত্রিত হবে সুবিস্তৃত এক ময়দানে। যেখানে বস্ত্রহীন অবস্থায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে গুণতে হবে অপেক্ষার প্রহর। সঠিক ঈমান ও আমলের অধিকারী ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাবে আল্লাহ্র করুণায়। আর ঈমানহীন-ত্রুটিপূর্ণ ঈমান ও আমলওয়ালা ব্যক্তিদেরকে অনন্ত আযাব ভোগ করাতে শেকল পরিয়ে ধেয়ে নেয়া হবে জাহান্নামের পথে।

হজ্জের উপকারিতা:

হজ্জের উপকারিতা হল হজ্জের আহকাম বা বিধানসমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে ও যথার্থভাবে আদায় করা, ত্বাওয়াফ, সাঈ, জামরায় পাথর নিক্ষেপ, আরাফাহ ও মুযদালিফায় অবস্থান প্রভৃতি চূড়ান্ত ইখলাছ ও চূড়ান্ত মনোযোগের সাথে সম্পন্ন করা। আর তোমার দো‘আ, যিকির, ক্বিরাআত, ছালাত প্রভৃতি ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র প্রতি তোমার অন্তরকে নিবিষ্ট করবে। যেখানেই থাক আল্লাহ্র প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার প্রতি আগ্রহী হবে।

আরেকটি উপকারিতা হল কুরবানী; সেটা হজ্জে তামাত্তু‘ ও ক্বিরানের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হোক বা সাধারণ হোক, তুমি আল্লাহ্র নৈকট্য অর্জনের জন্য কুরবানী করবে। নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে ১০০ উট কুরবানী করেছেন। ছাহাবায়ে কেরামও কুরবানী করেছেন। সুতরাং কুরবানী আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং এগুলো দরিদ্র-অভাবগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা যায় মিনার দিনে এবং অন্য সময়ে। নফল কুরবানীর দ্বারা মিনায় এবং অন্যত্র হজ্জের পূর্বে বা পরে মানুষ প্রভূত উপকৃত হয়।

উপকারিতার আরেকটি বড় দিক হল, তোমার রবের নিকটে প্রার্থনা ও অনুনয়-বিনয়ে অত্যধিক চেষ্টা করা, যাতে তোমার নিকট থেকে কবুল হয়, তোমার অন্তর পরিশুদ্ধ হয় ও আমল সংশোধিত হয়। আর আল্লাহ্র যিকির, শুকরিয়া ও তাঁর ইবাদত সুন্দর করতে তোমাকে তিনি সাহায্য করেন এবং তোমাকে ঐ সকল হক্ব আদায়ে সাহায্য করেন, যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন।

হজ্জ শুধুই ইবাদত নয়। বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। হজ্জের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ পবিত্র মক্কা নগরীতে একত্রিত হয়। ভাষা-বর্ণের ভিন্নতা, সাংস্কৃতিক-জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য ও ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব মুসলিমের ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত ও সুসংহত হয় পবিত্র হজ্জ উদযাপনে। বিশ্ব মুসলিমের পারস্পরিক দুঃখ-অভাব, অভিযোগ-সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া ও তার সমাধানের সুযোগ হয় পবিত্র হজ্জের বিশ্ব সম্মিলনে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সংহতিতেও হজ্জের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হজ্জের মওসূমে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোয় বিশেষত সঊদী আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। এ সময় ব্যবসায়ী বিশ্ব মুসলিম নেতারা আলাপ-আলোচনা-চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে পারেন। অনুরূপভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলিম নেতারা পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করতে পারেন। এতে বিশ্ব মুসলিম নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠতে পারে। হজ্জের সময় তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বমুসলিম সমাজ-সংস্কৃতিকে সুসংহত ও সমৃদ্ধ করতে পারেন। নির্যাতিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত ও সাম্রাজ্যবাদীদের আধিপত্যের শিকার মুসলিম বিশ্বের জন্য হজ্জ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হজ্জ মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং অধিকার আদায়ের সুযোগ করে দেয়। হজ্জ মওসূমে মুসলিম বিশ্বের নেতারা বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-মতভেদ নিরসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ ছাড়া হজ্জের বিশ্ব সম্মেলন থেকে মুসলিম নেতারা নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য আধিপত্যবাদীদের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ প্রচারিত অন্যান্য অপবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের করণীয় সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনাও দিতে পারেন তারা।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬, আহমাদ, হা/৬০২২, ৬৩০৯।

[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; মিশকাত, হা/২৫০৫; ইরওয়া, হা/৯৮০।

[3]. আবুদাঊদ, হা/১৭২১; ইবনু মাজাহ, হা/২৮৮৬; আহমাদ, হা/২৬৪২; দারেমী, হা/১৭৮৮, সনদ ছহীহ।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৩।

[5]. ইবনু মাজাহ, হা/২৮৮৩; আবুদাঊদ, হা/১৭৩২; ছহীহুল জামে‘, হা/৬০০৪।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫১৯।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২০।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫২১।

[9]. তিরমিযী, হা/৮১০; নাসাঈ, হা/২৬৩০; মিশকাত, হা/২৫২৪; ছহীহাহ, হা/১২০০; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১০৫।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫১৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৩; মিশকাত, হা/২৫০৬।

[11]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬১; আহমাদ, হা/২৫৫৮৪১; মিশকাত, হা/২৫৩৪।

[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/১২১; ইবনু হিববান, হা/২৫১৫; মিশকাত, হা/২৮।

[13]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪৯; মিশকাত, হা/২৫০৮।

[14]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৪১০০; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১১৪; ছহীহাহ, হা/২৫৫৩ ; মিশকাত, হা/২৫৩৯।

[15]. ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫৬; ছহীহাহ, হা/২৭২৫; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৩৭৯; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪২।

[16]. তিরমিযী, হা/৩৯১৬; আহমাদ, হা/১৪৭৩৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৪০৪; ছহীহুল জামে‘, হা/৩৮৩৮; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৭৩।

[17]. মু‘জামুল কাবীর, হা/১৩৪৩৮; ছহীহুল জামে‘, হা/২১৯৪।

[18]. তিরমিযী, হা/৯৬১; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৪৪; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪৪; মিশকাত, হা/২৫৭৮।

[19]. তিরমিযী, হা/৮৭৭; মিশকাত, হা/২৫৭৭; ছহীহাহ, হা/২৬১৮; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৪৪৯; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪৬।

[20]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬১৩।

[21]. তিরমিযী, হা/৮৭৮; ছহীহুল জামে‘, হা/১৬৩৩; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪৭।

[22]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/১২৮৭, ৯০১১; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪৭।

[23]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৭০; মিশকাত, হা/২৫৮৯।

[24]. নাসাঈ, হা/২৬২৫; ছহীহুল জামে‘, হা/৭১১২; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১০৯; মিশকাত, হা/২৫৩৭।

[25]. ইবনু মাজাহ, হা/২৮৯২; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১০৯; মিশকাত, হা/২৫৩৬।

[26]. ইবনু হিববান, হা/৩৬৯৭; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৪৩; মিশকাত, হা/২৫২৮।

[27]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬৩৭।

[28]. ত্বাবারাণী, মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৩৯১২; ছহীহাহ, হা/১০৫৬; ছহীহুল জামে‘, হা/৩৩২২।

[29]. দারাকুৎনী, হা/২৭৭২; হাকেম, হা/১৭৩৯; ছহীহ আত-তারগীব, হা/১১৬৪।

[30]. ছহীহাহ, হা/৮৮৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৪৯৩১।

Magazine