কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

অন্ধভাবে মাযহাব মানার ভয়াবহ পরিণাম (পর্ব-৩)

৫নং উদাহরণ: সপ্তম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় বাগদাদে শী‘আ, সুন্নী, হানাফী, শাফেঈ ও হাম্বলীদের মধ্যে তুমুল সংগ্রাম চলতে থাকে। আর এ সংগ্রাম শুধু বাগদাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা মহামারির মত ইসলামী বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এ ব্যাপারে সকল ঐতিহাসিক, রাজনীতিবিদ, বিদ্বান সমস্বরে সাক্ষ্য দেন যে, চার মাযহাবের প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামি এবং শী‘আদের স্বভাবসিদ্ধ ইসলাম বিদ্বেষ মনোভাব আর মুসলমিদের মুক্ত বুদ্ধির অভাবে তাতারী রাক্ষসরা ইসলামের প্রধানতম কেন্দ্র বাগদাদের পতন ও মুসলিম খিলাফতের বিলুপ্তি এবং মুসলিম সভ্যতার সাতশ’ বছরের বীরোচিত সৌধের বিনাশের মূল কারণ। এ ব্যাপারে বিশ্বখ্যাত মুজাদ্দিদ শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

وَبِلَادُ الشَّرْقِ مِنْ أَسْبَابِ تَسْلِيْطِ التَّتَرَ عَلَيْهَا كَثْرَةُ التَّفَرُّقِ وَالْفِتَنِ بَيْنَهُمْ فِي الْمَذَاهِبِ وَغَيْرِهَا حَتَّى تَجِدَ الْمُنْتَسِبَ إلَى الشَّافِعِيِّ يَتَعَصَّبُ لِمَذْهَبِهِ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ حَتَّى يَخْرُجَ عَنْ الدِّيْنِ وَالْمُنْتَسِبَ إلَى أَبِيْ حَنِيْفَةَ يَتَعَصَّبُ لِمَذْهَبِهِ عَلَى مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ حَتَّى يَخْرُجَ عَنْ الدِّيْنِ وَالْمُنْتَسِبَ إلَى أَحْمَدَ يَتَعَصَّبُ لِمَذْهَبِهِ عَلَى مَذْهَبِ هَذَا أَوْ هَذَا وَفِي الْمَغْرِبِ تَجِدُ الْمُنْتَسِبَ إلَى مَالِكٍ يَتَعَصَّبُ لِمَذْهَبِهِ عَلَى هَذَا أَوْ هَذَا وَكُلُّ هَذَا مِنْ التَّفَرُّقِ وَالِاخْتِلَافِ الَّذِيْ نَهَى اللهُ وَرَسُوْلُهُ عَنْهُ.

‘প্রাচ্যের দেশসমূহে তাতারীদের প্রাধান্য বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, মাযহাবপন্থী মুকাল্লিদ ভাইদের অতিমাত্রায় গোঁড়ামি, দলাদলি ও মারামারি। এমনও দেখা গেছে যে, শাফেঈ মাযহাবের মুকাল্লিদগণ তাদের মাযহাব নিয়ে হানাফী মাযহাবের উপর গোঁড়ামি করতে গিয়ে হানাফীদেরকে মুসলিমই বলে মনে করতেন না। এমনিভাবে হানাফী মুকাল্লিদগণের তাদের মাযহাব নিয়ে অন্ধভক্তি, গোঁড়ামি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা শাফেঈ মাযহাবপন্থীদেরকে মুসলিমই মনে করতেন না। এমনিভাবে হাম্বলী মাযহাবপন্থীরা অন্যান্য সকল মাযহাবের উপর নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন। অপরদিকে পশ্চিমা দেশের (আন্দালুসিয়া, স্পেন, মরক্কো, তিউনেশিয়া ইত্যাদি) অধিবাসীগণ ইমাম মালেকের মাযহাব নিয়ে ব্যস্ত। আর এ সকল মাযহাবপন্থী, মুকাল্লিদ হওয়া হচ্ছে ধর্মের মধ্যে মতভেদ, পার্থক্য, মতানৈক্য সৃষ্টি করা মাত্র, যা থেকে আল্লাহ ও রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন’।[1]

৬নং উদাহরণ: এ মাযহাবী কোন্দলের কারণে বিধর্মীরা, পাশ্চাত্যদেশের হোক বা প্রাচ্য দেশের হোক, আমাদের মুসলিমদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পেরেছে। এ সম্বন্ধে ইমাম ইবনুল ইয-আল হানাফী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

ومن جملة أَسباب تسليط الفرنج على بعض بلاد المغرب والتتر على بلاد الشرق كثرة التعصب والتفرق والفتن بينهم في المذاهب. وكل ذلك من اتباع الظن وما تهوي الأنفس ولقد جاءهم من ربهم الهدي.

‘হলান্ড ও ফ্রান্সিদের পশ্চিমা মুসলিম দেশ তথা মরক্কো, তিউনেশিয়া, আলজেরিয়া সহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহের উপর আর তাতারীদের প্রাচ্যের উপর প্রাধান্য বিস্তারের অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাদের নিজেদের মধ্যে মাযহাব নিয়ে দলাদলি, মারামারি ও ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা। আর এর সবই হচ্ছে ধারণা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়াত এসেছে’।[2]

৭নং উদাহরণ: শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব শা‘রানী রাহিমাহুল্লাহ হানাফী ও শাফেঈদের গৃহ বিবাদ সম্পর্কে এক দুঃখজনক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, হানাফী ও শাফেঈদের মধ্যে সংঘটিত তর্ক-বিতর্ক, দাঙ্গা-হাঙ্গামা করতে শক্তি যাতে কমে না যায়, তজ্জন্য উভয় মাযহাবের মাওলানাগণ তাদের নিজ নিজ মাযহাবের লোকদেরকে রামাযান মাসের ছিয়াম রাখতে নিষেধ করতেন।[3]

৮নং উদাহরণ: মাযহাবপন্থীদের ফির্কাবন্দীর চরম পরিণামস্বরূপ ৮০১ হিজরীতে সুলতান ফরহ ইবনে বর্কুক সারকেশী পবিত্র কা‘বা ঘরের চারিদিকে চার মাযহাবের ইমামের জন্য আলাদা আলাদা মুছল্লা (মেহরাব) বানিয়েছিলেন। কারণ এক মাযহাবের অনুসারীরা অন্য মাযহাবের ইমামের পিছনে ছালাত পড়া নাজায়েয মনে করতেন। তাদের মধ্যকার পরস্পর কোন্দলের কারণে সুলতান ফরহ ইবনে বর্কুক এ ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। দেখুন অন্ধভাবে মাযহাব মানার কী ভয়াবহ পরিণাম! যেখানে ইসলামে এক আল্লাহ, এক নবী, এক কুরআন, এক কা‘বা, সেখানে মাযহাবের কারণে মুছল্লা বিভক্ত হয়ে গেল।[4]

আর ইসলামের এ মাযহাবী কোন্দলের শোচনীয় অবস্থা দেখে বিশ্বখ্যাত পারস্য কবি তার কবিতায় এক চিত্র বর্ণনা করে বলেন, সত্য ধর্মকে মাযহাবীরা চার ভাগে বিভক্ত করল এবং এর দ্বারা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের বিপর্যয় ঘটাল। এ মাযহাবী কোন্দলের ফলে বিভাজন হয়ে যাওয়া কা‘বার মুছল্লা আল্লাহ্র অশেষ রহমতে সাড়ে পাঁচশ’ বছর পর সঊদী বাদশাহ আব্দুল আযীয আল-সঊদ রাহিমাহুল্লাহ ১৩৪৩ হিজরীতে কা‘বা শরীফ হতে এ জঘন্য, ন্যাক্কারজনক প্রথা দূর করে মুসলিমদেরকে আবার সম্মিলিতভাবে এক ইমামের পিছনে এক মুছল্লার মাধ্যমে ছালাত পড়ার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন- আমীন!

সুধী পাঠক! প্রবন্ধের কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় মাত্র গুটিকয়েক মাযহাবী কোন্দলের নমুনা উল্লেখ করেছি, যা আমাদের মাযহাবী ভাইয়েরা ঘটিয়েছেন। পরিশেষে আল্লাহ্র কাছে দু‘আ করি, তিনি যেন আমাদের সকলের কুরআন-হাদীছের সঠিক বুঝ দেন ও অন্ধ মাযহাবভক্তি ছেড়ে কুরআন-হাদীছ মানার তাওফীক্ব দান করেন- আমীন!

(৩) ছহীহ হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে মাযহাব সমর্থিত দুর্বল হাদীছ গ্রহণ :

ইসলাম ধর্মের মূল উৎস হচ্ছে কুরআন ও হাদীছ। কুরআন আল্লাহ্র কিতাব আর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ হাদীছ প্রমাণিত হলে তার অনুসরণ করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা’ (হাশর, ৭)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে বলেন,

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ - إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ.

‘তিনি মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের খেয়াল খুশিমত কোন কথা বলেন না, তার কথা বক্তব্য কেবলমাত্র অহি যা তাঁর কাছে আল্লাহ্র তরফ থেকে পাঠানো হয়’ (নাজম, ৩-৪)

উক্ত আয়াতদ্বয় থেকে বুঝা গেল, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হবে, তা অবশ্যই মানতে হবে। কোনভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার অবাধ্য হওয়া যাবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

‘কাজেই যারা তার আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা সতর্ক হোক যে তাদের উপর পরীক্ষা নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর নেমে আসবে আল্লাহ্র শাস্তি’ (নূর, ৬৩)। এ ছাড়াও সকল মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্যও হচ্ছে, সবকিছুর উপর কুরআন-হাদীছকে প্রাধান্য দেওয়া। অথচ মাযহাবপন্থীদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন উল্টো। তারা মাযহাবকে ঠিক রাখতে অনেক ছহীহ হাদীছ প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার অগণিত প্রমাণ আছে। আমরা এখানে মাত্র কয়েকটি প্রমাণ পেশ করলাম।

১ম উদাহরণ : ছালাতে সূরা ফাতিহা না পড়া :

ছালাতে ইমাম-মুক্তাদী উভয়কে অবশ্যই সকল ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। মুক্তাদি ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ না করলে ছালাত হবে না। উবাদাহ ইবনে সামেত রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

لاَصَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ

‘যে ব্যক্তি ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার ছালাত হল না’।[5] আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

« مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ - ثَلاَثًا - غَيْرُ تَمَامٍ »

‘যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করল, অথচ সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার ছালাত অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ’।[6] 

অথচ হানাফী মাযহাবপন্থী ভাইদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়েন না কেন? উত্তরে বলে, আমাদের মাযহাবে নেই। আমাদের ইমামের মতে, হানাফী আলেম ওলামায়ে কেরামের মতে সূরা ফাতিহা পড়া লাগবে না ইত্যাদি। আর তারা সূরা ফাতিহা না পড়ার পক্ষে যে সকল দলীল পেশ করেন, তার সবই অযৌক্তিক, যঈফ, দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য।

১ম দলীল : তারা ফাতিহা না পড়ার পক্ষে সূরা আ‘রাফের ২০৪ নং আয়াত পেশ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

‘যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ সহকারে শোনো, আর নীরবতা বজায় রাখো, যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়’ (আ‘রাফ, ২০৪)। তারা বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ কুরআন পড়ার সময় শুনতে বলেছেন ও নীরবতা বজায় রাখতে বলেছেন। অতএব ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না, বরং চুপ থাকা ও শ্রবণ করা ওয়াজিব। তারা আরো বলেন, এ আয়াত নাকি ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়াকে রহিত করে দিয়েছে।

তাদের প্রদত্তদলীলের পর্যালোচনা :

প্রথম পর্যালোচনা : উল্লিখিত আয়াত কোন্ প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে এ নিয়ে অনেক মতভেদ দেখা যায় এবং অনেক মত ও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এ সম্বন্ধে কুরআনের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইমাম রাযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

وَلِلنَّاسِ فِيهِ أَقْوَالٌ. الْقَوْلُالْأَوَّلُ: وَهُوَ قَوْلُ الْحَسَنِ وَقَوْلُ أَهْلِ الظَّاهِرِ أَنَّا نُجْرِي هَذِهِ الْآيَةَ عَلَى عُمُومِهَا فَفِي أَيِّ مَوْضِعٍ قَرَأَ الْإِنْسَانُ الْقُرْآنَ وَجَبَ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ اسْتِمَاعُهُ وَالسُّكُوتُ... وَالْقَوْلُالثَّانِي: أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي تَحْرِيمِ الْكَلَامِ فِي الصَّلَاةِ... وَالْقَوْلُالثَّالِثُ: أَنَّ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِي تَرْكِ الْجَهْرِ بِالْقِرَاءَةِ وَرَاءَ الْإِمَامِ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَرَأَ رَسُولُ اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ وَقَرَأَ أَصْحَابُهُ وَرَاءَهُ رَافِعِينَ أَصْوَاتَهُمْ، فَخَلَطُوا عَلَيْهِ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ. وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَصْحَابِهِ. والقولالرَّابِعُ: أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي السُّكُوتِ عِنْدَ الْخُطْبَةِ.

‘এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট নিয়ে মানুষের বিভিন্ন মত পাওয়া যায়: (১) যেখানেই কুরআন পড়া হোক, সব জায়গায়ই শুনতে হবে ও চুপ থাকতে হবে। (২) ছালাতে কথা বলা হারাম প্রসঙ্গে নাযিল হয়। (৩) ইমামের পেছনে উচ্চৈঃস্বরে পড়ার ব্যাপারে নাযিল হয়। (৪) খুৎবার সময় চুপ থাকার ব্যাপারে নাযিল হয়। (৫) উক্ত আয়াত কাফেরদের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়, মুসলিমদের উদ্দেশ্যে নয়। অর্থাৎ নবুঅতের শুরুতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাবলীগের কাজ করতেন, তখন কাফেররা শোরগোল করতো। তাদের উদ্দেশ্যে এ আয়াত নাযিল হয়’।[7]

অতএব, আয়াতটি অবতীর্ণের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট জানা গেলো না। আর এ ব্যাপারে আমাদের কিছু ভাইয়েরা যে কথা বলে থাকেন (উল্লিখিত আয়াত ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে), তারও প্রমাণ পাওয়া গেলো না। এ বিষয়ে কোন সনদ বা প্রমাণ হাদীছেও নেই। বরং আয়াতটি যে কাফেরদের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে, তা পূর্বের আয়াত দেখলেই বুঝা যায়। আর যারা এ আয়াত দ্বারা সূরা ফাতিহা না পড়ার পক্ষে দলীল দেন যে, ইমাম যখন পড়বে, তখন চুপ থাকতে হবে ও শুনতে হবে, তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন- যখন ইমাম উচ্চৈঃস্বরে পড়েন না, তখন তো চুপ থাকা ও শোনার প্রশ্ন আসে না, তখন আপনারা সূরা ফাতিহা পড়েন না কেন?

দ্বিতীয় পর্যালোচনা : হানাফী মাযহাবে এ আয়াত দলীল হিসাবে গৃহীত নয়। কারণ হানাফী মাযহাবের উছূল হচ্ছে, যখন দু’টি আয়াত বাহ্যতঃ বিপরীত বা সাংঘর্ষিক হবে, তখন উক্ত দুই আয়াত দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যাবে না। তখন হাদীছের দিকে ফিরে যেতে হবে।[8] যেমন পূর্বে উল্লিখিত আয়াতে ছালাতে মুক্তাদির কুরআন (না পড়ে) শুনতে বলা হয়েছে আর সূরা মুয্যাম্মিলে মুক্তাদিকে সূরা পড়তে বলা হয়েছে فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْانِ (কুরআন হতে যা সহজ, তা পড়ো) উল্লিখিত দু’টি আয়াত সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাদীছের দিকেই ফিরে যেতে হয়। আর হাদীছ গ্রন্থগুলোর মধ্যে বুখারী ও মুসলিমের হাদীছ সবচেয়ে বিশুদ্ধ। আর বুখারী-মুসলিমের হাদীছে এসেছে,

لاصَلاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.

‘যে ব্যক্তি ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার ছালাত হল না’।[9] আর কোন অবস্থাতেই ছহীহ হাদীছ ছেড়ে যঈফ হাদীছ গ্রহণ করা যাবে না।

তৃতীয় পর্যালোচনা : আমাদের ভাইয়েরা উক্ত আয়াত দ্বারা ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না বলে দাবী করেন। আসলে তা ঠিক নয়। এ আয়াত দ্বারা সর্বোচ্চ যা প্রমাণ করা যায়, তা হচ্ছে ইমামের পেছনে মুক্তাদির উচ্চৈঃস্বরে পড়া যাবে না। কারণ এতে ইমামের সমস্যা হয়। আর এ ব্যাপারে আমরাও একমত। কিন্তু মনে মনে অথবা ইমামের চুপ থাকার সময় পড়া যাবে না, এটা প্রমাণিত হয় না। তাছাড়া আয়াত ‘আম (সাধারণ) হলেও সূরা ফাতিহা পড়া দলীল দ্বারা খাছ বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অতএব সকল ছালাতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

চতুর্থ পর্যালোচনা : হানাফী মাযহাবের ফৎওয়া হচ্ছে, ইমাম যখন খুৎবা দেবেন তখন মুছলস্ন­ীর খুৎবা শোনা ওয়াজিব। কিন্তু ইমাম ছাহেব যখন এ আয়াত পড়বেন,

انَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا ايُّهَا الَّذِينَ امَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا.

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর উপর দরূদ পড়ো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও’ (আহযাব, ৫৬)। তখন মুক্তাদির জন্য রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পড়া জায়েয। এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল হুমাম, আল্লামা আইনী, শায়খ আব্দুল হাইসহ সবাই এ অবস্থায় মনে মনে দরূদ পড়া জায়েয বলেছেন। আর চুপে চুপে পড়লে, এ আয়াত ও দরূদ পড়ার আয়াত দুটিই পালন হয়ে যাবে, তাতে খুৎবা শোনার সমস্যা হবে না।[10]

আর আমরাও বলি ইমামের সাথে চুপে চুপে বা ইমামের চুপ থাকা অবস্থায় সূরা ফাতিহা পড়লে উল্লিখিত আয়াত ও রাসূলের হাদীছ উভয় মানা হবে।

পঞ্চমপর্যালোচনা : সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের ভাইয়েরা এ আয়াত দ্বারা কুরআন শোনা ওয়াজিব করেন ও সূরা ফাতিহা পড়া নাজায়েয করেন। কিন্তু ফজরের সুন্নাতের সময় তারা এ আয়াত মানেন না। কোন্ দলীলের ভিত্তিতে তারা ফজরের ফরয ছালাত চলাকালে সুন্নাত পড়েন? এ প্রশ্নের উত্তরে তারা যা বলবেন, আমরাও সূরা ফাতিহা পড়ার ব্যাপারে তা-ই বলবো।

ষষ্ঠ পর্যালোচনা : যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নিই যে, উল্লিখিত আয়াত ছালাতের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। কিন্তু আয়াতটি ‘আম বা ব্যাপক অর্থে, অন্যদিকে সূরা ফাতিহাকে এ আয়াত থেকে খাছ করা হয়েছে। যেমন ওয়ারিছ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ব্যাপারে কুরআনে ‘আম বা সবার জন্য ওয়ারিছের বিধান করা হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বংশধরদের খাছ বা নির্দিষ্ট করেছেন যে, তার সন্তানেরা তাঁর ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে না। সূরা ফাতিহা পড়ার বিষয়টিও ঠিক এমনই একটা বিষয়।

২য় দলীল : হানাফীরা ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা না পড়ার পক্ষে নিমেণাক্ত হাদীছ দলীল হিসাবে পেশ করেন।

জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من كَانَ لَهُ امَامٌ، فقِرَاءَةَ الامَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ

‘যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে ছালাত পড়বে, ইমামের ক্বিরাআত পড়া মুক্তাদির জন্য যথেষ্ট’।[11]

প্রথম পর্যালোচনা : জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত ছালাতে সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে পূর্বে উল্লিখিত হাদীছ সকল ইমাম ও মুহাদ্দিছের নিকট যঈফ হিসাবে প্রমাণিত। উল্লেখ্য, এ হাদীছের সনদে জাবের জু‘ফী নামের একজন মিথ্যুক রাবী রয়েছে। নিচে কিছু মুহাদ্দিছ ও ওলামায়ে কেরামের উক্তি উল্লেখ করা হল :

(ক) ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ এ হাদীছ সম্বন্ধে বলেন,

مَا رَأَيْت فِيمَنْ لَقِيت أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ، وَلَا لَقِيت فِيمَنْ لَقِيت أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ، مَا أَتَيْته بِشَيْءٍ مِنْ رَأْيِي قَطُّ إلَّا جَاءَنِي فِيهِ بِحَدِيثٍ.

‘আমি যেসব লোকদেরকে দেখেছি, তাদের মধ্যে আতা রাহিমাহুল্লাহ সবচেয়ে উত্তম। আর জাবের আল জু‘ফী হচ্ছে সবচেয়ে মিথ্যাবাদী। কারণ আমি তার কাছে যখনই কোন মত বা মাসআলা নিয়ে গিয়েছি, তখনই সে এ ব্যাপারে আমাকে একটি হাদীছ বর্ণনা করত’।[12]

(খ) ইমাম ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ বলেন,وَجَابِرٌ الْجُعْفِيُّ ضَعِيفُ الْحَدِيثِ مَذْمُومُ الْمَذْهَبِ لَا يُحْتَجُّ بِمِثْلِهِ ‘হাদীছের বর্ণনাকারী জাবের আল জু‘ফী নিকৃষ্ট ধর্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী ও হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল’।[13]

(গ) ইমাম ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

وَاسْتَدَلَّ مَنْ أَسْقَطَهَا عَنِ الْمَأْمُومِ مُطْلَقًا...لَكِنَّهُ حَدِيثٌ ضَعِيفٌ عِنْدَ الْحُفَّاظِ.

‘যারা এ হাদীছ দ্বারা মুক্তাদির সূরা ফাতিহা না পড়ার ব্যাপারে দলীল পেশ করেন....। (তাদের জানা উচিত যে) হাদীছটি সকল হাদীছের হাফেযের নিকট যঈফ’।১৪ তিনিالتلخيص الحبير নামক গ্রন্থে আরো বলেন,

... وَلَهُ طُرُقٌ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ، وَكُلُّهَا مَعْلُولَةٌ.

‘এ হাদীছের ব্যাপারে অনেক ছাহাবা থেকে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে, কিন্তু সব বর্ণনাই ত্রুটিযুক্ত’।১৫

(ঘ) ইমাম ইবনুল জাউযি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

هذا حديث لا يصح- والترمذي- اي سهل بن عباس الترمذي احد رواته متروك.

‘এ হাদীছটি ছহীহ নয়। কারণ এ হাদীছে সাহ্ল ইবনে আববাস আত-তিরমিযী নামে একজন রাবী আছেন, তিনি অগ্রহণযোগ্য বা পরিত্যাজ্য’।১৬

দ্বিতীয় পর্যালোচনা : সূরা ফাতিহা না পড়ার পক্ষে পেশকৃত হাদীছটি আসলে তাদের মাযহাবের উছূল অনুযায়ী তাদের জন্য দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাদের মাযহাবের উছূল হচ্ছে, যখন কোন হাদীছ তথা খবরে ওয়াহেদ কুরআনের আয়াতের বিপরীত হবে, তখন ঐ হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে কুরআনের আয়াতকে গ্রহণ করতে হবে।

অথচ আমরা দেখি, তাদের পেশকৃত হাদীছ কুরআনের فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ ‘কুরআন থেকে যা সহজ মনে হয়, তা পড়ো’১৭ আয়াতটির খেলাফ। আর পূর্বোক্ত আয়াতে ইমাম-মুক্তাদী সবাইকে কুরআন পড়ার আদেশ করা হয়েছে। তাহলে তাদের মাযহাবের ক্বায়েদা অনুযায়ী উক্ত হাদীছ যখন দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তখন কীভাবে তারা এ হাদীছ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন?

তৃতীয় পর্যালোচনা : হানাফী মাযহাবের উছূল অনুযায়ী এ হাদীছ দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হানাফী মাযহাবের উছূল হচ্ছে, যদি কোন ছাহাবী তার বর্ণিত হাদীছের বিপরীত ফৎওয়া দেন বা আমল করেন, তাহলে তার বর্ণিত হাদীছ মানসূখ হিসাবে গণ্য হবে। তাহলে এ হাদীছ কীভাবে তাদের জন্য দলীল হল? বরং উছূল হিসাবে এ হাদীছ মানসূখ। আর মানসূখ হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। কারণ উক্ত হাদীছের রাবী জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু সহ বহু সংখক ছাহাবী এ হাদীছের বিপরীত ফৎওয়া প্রদান করেছেন। অর্থাৎ তারা সূরা ফাতিহা পড়তে বলেছেন।

চতুর্থ পর্যালোচনা : তাদের প্রদত্ত হাদীছে সূরা ফাতিহা পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এর কোন প্রমাণ নেই। বরং পড়া দ্বারা উদ্দেশ্য সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য সূরাও হতে পারে। অতএব সূরা ফাতিহা নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়।১৮

(চলবে)


[1]. মাজমূ‘আ ফাতাওয়া, ২২/২৫৪।

[2]. ফির্কাবন্দী বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি, ১/২০।

[3]. শা‘রানী, মীযান, ১/৪৩; ফির্কাবন্দী বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি, ১/২৪-২৫।

[4]. বদরুত তালে, ২/২৬; ফির্কাবন্দী বনাম অনুসরণীয় ইমামগণের নীতি, পৃঃ ১৬-১৭।

[5]. বুখারী, হা/৭৫৬, ‘আযান’ অধ্যায়, ‘ইমাম ও মুক্তাদির সকল ছালাতে ফাতিহা পড়া ওয়াজিব’ পরিচ্ছেদে; মুসলিম, হা/৩৯৪; ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব’ পরিচ্ছেদ; তিরমিযী, হা/২৪৭ (ই.ফা.বা); আবুদাউদ, হা/১০১ ‘ছালাত’ অধ্যায়।

[6]. মুসলিম, হা/২৩৮, ‘প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে’ অধ্যায়; আবুদাঊদ, হা/৮২১, ‘যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়া ছেড়ে দেয়’ অধ্যায়।

[7]. ইমাম রাযী, তাফসীরুল কাবীর, ১৪ খণ্ড, সূরা আ‘রাফ, ২০৪।

[8]. নূরুল আনওয়ার, পৃঃ ১৯৩- ১৯৪; আত-তালবীহ, ২/৪১৫।

[9]. বুখারী, হা/৭৫৬, ‘আযান’ অধ্যায়, ‘ইমাম ও মুক্তাদির সকল ছালাতে ফাতিহা পড়া ওয়াজিব’ পরিচ্ছেদে, মুসলিম, হা/৩৯৪; ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব’ পরিচ্ছেদ।

[10]. বাদায়ে আল-ছানায়ে, ১/২৬৪; শরহে বেকায়া, পৃঃ ১৭৫; আইনী, রমজুল হাক্বায়েক, পৃঃ ৪৫; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল ক্বদীর, ২/৩৮।

[11]. ইবনে মাজাহ, ১/২৭৭, ‘ছালাত’ অধ্যায়; মুসনাদে আহমাদ, ৩/৩৩৯।

[12]. জাইলাঈ-মিজান, নাছবুর রায়াহ, ১/৩৮০; ইবনে আদী, আল-কামেল, ২/৫৩৭; তাহযীব, ২/৪৮।

[13]. ইবনে আব্দুল বার, আত-তামহীদ, ১১/৪৮।

[14]. ফাতহুল বারী, ২/২৪২ পৃঃ; ইবনে হাজার, তালখীসুল হাবীর, ১/২৩২।

[15]. ইবনে হাজার, তালখীসুল হাবীর, ১/২৩২।

[16]. ইবনুল জাউজী, ইলাল আল-মুতানাহিয়া, ১/৪৩১।

[17]. উছূলে শাশী, পৃঃ ১৭- ১৮।

[18]. মুবারকপুরী, তাহক্বীকুল কালাম, পৃঃ ৪৩২- ৪৩৬; আরো দেখুন: মুবারকপুরী, আবকারুল মিনান।

Magazine