কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩২) : শিরক-বিদ‘আত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও যেসব সমাজ প্রধানগণ উক্ত কাজে বাধা না দিয়ে বরং প্ররোচিত করে ক্বিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি কী হবে?

উত্তর : সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজের বাধা প্রদান করা সামর্থ্য অনুপাতে প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে আবির্ভূত করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে’ (আলে ইমরান, ১১০)। সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করার ব্যাপারে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, আবুবকর ইবনু আবু শায়বা ও মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না রাযিয়াল্লাহু আনহুমা তারিক ইবনু শিহাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঈদের ছালাতের পূর্বে মারওয়ান ইবনু হাকাম সর্বপ্রথম খুতবা প্রদান আরম্ভ করেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, খুতবার আগে হবে ছালাত। মারওয়ান বললেন, এ নিয়ম রহিত করা হয়েছে। এতে আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ ব্যক্তি তো কর্তব্য পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখে, তাহলে সে যেন হাত দ্বারা এর সংশোধন করে দেয়। যদি এর ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখের দ্বারা, যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা (উক্ত কাজকে ঘৃণা করবে), আর এটাই ঈমানের নিম্নতম স্তর’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭০; আবুদাঊদ, হা/৯৬৩)। সুতরাং মন্দকাজে বাধা প্রদান করা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরয। পক্ষান্তরে যারা মন্দ কাজ দেখে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা হতে বাধা প্রদান করে না তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা যে অন্যায় কাজ করেছিল তা হতে একে অপরকে নিষেধ করত না; বাস্তবিকই তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত গর্হিত, নিকৃষ্ট’ (মায়েদা, ৭৯)। যুগে যুগে যারা সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধকে পরিহার করেছিল আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বিভিন্নভাবে দুনিয়াতে শাস্তি দিয়েছেন। সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ যতদিন পৃথিবীতে থাকবে ততদিন মানুষ সত্য ও আলোর পথে থাকবে। আর যদি তা না থাকে তাহলে মানুষ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। যেমনটি জাহেলী যুগে হয়েছিল। যারা শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ পরিহার করে চলবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি দিবেন। তবে তাদেরকে কী শাস্তি দেয়া হবে সে ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না।

-আবু তাহের বিন বানি ইসরাঈল

মহাদেবপুর, নওগাঁ।


Magazine