কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৯) : আহলেহাদীছ ও আহলেকিতাব-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর : আহলেহাদীছ ও আহলেকিতাব-এর মধ্যকার কতিপয় পার্থক্য নিমণরূপ : (১) আহলেহাদীছগণ মুসলিম পক্ষান্তরে আহলেকিতাবগণ কাফের। মহান আল্লাহ বলেন, আহলেকিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা ও মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম (বায়্যেনাহ, ৬)। (২) আহলেহাদীছগণ শেষ নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশ্বাস করেন, পক্ষান্তরে আহলেকিতাবগণ তাঁকে শেষ নবী হিসেবে মানে না ও বিশ্বাস করে না। (৩) আহলেহাদীছগণ কুরআনকে আল্লাহর বাণী হিসাবে মানেন ও তদনুযায়ী আমল করেন। পক্ষান্তরে আহলেকিতাবরা আল্লাহর বাণী কুরআনকে অস্বীকার করে। (৪) আহলেহাদীছগণের আক্বীদা হল, সমস্ত নবী ও রাসূল ছিলেন নিষ্পাপ। আর এজন্যই তাঁদের আনীত শরী‘আতের বিধি-বিধানসমূহের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমু‘আ ফাতাওয়া, ১০/২৮৯-৯৩ পৃঃ)। পক্ষান্তরে আহলে কিতাবগণ নবীগণের নিষ্পাপত্বের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে। যেমন ইয়াহূদীরা নবীদের উপর জঘন্য অপবাদসমূহ আরোপ করেছে। পক্ষান্তরে খ্রীস্টানরা নবীদের মাঝে একমাত্র ঈসা মসীহ আলাইহিস সালাম-কেই নিষ্পাপ মনে করে। তাদের মতে, আদম আলাইহিস সালাম-এর পাপের কারণে পাপিষ্ঠ মানবজাতিকে ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর আত্মদানের মাধ্যমে পাপমুক্ত করে গেছেন। এই অন্যায় আক্বীদার জন্য আল্লাহ রাববুল আলামীন তাদের উপর লা‘নত করেছেন (নিসা, ১৫৫-১৫৭; মায়েদাহ, ৭০,৭৮-৮১; তওবাহ, ৩০-৩১)।

-আব্দুল্লাহ

কল্যানপুর, ঢাকা।


Magazine