উত্তর: হিন্দুদের পূজামণ্ডপে গমন, তাদেরকে অভিবাদন জানানো, তাদের পূজায় তৈরিকৃত খাদ্য গ্রহণ করা ও পূজা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম শিরকের অন্তর্ভুক্ত। যারা এগুলো করে তারা শিরকী কাজে অংশগ্রহণ করে। কেননা ধর্মীয় বিষয়ে আপস বা মিশ্রণ নেই। ছাবিত ইবনু দাহহাক রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি মানত করে যে, সে বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট যবেহ করবে। সে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমি বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার মানত করেছি। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘সেখানে কি জাহেলী যুগের কোনো মূর্তি রয়েছে?’ লোকেরা বলল, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘সেখানে কি তাদের কোনো মেলা বসত?’ লোকেরা বলল, না। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাহলে তোমার মানত পূর্ণ করতে পার’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৩১৩)। হাদীছে এসেছে, আগের যুগে দুজন মুসলিম একটি মূর্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তখন সেখানকার খাদেমরা বলল, তোমরা একটা মাছি হলেও এখানে দান করে যাও। প্রথমজন দিল এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো; কিন্তু দ্বিতীয়জন বলল, আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে দান করব না, তখন তাকে তারা হত্যা করল এবং লোকটি জান্নাতী হলো’ (ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৩০৩৮; শুআবুল ঈমান, হা/৭৩৪৩)। তবে এসব কারণে কেউ দ্বীন থেকে বের হয়ে তথা মুরতাদ হয়ে যায় না। মুরতাদ হওয়ার জন্য মৌখিক অস্বীকার করা জরুরী, যেমন- সরাসরি মূর্তির পূজা করা, ইসলামকে অস্বীকার করা ইত্যাদি। সুতরাং উক্ত ব্যক্তির পিছনে ছালাত আদায় করা যায়। তবে সবসময় তাক্বওয়াবান ব্যক্তিকে ইমাম নিযুক্ত করা উচিত। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তারা তোমাদের ইমামতি করবে; যদি তারা ঠিক করে, তাহলে তোমাদের ও তাদের জন্য ছওয়াব; আর যদি ভুল করে, তাহলে তোমাদের জন্য ছওয়াব, তাদের উপর দায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৪)।
প্রশ্নকারী : কবিরুল ফরাজী
