কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

ইসলামে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

post title will place here

পৃথিবীর বুকে আল্লাহপ্রদত্ত নেয়ামতের মধ্যে বৃক্ষ অন্যতম। কেননা বৃক্ষ থেকে মানুষ ও প্রাণী খাদ্য হিসেবে ফলমূল লাভ করে। অনুরূপভাবে রৌদ্রের তীব্রতার সময় গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পারে। এমনকি বিভিন্ন প্রকার বৃক্ষের মাধ্যমেই মহান প্রতিপালক এ বিশ্বকে সবুজে সুশোভিত করে গড়ে তুলেছেন। পরিবেশকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সতেজ রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ইসলাম বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় বিশেষভাবে উৎসাহ ও গুরুত্বারোপ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, বৃক্ষ ছাড়া আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ কল্পনাই করা যায় না। পৃথিবীর মূল সম্পদ হলো ভূমি, পানি ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য। পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির প্রায় ২৫ শতাংশই বৃক্ষ।

আল্লাহ তাআলা প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের সুস্থ, সুন্দর ও বাসোপযোগী করে অত্যন্ত ভারসাম্যের সঙ্গে সৃষ্টি করেছেন। তাই আমরা দেখি, প্রচণ্ড শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতে যেখানে বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে মাঠ-ঘাট, নদী-নালা সর্বত্র বরফে আচ্ছাদিত থাকে, সেখানেও প্রাকৃতিক উদ্ভিদকুল সবুজের সমারোহে বিকশিত হয়। এমনকি বরফাচ্ছাদিত জলাশয়ের মৎস্যকুলও স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার মাধ্যমে স্রষ্টার অপার মহিমার পরিচয় বহন করে।

মানুষ ও প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তাআলা উদ্ভিদ ও গাছপালা সৃষ্টি করেছেন। আবার উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন পানি ও বায়ু। অন্যদিকে পাহাড়-পর্বত প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর মানুষকে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দিকনির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন,اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ كَيْفَ يَشَاءُ وَيَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ فَإِذَا أَصَابَ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তা স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়’ (আর-রূম, ৩০/৪৮)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন,يُنْبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ‘এ পানির সাহায্যে তিনি শস্য উৎপন্ন করেন এবং যায়তূন, খেজুর, আঙুর ও আরও নানাবিধ ফল জন্মান। যারা চিন্তা-ভাবনা করে তাদের জন্য এর মধ্যে রয়েছে একটি বড় নিদর্শন’ (আন-নাহল, ১৬/১১)

গাছবিহীন পৃথিবী এক মুহূর্তের জন্যও কল্পনা করা যায় না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, বাণিজ্য—মানুষের যাপিত জীবনের প্রায় সবকিছুই গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গাছ নিধন হলে শুধু একটি বৃক্ষই ধ্বংস হয় না; বরং মানুষসহ সমগ্র প্রাণিকুলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে। একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষ বছরে যে পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে, তা কমপক্ষে ১০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে সক্ষম।

এ কারণেই ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। মানবজীবনের উপকরণ হিসেবে সবুজ-শ্যামল গাছপালা ও বিভিন্ন প্রকার ফলদ বৃক্ষের গুরুত্ব প্রসঙ্গে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আনাস ইবনু মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‏مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا، أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا، فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ، إِلاَّ كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ ‘যে কোনো মুসলিম ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায় আর তা হতে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায়, তবে তা তার পক্ষ হতে ছাদাক্বা বলে গণ্য হবে’।[1] অন্য হাদীছে এসেছে, আনাস ইবনু মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنْ قَامَتِ السَّاعَةُ وَفِي يَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا تَقُومَ حَتَّى يَغْرِسَهَا فَلْيَغْرِسْهَا ‘যদি ক্বিয়ামত এসে যায় এবং তখন তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে ক্বিয়ামত হওয়ার আগেই তার পক্ষে সম্ভব হলে যেন চারাটি রোপন করে’।[2]

বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় শুধু পরিবেশই রক্ষা হয় না, বরং এ কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে অনেক ছওয়াবও অর্জন করা যায়। মহান আল্লাহর সৃষ্টি বৃক্ষরাজি যে কত বড় নেয়ামত, কুরআনের একাধিক আয়াত থেকে তার প্রমাণ প্রতীয়মান হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَسُوقُ الْمَاءَ إِلَى الْأَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهِ زَرْعًا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَامُهُمْ وَأَنْفُسُهُمْ أَفَلَا يُبْصِرُونَ ‘তারা কি লক্ষ করে না যে, আমি অনুর্বর ভূমিতে পানি প্রবাহিত করি, অতঃপর তা দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, যা থেকে তাদের গবাদিপশু এবং তারা নিজেরাও আহার গ্রহণ করে?’ (আস-সাজদাহ, ৪৩/২৭)

মরুময় আরবে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন। তথাপি তাঁর বহু বাণী রয়েছে কৃষিকাজের গুরুত্বের উপর। এ হাদীছটি আরও স্পষ্ট করে অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃক্ষরোপণ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন’।[3]

তাছাড়া রিযিকের উৎসমূল হলো গাছ। গাছ থেকে উৎপাদিত ফল-ফসল খেয়ে প্রাণীকুল জীবন ধারণ করে। আল্লাহ বলেন,وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَسْكَنَّاهُ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّا عَلَى ذَهَابٍ بِهِ لَقَادِرُونَ - فَأَنْشَأْنَا لَكُمْ بِهِ جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ لَكُمْ فِيهَا فَوَاكِهُ كَثِيرَةٌ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ - وَشَجَرَةً تَخْرُجُ مِنْ طُورِ سَيْنَاءَ تَنْبُتُ بِالدُّهْنِ وَصِبْغٍ لِلْآكِلِينَ ‘আর আমি আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি পরিমাণমত। অতঃপর তা যমীনে সংরক্ষণ করি। আর আমরা ওটাকে সরিয়ে নিতেও সক্ষম। অতঃপর আমরা তা দিয়ে তোমাদের খেজুর ও আঙুরের বাগান সৃষ্টি করি। তোমাদের জন্য সেখানে থাকে প্রচুর ফল-ফলাদি এবং তোমরা তা থেকে ভক্ষণ করে থাক। আর আমরা সৃষ্টি করেছি (যায়তূন) বৃক্ষ, যা সিনাই পর্বতে জন্মায়। যা থেকে উৎপন্ন হয় তৈল এবং ভক্ষণকারীদের জন্য রুচিকর খাদ্য’ (আল-মুমিনূন, ২৩/১৮-২০)

রোপিত বৃক্ষের ফল চুরি হয়ে গেলেও তা ছাদাক্বা হিসেবে গণ্য হবে। কারো গাছের ফল অন্য কেউ না বলে খেলেও ছাদাক্বা হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلاَّ كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةً وَلاَ يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلاَّ كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ ‘কোনো মুসলিম যদি বৃক্ষরোপণ করে, অতঃপর তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয়, তা তার জন্য ছাদাক্বাস্বরূপ; যা কিছু চুরি হয়ে যায়, তা ছাদাক্বা; হিংস্র পশু যা খেয়ে নেয়, তা ছাদাক্বা; সেখান থেকে পাখি যা খায়, তা ছাদাক্বা এবং কেউ ক্ষতি সাধন করলে সেটাও তার জন্য ছাদাক্বা হিসেবে গণ্য হয়’।[4]

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ছাদাক্বার নেকী অর্জিত হয়। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَجُلاً مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْساً بِدِمَشْقَ فَقَالَ لَهُ أَتَفْعَلُ هَذَا وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لاَ تَعْجَلْ عَلَىَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ غَرَسَ غَرْساً لَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ آدَمِىٌّ وَلاَ خَلْقٌ مِّنْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ كَانَ لَهُ صَدَقَةً.

আবুদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা তিনি দামেশকে বৃক্ষরোপণ করছিলেন। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলল, আপনি এ কাজ করছেন, অথচ আপনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাহাবী? তখন তিনি বললেন, আপনি ব্যতিব্যস্ত হবেন না। আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন বৃক্ষরোপণ করল, যা থেকে কোনো মানুষ বা আল্লাহর কোনো সৃষ্টিজীব ভক্ষণ করল, তাতে তার জন্য ছাদাক্বা রয়েছে’।[5]

বৃক্ষরোপণকে ‘ছাদাক্বায়ে জারিয়া’ বা প্রবহমান দান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,سَبْعَةٌ يَّجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ وَهُوَ فِي قَبْرِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ، مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا أَوْ كَرَى نَهَرًا أَوْ حَفَرَ بِئْرًا أَوْ غَرَسَ نَخْلاً أَوْ بَنَى مَسْجِدًا أَوْ وَرَّثَ مُصْحَفًا أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ ‘মানুষের মৃত্যুর পর তার কবরে সাতটি নেক আমলের ছওয়াব জারি থাকে— (১) যে ব্যক্তি (উপকারী) ইলম শিক্ষা দিল বা (২) খাল-নালা প্রবাহিত করল অথবা (৩) কূপ খনন করল বা (৪) ফলবান বৃক্ষরোপণ করল অথবা (৫) মসজিদ নির্মাণ করল বা (৬) কুরআনের উত্তরাধিকারী বানাল অথবা (৭) এমন সুসন্তান রেখে গেল, যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে’।[6]

অপর এক হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা উম্মু মা‘বাদের বাগানে প্রবেশ করেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে উম্মু মা‘বাদ! এ গাছ কে রোপণ করেছে? কোনো মুসলিম, না কাফের?’ সে বলল, মুসলিম রোপণ করেছে। তখন তিনি বললেন,فَلاَ يَغْرِسُ الْمُسْلِمُ غَرْسًا فَيَأْكُلَ مِنْهُ إِنْسَانٌ وَلاَ دَابَّةٌ وَلاَ طَيْرٌ إِلاَّ كَانَ لَهُ صَدَقَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‘কোনো মুসলিম যদি বৃক্ষরোপণ করে আর তা থেকে মানুষ কিংবা চতুষ্পদ প্রাণী অথবা পাখি কিছু ভক্ষণ করে, তবে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার জন্য তা ছাদাক্বাস্বরূপ থাকবে’।[7]

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করাকে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করেছেন। যেমন তিনি বলেন,مَنْ قَطَعَ سِدْرَةً صَوَّبَ اللهُ رَأْسَهُ فِي النَّارِ ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে কুল বৃক্ষ কর্তন করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’।[8] আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বৃক্ষ কর্তনের ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেমন তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবী সুফিয়ানকে শামে প্রেরণের সময় বিনা প্রয়োজনে কোনো ফলবান বৃক্ষ কর্তন করতে নিষেধ করেছিলেন। হাদীছে এসেছে, نَهَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَزِيدَ أَنْ يَّقْطَعَ شَجَرًا مُّثْمِرًا আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু ইয়াযীদকে কোনো ফলবান বৃক্ষ কাটতে নিষেধ করেছেন।[9] যারা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করবে, তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হবে। আল্লাহ বলেন,وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ وَاللهُ لاَ يُحِبُّ الْفَسَادَ ‘যখন সে ফিরে যায় (অথবা নেতৃত্বে আসীন হয়), তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্য ও প্রাণী বিনাশের চেষ্টা করে। অথচ আল্লাহ অশান্তি পছন্দ করেন না’ (আল-বাকারা, ২/২০৫)

সুতরাং আমরা যেন পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণী ধ্বংসের পাঁয়তারা করে আল্লাহর ক্রোধের শিকার না হই। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন- আমীন!

মহিউদ্দিন বিন জুবায়েদ

মুহিমনগর, চৈতনখিলা, শেরপুর।


[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩২০।

[2]. আদাবুল মুফরাদ, হা/৪৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯৩৩, ১৩০১২, হাদীছটি গ্রহণযোগ্য।

[3]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৫৬৭।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৫২।

[5]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৫৪৬; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪০০।

[6]. বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান, হা/৩১৭৫; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৭৩।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৫২; আহমাদ, হা/১৩০২২।

[8]. আবূ দাঊদ, হা/৫২৩৯; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৬১৪; মিশকাত, হা/২৯৭০।

[9]. বায়হাক্বী, হা/১৮৬১৬; তিরমিযী, হা/১৫৫২, সনদ ছহীহ।

Magazine