কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা বনাম হানাফীদের আক্বীদা (পর্ব-৩)

কুরআন-হাদীছ গ্রহণ ও এপথের দাওয়াতই ছিল চার ইমামের একমাত্র লক্ষ্য: পুরো ইসলাম জুড়েই আছে কুরআন-হাদীছ মেনে চলার জোর তাকীদ। মহান আল্লাহ বলেন, يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ্র এবং আনুগত্য কর রাসূলের ও তোমাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়দের’ (আন-নিসা, ৪/৫৯)। মুসলিম উম্মাহ যেন কখনই পথভ্রষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে শুধুমাত্র দু’টি জিনিস দিয়ে গেছেন; তৃতীয় কিছু নয়। এ দু’টি জিনিস কেউ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে কস্মিনকালেও সে পথভ্রষ্ট হবে না, হতে পারে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ ‘আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস ছেড়ে গেলাম; এতদুভয়কে তোমরা যতক্ষণ আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ কখনই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। সে দু’টি জিনিস হচ্ছে: আল্লাহ্রি কিতাব (কুরআন) এবং তার নবীর সুন্নাত (হাদীছ)’।[1]

এরই ধারাবাহিকতায় আক্বীদা ও আমল সবক্ষেত্রেই ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহসহ বিখ্যাত চার ইমাম সর্বোপরি কুরআন-হাদীছকেই প্রাধান্য দিতেন। সবকিছুর উপরে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে প্রাধান্য দেয়াই ছিলো তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সেজন্যই তো তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে পবিত্র কুরআন ও হাদীছ গবেষণা করেছেন সারাটি জীবন। কুরআন-হাদীছ চষে উম্মতকে তদনুযায়ী নির্দেশনা দিয়ে গেছেন আমরণ। শুধু চার ইমাম নন, বরং অতীত ও বর্তমানের সকল সালাফী বিদ্বানের একমাত্র চূড়ান্ত লক্ষ্যও ছিল তাই। কেনইবা নয়, তাদের যোগ্য পূর্বসূরী ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আতবাউত তাবেঈনও তো এ নীতিরই ধারক-বাহক ছিলেন।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ بِهِ إِلَّا عَمِلْتُ بِهِ، فَإِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার উপর আমল করেছেন, তার সামান্যতম অংশও আমি ছাড়বো না। তিনি যার উপরই আমল করেছেন, আমিও তার উপর আমল করেছি। কারণ তাঁর কোন নির্দেশনা ছেড়ে দিলে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করি’।[2]

ইবনু বাত্ত্বাহ রাহিমাহুল্লাহ একথার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,هَذَا يَا إِخْوَانِي الصِّدِّيقُ الْأَكْبَرُ يَتَخَوَّفُ عَلَى نَفْسِهِ الزَّيْغَ إِنْ هُوَ خَالَفَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَاذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ مِنْ زَمَانٍ أَضْحَى أَهْلُهُ يَسْتَهْزِئُونَ بِنَبِيِّهِمْ وَبِأَوَامِرِهِ، وَيَتَبَاهَوْنَ بِمُخَالَفَتِهِ، وَيَسْخَرُونَ بِسُنَّتِهِ؟ نَسْأَلُ اللَّهَ عِصْمَةً مِنَ الزَّلَلِ وَنَجَاةً مِنْ سُوءِ الْعَمَلِ ‘হে আমার ভাইয়েরা! সবচেয়ে বড় এই সত্যবাদী রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন নির্দেশনার বিরোধিতা করলে নিজের ভ্রষ্টতার ভয় পাচ্ছেন। তাহলে সেই যামানার লোকদের কী অবস্থা হতে পারে, যারা তাদের নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে বা তার কোন নির্দেশনা নিয়ে ঠাট্টা করে, তাঁর বিরোধিতা করে গর্ববোধ করে এবং তার সুন্নাতকে নিয়ে বিদ্রম্নপ করে। আমরা আল্লাহ্র কাছে ভ্রষ্টতা ও মন্দ আমল থেকে নিষ্কৃতি চাই’।[3]

আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর একজন কাছের মানুষ ছোট ছোট পাথর ছুড়তে থাকলে তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা শিকারও করতে পারে না, শক্রকে পরাভূতও করতে পারে; বরং এটা দাঁত ভাঙ্গে আর চোখে আঘাত করে। সাঈদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, লোকটি যখন পুনরায় একাজ করল, তখন তিনি বললেন, أُحَدِّثُكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهُ، ثُمَّ تَخْذِفُ، لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا আমি তোমাকে হাদীছ শুনাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করেছেন, তারপরও তুমি কঙ্কর নিক্ষেপ করছো? তোমার সঙ্গে আমি কখনই কথা বলবো না।[4]

আবু মূসা আশ‘আরী রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে গিয়ে মাসআলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর; দেখবে, তিনিও আমার পক্ষ সমর্থন করবেন। ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, لَقَدْ ضَلِلْتُ إذًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُهْتَدِيْنَ أَقْضِيْ فِيْهَا بِمَا قَضَى النَّبِيُّ ﷺ ‘তার পক্ষ সমর্থন করলে তো আমি বিপথগামী হয়ে যাব। আমি হেদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে গণ্য হব না। তবে আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়ছালা অনুযায়ী ফায়ছালা দিতে চাই’।[5]

ইসলামের পঞ্চম খলীফা হিসাবে খ্যাত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ মানুষের কাছে এ নির্দেশনা লিখে পাঠান যে, لَا رَأْيَ لِأَحَدٍ مَعَ سُنَّةٍ سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের বিপরীতে কারো কোন মত চলবে না’।[6]

বিখ্যাত তাবেঈ ইবনু আবী যি’ব রাহিমাহুল্লাহ নিহত ব্যক্তির অধিকার সম্পর্কিত একটি হাদীছ বর্ণনা করলে হাদীছটির একজন রাবী আবু হানীফা ইবনু সিমাক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, أَتَأْخُذُ بِهَذَا يَا أَبَا الْحَارِثِ؟ فَضَرَبَ صَدْرِيْ، وَصَاحَ عَلَيَّ صِيَاحاً كَثِيْراً، وَنَالَ مِنِّيْ، وَقَالَ: أُحِدِّثُكَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ، وَتَقُوْلُ تَأْخُذُ بِهِ؟! نَعْم آخُذُ بِهِ. وَذَلِكَ الْفَرْضُ عَلَيَّ، وَعَلَى مَنْ سَمِعَهُ، إِنَّ اللهَ اخْتَارَ مُحَمَّداً مِنَ النَّاسِ، فَهَدَاهُمْ بِهِ، وَعَلَى يَدَيْهِ، وَاخْتَارَ لَهُمْ مَا اخْتَارَ لَهُ، وَعَلَى لِسَانِهِ، فَعَلَى الْخَلْقِ أَنْ يَّتَّبِعُوْهُ طَائِعِيْنَ أَوْ دَاخِرِيْنَ، لَا مَخْرَجَ لِمُسْلِمٍ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: وَمَا سَكَتَ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ يَسْكُتَ. আমি তাকে বললাম, হে আবুল হারেছ! আপনি কি এটা গ্রহণ করেন? এতে তিনি আমার বুকে আঘাত করে অনেক চিৎকার করে উঠেন এবং আমাকে কথা দ্বারা আঘাত করে বলেন, আমি তোমাকে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীছ শুনাচ্ছি আর তুমি বলছো, আপনি কি এটা গ্রহণ করেন?! জী, আমি তা গ্রহণ করি এবং এটা ফরয আমার উপর ও যে তা শুনবে তার উপর। আল্লাহ মানুষদের মধ্য থেকে মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চয়ন করেছেন। অতঃপর তাঁর দ্বারা তাদেরকে হেদায়াত করেছেন এবং তাদের জন্য তা-ই চয়ন করেছেন, যা তাঁর জন্য ও তাঁর যবানীতে চয়ন করেছেন। অতএব, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সবাইকে তাঁর অনুসরণ করতেই হবে। কোন মুসলিমের এ থেকে বের হওয়ার পথ নেই। আবু হানীফা ইবনু সিমাক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি চুপ হলেন না, অথচ আমি তার চুপ হওয়ার আশা করছিলাম।[7]

সম্মানিত পাঠক! প্রসিদ্ধ ইমাম চতুষ্টয়ও ঠিক এপথেই হেঁটেছিলেন। চলুন, এক পাক ঘুরে আসি কুরআন-হাদীছ মেনে চলার ব্যাপারে তাদের ভূমিকার জগত থেকে।

(ক) ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ :

১. ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إِذَا صَحَّ الْحَدِيْثُ فَهُوَ مَذْهَبِيْ ‘যখন কোন হাদীছ ছহীহ প্রমাণিত হবে, তখন (জেনো যে,) সেটাই আমার মাযহাব’।[8] প্রখ্যাত হানাফী বিদ্বান ইবনু আবেদীন রাহিমাহুল্লাহ উক্ত চিরন্তন বাণীটি উল্লেখ করার পূর্বে আল্লামা বীরী রাহিমাহুল্লাহ-এর একটি চমৎকার উক্তি উল্লেখ করেছেন। তা হচ্ছে এই,

إذَا صَحَّ الْحَدِيْثُ وَكَانَ عَلَى خِلَافِ الْمَذْهَبِ عُمِلَ بِالْحَدِيثِ وَيَكُوْنُ ذَلِكَ مَذْهَبَهُ وَلَا يَخْرُجُ مُقَلِّدُهُ عَنْ كَوْنِهِ حَنَفِيًّا بِالْعَمَلِ بِهِ فَقَدْ صَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ إذَا صَحَّ الْحَدِيثُ فَهُوَ مَذْهَبِي وَقَدْ حَكَى ذَلِكَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ عَنْ أَبِيْ حَنِيْفَةَ وَغَيْرِهِ مِنْ الْأَئِمَّةِ.

‘হাদীছ যদি ছহীহ হয় এবং তা মাযহাবের বিরোধী হয়, তাহলে হাদীছের উপর আমল করতে হবে। আর এটিই হবে তার মাযহাব এবং হাদীছের উপর আমল করার কারণে সে হানাফী মাযহাব থেকে বের হয়ে যাবে না। কেননা আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন কোন হাদীছ ছহীহ প্রমাণিত হবে, তখন (জেনো যে,) সেটাই আমার মাযহাব। ইবনু আব্দিল বার রাহিমাহুল্লাহ ইমাম আনু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ সহ অন্যান্য ইমামের কাছ থেকে এ বক্তব্যটি পেশ করেছেন।[9]

২. ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُفْتِيَ بِقَوْلِنَا مَا لَمْ يَعْلَمْ مِنْ أَيْنَ قُلْنَا ‘কারো জন্য বৈধ নয় যে, সে আমাদের বক্তব্য দ্বারা ফৎওয়া দিবে, অথচ জানবে না যে, কোথা থেকে আমরা তা বলেছি’।[10] অন্য বর্ণনায় এসেছে, لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلِنَا مَا لَمْ يَعْلَمْ مِنْ أَيْنَ أَخَذْنَاهُ ‘কারো জন্য বৈধ নয় যে, সে আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করবে, অথচ জানবে না যে, কোথা থেকে আমরা তা গ্রহণ করেছি’।[11] অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায়, حَرَامٌ عَلٰى مَنْ لَمْ يَعْرِفْ دَلِيْلِيْ أَنْ يُفْتِيَ بِكَلَامِيْ ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল সম্পর্কে জানে না, তার জন্য আমার বক্তব্য দিয়ে দলীল পেশ করা হারাম’।[12]

৩. তিনি তার জগদ্বিখ্যাত ছাত্র আবু ইউসুফ রাহিমাহুল্লাহ-কে লক্ষ্য করে বলেন, وَيْحَكَ يَا يَعْقُوْبَ لَا تَكْتُبْ كُلَّ مَا تَسْمَعُ مِنِّيْ فَإِنِّيْ قَدْ أَرٰى الرَّأْيَ الْيَوْمَ وَأَتْرُكُهُ غَدًا وَأَرٰى الرَّأْيَ غَدًا وَأَتْرُكُهُ بَعْدَ غَدٍ ‘আবু ইয়া‘কূব! তোমার জন্য আফসোস! আমার কাছ থেকে যা শুনো, তার সবটাই লিখো না। কারণ আজ আমি কোন একটি মত ব্যক্ত করি, কিন্তু আগামীকাল তা বর্জন করি। অনুরূপ আগামীকাল কোন একটি মত ব্যক্ত করি, কিন্তু পরশু তা বর্জন করি’।[13]

৪. ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, إِذَا قُلْتُ قَوْلًا يُخَالِفُ كِتَابَ اللهِ وَخَبْرَ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاتْرُكُوْا قَوْلِيْ ‘যখন আমি এমন কোন কথা বলি, যা আল্লাহর কিতাব ও রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছের বিরুদ্ধে যায়, তখন তোমরা আমার কথা বর্জন করিও’।[14]

(খ) ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ :

১. ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أُخْطِئُ وَأُصِيْبُ فَانْظُرُوْا فِيْ رَأْيِيْ فَكُلُّ مَا وَافَقَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ فَخُذُوْا بِهِ وَمَا لَمْ يُوَافِقْ السُّنَّةَ مِنْ ذَلِكَ فَاتْرُكُوْهُ. ‘আমি একজন মানুষ মাত্র। আমি ভুলও করি, আবার সঠিক কথাও বলি। অতএব, তোমরা আমার অভিমতের প্রতি লক্ষ্য কর। যেগুলো কিতাব ও সুন্নাতের সাথে মিলে যাবে, সেগুলো গ্রহণ কর। আর যেগুলো মিলবে না, সেগুলো পরিত্যাগ কর’।[15]

২. তিনি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের দিকে ইশারা করে বলেন,لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ إِلَّا صَاحِبَ هَذَا الْقَبْرِ وَأَشَارَ إِلَى قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ‘এই কবরবাসী ব্যতীত প্রত্যেকের কথারই কিছু গ্রহণীয় এবং কিছু বর্জনীয়’।[16]

৩. ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, السُّنَّةُ سَفِينَةُ نُوحٍ مَنْ رَكِبَهَا نَجَا وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا غَرِقَ ‘সুন্নাত হচ্ছে নূহ আলাইহিস সালাম-এর কিশতি। যে এতে আরোহণ করবে, সে নাজাত পাবে। আর যে পশ্চাদ্গমন করবে, সে ডুবে যাবে’।[17]

(গ) ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ :

১. ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إِذَا وَجَدْتُم فِيْ كِتَابِيْ خِلاَفَ سُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقُوْلُوْا بِسُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَدَعُوْا مَا قُلْتُ. ‘আমার কিতাবে যদি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত বিরোধী কোন বক্তব্য পাও, তাহলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের কথাই বলো এবং আমার বক্তব্য ছেড়ে দাও’।[18]

২. তিনি আরো বলেন, مَا مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَتَذْهَبُ عَلَيْهِ سُنَّةٌ لِّرَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَتَعْزُبُ عَنْهُ فَمَهْمَا قُلْتُ مِنْ قَوْلٍ أَوْ أَصَّلْتُ مِنْ أَصْلٍ فِيْهِ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ خِلَافُ مَا قُلْتُ فَالْقَوْلُ مَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَهُوَ قَوْلِيْ ‘প্রত্যেক ব্যক্তি থেকেই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সুন্নাত গোপন থাকবেই এবং ছাড়া পড়বেই। অতএব, আমি যত কথাই বলেছি বা যত মূলনীতিই প্রণয়ন করেছি, তাতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য পাওয়া গেলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্যই চূড়ান্ত এবং সেটি আমারও বক্তব্য’।[19]

৩. তিনি আরো বলেন, كُلُّ مَسْأَلَةٍ تَكَلَّمْتُ فِيهَا صَحَّ الْخَبَرُ فِيهَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ أَهْلِ النَّقْلِ بِخَلَافِ مَا قُلْتُ فَأَنَا رَاجِعٌ عَنْهَا فِي حَيَاتِي وَبَعْدَ مَوْتِي ‘যে মাসআলাতেই আমি কথা বলেছি, তাতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার কথার বিরুদ্ধে হাদীছ বিশারদগণের নিকট বিশুদ্ধরূপে কোন হাদীছ পাওয়া গেলে আমি আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে তা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম’।[20]

৪. তিনি আরো বলেন, أَجْمَعَ الْمُسْلِمُوْنَ عَلىَ أَنْ مَنِ اسْتِبَانَ لَهُ سُنَّةٌ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ لَمْ يَحِلِّ لَهُ أَنْ يَدَعْهَا لِقَوْلِ أَحَدٍ. ‘সকল মুসলিমের এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে যে, যার কাছে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত স্পষ্ট হলো, অন্য কারো কথায় তার জন্য তা বর্জন করা বৈধ নয়’।[21]

৫. একদা এক ব্যক্তি ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহ-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি একটি হাদীছ পেশ করে তার জবাব দেন। এরপর লোকটি বলেন, আপনিও কি এ মতের পক্ষে বলছেন? জবাবে তিনি রেগে গিয়ে বলেন,

أَرَأَيْتَ فِيْ وَسَطِيْ زُنَّارًا؟ أَتَرَانِيْ خَرَجْتُ مِنْ الْكَنِيْسَةِ؟ أَقُوْلُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ وَتَقُوْلُ لِيْ أَتَقُوْلُ بِهَذَا؟ رُوِيَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ وَلَا أَقُوْلُ بِهِ؟

‘তুমি কি আমাকে গলায় ব্যান্ড বাঁধতে দেখেছো? তুমি কী আমাকে গীর্জা থেকে বের হতে দেখেছো? আমি বলছি, ‘নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’, অথচ তুমি আমাকে বলছো, আপনার মত কী?! নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারপরেও কী আমি তা বলব না?![22]

(ঙ) ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ :

১. ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, لَا تُقَلِّدْنِيْ وَلَا تُقَلِّدْ مَالِكًا وَلَا الثَّوْرِيَّ وَلَا الْأَوْزَاعِيَّ وَخُذْ مِنْ حَيْثُ أَخَذُوْا ‘তুমি আমার তাক্বলীদ কর না। মালেকের তাক্বলীদ কর না। অনুরূপভাবে ছাওরী এবং আওযাঈর তাক্বলীদও কর না। বরং তাঁরা যেখান থেকে নিয়েছেন, তুমিও সেখান থেকেই নাও’।[23]

২. তিনি আরো বলেন, رَأْيُ الْأَوْزَاعِيِّ وَرَأْيُ مَالِكٍ وَرَأْيُ سُفْيَانَ كُلُّهُ رَأَيٌ وَهُوَ عِنْدِيْ سَوَاءٌ وَإِنَّمَا الْحُجَّةُ فِي الْآثَارِ ‘আওযাঈ, মালেক, সুফিয়ান প্রমুখের রায় কিন্তু রায়ই। আর সেগুলো আমার কাছে বরাবর। দলীল কেবল হাদীছের মধ্যেই বিদ্যমান’।[24]

৩. তিনি আরো বলেন, مَنْ رَدَّ حَدِيثَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَهُوَ عَلَى شَفَا هَلَكَةٍ ‘যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছ প্রত্যাখ্যান করলো, সে ধ্বংসের কিনারায় উপনীত হলো’।[25]

আল্লাহু আকবার! কী চমৎকার কথা এগুলো! মূলত সকল সালাফে ছালেহীনের বক্তব্য এমনই। সত্যি কথা বলতে কি, এভাবে সকল মুজতাহিদ আলেমের জীবনের ব্রতীই ছিল কুরআন-হাদীছ মেনে চলা; মানুষকে কুরআন-হাদীছের অনুসারী বানানো, অন্য কারো অনুসারী নয়। এরপরও কি মানুষ গোঁড়ামি আর অন্ধভক্তি দেখিয়েই চলবে?

এখানে একটি যরূরী কথা না বললেই নয়; তা হচ্ছে এই যে, ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহসহ কারো প্রতি অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামি দেখানো যাবে না একথা যেমন ঠিক, তেমনি একথাও ঠিক যে, কুরআন-হাদীছ বুঝার ক্ষেত্রে ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আতবাউত তাবেঈন এবং তাদের যোগ্য অনুসারী এসব উলামায়ে কেরামের কথার দাম দিতে হবে। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হচ্ছে, ‘কুরআন ও হাদীছ সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী বুঝা ও মেনে চলা ওয়াজিব’ (وُجُوْبُ اِتِّبَاعِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ عَلٰى فَهْمِ سَلَفِ الْأُمَّةِ)। মহান আল্লাহ বলেন, اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ-صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ‘আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও; তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছো। তাদের পথ নয়, যারা গযবপ্রাপ্ত (ইয়াহূদী) ও পথভ্রষ্ট (খ্রীস্টান)’ (আল-ফাহিতা, ১/৬-৭)। অন্য একটি আয়াতে এসেছে, فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ‘অতএব যদি তারা ঈমান আনে, তোমরা যেরূপে তার প্রতি ঈমান এনেছো, তবে অবশ্যই তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা বিমুখ হয়, তাহলে তারা রয়েছে কেবল বিরোধিতায়’ (আল-বাক্বারাহ, ২/১৩৭)। অপর একটি আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ‘আর যে ব্যক্তি তার নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আর তা কত মন্দ আবাস!’ (আন-নিসা, ৪/১১৫)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্তিপ্রাপ্তদের মুক্তির পথ বাৎলে দিয়েছেন এভাবে, مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِي ‘আজ আমি এবং আমার ছাহাবা যার উপর আছি, তার উপর যে জামা‘আত থাকবে’।[26]

এ জাতীয় আয়াত ও হাদীছ সালাফে ছালেহীনের মত করে কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। সূরা আল-বাক্বারাহ্র ১৩৭ নং আয়াতটিতে আল্লাহ তা‘আলা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর ছাহাবীগণের ঈমানের মত ঈমান আনার সাথে একজন মুমিনের হেদায়াতপ্রাপ্তিকে শর্তযুক্ত করেছেন। আর নিঃসন্দেহে তাদের সেই ঈমান ছিল অহির সঠিক ও সূক্ষ্ম বুঝের ফল। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ‘সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষ, এরপর তৎপরবর্তী যুগের মানুষ, তারপর তৎপরবর্তীযুগের মানুষ’।[27]

ইবনুল ক্বাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একথার দাবী হচ্ছে, কল্যাণের সবক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।[28] ইবনে ওমর ও ইবনে মাসঊদরাযিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ، أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ ‘তোমাদের মধ্যে যে পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, যারা ইতিমধ্যে মারা গেছেন। তারা হচ্ছেন, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাহাবীবর্গ, যারা ছিলেন এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ...’।[29]

ইমাম আউযাঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, اصْبِرْ نَفْسَكَ عَلَى السُّنَّةِ وَقِفْ حَيْثُ وَقَفَ الْقَوْمُ وَقُلْ بِمَا قَالُوا، وَكُفَّ عَمَّا كَفُّوا عَنْهُ وَاسْلُكْ سَبِيلَ سَلَفِكَ الصَّالِحِ ‘সুন্নাতের উপর নিজেকে অবিচল রাখুন, সালাফে ছালেহীন যেখানে থেমেছেন, আপনিও সেখানে থামুন, তারা যা বলেছেন, আপনিও তাই বলুন, তারা যা বলা থেকে বিরত থেকেছেন, আপনিও তা থেকে বিরত থাকুন। আপনি আপনার সালাফে ছালেহীন-এর পথে চলুন’।[30] আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত ‘ইজমা’ পোষণ করেছেন যে, আক্বীদা, আমল, আখলাক্ব সবক্ষেত্রে সালাফে ছালেহীন সর্বোত্তম মানুষ।[31]

অতএব, ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, আতবাউত তাবেঈন এবং তাদের যথাযথ অনুসারীদের মত করেই কুরআন-হাদীছ বুঝতে হবে, মানতে হবে। এর বিকল্প পথে গেলেই ভ্রষ্টতা অনিবার্য হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, দুনিয়াব্যাপী মুসলিম নামধারী প্রায় সবাই আল্লাহ ও তার রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালবাসার এবং কুরআন-হাদীছ মেনে চলার দাবী করে; সবাই জান্নাতে যেতে চায়। কিন্তু কয়জন এই দাবীতে সত্যবাদী? কয়জন যাবে জান্নাতে? কেন এত কম সংখ্যক মানুষ জান্নাতে যাবে? কেন এত বেশী সংখ্যক মানুষ গোমরাহ? এর সোজাসাপ্টা জবাব হচ্ছে, সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-হাদীছ না বুঝা এবং না মানা। এই গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি মেনে না চলার কারণেই বেশীরভাগ মানুষ কুরআন-হাদীছ মানার দাবী করলেও পথভ্রষ্ট। সেকারণে আমরা কোন ব্যক্তি বা দলের প্রতি অন্ধভক্তি, অতিভক্তি ও গোঁড়ামি দেখাবো না ঠিকই, তবে সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ীই কুরআন-হাদীছ বুঝবো ও মানবো। আল্লাহ আমাদেরকে আমরণ তাদের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-হাদীছের উপর অবিচল রাখুন।

ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর আক্বীদা-আমল বুঝতে হলে একথাগুলো বুঝা যারপর নেই গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

 (চলবে)


[1]. মুআত্ত্বা মালেক, হা/৩৩৩৮, ‘হাসান’। 

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৯।

[3]. আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ১/২৪৪-২৪৫, আ/৭৭।

[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৫৪।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৭৩৬।

[6]. আল-মারওয়াযী (মৃত্যু: ২৯৪ হি.), আস-সুন্নাহ, আ/৯৪।

[7]. ইমাম শাফেঈ (মৃত্যু: ২০৪ হি.), আর-রিসালাহ, পৃঃ ৪৫২; ক্বওওয়ামুস সুন্নাহ আল-আছফাহানী (মৃত্যু: ৫৩৫ হি.), আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ, ১/২৬১।

[8]. হাশিয়া ইবনু আবেদীন, ১/৬৮।

[9]. প্রাগুপ্ত, ১/৬৭-৬৮।

[10]. আল-বাহরুর-রায়েক্ব ৬/২৯৩।

[11]. আল-ফুল্লানী (মৃত্যু: ১২১৮হি.), ঈক্বাযু হিমামি ঊলিল আবছার, পৃঃ ৫৩।

[12]. আশ-শা‘রানী (মৃত্যু: ৯৭৩হি.), আল-মীযানুল কুবরা আশ-শা‘রানিয়্যাহ, পৃঃ ৭১।

[13]. আমীর ছান‘আনী (মৃত্যু: ১১৮২হি.), রফউল আসতার লিইবত্বালি আদিল্লাতিল ক্বয়েলীনা বিফানাইন নার, পৃঃ ২৮।

[14]. ঈক্বাযু হিমামি ঊলিল আবছার, পৃঃ ৬৮।

[15]. মাওয়াহেবুল জালীল ফী শারহি মুখতাছারি খালীল, ৩/৪০।

[16]. আবু শামা (মৃত্যু: ৬৬৫হি.), মুখতাছারুল মুআম্মাল ফির রদ্দি আলাল আমরিল আওওয়াল, পৃঃ ৬৫, আ/১৫৭-১৬০।

[17]. আবু ইসমাঈল আল-হারাবী (মৃত্যু: ৪৮১হি.), যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি, ৫/৮১, আ/৮৭২।

[18]. মুখতাছারু খিলাফিয়াতিল বায়হাক্বী, ২/৭০।

[19]. ইবনু আসাকের, তারীখু দিমাশ্ক, ৫১/৩৮৯।

[20]. যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি, ৩/১৭, আ/৩৮৯।

[21]. ঈক্বাযু হিমামি উলিল আবছার, পৃঃ ৫৮।

[22]. ইবনুল ক্বাইয়িম, এ‘লামুল মুওয়াক্কে‘ঈন, ১/৬ ও ২/২০১।

[23]. এ‘লামুল মুওয়াক্কে‘ঈন ২/১৩৯।

[24]. জামে‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী ২/১০৮২।

[25]. ইবনু আবী ইয়া‘লা, ত্ববাকাতুল হানাবেলাহ, ২/১৫।

[26]. মুস্তাদরাক হাকেম, হা/৪৪৪।

[27]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫২।

[28]. এ‘লামুল মুওয়াক্কেঈন, ৪/১০৪।

[29]. হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/৩০৫; জামে‘উ বায়ানিল ইলম, ২/৯৪৭।

[30]. হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/১৪৩।

[31]. মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ, ৪/১৫৭-১৫৮।

Magazine