কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রবের বাণী (পর্ব-৭)

post title will place here

كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

মুনাফেক্ব, ফাসেক্ব ইত্যাদির সাথে চলমান তর্ক-বিতর্কের মধ্যে মহান আল্লাহ কথাকে এমন এক দিকে ঘুরিয়ে দিলেন যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নাই। আস্তিক-নাস্তিক সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, মানুষকে অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্বে আনা হয়েছে। আর মানুষ একদিন মৃত্যুবরণ করবে। আর কীভাবে তোমরা মহান আল্লাহর কথাকে অমান্য করতে পার; অথচ তোমরা জান যে, তোমরা একসময় মাটি ও শুক্রকীটরূপে নির্জীব জড়-বস্তু ছিলে? মহান আল্লাহই মৃত মাটি ও মৃত শুক্রকীট থেকে তোমাদেরকে জীবন্ত অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন আর তিনি তোমাদের আবার মৃত্যু দান করবেন এবং পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন তথা সেই সত্তাই মানুষের জন্ম-মৃত্যুর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক, যিনি প্রথমবার মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনিই মহান আল্লাহ। মানুষের বিজ্ঞান যত উন্নতই হোক, মানুষকে কখনোই চিরঞ্জীব করতে পারবে না তথা মৃত্যুকে কখনোই বিজ্ঞান জয় করতে পারবে না। মানুষের এই অক্ষমতাই মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

তঃপর পুনরায় মহান আল্লাহর নিকট তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে তথা মৃত্যুই শেষ নয়, বরং মৃত্যু মহান আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার মাধ্যম মাত্র। যেহেতু মানুষের প্রথম সৃষ্টি আল্লাহর হাতে, আবার মানুষের মৃত্যুও আল্লাহর হাতে; সেহেতু মানুষকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা কঠিন কিছু নয়। আর তিনি দ্বিতীয়বার মানুষের পুনরুত্থান ঘটাবেন এবং তাঁর নিকট হাশরে একত্রিত করবেন। যেহেতু দুনিয়াতে অনেকেই পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে থাকে, তাই মহান আল্লাহ বলেছেন, ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় কাফের হোক অথবা মুমিন হোক সকলকেই মহান আল্লাহর নিকট ফিরে যেতেই হবে। তাই মানুষের উচিত যার নিকট থেকে সে এসেছে, আবার যার নিকটেই ফিরে যাবে মধ্যবর্তী দুনিয়ার জীবনটাও তাঁর জন্য উৎসর্গ করা।

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

মহান আল্লাহ শুধু মানুষকে সৃষ্টি করার দাবি করে ক্ষান্ত হননি, বরং সমগ্র আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার সবই তিনি সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, এগুলো সবই তিনি মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এই কথায় অনেক শিক্ষা আছে, প্রথমটি হচ্ছে মানুষের সম্মান। কেননা সবই মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তথা সবই মানুষের খেদমতে নিয়োজিত। সবই মানুষের উপকারে আসবে। মাটির নিচের খনিজ থেকে শুরু করে নদী-নালা, মেঘমালা, সূর্য-তারকা সবই মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি মানুষের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি মানুষের জন্য আমানত ও দায়িত্ব। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পৃথিবীর কোনো কিছুরই মালিক মানুষ নয়। মানুষ ব্যবহার করলেও, উপকার নিলেও, সাময়িক সময় নিজ মালিকানায় রাখলেও সবকিছুর চিরস্থায়ী মালিক শুধু মহান আল্লাহ। আর এই জন্যই আল্লাহ যখন যমীনে ভূমিকম্প দেন, ঝড়-বৃষ্টি দেন এগুলো মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানুষ সম্ভাব্য আগাম তথ্য দিতে পারে, এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে যতটুকু সম্ভব নিজেকে বাঁচাতে পারে; কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ আটকাতে পারে না। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ মহান আল্লাহর হাতে থাকার কারণেই মানুষ শূন্য থেকে কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। সে শুধু মহান আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে রূপান্তর ঘটাতে পারে। যেমন আজকের ধানগুলো গত বছরের ধানের চারা থেকে এসেছে, সেগুলো তার আগের বছরের ধান থেকে এসেছে। এভাবে সর্বপ্রথম ধান মানুষ সৃষ্টি করেনি, বরং মহান আল্লাহ করেছেন। মানুষ শুধু নতুন নতুন গবেষণার দিয়ে তার মধ্যে রূপান্তর করছে। অতএব, তোমরা কীভাবে সেই আল্লাহকে অস্বীকার করতে পার, যিনি মীনের কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? যদিও এই পৃথিবীর নেয়ামতরাজিই ঈমান আনয়নের জন্য যথেষ্ট, তবুও তোমাদের জানা উচিত যে, তোমাদের দৃষ্টিগোচর ও ব্যবহার্য এই যমীনের চেয়েও শতগুণ আশ্চর্য এক অদৃশ্য আসমানী জগৎ রয়েছে, যা মহান আল্লাহরই সৃষ্টি। যমীন সৃষ্টির পর তিনি আসমানের দিকে সমুন্নত হয়েছেন এবং আসমানকে সাত স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। আর তিনি আসমান ও যমীনের মধ্যকার সকল কিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।

* ফাযেল, দারুল উলূম দেওবান্দ, ভারত; বিএ (অনার্স), মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব; এমএসসি, ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ইউনিভার্সিটি অফ ডান্ডি, যুক্তরাজ্য।

Magazine