উত্তর: অসুস্থতাসহ যেকোনো মুছীবত আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা নাকি শাস্তি- তা নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থার উপর। ব্যক্তি যদি নেককার হয়, তাহলে মুছীবত তার জন্য শাস্তি নয়; বরং ছবর ও আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্টির বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আর যদি ব্যক্তি ঈমানদার হয় এবং সে কোনো গুনাহ করে ফেলে, তখন তার গুনাহ মোচন করার জন্য আল্লাহ তাআলা তাকে মুছীবতে ফেলেন। এটা তার জন্য শাস্তি নয়, বরং কল্যাণ কামনা। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে মুছীবতে ফেলেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৪৫)। অপর হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ حَتّٰى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلاَّ كَفَّرَ اللهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاه ‘মুসলিম ব্যক্তির উপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আসে, এমনকি কাঁটা যা তার দেহে প্রবেশ করে, এসবের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৪২)। আর যদি ব্যক্তি কাফের বা ফাসেক হয়, তাহলে তার জন্য মুছীবত আসে শাস্তি বা কর্মফল হিসেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন’ (আশ-শূরা, ৪২/৩০)।
মো. সাজিদুল ইসলাম
