কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

শিশুদের পর্নো আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

post title will place here

আমাদের সন্তানদের আমরা কখনোই সন্দেহ করি না। অধিকাংশ অভিভাবক এটা বিশ্বাসই করেন না যে, তাদের (১০-১৫ বছরের) সন্তান এডাল্ট মুভি দেখতে পারে। অথচ এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে, অধিকাংশেরও বেশি কিশোর-কিশোরী এই অপকর্মের সাথে জড়িত। বাংলাদেশে সম্প্রতি করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৬২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী এই কর্মের সাথে জড়িত। তাই আমরা তাদের যতটুকু নিষ্পাপ মনে করছি, ততটুকু নিষ্পাপ তারা নয়। তাদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে আমরা তা উপলব্ধি করতে পরছি না। তাই আমাদের কিছু বিষয় জানা দরকার, যা দেখলে আমরা বুঝতে পারব সন্তান পর্নো আসক্ত কিনা।

পর্নোআসক্তশিশুকীভাবেবুঝবেন?

কোনো শিশু যখন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে উঠে, তখন তার আচার-আচরণে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষণ করা যাবে।-

. সন্তানেরহঠাৎপরিবর্তন: সবসময় হাসিখুশি, হৈ-হুল্লোড় করা ছেলে যদি হঠাৎ করে এসব ছেড়ে দেয়, তাহলে তার খোঁজখবর নিতে হবে। বিভিন্ন কারণে শিশু-কিশোরদের আচরণে পরিবর্তন আসে। তন্মধ্যে একটি হলো পর্নো আসক্তি। যদি কোনো ছেলে খারাপ পরিবেশ বা সুযোগের কারণে এই খারাপ অভ্যাসে জড়িয়ে যায়, তাহলে সে কিছুটা চুপচাপ হয়ে যাবে।

. মোবাইলব্যবহারকরা: সচরাচর অভিভাবকরা এসএসসির পর সন্তানদের মোবাইল দিয়ে থাকেন। কিন্তু মোবাইল ব্যবহারের (বিশেষ করে স্মার্টফোন) আদর্শ সময় হচ্ছে এইচএসসির পর। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমরা অভিভাবকরা সন্তান ক্লাস সেভেন/এইটে উঠার পরপরই মোবাইল দিয়ে দেই, যা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই সন্তান যদি ১২- ১৪ বছরের পরপরই মোবাইল ব্যবহারে আসক্ত হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই বয়সটা যেহেতু ঝুঁকিপূর্ণ, সেহেতু এই বয়সে তার মোবাইল ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। তাই যদি সন্তান মোবাইলের বাহানা কিংবা বড়দের মোবাইল একাকী নিয়ে ব্যবহার করছে কিংবা মোবাইলের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে, তাহলে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

. নিজেকেলুকানোরচেষ্টা: হঠাৎ করেই যদি আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে কিছু লুকাতে চাইছে- এমন ধারণা যদি হয়, তাহলে আপনাকে একটু খোঁজ নিতে হবে। বিশেষ করে যদি তার মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, যা আগে আপনি অনায়াসে নিতে পারতেন, কিন্তু এখন সহজে প্রবেশ করতে পারছেন না। কিংবা আপনার উপস্থিতি তাকে হঠাৎ করে অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে, তখন আপনাকে আরও সাবধান হতে হবে। কেননা মানুষ যখন অনৈতিক কাজ করে, তখন তার মধ্যে অপরাধবোধ চলে আসে এবং সে স্বভাবতই চায় না যে, তা কেউ দেখে ফেলুক।

. ডিভাইসেসময়বেশিদেওয়া: কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করেন যে, আপনার সন্তান আগের চাইতে বেশি মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সময় দিচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে- সে কোনো না কোনো কিছুতে ব্যস্ত। আর সেই ব্যস্ততা কী? সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনার।

. একাকীথাকা: সন্তান আগে সবার সাথে থাকা পছন্দ করলেও হঠাৎ করে সে একা থাকাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সুযোগ পেলেই নিজের রুমে একাকী সময় পার করছে। কোথাও সবাই একসাথে যাওয়ার কথা থাকলে সে পিছিয়ে ঘরে একা থাকতে চাইছে। তার মানে সে সবার আড়ালে একাকী সময় নিতে চাচ্ছে। সন্তানের মধ্যে যদি এই ধরনের প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে তা মাথায় রেখে নজরদারি বাড়াতে হবে।

. অতিরিক্তরাতজাগা: কৈশোরে পদার্পণ করেই যদি সন্তানের রাত জাগা বেড়ে যায়, তাহলে তার খোঁজখবর নিতে হবে। কেন সে রাত জাগবে? পড়াশোনার বাহানায়ও তাকে রাত জাগার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কেননা হাই স্কুল লেভেলের পড়াশোনা এত ভারী নয় যে, ছাত্রদের রাত জেগে পড়াশোনা করতে হবে। সুতরাং হঠাৎ করে সন্তানের রাত জাগা বেড়ে গেলে অবশ্যই খবর নিতে হবে।

. হঠাৎরাগান্বিতহওয়া: স্বাভাবিকভাবে ছেলেমেয়েরা কৈশোরে পদার্পণ করলে তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু যখন কেউ পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হবে, তার মানসিক অবস্থা সবসময়ই অস্থির থাকবে। তাই সে কোনো কারণ ছাড়াই রাগান্বিত হলে বা অল্প কারণে বেশি রাগারাগি করলে তাকে বুঝার চেষ্টা করতে হবে।

. শরীরবাচেহারারহঠাৎপরিবর্তন: কৈশোরে পা দিলেই সবার শারীরিক পরিবর্তন হবে। কিন্তু কোনো কারণে যদি সন্তানের চোখের নিচে কালি জমে, হঠাৎ শুকিয়ে যায়, চেহারা ভেঙে যায়, তাহলে তার উপর নজর দেওয়া জরুরি। কেননা পর্নোগ্রাফির সাথে হস্তমৈথুনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, যা শিশুদের শরীরের ব্যাপক ক্ষতি করে।

. বন্ধুরসাথেফিসফাস: সন্তান আগে বন্ধুদের সাথে সবার সামনে খোলামেলা আলাপ করলেই ইদানীং কিছু কাছের বন্ধুর আড়ালে-আবডালে কানাঘুষা বা ফিসফাস বেড়ে যায়, তাহলে জানার চেষ্টা করতে হবে কী বিষয়ে তাদের গোপনীয়তা।

১০. বন্ধুরবাড়িতেসময়দেওয়া: পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনো অসীলায় সময়ে-অসময়ে কাছের কিংবা দূরের বন্ধুর বাড়িতে সময় দিতে থাকলে সাবধান হতে হবে। খবর নিতে হবে, যে সময় সন্তান বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছে, ঐ সময় বাড়িতে অভিভাবক কেউ থাকছে কিনা।

শিশুদেরওপরপর্নোগ্রাফিরপ্রভাব:

শিশুদের উপর পর্নোগ্রাফির ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এর কারণে তাদের যেমন ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক স্খলন ঘটে তেমনি শারীরিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়।

. ধর্মীয়উদাসীনতা: শিশু যখন পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হয়ে যায়, তখন তার মধ্যে ধর্মীয় চেতনাবোধ কাজ করে না। ফলে সে ধীরে ধীরে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যায়। এভাবে সে একসময় যাবতীয় খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে ধর্মকর্ম ছেড়ে দিয়ে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।

. পড়াশোনায়অমনোযোগিতা: যখন শিশু এসব খারাপ কিছুর সাথে জড়িত হয়ে যায়, তখন তার চিন্তা-চেতনায় সবসময়ই এসব ঘুরতে থাকে। ফলে তার পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং সে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে।

. গুরুজনদেরপ্রতিঅসম্মান: নিয়মিত খারাপ ভিডিও দেখার কারণে শিশুদের গুরুজনদের উপদেশ বা যে কোন কথায় বিরক্ত হয়। এভাবে ক্রমান্বয়ে তারা গুরুজনদের প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখায় না কিংবা তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে।

. যৌনতারপ্রতিআকর্ষণ: শিশু যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই যৌনতা বিষয়ক কনটেন্ট দেখে, তখন তার মধ্যে প্রতিনিয়ত যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়, যা তাকে যৌনতার দিকে ধাবিত করে।

. বিপরীতলিঙ্গেরপ্রতিআকর্ষণ: শিশুরা কৈশোরে পদার্পণের সাথে সাথে যৌন আসক্ত হয়ে গেলে তার মধ্যে সমবয়সী বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়, যা তাদের অপরিণামদর্শী কাজের দিকে ঠেলে দেয়।

. ইভটিজিং: শিশুদের মধ্যে যখন খারাপ চিন্তাধারা কাজ করে, তখন তারা জোট বেঁধে নারী গবেষণায় লিপ্ত হয়। একসময় তারা সমবয়সীদের প্রতি নানান মন্তব্যসহ ইভটিজিং করতে উৎসাহিত হয়।

. যৌনতাসম্পর্কেভুলধারনা: পশ্চিমা যৌন কালচারের সাথে পরিচিত হওয়ার কারণে শিশুরা মনে করে এটাই বুঝি আসল জীবন। ফলে তারা ধর্মীয় চেতনাবোধের বিপরীতে বাস্তব জীবনে বিকৃত যৌনাচারসহ যৌনতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা নিয়ে বড় হতে থাকে।

. বিকৃতযৌনাচার: ছোট বয়স থেকে যৌনতা সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে বড় হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে নানান ধরনের বিকৃত যৌনাচারের আকাঙ্খা জন্ম নেয়, যা তারা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা করে।

. আসক্তি: খারাপ কিছু দেখার ফলে শিশুদের মধ্যে এ সম্পর্কে তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি হয়, যা তাদেরকে এ বিষয়ে আসক্ত করে তোলে। ফলে তারা এর বাস্তবিক চর্চা করতে গিয়ে নিজেদের উপর যুলম করে, যা তাদেরকে যৌন আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

পর্নোআসক্তিঠেকাতেকরণীয়:

সন্তান খারাপ কিছুতে জড়িয়ে পড়ার আগেই অভিভাবককে এ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। সন্তান হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই তার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরী।

. ধর্মীয়অনুশাসন: পৃথিবীতে যাবতীয় মন্দকে জয় করার সহজ উপায় হচ্ছে ধর্মীয় অনুশাসন। পরিবারে ইসলামের সঠিক চর্চা থাকলে সেই পরিবারে কখনো শয়তান সহজে প্রবেশ করতে পারে না। তাই সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে নিজে সৎ থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সৎ ও নৈতিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ছোটবেলা থেকে সন্তানরা ধর্মীয় ভাবধারায় বড় হলে তাদেরকে সহজে কেউ নষ্ট করতে পারে না।

. সন্তানকেসময়দেওয়া: শিশু-কিশোররা মন্দ কাজে জড়িত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে মা-বাবার সাথে দূরত্ব। প্রতিটি অভিভাবক যদি তাদের সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেন, তাহলে সন্তান তাদের অগোচরে কোনো খারাপ কাজের সাথে জড়িত হতে পারবে না।

. মোবাইলেরনিয়ন্ত্রণ: শিশুদের কখনোই স্বাধীনভাবে মোবাইল দেওয়া যাবে না। যেসব শিশু ৮-১০ বছরে থাকবে, তাদের প্রতি কঠোর নজরদারি করতে হবে। আর ১২ বছরের পর ১৮ বছরের আগে কাউকে নিজস্ব মোবাইল দেওয়া যাবে না। শিশুরা প্রধানত মোবাইলের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিতে জড়িত হয়। তাই কোন অবস্থাতেই ১৮ বছরের আগে মোবাইল দেওয়া যাবে না। মোবাইল ব্যবহার করলেও ফোনে প্রাইভেট ডিএনএস সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। নতুবা এডাল্ট কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। একইসাথে বয়ঃসন্ধিতে থাকা সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের উপর সর্বোচ্চ নজরদারি রাখতে হবে।

. ইন্টারনেটব্যবহারনিয়ন্ত্রণ: পারিবারিক ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ম তৈরি করুন। কখন, কোথায় এবং কী ধরনের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা যাবে- তা নির্ধারণ করুন।

. প্যারেন্টালকন্ট্রোলব্যবহারকরুন: আপনার ইন্টারনেট সংযোগে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সেট করুন, যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনার ইন্টারনেট কানেকশন থেকে কে কী ব্যবহার করছে।

. বন্ধুদেরখোঁজনেওয়া: আপনার সন্তান কার সাথে মিশছে, কার সাথে সময় পার করছে, কাদেরকে বন্ধু বানিয়েছে তাদের সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে। সন্তানের বন্ধু ভালো পরিবারের হলে সে ভালো হবে। যদি খারাপ পরিবেশের হয়, তাহলে তার খারাপ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে।

. ছুটিরসময়নজরদারি: বিভিন্ন ছুটিতে সন্তানকে নজরে রাখতে হবে। কেননা শিশুরা ছুটির দিনগুলোতে নানান বন্ধু-বান্ধবদের মিশে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে থাকে। তাই ছুটির দিনে সন্তান কোথায়, কখন কার সাথে যায় কিংবা সময় পার করে, তা অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

. একাকীথাকতেনাদেওয়া: যথা সম্ভব সন্তানকে ঘরে একা রাখা যাবে না। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। তাই বয়ঃসন্ধিতে পড়া শিশুরা ঘরে একা থাকলেই বিভিন্ন উৎস হতে পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হবে।

. রাতজাগাবন্ধকরা: কোনো কারণেই মধ্য রাত পর্যন্ত সন্তানকে জেগে থাকতে দেওয়া যাবে না। কেননা রাত হচ্ছে শয়তানের শয়তানি কাজের উপযুক্ত সময়। কারণ এসময় মানুষের কোন আনাগোনা থাকে না।

১০. বন্ধুত্বসুলভআচরণ: শিশুদের সাথে ছোটবেলা থেকেই বন্ধুর মতো মিশতে হবে, যাতে তার চাওয়া-পাওয়া আশা-আকাঙ্ক্ষা সব আপনার সাথে শেয়ার করে। এতে তার হঠাৎ কোনো খারাপ পরিবর্তন হলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন।

১১. সন্দেহনাকরা: সন্তানের উপর সবসময়ই নজরদারি রাখতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তার উপর গোয়েন্দাগিরি করা যাবে না। সে যদি বুঝতে পারে আপনি তার উপর গোয়েন্দাগিরি করছেন, তাহলে তা হীতে বিপরীত হবে।

১২. সন্তানকেখেলাধুলায়উৎসাহদিন: শিশুরা স্বভাবতই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী থাকে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে শিশুরা আগের মতো খেলাধুলা করতে পারে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে মোবাইলে ডুবে আছে। তাদেরকে মাঠের খেলায় ফিরিয়ে নিতে হবে। যাতে তারা সুন্দর সময় অতিবাহিত করতে পারে।

১৩. সৃজনশীলকাজেউৎসাহ: শিশুদের ছোট থেকেই বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প-কবিতা লেখাসহ নানান ধরনের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে সে কখনোই খারাপ কাজে ইনভলভ হতে পারবে না। বর্তমানে আমাদের পরিবার ও সমাজে সৃজনশীল কাজের বড়ই অভাব। আগের দিনে শিশু কিশোররা নানান ধরনের ক্লাব করার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত রাখত, যা বর্তমানে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

১৪. সুস্থবিনোদন: আমাদের দেশে সুস্থ বিনোদনের বড় অভাব। যার ফলে শিশু-কিশোররা বিনোদনের বিকল্প হিসাবে খারাপটাকেই বেছে নিচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুস্থ পরিবেশের জায়গা করে দিলে তারা অশ্লীলতার দিকে ধাবিত হবে না।

১৫. সচেতনতাতৈরি: শিশু-কিশোরদের পর্নোগ্রাফি রোধে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সচেতনতা থাকতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করা গেলে শিশুদের এই ক্ষতি থেকে তাদের মুক্ত রাখা যাবে।

১৬. ইন্টারনেটেরনিয়ন্ত্রণ: রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পর্নোগ্রাফি রোধে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে কোমলমতি শিশুরা অনলাইনে খারাপ কিছুর সাথে পরিচিত হতে না পারে।

১৭. আইনিপদক্ষেপনিন: যদি আপনার সন্তান অন্য কাউকে এই ধরনের কনটেন্ট দেখাচ্ছে বা তৈরি করছে, তাহলে আইনি পদক্ষেপ নিন। আপনার সন্তানকে এই ধরনের কনটেন্ট পাঠানো বা দেখানো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

পর্নোআসক্তশিশুরচিকিৎসা:

শিশু যদি কোনো কারণে পর্নো আসক্ত হয় কিংবা সন্তান পর্ন দেখছে তা অভিভাবকরা জানতে পারলে তার জন্য কিছু করনীয় রয়েছে-

. প্রথমেইশান্তথাকুন: যদি আপনি বুঝতে পারেন কেউ খারাপ কিছুতে জড়িত, তাহলে শুরুতেই আপনার নিজেকে শান্ত রাখতে হবে। আমাদের অধিকাংশ অভিভাবক প্রথমেই যে ভুলটা করে, তা হলো- সন্তানের উপর উত্তেজিত হয়ে রাগারাগি করা, গালাগাল করা, মারধর করা, যা কখনোই করা যাবে না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভিভাবককে শান্ত থাকতে হবে।

. শুরুতেইশাস্তিদিবেননা: শিশু অপরাধ করার সাথে সাথে তাকে শাস্তি দিবেন না। তার সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করুন এবং তাকে শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

. সময়নিন: শিশু যখন অপরাধ করে ফেলে, তখন তাকে শোধরানোর জন্য একটু সময় নিন। কোনো তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ধীরে ধীরে তার সাথে যোগাযোগ বাড়ান।

. অপরাধেরকুফলসম্পর্কেজানান: সন্তান অপরাধ করার পরও যখন সে শাস্তির মুখোমুখি হবে না, তখন তার মনের মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধের জন্ম নিবে। তারপর আপনি যখন সময় নিয়ে তার সাথে কৃত অপরাধ সম্পর্কে আলাপ করবেন, তখন সে আপনাকে সাহায্য করবে। এই সুযোগে আপনি তাকে তার অপরাধ সম্পর্কে বলুন। আপনার সন্তানকে জানান যে, আপনি তার জন্য চিন্তিত এবং তাকে সাহায্য করতে চান। এই কাজটা কেন অপরাধ, এই কাজের কুফল কী, কেন ধর্মীয় ও বাস্তব জীবনে এই কাজ করা যাবে না- তা সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। মনে রাখতে হবে বয়ঃসন্ধিকালীন শিশুরা কাদামাটির মতো। তাদের আপনি যত সুন্দরভাবে তৈরি করবেন, তারা তত সুন্দরভাবে তৈরি হবে।

. বিশেষজ্ঞদেরপরামর্শনিন: সাধারণত অধিকাংশ অভিভাবক এসব সাইকোলজিক্যাল বিষয় সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখে না। তাই সন্তানের জন্য ভালো একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া খুবই উত্তম। তারা আপনার সন্তানকে সাহায্য করার জন্য উপযুক্ত পরামর্শ এবং চিকিৎসা দিতে পারবেন।

শেষকথা:

মনে রাখবেন আমরা সবাই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত। আমাদের পরিবারে যদি ইসলামের চর্চা থাকে, তাহলে শয়তান সেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারবে না। তাই শিশুদের ছোট থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে এবং তাদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আসুন শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আমরা তাদের সহযোগিতা করি।

 

* পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

Magazine