[ফিলিস্তীনের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত]
‘জানো আম্মা, মায়মুনের আব্বা ওর জন্য একটি সুন্দর কালো রঙের ফিলিস্তীনের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ পোশাক কিনে এনেছে। আমার আব্বা পচা। আমার সঙ্গে দেখাই করে না’।
সন্তানের কথা শুনে অপ্রস্তুত হয়ে যায় ফিদা কামাল আল-লাও। আজ নতুন করে সন্তানকে কী উত্তর দেবেন, ভেবে পান না। অশ্রুর চাপে চোখ দুটি যেন ফেটে বেরিয়ে আসতে চায়। অনেক কষ্টে অশ্রুধারা সংবরণ করেন।
‘তোমার আব্বা আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। এজন্যই তিনি আমাদের কাছে আসতে পারেন না’। চোখ মুছতে মুছতে বরাবরের মতো একই উত্তর দেন মা।
অন্ধকারে মায়ের চোখের পানি দেখতে পায় না মেয়ে। আজও কথাটি মনঃপূত হলো না বাতুলের। মায়ের বালিশে মাথা গুঁজে সে প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা আম্মা! আব্বা আল্লাহর দেশ থেকে আমাদের ফোন দেয় না কেন?’
‘মা রে! আল্লাহর দেশে কোনো মোবাইল ফোন নেই। সেখানে গেলে কেউ ফোন করতে পারে না’। মেয়েকে বুকে টেনে নিতে নিতে বললেন মা।
‘আম্মা, আমিও আল্লাহর দেশে যেতে চাই। ওখানে গেলে কি আব্বার সঙ্গে আমার দেখা হবে?’ উল্টো প্রশ্ন করল বাতুল।
পাঁচ বছর বয়সী অবুঝ কন্যার অপরিণত কণ্ঠের এমন করুণ প্রশ্নে যেন তার হৃদয়ে শর বিঁধল। তবু তিনি কাঁদলেন না। মেয়ের চুলে বিলি কেটে দিয়ে বললেন, ‘অনেক রাত হয়েছে, মা! ঘুমাও এখন’।
‘আম্মা! কাল আমাকে একটি নীল ফুলওয়ালা পোশাক কিনে দেবে?’ মায়ের বুকে মাথা রেখে আবদার করল মেয়ে।
‘আচ্ছা! কিনে দেব, ইনশা-আল্লাহ। এখন তুমি ঘুমাও’। অস্ফুটস্বরে বললেন মা।
তিনি অনবরত মেয়ের চুলে বিলি কাটতে লাগলেন। বাতুল ঘুমপাড়ানি গান শোনার বায়না ধরল। মা ক্ষীণকণ্ঠে গাইতে শুরু করলেন ফিলিস্তীনের ঐতিহ্যবাহী লোরি-
‘নাম ইয়া হাবীবী নাম
নাম ইয়া হাবীবী নাম...’
ফিলিস্তীনী সংস্কৃতিতে এসব ঘুমপাড়ানি গান কেবল শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য নয়; বরং সন্তানদের সাহসিকতা, মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং শত কষ্টের মাঝেও টিকে থাকার অনুপ্রেরণা জোগাতেই এগুলো গাওয়া হয়।
বেদনার প্রাচীর ভেদ করে বুকে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে ফিলিস্তীনী মায়েরা সন্তানদের কানে তাই ‘তাহলীল’ শোনান। মায়াবী কণ্ঠের জাদুতে ঘুমিয়ে পড়ল বাতুল। মাথার নিচ থেকে হাত সরিয়ে বাতুলকে ডান কাঁধে কাত করে শুইয়ে দিয়ে মা তাকে বুকের মধ্যে টেনে নিলেন। তারপর ছেঁড়া কম্বল দিয়ে তার মাথাটা ঢেকে দিলেন।
চারদিকে নিস্তব্ধতা। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। ত্রিপল দিয়ে তৈরি তাঁবুর ভেতরে জীর্ণ ফোমের পাতলা ম্যাট্রেসের উপর বাকি ছয় সন্তানও অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে তাদের ঘুমন্ত নিস্তেজ দেহ।
ফিলিস্তীনীরা যে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ গাযার দেইর আল-বালাহ অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত অধিবাসীদের এই অস্থায়ী তাঁবুগুলো। ফিলিস্তীনীরা এ ধরনের অস্থায়ী শিবিরকে কেবল ‘তাঁবু’ বলেন না; তারা এগুলোকে তাদের কষ্টের ‘খোলা কারাগার’ বলে অভিহিত করেন।
ইসরাঈলী সেনাবাহিনীর অবর্ণনীয় নির্যাতন এবং বোমারু ড্রোনের অবিরাম হামলার শিকার হয়ে কয়েক দশক ধরে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তীনী বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন। তাদের স্বপ্নের আবাসগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বিপদসংকুল পরিবেশে তারা বিপর্যয়কেই নিজেদের নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তাদের কাছে মৃত্যু যেন জান্নাতুল ফেরদাউস লাভের সহজতর পথ। তাই প্রতিনিয়ত এই ভগ্ন তাঁবুগুলোতে জাহান্নামের পোকামাকড়সম দখলদার বাহিনীর কাপুরুষোচিত হামলায় অনেকে শাহাদাতের মাধ্যমে জান্নাতের ঠিকানা খুঁজে নেন।
ইসরাঈলী বাহিনীর পক্ষ থেকে হঠাৎ লিফলেট ফেলা হয় কিংবা ফোনে বার্তা দেওয়া হয়—কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে যেতে হবে। চারদিকে তখন ড্রোনের কর্কশ শব্দ, কামানের গর্জন এবং অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন এক বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। মানুষ তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ফেলে রেখে শুধু পরনের কাপড় আর কিছু জরুরী কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। অনেক সময় কোনো মা তার সন্তানের জুতোজোড়া পরিয়ে দেওয়ার সময়টুকুও পান না।
মাইলের পর মাইল মানুষ পায়ে হেঁটে চলতে থাকে। রাস্তাজুড়ে পড়ে থাকে ধ্বংসস্তূপ, পোড়া গাড়ি আর ধুলাবালি। তথাকথিত ‘নিরাপদ করিডোর’ দিয়ে যাওয়ার সময়ও অনেককে হামলার শিকার হতে হয়। পুরুষরা পিঠে ভারী ব্যাগ, নারীরা কোলে শিশু এবং বৃদ্ধরা লাঠিতে ভর দিয়ে ক্লান্ত শরীরে পথ চলেন।
যখন তারা দেইর আল-বালাহ বা রাফাহর মতো এলাকায় পৌঁছান, তখন সেখানে তিল ধারণেরও জায়গা থাকে না। চারদিকে সারিবদ্ধ হাজার হাজার তাঁবু। বালু আর কাদার উপর নির্মিত এই অস্থায়ী আশ্রয়গুলোতে ন্যূনতম গোপনীয়তা বা ব্যক্তিগত পরিসরও নেই। শত শত মানুষের জন্য মাত্র একটি বা দুটি অস্থায়ী শৌচাগার। ফলে খুব দ্রুত হেপাটাইটিস, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে।
এক টুকরো রুটি বা এক গ্যালন পানির জন্য শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রান্নার জন্য কোনো গ্যাস নেই। মানুষ রাস্তার আবর্জনা কিংবা কার্ডবোর্ড পুড়িয়ে আগুন জ্বালায়। সেই আগুনের কালো, বিষাক্ত ধোঁয়া পুরো শিবিরের বাতাস ভারী করে তোলে।
কেউ জানে না তারা কত দিন এখানে থাকবে, কিংবা কোনো দিন নিজের ঘরে ফিরতে পারবে কি-না। শিশুরা পাখির ডাক বা বৃষ্টির শব্দ শুনলেও বোমার শব্দ ভেবে শিউরে ওঠে। তাদের খেলার মাঠ এখন ধ্বংসস্তূপ। অনেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পথে পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে ফেলেন।
তাঁবুর এক কোণে বসে বৃদ্ধদের বিলাপ করা গাযার বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোর এক নিত্যদিনের দৃশ্য।
এভাবেই গাযার রাজপথে মানবাধিকারকে কবর দিয়ে তাঁবুর ভেতরে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে শাহাদাতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ফিলিস্তীনের বাসিন্দারা।
আকাশে চাঁদ থাকলেও তার আভা গোল পূর্ণিমার মতো নয়; বরং তা ক্ষীয়মাণ কুঁজো চাঁদের মতো। আজ রবীউল আউয়ালের ১৭তম রাত। মাত্র দুই দিন আগেই ভরা পূর্ণিমায় রাত পূর্ণতা পেয়েছিল।
তাঁবুর বাইরে শরতের হিমেল ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। অদূরের কোনো এক জলপাইয়ের ঝোপ থেকে সুয়াইদ আশ-শাম অর্থাৎ সানবার্ড পাখির মিষ্টি শিস ভেসে আসছে।
ঘুমে ঢুলুঢুলু মায়ের চোখ তন্দ্রা পেরিয়ে নিদ্রার পারাবারে ভেসে যাচ্ছিল। হঠাৎ এক দুঃস্বপ্নে আঁতকে উঠে তার ঘুম ভেঙে গেল। ডান হাত বাড়িয়ে তিনি মেয়ের শরীর খুঁজতে লাগলেন। হাতের স্পর্শে মেয়ের কায়া আবিষ্কৃত হলে তিনি স্বস্তির একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। না, আর ঘুমোবেন না তিনি।
গাযার সব মায়ের মতো তিনিও রাত জেগে সন্তানদের পাহারা দেন। কখন ইসরাঈলী বাহিনীর হামলা শুরু হবে, তা বলা বড়ই দুষ্কর।
গাযার মায়েদের রাত জাগা কেবল মাতৃত্বের সাধারণ দায়িত্ব নয়; এটি এক চরম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাদের মনে সবসময় একটি গভীর ভয় কাজ করে, যদি তারা ঘুমিয়ে পড়েন, আর ঠিক সেই সময় কোনো হামলা হয়; তবে সন্তানদের রক্ষা করার বা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়তো আর পাবেন না। তাই তারা সারা রাত জেগে বাইরের প্রতিটি শব্দের প্রতি কান পেতে থাকেন।
আকাশে সারাক্ষণ ভেসে বেড়ানো ড্রোনের কর্কশ যান্ত্রিক শব্দ, যাকে স্থানীয়রা ‘জান্নানা’ বলে—ঘুমকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে। এই শব্দ মায়েদের মনে করিয়ে দেয়, বিপদ খুব কাছেই। তাই তারা জেগে থাকেন, যেন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শোনা মাত্রই সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন।
অনেক মা মনে করেন, যদি কোনো হামলা হয়, তবে অন্তত সন্তানদের বুকে আগলে রেখেই যেন মৃত্যু আসে। ফিদা কামালের মতো মায়েরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানদের বুকের পাঁজর দিয়ে ঢেকে রাখতে সংকল্পবদ্ধ। তাদের কাছে রাত জাগা মানে হলো সন্তানের নিরাপত্তার জন্য নিজের জীবনকে ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। তাই নির্ঘুম রাত কাটে গাযার মায়েদের।
এভাবেই কেটে গেল কয়েক ঘণ্টা। চোখে ব্যথা অনুভূত হতে শুরু করল। তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি চোখ বুজলেন। ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলেন সেই উজ্জ্বল সোনালি অতীতে। ফিদা কামাল আল-লাও জন্মগ্রহণ করেছিলেন গাযার রাফাহ অঞ্চলে।
ব্যবসায়ী বাবার সচ্ছল সংসারেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তাই পর্দার বিধান মেনে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাযা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন চলাকালীন যৌবনের প্রথম প্রহরেই পরিবারের উদ্যোগে এক অভিজাত পরিবারে তার বিয়ে হয়।
স্বামী সাফিন সালমান ছিলেন ইসরাঈলী আধিপত্যবাদের বিরোধী এক প্রথিতযশা ও লড়াকু সাংবাদিক। মুক্তিকামী ফিলিস্তীনবাসীর প্রতি ইসরাঈলী বাহিনীর বর্বরতার নির্মম চিত্র তার লেখনীতে জীবন্ত হয়ে উঠত। তার সাংবাদিকতার কলম যেন কেবল একটি কলম ছিল না, ছিল শাণিত বেয়নেটের মতো তীক্ষ্ণ এক অস্ত্র।
অল্প সময়ের মধ্যেই তার লেখনী বিশ্ব মুসলিম গণমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে তিনি যেন অনেকের কাছে এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হন। সংক্ষেপে বলতে গেলে সমগ্র ফিলিস্তীনী জাতির কাছে তিনি ছিলেন এক আশার প্রতীক। কিন্তু এই কলমই একসময় তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বছর চারেক আগে, বাতুলের জন্মের কয়েক মাস পর, মোসাদের পরিকল্পিত এক হামলায় তিনি নিহত হন। জায়নবাদী বাহিনী তার মরদেহ পর্যন্ত দাফন করতে দেয়নি। প্রকাশ্য দিবালোকে গাযার রাস্তায় মরদেহটি পুড়িয়ে ফেলা হয়। সেই সময় তাকে হামাসের একজন সদস্য বলে আখ্যায়িত করা হয়।
স্বামীর জ্বলন্ত মরদেহের সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য ফিদার হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। তখনই তিনি মনে মনে সংকল্প করেন, আমৃত্যু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফিলিস্তীনের নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকবেন। এরই ধারাবাহিকতায় এক বছর আগে হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদ হারান।
কয়েক মাস পর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তাদের সাধের বাড়ি। তারপর কোনোমতে প্রাণে বেঁচে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন দেইর আল-বালাহর একটি শরণার্থী শিবিরে।
এত কিছুর পরও এই অদম্য নারী থেমে যাননি। নিজের বিশ্বাস ও আদর্শে অবিচল থেকে তিনি হামাসকে গোপনে নানাভাবে সাহায্য করে যাচ্ছেন।
অতীতের খেরো খাতায় হারিয়ে গিয়ে হঠাৎ ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলেন।
দ্রুম দ্রুম দ্রুম।
বিকট শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হলো। ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে ওঠে পড়লেন ফিদা কামাল আল-লাও। এক লাফে উঠে বাকি সন্তানদের জাগালেন। বাইরে ড্রোনের ফ্ল্যাশলাইটে আলোকিত চারপাশ। মাটিতে হেঁটে চলা পিঁপড়াদের কায়া পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। বাকি সন্তানদের দ্রুতপদে তাঁবুর বাইরে নিরাপদ দূরত্বে পাঠালেন।
বাতুল এখনো বিছানায় ঘুমিয়ে। তড়িঘড়ি করে ওকে টেনে তুললেন। ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। পাশের মসজিদে দ্রুতগতিতে আসা একটি মিসাইল আঘাত হানল। ছিটকে আসা আগুনের ফুলকিতে তাঁবুর পর্দা পুড়ে ছারখার।
বাতুল তখনও বিছানায় নিদ্রারত। দূর আকাশে মিসাইল-বৃষ্টি হচ্ছে। খোলা আকাশ, তাঁবুহীন বিছানা, উদ্যত হন্তারক মিসাইল।
বাতুলকে জাগানোর ব্যর্থ প্রয়াস চলছে। শোঁ শোঁ শব্দে একটি মিসাইল এদিকেই ধেয়ে আসছে। মা বুঝতে পারলেন তাক্বদীরে বুঝি নিহত হওয়াটাই লিখা আছে। বুকের মাঝে জাপটে ধরলেন বুকের মানিক বাতুলকে।
মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
দ্রুম দ্রুম দ্রুম।
ফ্র্যাগমেন্টেশনের আঘাতে শহীদ হলেন মা ও মেয়ে। ফিদা কামাল আল-লাও কিন্তু পারতেন মেয়ে বাতুলকে রেখে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে। সে সময়টুকুও তাঁর ছিল।
কিন্তু বুকের মানিককে হারিয়ে পৃথিবীর বুকে আমৃত্যু নিভৃতে ধুঁকে ধুঁকে মরতে তিনি চাননি। আর এটাই মাতৃত্বের জ্বলন্ত সাক্ষ্য।
সুপ্ত রায়হান সজিব
* ফাজিলপুর (হাজিবাড়ি), তেঘরিয়া, মাদারগঞ্জ, জামালপুর।
