একদিন কিছু যাত্রী নিয়ে একটি বিমান যাত্রা শুরু করল। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ আকাশের অবস্থা খুব খারাপ হল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এতটাই খারাপ রূপ লাভ করল যে, পাইলট কাছাকাছি একটি বিমানবন্দরে বিমানটি যরূরী অবতরণ করাতে বাধ্য হলেন। কয়েক ঘণ্টা সেখানে কাটানোর পরও অবস্থার কোন উন্নতি হল না। যত্রীদের ভেতর থেকে একজন বিমানবালার কাছে জানতে চাইল, বিমান থামার কারণ কী? তারা কারণ জানালেন। লোকটি ছিলেন খুবই ব্যস্ত। তিনি তার ব্যসত্মতার কথা বিমানবালাদের কাছে বললে তারা তাকে গাড়ি যোগে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কারণ আকাশের অবস্থা ভাল না হলে তাদের পক্ষ বিমান ছাড়া সম্ভব হবে না। তিনি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। কারণ গাড়ি দিয়ে যেতে সময় অনেক বেশী লাগবে। তিনি কিছু সময় অপেক্ষা করলেন, কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি না দেখে বাধ্য হয়ে গাড়ি যোগে যাত্রা শুরু করলেন।
কিছু দূর যাওয়ার পর আবহাওয়া আরো এত বেশী খারাপ হল যে, গাড়ি দিয়েও আর এগুনো সম্ভব হল না। তিনি রাস্তার পাশে এক ছোট্ট কুঠরি দেখতে পেলেন এবং সেখানেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন। সালাম দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলেন। দেখলেন, এক ভদ্র মহিলা আল্লাহর ইবাদতে মশগূল এবং পাশের বিছানায় একটি মেয়ে শোয়ানো। মহিলা লোকটিকে বসতে দিলেন, অতঃপর নাস্তার ব্যবস্থা করলেন। তার আতিথেয়তায় লোকটি খুবই সন্তুষ্ট হলেন।
কয়েক ঘণ্টা পর আকাশের অবস্থার উন্নতি হলে লোকটি যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন। কিন্তু তার মনে খুব কৌতুহল জাগল, মহিলাটি কেন আল্লাহর কাছে এত কান্নাকাটি করছেন আর বিছানায় শায়িত মেয়েটিরই বা কী হয়েছে?! তিনি মহিলার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সবকিছু খুলে বললেন। বললেন, মেয়েটি তার একমাত্র সন্তান। সে কঠিন রোগে আক্রান্ত। অনেক চিকিৎসা করানোর পরও তার অবস্থার কোন উন্নতি ঘটেনি। ডাক্তার পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, এ রোগের চিকিৎসা এ দেশে সম্ভব নয়। দূর দেশে একজন অনেক বড় ডাক্তার আছেন, যিনি এ রোগের সবচেয়ে ভাল ডাক্তার। তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করালে মেয়েটি আরোগ্য লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু আমি একজন গরীব বিধবা, যার পক্ষে এ চিকিৎসার খরচ বহন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার মত দায়িত্বশীল কোন অভিভাবকও নেই। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েও আমি আশাহত হইনি। আমার রবের উপর পূর্ণ ভরসা রেখে তার দরবারে দু‘আ করে চলেছি। তিনিই আমার একমাত্র ভরসা। একমাত্র তিনিই পারেন আমার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় আমার কোলে ফিরিয়ে দিতে। মহিলার কথা শুনে লোকটি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, তার চোখে পানি চলে আসল। তিনি বললেন, আমিই সেই ডাক্তার, যাকে আল্লাহ তা‘আলা আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আপনার বাড়ীতেই পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ যথার্থই বলেছেন,
وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ.
‘আর যে আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’ (তালাক্ব ৬৫/৩)। তিনি আরো বলেন,
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِيْ عَنِّي فَإِنِّيْ قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ.
‘আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন তাদেরকে বলে দাও, নিশ্চয় আমি সন্নিকটবর্তী; কোন আহবানকারী যখনই আমাকে আহবান করে, তখনই আমি তার আহবানে সাড়া দিই’ (বাক্বারাহ ২/১৮৬)।
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُوْنَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُو خِمَاصاً وَتَرُوْحُ بِطَاناً.
‘তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তা‘আলার উপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিযিক্ব দেয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরকেও রিযিক্ব দেয়া হত। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যাবেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে’।[1]
[1]. তিরমিযী হা/২৩৪৪; ইবনু মাজাহ হা/৪১৬৪; মুসনাদে আহমাদ হা/২১০; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১০; মিশকাত হা/৫২৯৯।
