কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সেই ছেলেটি

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়ে গেল। যাই হোক ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ফজরের ছালাত পড়ে নিলাম। তারপর হালকা নাশতা করে বাড়ীর কাজে মনোনিবেশ করলাম। কিন্তু কেন জানি কাজে মনোনিবেশ করতে পারছিলাম না। তারপর হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল গতকালের সেই ঘটনাটা। গতকাল স্কুলে যাবার পথে দেখি পথের ধারে ডাস্টবিনের কাছে কী যেন একটা নড়াচড়া করছে। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি ভাবলাম কুকুর-টুকুর হবে হয়ত। কিন্তু না, কাছে গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার ভিতর কেমন জানি ছ্যাঁৎ করে উঠল। মাথা ঘুরে উঠল। আমি কেমন জানি হতবাক বনে গেলাম। কিছুক্ষণের জন্য বিস্মিত হয়ে গেলাম। আমার মনে হয় না জীবনে আমি আগে কখনো এরকম দৃশ্য দেখেছি। যা দেখছি তা হল, হাড্ডিসার একটি ছেলে ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকা কিছু ছেঁড়া জামাকাপড় গায়ের ওপর টেনে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি ভাবলাম ছেলেটি পাগল নাকি? কিন্তু তৎক্ষণাৎ আমার মনে পড়ে গেল এখন তো শীতকাল, কয়েকদিন ধরে খুব শীত পড়ছে। তখন বুঝতে পারলাম যে, বিবস্ত্র ছেলেটি তার শীত নিবারণের জন্য সেগুলো কম্বল হিসাবে ব্যবহার করছে। এই দৃশ্য দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম এই ভেবে যে, আমরা সবাই আল্লাহ্র বান্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাদেরকে কত ভাল বেসেছেন! আমার মাথায় এই দৃশ্য প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে। আমাদের কি কিছুই করার নেই এসব হতদরিদ্র অভাগীদের জন্য। আসুন! আমরা সবাই নিজেদের জন্য যেমন ভাবি, অনুরূপ তাদের জন্যও কিছু ভাবি ও কিছু করার উদ্যোগ নিই।

 মেহেদী হাসান

দাখিল ফলপ্রার্থী, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ,

ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

Magazine