উত্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো ঋণখেলাপি, যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ঋণখেলাপির এই বিপুল পরিমাণ টাকা যদি সঠিকভাবে আদায় করা যেত, তাহলে দেশের চলমান সংকট হয়তো অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হতো। এক শ্রেণির অসাধু মানুষ ঋণখেলাপিকে সফলতার জাদুর কাঠি ভাবে। প্রভাব খাটিয়ে ঋণ এড়ানোকে নিজের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মনে করে। অথচ খেলাপির উদ্দেশ্যে নেওয়া এই ঋণ তার দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। অর্থাৎ খেলাপির উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়ার অর্থই হলো, ইহকাল-পরকাল ধ্বংস করার দ্বার উন্মুক্ত করা। কারণ ঋণখেলাপী যতক্ষণ তার ঋণ পরিশোধ না করবে, ততক্ষণ অন্য কোনো ইবাদত দিয়ে সে পরকালীন মুক্তি পাবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহই ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৮৬)। অথচ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ ব্যক্তির পুরস্কার হলো জান্নাত তথা যাবতীয় পাপ থেকে মুক্তি। কিন্তু এত বড় পুণ্যের কাজ করেও ঋণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার ঋণ পরিশোধ করা ছাড়া এক ধাপও নড়তে পারবে না। সেদিন তার কাছে ঋণ পরিশোধ করার জন্য টাকা-পয়সা, দীনার-দিরহাম কিছুই থাকবে না। সেদিন তাকে তার নেক আমল দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যদি নেক আমল না থাকে, তাহলে পাওনাদারের পাপের বোঝা নিজের মাথায় নিতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। নবীজি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতেন না। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন কোনো ঋণী ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হতো, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ‘সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ রেখে গেছে কি?’ যদি তাঁকে বলা হতো যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো সম্পদ রেখে গেছে, তখন তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, ‘তোমাদের সাথীর জানাযা আদায় করে নাও’। পরবর্তী সময়ে যখন আল্লাহ তাঁর বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বললেন, ‘আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোনো মুমিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৯৮)। আরেক হাদীছে এসেছে, আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার নিয়্যতে, আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৮৭)। আল্লাহ তাআলা ঋণখেলাপীদের হেদায়াত দান করুন এবং ঋণখেলাপি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখুন- আমীন!
প্রশ্নকারী : মুমতাহিন
বংশাল, ঢাকা।
