মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে বসবাসকারী মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দশ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে মুসলিমরা ইহুদীদের সরিয়ে দিয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনসংখ্যা হিসাবে আবির্ভূত হবে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ এর একটি নতুন গবেষণা এই চিত্র ওঠে এসেছে।
পিউ এর জনসংখ্যা গবেষণা এবং জরিপ ফলাফল অনুযায়ী মোট মার্কিন জনসংখ্যার ১.১ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম। পিউর অনুমান অনুযায়ী ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২.৩৫ মিলিয়ন। মুসলিম জনসংখ্যা দেশটির ইহুদী জনসংখ্যার তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৫০ সালে মোট মার্কিন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৮.১ মিলিয়ন বা ২.১ শতাংশে পৌঁছাবে। প্রকৃতপক্ষে প্রতি বছর গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
‘প্রকৃতপক্ষে, প্রায় প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান মুসলিমদের মধ্যে একজন ভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে থাকে। একইভাবে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা অনেক আমেরিকানদের মাঝে তাদের বিশ্বাসের অনুপস্থিতি দেখা যায়। পিউ গবেষণার পৃথক এক গবেষণায় বলা হয়েছে এই মুসলিম আমেরিকানদের অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অঙ্গীভূত করা নিয়ে আমেরিকানরা সমানভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ আমেরিকানই বিশ্বাস করেন যে, বিভিন্ন বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষদের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক।
এফবিআই’র নতুন ইসলাম বিদ্বেষী ‘ঘৃণা অপরাধের পরিসংখ্যান’ বিশেস্নষণ করে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় বলা হয়েছে এই ইতিবাচকতা সত্ত্বেও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০১ সালে আমেরিকার বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনের হামলার পর থেকেই মুসলিম আমেরিকানদের ওপর আক্রমন্তাক ঘটনা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটিতে মোট ৩০৭টি মুসলিম বিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১৯ শতাংশেরও বেশি।
