উত্তর: ইসলামী শরীআত মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) ব্যক্তির হাতে তার সম্পদ তুলে দিতে নিষেধ করেছে। বরং তার সম্পদ সংরক্ষণ করে তার প্রয়োজন, ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ তুলে দিও না…’ (আন-নিসা, ৪/৫)। পাগল ব্যক্তি তার জ্ঞান-বুদ্ধি না থাকা অবস্থায় গুনাহের জন্য দায়ী নয়। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—তন্মধ্যে পাগল ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৩৯৯)। তবে তার দ্বারা কারও সম্পদ নষ্ট হলে বা আর্থিক ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ তার নিজস্ব সম্পদ থেকেই আদায় করা হবে। পাগল ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পদ অন্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবে না। কারণ জীবিত অবস্থায় কারও সম্পদ মীরছ হিসেবে বণ্টিত হয় না। তার মৃত্যুর পর ঋণ ও বৈধ অছিয়ত পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদ শরীআত নির্ধারিত নিয়মে ওয়ারিছদের মধ্যে বণ্টিত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তাতে পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে এবং নারীদের জন্যও অংশ রয়েছে’ (আন-নিসা, ৪/৭)।
প্রশ্নকারী : মাতিনুর রহমান
নরসিংদী।
