কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১) : দু‘আ করার সময় হাত কীভাবে রাখতে হবে?

উত্তর : দু‘আর বিষয় ও ক্ষেত্রভেদে হস্তদ্বয়কে কীভাবে ও কী পরিমাণ উঁচুতে রাখবে সে ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ছালাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টি প্রার্থনার ছালাতে দু‘আ করার সময় স্বীয় হস্তদ্বয়কে উল্টিয়ে তথা দুই হাতের তালুকে মাটির দিকে এবং অপর পিঠকে আকাশের দিকে করে বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করবে। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকা ছালাত (দু‘আ) ছাড়া অন্য কোন দু‘আয় হাত উঠাতেন না। এ দু‘আয় তিনি এতো উপরে হাত উঠাতেন যে, তার বগলের শুভ্র উজ্জ্বলতা দেখা যেতো (ছহীহ বুখারী, হা/১০৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯৫-৯৬; মিশকাত, হা/১৪৯৮)। অপর বর্ণনায় আছে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আল্লাহর নিকট বৃষ্টি প্রার্থনা করলেন এবং হস্তদ্বয়ের পিঠ আসমানের দিকে করে রাখলেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৬; মিশকাত, হা/১৪৯৯)। আর সাধারণ দু‘আর ক্ষেত্রে হস্তদ্বয় কাঁধ বরাবর সম্প্রসারিত করে তালুকে আকাশের দিকে করে রাখবে। ইবতেহাল বা বিশেষ মিনতি সহকারে দু‘আ করলে হস্তদ্বয়কে পূর্ণ সম্প্রসারিত করবে। ইকরিমা রাযিয়াল্লাহু আনহু ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়ার নিয়ম হলো, তুমি তোমার দুই হাতকে কাঁধ পর্যন্ত অথবা তার কাছাকাছি উঠাবে, ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার নিয়ম হলো তুমি তোমার একটি আঙ্গুল (শাহাদত অঙ্গুলী) দ্বারা ইশারা করবে এবং বেশি মিনতি সহকারে ফরিয়াদ করার নিয়ম হলো তুমি তোমার পূর্ণ হাত সম্প্রসারিত করবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, ফরিয়াদ করা হলো এরূপ, অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত উপরের দিকে উঠালেন এবং হাতের ভিতর দিককে তাঁর চেহারার দিকে রাখলেন (আবুদাঊদ, হা/১৪৮৯ ও ১৪৯০; মিশকাত, হা/২২৫৬)।

-হাফিযুর রহমান

কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

Magazine