তৃতীয়ত: নবুঅতী মানহাজের আলোকে দাওয়াতের পর্যায়সমূহ:
ক. মহান আল্লাহর দিকে প্রকাশ্যে দাওয়াত পেশ করা: কালিমাতুত তাওহীদকে বাস্তবায়িত করা এবং মানুষের অন্তরে এর মৌলিক দাবি ও তাৎপর্যকে সুগভীরভাবে প্রোথিত করার লক্ষ্যে প্রকাশ্যে দাওয়াত দিতে হবে। এটিই হচ্ছে দাওয়াতের অগ্রযাত্রার প্রারম্ভিক ভিত্তি এবং সুসংগঠিত হওয়ার মূল ভিত্তিস্তম্ভ। এটিই হচ্ছে সূচনা—যেমনটি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াতের শুভ সূচনায় বলেছিলেন, قُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ تُفْلِحُوا ‘তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলো, তবেই তোমরা সফলকাম হবে’।
এটিই হচ্ছে শেষ ও চূড়ান্ত পরিণতি—যেমনটি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে, لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ‘তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু বা মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর তালকীন দাও’।
এর মধ্যে এই আত্মিক সত্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, একজন মুসলিমের সমগ্র জীবনপ্রবাহ তাওহীদ-এর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
তাওহীদই হচ্ছে কুরআনে কারীমে আদিষ্ট সর্বপ্রথম বিষয়—যেমনটি সূরা আল-বাক্বারার প্রারম্ভিক অংশে এসেছে,يَٰأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعْبُدُواْ رَبَّكُمُ ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো’ (আল-বাক্বারাহ, ২/২১)।
আর এর বিপরীত ও বিধ্বংসী রূপ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা— যা কুরআনে নিষিদ্ধ সর্বপ্রথম বিষয়; যেমনটি উপর্যুক্ত আয়াতটির পরবর্তী অংশে এসেছে,فَلَا تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ‘সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করিয়ো না’ (আল-বাক্বারাহ, ২/২২)।
কুরআনে আসা সর্বপ্রথম ক্রিয়াপদটি হচ্ছে ইবাদতকে কেবল আল্লাহর জন্য একচ্ছত্র ও একনিষ্ঠ করার ব্যাপারে। এরশাদ হয়েছে,إِيَّاكَ نَعْبُدُ ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি’।
তাওহীদ হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূচনা এবং এটিই এর সমাপ্তি; যা মূলত এই কথারই সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, কুরআনের দুই মলাটের মাঝের সবকিছুই তাওহীদকে বাস্তবায়িত করার জন্য। তাওহীদ হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূচনা, যেমনটি সূরা আল-ফাতিহার শুরুতে এসেছে,الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ‘যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের রব আল্লাহরই জন্য। যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু’ (আল-ফাতিহা, ১/২-৩)। এখানে ‘আল্লাহ’ শব্দটি তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ (ইবাদতে আল্লাহর একত্ব)-এর দিকে ইঙ্গিত করে,رَبِّ الْعَالَمِينَ ‘জগৎসমূহের রব’ শব্দটি তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ (প্রভুত্বে আল্লাহর একত্ব)-এর দিকে ইঙ্গিত করে এবং الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ‘যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু’ শব্দটি তাওহীদুল আসমা ওয়াছ-ছিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে একত্ব)-এর দিকে ইঙ্গিত করে।
শরী‘আতের অকাট্য দলীলসমূহের সামগ্রিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সুপ্রমাণিত তাওহীদের প্রকারভেদ এগুলোই।
আর তাওহীদই হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সমাপ্তি। (আল্লাহ বলেন,)قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ - مَلِكِ النَّاسِ ‘বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের; মানুষের মালিকের’ (আন-নাস, ১১৪/১-২)। সুতরাং মহান আল্লাহ এখানে তাঁর রুবূবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) ও উলূহিয়্যাহ (ইবাদত)-এর তাওহীদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর এই দুই প্রকার তাওহীদ আল্লাহর আসমা ওয়াছ-ছিফাত (নাম ও গুণাবলি) বিষয়ক তাওহীদের অপরিহার্য প্রমাণ বহন করে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে মান্য করাই হলো আল্লাহর নিজ সৃষ্টিকে সৃজন করার মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ‘আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি’ (আয-যারিয়াত, ৫১/৫৬)। অর্থাৎ তারা ইবাদতে কেবল আমাকেই এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে মানবে।
ইবাদতে আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠাই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী ও রাসূলগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম-কে প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ ‘আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক উম্মতের মাঝে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং ত্বাগূতকে বর্জন করো’ (আন-নাহল, ১৬/৩৬)।
সুতরাং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর তাৎপর্যকে পুনরুজ্জীবিত করা, এর অধিকারকে মানুষের অন্তরে গভীরভাবে বদ্ধমূল করা এবং এর পরিপন্থি ও বিধ্বংসী বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করাই হলো সর্বপ্রথম কাজ এবং এটিই হলো সর্বশেষ কাজ। এটিই হচ্ছে জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির মূল লক্ষ্য। নবী-রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাম-এর প্রেরণের প্রধান উদ্দেশ্যও এটিই। এটিই কুরআনের সূচনা এবং এর সমাপ্তি। এটি কুরআনের সর্বপ্রথম নির্দেশ আর এর পরিপন্থি বিষয়গুলোকে বর্জন করা হলো কুরআনের সর্বপ্রথম নিষেধ। সুতরাং এর জন্যই দ্বীনের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, ক্বেবলা নির্ধারিত হয়েছে, জিহাদের তরবারি কোষমুক্ত হয়েছে এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে।
আর মহান আল্লাহর জন্য তাওহীদকে একনিষ্ঠ করার মাধ্যমে সঠিক আক্বীদা পোষণ করাই হলো উপকারী ইলম অর্জনের মূল মাধ্যম। পক্ষান্তরে এর অনুপস্থিতি হলো সত্য ও জ্ঞান থেকে বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَأُوتِينَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَكُنَّا مُسْلِمِينَ - وَصَدَّهَا مَا كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ ‘আর আমাদেরকে এর পূর্বেই জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল এবং আমরা ছিলাম মুসলিম। আর আল্লাহ ব্যতীত সে যার ইবাদত করত, তা-ই তাকে (সঠিক পথ থেকে) নিবৃত্ত রেখেছিল’ (আন-নামল, ২৭/৪২-৪৩)।
সুতরাং তার (রানি বিলকিসের) ইসলাম গ্রহণ ছিল জ্ঞান অর্জনের কারণ। পক্ষান্তরে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত তাকে উপকারী জ্ঞান ও সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত রেখেছিল।
মহান আল্লাহর জন্য তাওহীদকে একনিষ্ঠ করার মাধ্যমে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা হলো ক্ষতি থেকে বাঁচার রক্ষাকবচ। পক্ষান্তরে এর অনুপস্থিতি হলো ধ্বংসের গহ্বরে পতন। আল্লাহ তাআলা বলেন,فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ لَمَّا جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ ‘অতঃপর যখন আপনার রবের নির্দেশ আসল, তখন আল্লাহ ছাড়া তারা যেসব উপাস্যকে ডাকত, তারা তাদের কোনো কাজেই আসল না; বরং তারা কেবল তাদের ধ্বংসই বৃদ্ধি করেছিল’ (হূদ, ১১/১০১)। বুঝা গেল, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের দিকে তাদের ইবাদতকে ফিরিয়ে দেওয়াকে তিনি তাদের ধ্বংস কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
অতএব, আল্লাহর দিকে দাওয়াতের সূচনা এবং তাঁর দ্বীন ও শরী‘আতের দিকে আহ্বানের যাত্রার মূল ভিত্তি সর্বদা এই মহান বাক্য لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ থেকে হওয়া উচিত [যার অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই] এবং কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে এর দাবিগুলোকে গভীরভাবে প্রোথিত করা উচিত।
আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাম-এর এই মানহাজ বা পদ্ধতির ওপরই এই উম্মাহর প্রথম প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ মানুষগণ—ছাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীরা—অগ্রসর হয়েছিলেন। তাঁরা ইসলামকে এর নিজস্ব বিশুদ্ধতা, আলো ও হেদায়াতসহ প্রচার করেছিলেন, যা সংশয় ও প্রবৃত্তির ব্যাধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট নাম বা প্রতীকের মাধ্যমে ইসলামের মূল রেখা ও এর সরল পথ ‘ছিরাতে মুস্তাক্বীম’ থেকে নিজেদেরকে আলাদা করেননি। তাঁরা দাওয়াতের কেন্দ্রভূমি মদীনা মুনাওয়ারা থেকে যাত্রা শুরু করে দিগ্বিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিলেন; কিন্তু তাঁরা لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ -এর দাবির ওপরই ঐক্যবদ্ধ ও মিলিত ছিলেন।
ফলে দাঈদের ভিন্নতা এবং অঞ্চলসমূহের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তাদের দাওয়াত ও এর ফলাফল এক ও অভিন্ন ছিল। আর একারণেই আপনি দেখতে পাবেন, সুন্নাহর আলেমগণ তাঁদের ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতা সত্ত্বেও সুন্নাহকে সাহায্য করার এবং বিদ‘আতকে উন্মোচন করার ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেন। কেননা তাদের মিলের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু হলো কিতাব ও সুন্নাহ। সুন্নাহর গ্রন্থগুলোর প্রতি সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই এটি জানা যায়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইমাম লালকাঈ প্রণীত ‘শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ’ (আহলুস সুন্নাহর আক্বীদার মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা)।
পক্ষান্তরে, দাওয়াত যদি বিভিন্ন দলের (দল-উপদল এবং জামা‘আতসমূহের) নিজস্ব ছক বা প্রতীকের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে অবশ্যই সেখানে বিভাজন এবং মানহাজের ভিন্নতা পাওয়া যায়; যা দাওয়াতী ক্ষেত্রে তাদের সবকিছু উজাড় করে দিলেও নবুঅতের মানহাজের সাথে মেলে না। তাহলে একজন মুসলিম কোন মানহাজটি গ্রহণ করবে? আর আমাদের বর্তমান যুগের অবস্থার প্রেক্ষাপট খেয়াল করলে আপনি দেখতে পাবেন যে, আমি আপনাকে যা বলছি, তা একদমই ঠিক।
আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাম-এর মানহাজ হলো- তাঁদের সকলেই এই বাণীর মাধ্যমে দাওয়াতের সূচনা করেছিলেন:اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৫৯, ৬৫, ৭৩, ৮৫; হূদ, ১১/৫০, ৬১, ৮৪)।
এভাবেই যুগে যুগে শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সর্বশেষ রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের মুজাদ্দিদ তথা সংস্কারকগণ সকলেই এই সুদৃঢ় ও সরল পথের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। যদিও সময়ের পরিক্রমায় নিত্যনতুন ঘটনা ও পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এবং অঞ্চল বা ভূখণ্ডের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে; কিন্তু তাঁরা সকলেই ইবাদতে আল্লাহর একত্বের ঝান্ডা সমুন্নত করার মাধ্যমে, কালিমাতুল ইখলাছকে বাস্তবায়িত করার মাধ্যমে এবং আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে আর এর বাহ্যিক নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা ও এর সূক্ষ্ম রূপগুলো থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে দাওয়াতের সূচনা করেন। এভাবেই আল্লাহর দ্বীন ও শরী‘আতের বিধানাবলি আক্বীদা, কথা ও কর্মে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়ে আসে।
গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, দাওয়াত যখনই এমন রূপ লাভ করে, তখনই এর অনুসারীগণ আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞানে সুগভীর হন এবং বিদ‘আত ও গোমরাহকারী প্রবৃত্তি থেকে সুদূরবিচ্ছিন্ন থাকেন।
পক্ষান্তরে, যেসব ফেরকা (দল-উপদল ও জামা‘আত) তাদের দাওয়াতী মানহাজে এই মূল ভিত্তির বাইরে গড়ে ওঠে, সেগুলো মূলত তাদের প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যক্ষ করা শোচনীয় রাজনৈতিক বা চিন্তাগত পরিস্থিতির একটি প্রতিক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই হয় না। সুতরাং প্রতিষ্ঠাতা যদি উছমানী খিলাফতের পতন প্রত্যক্ষ করে থাকেন, তবে তিনি তাঁর দাওয়াতকে শাসনক্ষমতার দাবি তথা তাওহীদুল হাকিমিয়্যাহ-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রতিষ্ঠাতা যদি মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিচ্ছিন্নতা ও বিশৃঙ্খলা প্রত্যক্ষ করে থাকেন, তবে তিনি গ্রাম-গঞ্জে ও প্রান্তর-মরুভূমিতে বের হওয়ার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার ভিত্তির ওপর তাঁর দাওয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অনুরূপভাবে প্রতিষ্ঠাতা যদি সেই অভিশপ্ত ঢেউ তথা আল্লাহ সুবহানাহুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা প্রত্যক্ষ করে থাকেন, তবে তিনি মহান স্রষ্টা ও রিযিক্বদাতা রবের অস্তিত্ব প্রমাণের মাধ্যমে তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহকে বাস্তবায়িত করার ভিত্তির ওপর তাঁর দাওয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অতএব, যে কোনো দলের উত্থান ও সূচনালগ্নের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করুন, যাতে আপনি জানতে পারেন, তাদের দাওয়াত কোন মূল ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। সুতরাং যা কিছু নবুওয়াতের মানহাজ অর্থাৎ তাওহীদের ঝান্ডা ছাড়া অন্য কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাকে এমন এক দাওয়াতী মানহাজ হিসেবে গণ্য করুন— যা সরল পথের দুই প্রান্তে অবস্থিত এবং এর অনুসারীগণ মুসলিমদের জামা‘আত-এর একটি অংশ হলেও তারা স্বয়ং ‘মুসলিম জামা‘আত’ নয়। আর সাহায্যপ্রাপ্ত দল ও নাজাতপ্রাপ্ত দল-এর সাথে তাদের নৈকট্য বা দূরত্ব নির্ভর করে তাঁদের নিকট বিদ্যমান বা অনুপস্থিত নবুওয়াতের মানহাজ ও তার নূরের পরিমাণের ওপর।
তাহলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের মানহাজের দিকে ফিরে আসার কি কোনো উপায় নেই?!
অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, দাওয়াতের সূচনার মাধ্যম কোনো ছূফী দল ছিল না, কোনো কালামী বা যুক্তিবাদী চিন্তাধারা ছিল না, কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলও ছিল না; এগুলোর কোনো কিছুর মাধ্যমে তা শুরু হয়নি। বরং দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের সূচনা হয়েছিল সর্বপ্রথম ‘তাওহীদে বিশ্বাসী মুসলিম’ গড়ে তোলার মাধ্যমে।
এটিই হলো মূল ভিত্তি থেকে পরবর্তী বিষয়গুলোর দিকে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হওয়ার পদ্ধতি; ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রকৃত অধিকার ও দাবিসহ তাওহীদের এই ঝান্ডার দিকে দাওয়াতী কার্যক্রম শুরু হয়ে শরী‘আতের অন্যান্য বিধানের দিকে দাওয়াতী কাজ চলবে। একজন মুসলিমের আক্বীদা যখন বিশুদ্ধ হয়ে যায় এবং শিরক ও সংশয়ের ময়লা-আবর্জনা থেকে পবিত্র হয়ে যায়, তখন তার শরীর ও অন্তরে লেগে থাকা প্রবৃত্তি ও কামনার পঙ্কিলতাগুলো আপনাতেই ঝরে পড়ে।
পক্ষান্তরে, অন্তরসমূহ যখন সংশয়ের ব্যাধিতে বন্দী, তখন প্রবৃত্তির পঙ্কিলতা দূর করার মাধ্যমে দাওয়াত শুরু করা একটি স্বভাববিরুদ্ধ পদ্ধতি; শরী‘আত একে প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটি আম্বিয়ায়ে কেরামের মানহাজের বিপরীত। (মহান আল্লাহ বলেন,)فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ‘কাজেই আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজ চেহারাকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর ফিতরাত (দ্বীন ইসলাম), যার উপর (চলার যোগ্য করে) তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না’ (আর-রূম, ৩০/৩০)।
সঠিকভিত্তি তৈরি করার পূর্বেই নেতৃত্বের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করা বা চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে ভাবা মূলত এক শূন্যতা থেকে সূচনা মাত্র,যা এক দিক থেকে খারেজীদের পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণএবং এর পরিণতি হলো ফিতনা ও অকল্যাণ।
সারসংক্ষেপ হলো, বিচ্ছিন্ন মানুষকে একত্রিত করার এবং মতভেদকারীদের মাঝে সুসম্পর্ক ও প্রীতি তৈরি করার প্রকৃত বন্ধন হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’[1]-এর বন্ধন। আপনি কি দেখেন না যে, এটিই সেই বন্ধন, যা মুসলিমদের পুরো জামা‘আতকে একটি দেহের মতো বানিয়ে দেয় এবং একে একটি সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো সুসংহত করে, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে। আর এটিই আরশ বহনকারী ও এর চারপাশের ফেরেশতাদের অন্তরকে যমীনের বনূ আদমের প্রতি দয়ার্দ্র ও অনুরাগী করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ - رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ - وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্ৰশংসার সাথে এবং তার উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আপনি তাদের রক্ষা করুন। হে আমাদের রবা! আর আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে, তাদেরকেও৷ নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়। আর আপনি তাদেরকে অপরাধের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে (অপরাধের) খারাপ পরিণতি হতে রক্ষা করবেন, তাকে অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন; আর এটাই মহাসাফল্য!’ (গাফির, ৪০/৭-৯)।
এখানে মহান আল্লাহ ইঙ্গিত করেছেন যে, আরশ বহনকারী ও তার চারপাশের ফেরেশতা এবং যমীনের বনূ আদমের মাঝে যে বন্ধনটি যুক্ত করেছে— যার কারণে তারা আল্লাহর কাছে মানুষের জন্য এই বিরাট দু‘আ করেছিলেন—তা হলো কেবল আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান। কারণ তিনি ফেরেশতাদের সম্পর্কে বলেছেন, وَيُؤْمِنُونَ بِهِ ‘আর তারা তাঁর ওপর ঈমান আনে’। এখানে তিনি ফেরেশতাদেরকে ঈমানের গুণে ভূষিত করেছেন। আর তিনি ফেরেশতাগণ কর্তৃক মানুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন,وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا ‘আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে’। এখানে তিনি বনূ আদমকেও ঈমানের গুণে ভূষিত করেছেন। অতএব, এটি প্রমাণ করে যে, তাঁদের মধ্যকার বন্ধনটি হলো ঈমান, আর এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধন; যেহেতু প্রত্যেকেই ইবাদত ও কামনায় একমাত্র আল্লাহর অভিমুখী হয়।
মোটকথা: মুসলিমদের মাঝে এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, পৃথিবীর অধিবাসীদের পরস্পরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার বন্ধন এবং পৃথিবী ও আকাশের অধিবাসীদের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন হলো: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর বন্ধন। সুতরাং এটি ছাড়া অন্য কোনো বন্ধনের দিকে আহ্বান করা কখনোই বৈধ নয়।[2]
জামা‘আতুল মুসলিমীন বা মুসলিমদের জামা‘আত-এর জন্য এই বন্ধনটি কেবল এমন যোগ্য আলেমের হাত ধরেই সুসম্পন্ন হওয়া সম্ভব, যিনি তাদের মাঝে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর আবশ্যকীয় দাবিগুলোকে সমুন্নত ও পুনরুজ্জীবিত করেন।
মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াতের এই বিরাট স্তরটি মুসলিমরা দুইভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন:
প্রথমত: শাহাদাতাইনের দাবি অনুযায়ী ইবাদতের সমস্ত প্রকারকে একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত করার মাধ্যমে ‘তাওহীদ বাস্তবায়ন’-এর জন্য কাজ করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও উদ্দেশ্যে যেকোনো প্রকারের ইবাদত নিবেদনের ফলে মুসলিমদের তাওহীদের আক্বীদায় শিরকের যে ময়লা-আবর্জনা লেগেছে, তা দূর করে তাওহীদের আক্বীদাকে পরিশুদ্ধ করা। দু‘আ, উদ্ধার প্রার্থনা, সাহায্য প্রার্থনা, ভয়, আশা এবং সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়া ইত্যাদি সব ইবাদতের ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য।
দ্বিতীয়ত: কাফেরদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া; অন্যথা ইসলামের সুবিদিত নিয়মে জিহাদের ঝান্ডা সমুন্নত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ ‘আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না ফিতনা দূর হয় এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়’ (আল-বাক্বারাহ, ২/১৯৩)। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ العُلْيَا ‘যাতে আল্লাহর বাণীই সর্বোচ্চ হয়’।[3]
উল্লেখ্য, মুসলিমগণ হলেন প্রতিটি মুসলিম-এর মূলধন। সুতরাং পৌত্তলিকতা বা মূর্তিপূজার কালিমামুক্ত করে তাদের আক্বীদাকে খাঁটি করা হলো ‘মূলধন রক্ষা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর কাফেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া হলো ‘মুনাফা’ অর্জনের অন্তর্ভুক্ত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুনাফা অর্জনের চেয়ে মূলধন রক্ষা করা সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহই ভালো জানেন।
এটি ইসলামের সার্বজনীনতা অর্থাৎ সতর্কীকরণের মাধ্যমে সার্বজনীনতার অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ - قُمْ فَأَنْذِرْ ‘হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন’ (আল-মুদ্দাছছির, ৭৪/১-২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, فَقُلْ آذَنتُكُمْ عَلَىٰ سَوَاءٍ ‘সুতরাং আপনি বলুন, আমি তোমাদের সকলকে সমানভাবে সতর্ক করেছি’ (আল-আম্বিয়া, ২১/১০৯)। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,بُعِثْتُ إِلَى الْأَحْمَرِ وَالْأَسْوَدِ ‘আমাকে লাল ও কালো (অর্থাৎ সমস্ত বর্ণ ও জাতের) মানুষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে’।[4]
আর রিসালাতের এই সার্বজনীনতা সুবিদিত। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلَّنَاسِ ‘আর আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই (সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে) প্রেরণ করেছি’ (সাবা, ৩৪/২৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন,قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا ‘বলুন, হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৫৮)।
আর এই ভিত্তির ওপরই মক্কার প্রান্তরে দাওয়াতের সূচনা হয়েছিল এবং এই ভিত্তির ওপরই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় তাঁর হিজরতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন -মহান আল্লাহ এই উভয় নগরীকে রক্ষা করুন-।
(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)
মূল: ড. বাকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবূ যায়েদ
পরিমার্জন: সা‘দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুছায়্যিন
অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী
বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
[1]. অর্থাৎ সেই সঠিক অর্থ অনুযায়ী, যা দিয়ে সমস্ত রাসূলকে প্রেরণ করা হয়েছিল:اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غيرُهُ ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই’। [আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই]।
[2]. আযওয়াউল বায়ান, ৩/৪৪৭-৪৪৮ (সংক্ষেপে)।
[3]. বুখারী ও মুসলিম।
[4]. ছহীহ মুসলিম।
