কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বিভিন্ন ইসলামী দল ও জামা‘আতের সাথে যোগদান করার হুকুম (পর্ব-৪)

post title will place here

এই মর্যাদাপূর্ণ উপাধিগুলো অন্য যেকোনো ফেরকার উপাধির চেয়ে মৌলিক তিনটি কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র:

প্রথমত: এগুলো এমন উপাধি বা পরিচয়, যা নবুঅতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত মুসলিম উম্মাহ থেকে কখনই এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং এগুলো প্রথম প্রজন্ম তথা ছাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতিতে এবং জ্ঞান অর্জন, তা অনুধাবনের মূলনীতি ও এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার প্রকৃতির ক্ষেত্রে যাঁরা তাঁদের অনুসরণ করেন, তাদের পদ্ধতিতে সকল মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, এটি নির্দিষ্ট কোনো কাল বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এভাবে বুঝা আবশ্যক যে, এর তাৎপর্য জীবনের ধারাবাহিকতার মতোই চলমান এবং নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলুল হাদীছ ওয়াস সুন্নাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়াটা অবধারিত। আর তাঁরাই হলেন এই মানহাজের ধারক এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা টিকে থাকবেন। এটি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী থেকে গৃহীত:لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ كَذَلِكَ ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; এমনকি আল্লাহর নির্দেশ এসে যাবে, কিন্তু তারা সেভাবেই থাকবে’।[1]

দ্বিতীয়ত: এই উপাধিগুলো সমগ্র ইসলাম তথা পুরো কিতাব ও সুন্নাহকে ধারণ করে। সুতরাং তা এমন কোনো প্রতীকের সাথে নির্দিষ্ট নয়, যা কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থি হতে পারে— তা সংযোজন করেই হোক কিংবা বিয়োজন করে।

তৃতীয়ত: এগুলো এমন উপাধি, যার কিছু ছহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আর এর মধ্যে কিছু উপাধি কেবল প্রবৃত্তিপূজারি ও পথভ্রষ্ট দলগুলোর মানহাজের মোকাবিলায় আত্মপ্রকাশ করেছে; তাদের বিদ‘আত খণ্ডন করতে, তাদের থেকে স্বতন্ত্র হতে, তাদের সাথে সংমিশ্রণ দূরে রাখতে এবং তাদের বর্জন করতে। সুতরাং যখন বিদ‘আতের প্রকাশ ঘটল, তখন তাঁরা ‘সুন্নাহ’-এর মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করলেন। যখন ব্যক্তিগত মতামতের প্রাবল্য দেখা দিল, তখন তাঁরা ‘হাদীছ ও আছার’-এর মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করলেন। আর যখন পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বিদ‘আত ও প্রবৃত্তির বিস্তার ঘটল, তখন তাঁরা ‘সালাফদের হেদায়াত’-এর মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করলেন। এভাবেই চলতে থাকল।

একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো: যদি মুসলিম উম্মাহ এই সমস্ত বিদ‘আত থেকে মুক্ত থেকে ইসলামের সঠিক রূপের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকত- যেমনটা প্রথম প্রজন্ম ও সালাফে ছালেহীনের প্রথম সারির ব্যক্তিবর্গ ছিলেন, তবে বিরোধী না থাকার কারণে আলাদা কোনো উপাধি ও নামের প্রয়োজন হতো না।

চতুর্থত: তাদের নিকট ‘আল-ওয়ালা ওয়াল বারা’ তথা কারো সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করার মূল ভিত্তি হলো নিছক ইসলাম। এটি কোনো নতুন উদ্ভাবিত নাম ও প্রতীকের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং কেবল কিতাব ও সুন্নাহর ওপরই সীমাবদ্ধ।

পঞ্চমত: এই উপাধিগুলো রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ ব্যক্তির এবং তাঁর প্রদর্শিত সুন্নাহ ছাড়া অন্য কোনো আদর্শের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামির দিকে মানুষকে আহ্বান করে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ-কে যখন উম্মাহর বিভক্তি বিষয়ক হাদীছ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘একারণেই তিনি নাজাতপ্রাপ্ত দলকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন... আর অন্যান্য ফেরকা বা দল হলো বিচ্যুতির পথ, বিভাজনের পথ এবং বিদ‘আত ও প্রবৃত্তিপূজার ধারক।

এই ফেরকাগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বহু বিজ্ঞ আলেম তাদের কিতাবসমূহে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দলকে ৭২টি পথভ্রষ্ট ফেরকার অন্তর্ভুক্ত বলে নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তাআলা জ্ঞান ছাড়া কথা বলাকে সাধারণভাবে হারাম করেছেন এবং দ্বীনি বিষয়ে জ্ঞানহীন বক্তব্য দেওয়াকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ‘বলুন, আমার পালনকর্তা কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন— যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন। আর হারাম করেছেন পাপাচার, অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুর শরীক করা, যার সপক্ষে তিনি কোনো দলীল নাযিল করেননি; আর আল্লাহর নামে এমন কিছু বলা, যা তোমরা জানো না’ (আল-আ‘রাফ, ৭/৩৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না’ (আল-ইসরা, ১৭/৩৬)

নিশ্চয়ই হক্ব ও সুন্নাহপন্থিদের একমাত্র আদর্শ ও অনুসরণীয় সত্তা হলেন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি মনগড়া কোনো কথা বলেন না; বরং তিনি যা বলেন, তা ওহী ছাড়া আর কিছুই নয়। সুতরাং তিনিই সেই সত্তা, যাঁর প্রতিটি সংবাদকে বিশ্বাস করা এবং প্রতিটি আদেশকে মান্য করা আবশ্যক।

রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো ইমামের ক্ষেত্রে এই মর্যাদা প্রযোজ্য নয়; বরং তিনি ছাড়া অন্য যে কারো কথা গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে।

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নাজাতপ্রাপ্ত দল হওয়ার ব্যাপারে সবচাইতে বেশি হক্বদার হলেন ‘আহলুল হাদীছ ওয়াস সুন্নাহ’। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া তাদের অন্য কোনো অনুসরণীয় নেতা নেই, যাকে তারা অন্ধভাবে অনুসরণ করেন। তারাই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহ ও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচাইতে বেশি অবগত এবং তাঁর হাদীছের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার পার্থক্য নিরূপণে সবচাইতে বেশি পারদর্শী। তাদের ইমামগণ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহ ও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা সেগুলোর মর্মার্থ সম্পর্কে জ্ঞাত, তাঁরা বিশ্বাস ও আমলের ক্ষেত্রে সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং যারা সুন্নাহকে ভালোবাসে, তাঁরা তাদেরও ভালোবাসেন আর যারা সুন্নাহর শত্রু, তাঁরা তাদেরও শত্রু।

ষষ্ঠত: এই উপাধিগুলো কোনো বিদ‘আত কিংবা পাপের দিকে ধাবিত করে না। এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্বও নেই। যখন ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ বলা হয়, তখন এর অধীনে ইসলামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ অনুসারীগণ অন্তর্ভুক্ত হন। এই নামগুলো অন্য সেই সমস্ত ফেরকার মতো নয়, যারা বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নিজেদের জন্য নতুন নতুন নাম ও প্রতীক তৈরি করেছে।

এখানে ‘সুন্নাহ’ বলতে বিদ‘আতের বিপরীত অর্থকে বোঝানো হয়েছে। যখন মানুষ বিদ‘আতের ফেতনায় আচ্ছন্ন হতে শুরু করল, তখন সুন্নাহর ওপর অটল থাকাই মুসলিম জামা‘আতের মূল পরিচয় হয়ে দাঁড়াল; ফলে তাদেরকে ‘আহলুস সুন্নাহ’ বলা হতে লাগল; যার বিপরীতে ছিল ‘আহলুল বিদ‘আহ’। আর তাদের ‘জামা‘আত’ বলা হয় একারণে যে, তারা মূল আদর্শের ওপর ঐক্যবদ্ধ এবং যারা প্রবৃত্তি ও বিদ‘আতের কারণে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তারা তাদের বিরোধী। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদেরকে ‘জামা‘আত’ নামকরণ করেছেন, কারণ তারা দ্বীনের অনুসরণ করার জন্য জামা‘আতবদ্ধ হয়েছেন; বিদ‘আত করার জন্য নয় এবং তারা ভ্রাতৃত্বের ওপর সংঘবদ্ধ হয়েছেন, কোনো বিভেদ করার জন্য নয়। একারণেই আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন,إِنَّمَا الْجَمَاعَةُ مَا وَافَقَ الْحَقَّ وَإِنْ كُنْتَ وَحْدَكَ ‘জামা‘আত হলো তা-ই, যা হক্বের অনুকূলে থাকে— যদিও আপনি একা হন’।[2]

একারণেই ইসলামের স্কলারগণ আক্বীদার কিতাবসমূহকে ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ নামে নামকরণ করেছেন। কারণ আক্বীদা সরাসরি অনুসরণের সাথে এবং বিদ‘আতকে প্রত্যাখ্যান করার সাথে সম্পৃক্ত।

আর যখন বলা হয়- ‘আস-সালাফ’, ‘আস-সালাফিয়্যূন’ কিংবা ‘আস-সালাফিয়্যাহ’, তখন এর দ্বারা মূলত সালাফে ছালেহীন তথা ছাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের যথাযথ অনুসারীদের দিকে সম্বন্ধ উদ্দেশ্য হয়। ছাহাবায়ে কেরামের পরবর্তীদের মধ্যে যাদেরকে তাদের প্রবৃত্তি বিভ্রান্ত করেছে এবং যারা নতুন কোনো নাম বা নতুন কোনো প্রতীক নিয়ে সালাফে ছালেহীনের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাঁরা তাদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধিত করেন না। একারণেই পরবর্তীদেরকে ‘আল-খালাফ’ বলা হয় এবং তাদের দিকে কেউ নিজেকে সম্বন্ধিত করলে তাকে ‘খালাফী’ বলা হয়।

পক্ষান্তরে, যারা নবুঅতের মানহাজ তথা আদর্শের ওপর অবিচল থাকেন, তারা তাদের সালাফে ছালেহীনের দিকেই সম্পৃক্ত হন। ফলে তাদেরকে ‘আস-সালাফ’ ও ‘আস-সালাফিয়্যূন’ বলা হয়। আর তাদের দিকে পরিচয় প্রদানকারী ব্যক্তিকে ‘সালাফী’ বলা হয়।

এখানে ‘সালাফ’ শব্দটির অর্থ ‘প্রাচীন’ বা ‘পুরানো’ নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাফে ছালেহীনের আদর্শ। ঠিক একইভাবে ‘খালাফ’ (خَلَف) শব্দটি দিয়ে কেবল ‘দেরিতে আসা’ বোঝায় না; বরং এর একটি অর্থ হলো ‘অযোগ্য বা মন্দ উত্তরসূরি’। আর শব্দটির ل অক্ষরে সাকিন দিয়ে শব্দটি যদি ‘খাল্‌ফ’ (خَلْف) হয়, তবে তার একটিমাত্র অর্থ হয়, তা হলো ‘মন্দ উত্তরসূরি’; তখন শব্দটি কোনোভাবেই ভালো উত্তরসূরি বুঝায় না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন, فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ ‘অতঃপর তাদের পরে এক অপদার্থ উত্তরসূরি স্থলাভিষিক্ত হলো...’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৬৯)

অতএব, এখানে ‘সালাফ’ বলতে সালাফে ছালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদেরকেই বোঝানো হয়েছে। এর প্রমাণ হলো— এই শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা সেই সকল ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়, যারা ছাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, এমনকি তারা আমাদের এই বর্তমান যুগের হলেও।

বিজ্ঞ আলেমগণ উক্ত বক্তব্যের উপর একমত। ফলে এটি (সালাফী) এমন কোনো গোষ্ঠীগত পরিচয় নয়, যা কিতাব ও সুন্নাহর গণ্ডির বাইরে; বরং এটি এমন এক পরিচয়, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্ছিন্ন হয়নি। বরং তারা তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের দিকেই সম্বন্ধিত। কিন্তু যারা তাঁদের বিরোধিতা করে নতুন কোনো নামে বা প্রতীকে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয়— যদিও তারা তাঁদের মাঝেই বসবাস করুক-না কেনো। আর ঠিক একারণেই ছাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম কদারিয়া ও মুরজিয়াদের মতো ভ্রান্ত দলগুলো থেকে নিজেদের সম্পর্কহীন ঘোষণা করেছিলেন।

‘যখন ইলমে কালাম বা দর্শনতাত্ত্বিক দলগুলোর মধ্যে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি নিয়ে বিবাদ শুরু হলো, তখন ‘সালাফী’ পরিভাষাটি ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করল। তখন প্রত্যেকেই নিজেদের সালাফদের অনুসারী বলে দাবি করতে চাইল এবং ঘোষণা দিল যে, তারা সে পথেই আছে, যে পথে সালাফগণ ছিলেন। এমতাবস্থায় সালাফী মানহাজের জন্য এমন কিছু সুদৃঢ় ও স্পষ্ট নীতি ও বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন দেখা দিল, যাতে সেসব লোকের নিকট সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ না ঘটে, যারা প্রকৃতপক্ষেই তাঁদের অনুসরণ করতে চায় এবং তাঁদের পথে চলতে চায়’।[3]

‘সালাফদের মানহাজ’ এবং তা প্রমাণের পদ্ধতি নিয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ-এর গভীর ও বিস্তারিত গবেষণা রয়েছে।[4]

তেমনিভাবে যখন ‘আহলুল হাদীছ’ বা ‘আহলুল আছার’ বলা হয়, তখন এর দ্বারা এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা বর্ণনা (রেওয়ায়াত) ও জ্ঞান (দেরায়াত) উভয় ক্ষেত্রেই হাদীছের প্রতি অধিক যত্নশীল এবং তারা ব্যক্তিগত মতামতের চেয়ে হাদীছকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন। এমনকি চার ইমাম রাহিমাহুমুল্লাহ ছিলেন আহলুল হাদীছদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। কারণ তাঁদের প্রত্যেকেই বলেছেন, إِذَا صَحَّ الْحَدِيْثُ فَهُوَ مَذْهَبِيْ ‘হাদীছ যখন ছহীহ প্রমাণিত হবে, তখন সেটিই আমার মাযহাব’।

বস্তুত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত হলো সেই ‘সরল পথ’ (ছিরাতে মুস্তাক্বীম), যা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অঙ্কন করেছিলেন। যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত বিখ্যাত হাদীছে এসেছে— রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সোজা রেখা টেনে বলেছিলেন, هَذَا سَبِيلُ اللهِ ‘এটিই আল্লাহর সরল পথ’। অতঃপর তিনি কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন:وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ‘নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, যা তোমাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে’ (আল-আন‘আম, ৬/১৫৩)

সুতরাং যিনিই এই সরল পথের অনুসরণ করেন, তিনিই ‘জামা‘আতুল মুসলিমীন’। মূলত তিনিই ইসলামের প্রকৃত স্বচ্ছতা ও আলোসহ এবং যে-কোনো ধরনের ভেজালমুক্তভাবে ইসলামকে ধারণ করেন। এর বাইরে যা কিছু আছে, তা হলো বিভ্রান্তি ও বিভাজনের রেখা, যা এই মূল পথের দুই ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এই বিচ্যুতির মাত্রা একেকজনের ক্ষেত্রে তাদের এই মূল পথ ‘ছিরাতে মুস্তাক্বীম’ ও ‘জামা‘আতুল মুসলিমীন’ থেকে নৈকট্য বা দূরত্বের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

এখানেই আমাদের নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুঅতের একটি নিদর্শন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; যেখানে তিনি পূর্বেই সংবাদ দিয়েছিলেন যে, এই উম্মাহ ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে এবং কেবল একটি দলই হবে ‘নাজাতপ্রাপ্ত’ (اَلْفِرْقَةُ النَّاجِيَةُ)। তাদের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, مَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِيْ ‘যারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে, যার ওপর আমি এবং আমার ছাহাবীগণ রয়েছি’তারাই হলো সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল, যাদের সম্পর্কে তিনি বলেন,لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ كَذَلِكَ ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদাই হক্বের উপর বিজয়ী থাকবে। তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করে কেউ তাদের কোনো অনিষ্ট করতে পারবে না। এমনকি এভাবে আল্লাহর আদেশ অর্থাৎ ক্বিয়ামত এসে পড়বে, কিন্তু তারা যেমনটি ছিল তেমনটাই থাকবে’।[5]

অতএব, তারাই হলো ইসলামের প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যূহ, যারা নবুঅতের মানহাজ তথা কিতাব ও সুন্নাহ-এর ওপর অবিচল, এ দু’টির দিকেই দাওয়াত দেন এবং এ দু’টির উপরেই তারা বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (اَلْوَلَاءُ وَالْبَرَاءُ) পোষণ করে থাকেন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ

নানা সংঘাতের মোকাবিলায় মুসলিম জামা‘আত

‘জামা‘আতুল মুসলিমীন’ হলো ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ এবং তারা নবুঅতের মানহাজ তথা কুরআন ও সুন্নাহ-এর ওপর চলেন এবং এ দু’টির ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতার সম্পর্ক (اَلْوَلَاءُ وَالْبَرَاءُ) স্থাপন করেন। জিহাদের ময়দানে এবং ইসলামকে রক্ষার মিশনে মূলত দু’টি ফ্রন্ট তাদের মোকাবিলায় কাজ করে, যে দু’টি মুসলিমদের দুর্বলতা ও বিভক্তির সমস্ত কারণকে ধারণ করে। আর সে দু’টি বিষয় হলো—

প্রথমত: বাহ্যিক বিপদ ও রক্তপিপাসু কাফের, যারা এখনো ইসলামের আলো সম্পর্কে জানেনিতারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করে, তা হচ্ছে বাহ্যিক বিপদ তবে তারা সাধারণত তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না, কেবল ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিভ্রান্ত দলের মাধ্যমে এবং তাদের মধ্য থেকে পরাজিত মানসিকতার দালালদের মাধ্যম ছাড়া। ফলে তারা এদের দিয়ে খুব কাছ থেকে ফেতনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মুসলিমদের সহযোগিতা না করে কাফেরদের সহযোগিতা করে।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ ‘মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করে দেখিয়েছেন যে, ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এবং যুগ যুগ ধরে রাফেযী সম্প্রদায় তাদের চরমপন্থি ও বিচ্যুত দলগুলোর মাধ্যমে এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে।

দ্বিতীয়ত: উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ভাঙন, যা এমন সব দল ও মতবাদের মাধ্যমে ঘটে, যেগুলো মুসলিম উম্মাহর যুবকদের হৃদয়ে ঘুরপাক খায়। এসব দল তাদের গহীনে নানাবিধ ত্রুটি ও ব্যাধি বহন করে এবং এগুলো দলের অনুসারীদেরকে ‘জামা‘আতুল মুসলিমীন’ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই দলগুলোর মাঝে থাকা বিদ‘আত ও প্রবৃত্তির পূজা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মুসলিমদের অনেক শক্তি খর্ব হয়েছে এবং রাত-দিনে তাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়েছে। কেননা দ্বীনের লেবাসে এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন মূলত মুসলিমদের দুর্বলতা নির্দেশ করে, যা তাদের মূলধনে আঘাত হানে।

আর কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় পথ চলা ব্যক্তিবর্গ তথা ‘সাহায্যপ্রাপ্ত দল’ (اَلطَّائِفَةُ الْمَنْصُوْرَةُ) মুসলিমদেরকে কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তাদের এই ভাঙন জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে এক বিশাল ও মহান ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা ওই সমস্ত বিভেদ সৃষ্টিকারী দলসমূহের লালিত ভিত্তিগুলোকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুসলিমদের ভাঙন রোধ করেন, যে ভিত্তিগুলো শরী‘আতের পাল্লায় বাতিল। যেমন: প্রবৃত্তির অনুসরণ, মুতাশাবিহ-এর ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করা, কাশফ (আধ্যাত্মিক উন্মোচন), ইলহাম (অনুপ্রেরণা), স্বপ্ন এবং অন্তরের ফতওয়াকে (আমার অন্তর আমার রবের কাছ থেকে আমাকে বর্ণনা করেছে!) দলীল বানানো। এছাড়াও খবরে ওয়াহেদ পর্যায়ের হাদীছের সমালোচনা করা, কুরআন-হাদীছের নছ বা মূল ভাষ্য যুক্তির বিরোধী বলে দাবি করা, প্রথা বা রীতিনীতিকে ফয়সালাকারী বানানো, বাতিলকে সুশোভিত করা, ইস্তিহসান তথা উত্তম বিবেচনা করা ও মাছালিহ মুরসালাহ তথা উন্মুক্ত জনস্বার্থ-এর দোহাই দিয়ে প্রবৃত্তির পক্ষে দলীল পেশ করা, কুরআন-সুন্নাহর উদ্ধৃতিকে খণ্ডিত করা এবং আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যের মাঝে, বরং সুন্নাহর মাঝে জালিয়াতি করার অপচেষ্টা করা। পাশাপাশি অপব্যাখ্যা ও ভ্রান্ত ক্বিয়াস-এর মাধ্যমে কুরআন-সুন্নায় বিকৃতি সাধন করা এবং ব্যক্তিগত মতামত দ্বারা নাছ বা উদ্ধৃতির বিরোধিতা করা।

তদুপরি অন্ধ গোঁড়ামির কদর্যতা, পীর-মাশায়েখের প্রতি অন্ধ ভক্তি, শরী‘আতের সীমালঙ্ঘন হয়- এমন বিষয়ে তাদের বিরোধিতাকে মারাত্মক বিপদ হিসেবে গণ্য করা, শরী‘আতের উদ্দেশ্যসমূহকে (মাকাছিদ) উপেক্ষা করে কেবল শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর ফয়সালা করা, বাতিলের আধিক্য দিয়ে দলীল পেশ করা, ইচ্ছেমতো মুতলাক্ব (اَلْمُطْلَقُ) দলীলকে মুকাইয়্যাদ (اَلْمُقَيَّدُ) করে দেওয়া এবং ইজমা-এর দাবি তুলে ভীতি প্রদর্শন করা।

আর বিদ‘আতকে ‘হাসানা’ (উত্তম) ও ‘সায়্যিআহ’ (মন্দ)-তে বিভক্ত করার ভুল ধারণার সুযোগ নেওয়া, দলীল গ্রহণের পরিধি বাড়ানোর জন্য টেক্সটের অর্থের বিকৃতি ঘটানো, দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনার ওপর নির্ভর করা, আরবী ভাষার নিয়মনীতি থেকে টেক্সটের বোঝাপড়াকে সরিয়ে নেওয়া, সুন্নাহর সাথে সুন্নাহর সাংঘর্ষিক হওয়ার দাবি তোলা, কুরআনের সাথে সুন্নাহর সাংঘর্ষিক হওয়ার দাবি করা এবং দাবি করা যে, প্রতিটি আয়াতের একটি প্রকাশ্য (যাহির) ও একটি গোপন (বাতিন) অর্থ রয়েছে— এগুলো সবই হলো বিদ‘আতী ও প্রবৃত্তি পূজারিদের দলীল গ্রহণের ভিত্তি বা উৎস।

আর এই বিষয়গুলোর অধিকাংশের স্পষ্ট বর্ণনায় যাঁরা বিশাল অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন— ইমাম আশ-শাতিবী রাহিমাহুল্লাহ; তিনি তাঁর ‘আল-ইতিছাম’ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। আর আমি ‘উছূলুল ইসলাম লি-দারয়িল বিদা‘ আনিল আহকাম’ গ্রন্থে উক্ত বিষয়গুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করেছি। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ ‘আর যাতে করে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়’ (আল-আন‘আম, ৬/৫৫)। অর্থাৎ উক্ত বিষয়গুলো বর্জন করার উদ্দেশ্যে।

আর এখান থেকেই এই উম্মত বিভক্ত হয়ে যাওয়া সম্পর্কে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভবিষ্যদ্বাণীতে নবুঅতের নিদর্শনসমূহের একটি স্পষ্ট প্রমাণ ফুটে ওঠে যে, নাজাত বা মুক্তি কেবল একটি দলের জন্যই নির্ধারিত। আর সেটি হলো ওই দল, যাদের জন্য নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটিতে তাঁর লাঠি দিয়ে দাগ টেনে ‘একটি সোজা পথ’ অঙ্কন করেছিলেন এবং এর দুই পাশে আরও কিছু রেখা টেনেছিলেন; আর বলেছিলেন, সেই (আঁকাবাঁকা) রেখাগুলোর প্রতিটির মাথায় এক একটি শয়তান রয়েছে, যে সেদিকে আহ্বান করছে।

সুতরাং এই সোজা পথ বা সরল রেখাটিই হলো ইসলাম। আর ইসলাম মাত্র একটিই, এর কোনো বহুত্ব বা বিভাজন নেই। এর বাইরে যা কিছু আছে, তা অন্যান্য পথের অন্তর্ভুক্ত; তা ইসলামের একটি অংশ হলেও কখনই তা পূর্ণাঙ্গ ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। আর এর অনুসারী ব্যক্তি মূলত মুসলিমদের একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করে— তার কাছে ইসলামের যতটুকু অংশ রয়েছে, ততটুকুর ভিত্তিতে- কম হলে কম আর বেশি হলে বেশি। অনুরূপভাবে তার কাছে ইসলামের যতটুকু অংশ রয়েছে, ততটুকুর অনুপাতে সে সরল পথ থেকে কাছে বা দূরে রয়েছে। কিন্তু সে প্রকৃতপক্ষে মুসলিমদের মূল জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন।

আর একারণেই যারা কোনো বিশেষ উপাধি গ্রহণ করেননি এবং ইসলামের মৌলিক নীতিমালা ও এর প্রশস্ত গণ্ডি থেকে দূরে সরে যাওয়া কোনো জামা‘আত বা দলের ফ্রেমে নিজেকে বন্দী করেননি, তাঁরাই হলেন মুসলিমদের জামা‘আত আর তাঁরাই হলেন ওই সমস্ত মানুষ, যাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় শরী‘আতের ফ্রন্টলাইনে সুদৃঢ় রয়েছেন এবং এই দু’টির ওপর ভিত্তি করেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

পরিশেষে, মূল উত্তরের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই ৭টি পরিচ্ছেদ উল্লেখের পর এখন এই পুস্তিকার শুরুতে উল্লিখিত প্রশ্নটির উত্তরের বিস্তারিত বিবরণ আপনার সামনে পেশ করা হচ্ছে।

 মূল: ড. বাকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবূ যায়েদ

পরিমার্জন: সা‘দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুছায়্যিন

অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*

বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।


[1]. শায়খ মুহাম্মাদ আমান আল-জামী, ‘আছ-ছিফাতুল ইলাহিয়্যাহ’, পৃ. ৬৪-৬৫; হাদীছটি ইমাম বুখারী, মুসলিম প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।

[2]. বায়হাক্বী, ‘আল-মাদখাল’; লালকাঈ, ‘শারহুস সুন্নাহ’।

[3]. মুহাম্মাদ আমান আল-জামী, আছ-ছিফাতুল ইলাহিয়্যাহ, পৃ. ৫৭-৫৮।

[4]. আল-ফাতাওয়া, ৪/১৪৪-১৬৪।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯২০।

Magazine