সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে শিশু অপহরণ, নিখোঁজ, পাশবিক ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সারা দেশে অন্তত ১৫৫ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নিখোঁজের পর ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ২৪ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই দেশজুড়ে ১৫,৭১৭টি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং টিকটক-লাইকির অপসংস্কৃতিকে পুঁজি করে শহর থেকে গ্রামে বিস্তৃত হচ্ছে ‘কিশোর গ্যাং’। এই গ্যাংগুলো মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যার বড় উদাহরণ কুমিল্লার কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড। প্রচলিত গণমাধ্যম ও ফেসবুক-ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আহাজারি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পাচ্ছে। নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, থানা-পুলিশের সময়মতো জিডি বা মামলা না নেওয়ার প্রবণতা, লজিস্টিক সহায়তার অভাব এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতা এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের চরম ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তোলে। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পতিত হবে।
