উত্তর: ক. বিবাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। একজন মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করা। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজন ব্যক্তি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের বাড়িতে আসল। যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা ইবাদতের পরিমাণ কম মনে করল এবং বলল, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাদের তুলনা হতে পারে না। কারণ তাঁর আগের ও পরের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য হতে একজন বলল, আমি আজীবন রাতভর ছালাত আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সবসময় ছিয়াম পালন করব এবং কখনো বাদ দেব না। অন্য একজন বলল, আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব, কখনও বিয়ে করব না। এরপর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, ‘তোমরা কি ওই সব লোক যারা এমন এমন কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি অনুগত; অথচ আমি ছিয়াম পালন করি, আবার কখনো তা থেকে বিরতও থাকি। আমি (রাতে) ছালাত আদায় করি এবং ঘুমাই। আমি নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যারা আমার আদর্শকে উপেক্ষা করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩)।
এছাড়াও বিবাহের দ্বীনী এবং দুনিয়াবী উপকারিতা রয়েছে।
প্রথমত, দ্বীনী উপকারিতা- ১. তাওহীদপন্থী জনবল বৃদ্ধি করা। সারা পৃথিবীতে তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছানো এবং আল্লাহর কালিমা সুউচ্চ করার লক্ষ্যে তাওহীদপন্থী জনবল বৃদ্ধি করা অতীব প্রয়োজন। আর এক্ষেত্রে বিবাহই একমাত্র মাধ্যম। এজন্য রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেমময় ও অধিক পরিমাণ সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তিনি এই উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করতে পারেন (আবূ দাঊদ, হা/২০৫০)।
২. দৃষ্টি হেফাযত করা (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫)।
৩. লজ্জাস্থান হেফাযত করা (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫)।
৪. হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূরণ করার মাধ্যমে বিশেষ ছওয়াব অর্জন (ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৬)।
দ্বিতীয়ত, দুনিয়াবী উপকারিতা-
১. মানসিক প্রশান্তি লাভ (আর-রূম, ৩০/২১)।
২. অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন (আন-নূর, ২৪/৩২)।
৩. নারীর জন্য উত্তম অভিভাবক নির্ধারণ (আন-নিসা, ৪/৩৪)।
৪. পুরুষের জন্য বাড়ি ও বাড়ির সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা (আন-নিসা, ৪/৩৪)।
৫. পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের স্বাদ আস্বাদন।
৬. বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
৭. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সন্তানদের সমর্থন ও সহযোগিতা লাভ করা।
খ. যেসকল ইমাম ও মুহাদ্দিছগণ বিয়ে করেননি, তাদের কেউ অন্যদেরকে বিয়ে করতে অনুৎসাহিত করেননি। বরং বিবাহ যে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ এ ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। সুতরাং তাদের এই বক্তব্য অনুসরণীয়; তাদের কর্ম অনুসরণীয় নয়। কেননা তাদের বিয়ে না করার মূল কারণ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। কিন্তু বর্তমানে বিবাহ ছাড়া ফিতনামুক্ত থাকার নিশ্চয়তা নেই; বরং ফিতনাগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিবাহ করা আবশ্যক।
প্রশ্নকারী : হানযালা
লালমনিরহাট।
