কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন : (৪) বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের কোনো মানুষ নিজে কেন বীরবংশধরদাবী করতে পারে কি?

উত্তর : শুধু বাংলোদেশ নয় বরং বিশ্বের কেউ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিজেকে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর বংশধর দাবী করতে পারবে না। ভারত, বাংলাদেশের অনেক মানুষ নিজ স্বার্থ ও উদ্দেশ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে নিজেকে أَوْلَادُ الرَّسُوْلْ বা নবীর বংশধর দাবী করতে দেখা যায়। এটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী মাত্র। এমন দাবী করা ইসলামে হারাম। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সত্য আঁকড়ে ধরা তোমাদের একান্ত কর্তব্য। কেননা সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে, আর নেকী জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য বলার অভ্যাস করলে ও সত্যের উপর সংকল্পবদ্ধ হলে, আল্লাহর কাছে সে সত্যবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে সাবধান থাকো! কেননা মিথ্যা পাপের দিকে পরিচালিত করে। আর পাপ (নিশ্চিত জাহান্নামের) অগ্নির দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকলে এবং মিথ্যার উপর সংকল্পবদ্ধ হলে তার নাম আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০৭; মিশকাত, হা/৪৮২৪)। তবে সত্যিকার অর্থে প্রকৃত বংশনামা প্রমাণিত থাকলে এবং স্বীকৃত থাকলে দাবী করতে পারে। যেমন বর্তমানে জর্দানের শাসকগণ সকলের নিকট বানু হাশিম গোত্রের হিসেবে স্বীকৃত। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর রাসূলের বংশনামা শুধু আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু এর বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ নাই; বরং আলে আব্বাস, আলে জাফর, আলে হারিস, আলে আক্বীল সকলেই আলে রাসূলের অর্ন্তভুক্ত। আর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকৃত বংশধরদের জন্য যাকাত হারাম।

প্রশ্নকারী : নাহাল গালীব

পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।


Magazine