করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যত এক দেশ থেকে অন্য দেশ এখন বিচ্ছিন্ন। এই মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চল এখন করোনা আক্রান্ত। এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে যরূরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে। দেশে কার্যত অঘোষিত লকডাউন চলছে। স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন, বাস, লঞ্চসহ গণপরিবহণ বন্ধ। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চলছে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি। যদিও দেশের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্প কারখানা কেউ কেউ বন্ধ রেখেছেন বা খোলাও রেখেছেন। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করে। তখন প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৩ শতাংশের মতো। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস থেকেই রপ্তানি আয় কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.৭৯ শতাংশ। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে বছর শেষে পণ্য রপ্তানি আয়ের চেহারা আরও খারাপ হতে পারে বলে অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীন করোনা ভাইরাস থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে তৈরি পোশাক খাতে। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, ২০২০ সাল হবে অর্থনৈতিকভাবে আরও একটি দুর্বল বছর। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে এখন থেকেই আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।
