কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৬) : আল্লাহর কাছে একান্তভাবে কোনোকিছু চাইলে, সেটা না পাওয়া গেলে, আল্লাহ ভালো কিছু রেখেছেন না-কি পাপের শাস্তি দিচ্ছেন সেটা বুঝার কোনো উপায় আছে কি?

উত্তর : বিশ্বাস রাখতে হবে আল্লাহ তা‘আলা কারও প্রতি অবিচার করেন না। বরং বান্দার জন্য যেটা কল্যাণকর সেটাই করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে সৎ আমল করে সে নিজের কল্যাণের জন্যেই তা করে এবং কেউ মন্দ আমল করলে ওর প্রতিফল সেই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের প্রতি কোনো যুলুম করেন না’ (ফুছছিলাত, ৪৬)। তাই দু‘আ কবুল না হওয়ার সমস্ত কারণ থেকে মুক্ত হয়ে বান্দাকে দু‘আ করতে হবে। দু‘আ করার পরে যদি অবস্থার পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে দু‘আ কবুল হয়েছে। আর অবস্থার পরিবর্তন না হলে বুঝতে হবে এর মধ্যে অন্য কোনো কল্যাণ আছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘মুসলিম যখন অন্য মুসলিমের জন্য দু‘আ করে যার মধ্যে কোনোরূপ গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কথা থাকে না, আল্লাহ তা‘আলা উক্ত দু‘আর বিনিময়ে তাকে তিনটির যেকোনো একটি দান করে থাকেন। (১) তার দু‘আ দ্রুত কবুল করেন অথবা (২) তার প্রতিদান আখিরাতে প্রদান করার জন্য রেখে দেন অথবা (৩) তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট দূর করে দেন’। একথা শুনে ছাহাবীগণ বললেন, তাহলে আমরা বেশি বেশি দু‘আ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দু‘আ কবুলকারী’ (আহমাদ, হা/১১১৪৯; মিশকাত, হা/২২৫৯; ছহীহ, তানক্বীহ, ২/৬৯ পৃ.; হিদায়াতুর রুআত, হা/২১৯৯)।

উল্লেখ্য, উক্ত হাদীছে বর্ণিত শর্তটির সাথে অন্যান্য ছহীহ হাদীছে আরও তিনটি শর্ত বর্ণিত হয়েছে। যথা- দু‘আকারীর খাদ্য, পানীয় ও পোশাক পবিত্র হওয়া (অর্থাৎ হারাম না হওয়া) এবং দু‘আ কবুল হওয়ার জন্য ব্যস্ত না হওয়া (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০; তানক্বীহুর রুয়াত ফী তাখরীজি আহাদীছিল মিশকাত; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), পৃ. ১৩৯)।

-ড. মুহাম্মাদ নাজমুস সাকিব

কাশিমপুর, গাজীপুর।


Magazine