উত্তর : শারঈ পদ্ধতি হচ্ছে ঈদের ছালাত ও খুৎবার পরে ঈদগাহে কুরবানীর করা। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহেই যবেহ করতেন বা নহর করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৫২; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪৫৭)। তবে যরূরী কারণে ঈদের ছালাত আদায়ের পর ও খুৎবার পূর্বে কুরবানী করতে পারে। কেননা ঈদের ছালাতের খুৎবা শ্রবণ করা যরূরী নয়। আব্দুল্লাহ বিন সাইব রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক ঈদের ছালাতে উপস্থিত ছিলাম। ছালাত আদায়ের পর তিনি বলেন, ‘আমরা ঈদের ছালাত পূর্ণ করেছি। সুতরাং যার ইচছা সে খুৎবা শ্রবণের জন্য বসে যাবে আর যার ইচ্ছা সে চলে যেতে পারে’ (ইবনে মাজাহ, ১/৩৮৭, হা/১০৭৩-১৩০৬, ‘ঈদের ছালাতের পর খুৎবার জন্য অপেক্ষা করা’ অনুচ্ছেদ)। তবে নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে খুৎবা শ্রবণ না করে চলে যাওয়া সুন্নাতবিরোধী। কেননা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের পর মানুষের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াতেন এবং মুছলস্নীগণ নিজ নিজ কাতারে বসে থাকতো। তিনি তাদের উপদেশ দিতেন, অছিয়ত করতেন এবং বিভিন্ন কাজের আদেশ দিতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৬; মিশকাত, হা/১৪২৬)। এমনকি ঋতুবতী মহিলাদেরকেও ঈদের মাঠে উপস্থিত হয়ে খুৎবা শোনার জন্য রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; মিশকাত, হা/১৪৩১)।
উলেস্নখ্য যে, কেউ ঈদুল আযহার ছালাতের পূর্বে কিংবা ছালাত চলাকালীন সময়ে কুরবানী করলে সেটি কুরবানী হবে না। বরং তাকে আরেকটি কুরবানী করতে হবে। জুনদুব রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর ঈদে আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। (আমি দেখলাম) তিনি ছালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরিয়ে ছালাত হতে অবসর হওয়া ছাড়া আর কিছু করলেন না। এসময় তিনি কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা ছালাত আদায়ের পূর্বেই যবেহ করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি ছালাত আদায়ের আগে অথবা আমার ছালাত আদায়ের পূর্বে কুরবানীর পশু যবেহ করেছে সে যেন অন্য একটি কুরবানী করে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯৮৫, ৫৫০০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৬০; তাহক্বীক্ব মিশকাত, হা/১৪৭২)।
-মিলন হুসাইন
রহমানপুর, ঠাকুরগাঁও।
