কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪২) : তালাক দেওয়ার জন্য কি সাক্ষী রাখা যরূরী?

উত্তর : তালাক দেওয়ার সময় সাক্ষী রাখা যরূরী নয়। বরং ‘তালাক দিলাম’ বলার সাথে সাথে তালাক সংঘটিত হয়ে যাবে। হোক সেটা অন্তর থেকে কিংবা হাসি-ঠাট্টার ছলে। অথবা হোক সেটা স্ত্রীর উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনটি কাজের চূড়ান্তও চূড়ান্ত, হাসি-তামাশাও চূড়ান্ত। বিবাহ, তালাক ও তালাক দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া’ (আবুদাঊদ, হা/২১৯৪; ইবনু মাজাহ, হা/২০৩৯, সনদ হাসান)। তাই সাক্ষী না রাখলেও তালাক হয়ে যাবে। তবে স্বামী-স্ত্রীর কেউ যেন পরবর্তীতে অস্বীকার করার সুযোগ না পায়, সেজন্য সাক্ষী রাখা ভালো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তাদের উত্তম পন্থায় (নিজের কাছে) রেখে দাও অথবা, উত্তম পন্থায় তালাক দিয়ে দাও। আর তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখো’ (তালাক, ২)। ছাহাবী ইমরান ইবনে হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে আবার তার সাথে মিলিত হয়েছে। কিন্তু তালাক কিংবা ফিরিয়ে নেওয়া কোনটারই সাক্ষী রাখেনি। তখন তিনি বললেন, ‘তুমি রীতি লঙ্ঘন করে তালাক দিয়েছো, আবার ফিরিয়েও নিয়েছো রীতি লঙ্ঘন করে। তালাক দেওয়া কিংবা ফিরিয়ে নেওয়া উভয় ক্ষেত্রেই সাক্ষী রাখো’ (আবুদাঊদ, হা/২১৮৬; ইবনে মাজাহ, হা/২০২৫, হাদীছ ছহীহ)। উক্ত আয়াত ও আছারে যে সাক্ষী রাখার কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ‘ইসতিহ্বাব’ তথা ‘উত্তম পন্থা’ বুঝানোর জন্য। আবশ্যকতা বুঝানোর জন্য নয়।

-আব্দুল জববার

আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।


Magazine