কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪) : এম.এল.এম ব্যবসা করা যাবে কি?

উত্তর : এম.এল.এম বা বহুজাতবিশিষ্ট পণ্য বাজারজাত ব্যবসা পদ্ধতি বর্তমান বাংলাদেশে নতুন একটি ব্যবসা পদ্ধতি হিসাবে ব্যাপকতা লাভ করছে। এটা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং নামে পরিচিত। এম.এল.এম এমন একটি ব্যবসা, যাতে ডিস্ট্রিবিউটরদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রি করার এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাঝে আপলাইন ও ডাউনলাইন নামের বহু স্তরের ডিস্ট্রিবিউটর তৈরি হয়। ডাউনলাইনের কোনো ডিস্ট্রিবিউটর কর্তৃক বিক্রিত পণ্যদ্রব্যের নির্দিষ্ট কমিশন আপলাইনের ডিস্ট্রিবিউটররা অটোমেটিক পেয়ে থাকেন। এ ব্যবসায় পদ্ধতি ইসলামের মূল শ্রমনীতির সাথে দুই দিক হতে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বৈধ নয়। ১. ভিত্তিগত দিক, (substantive and theoretical) : এম.এল.এম এর পদ্ধতি বিভিন্ন সময় ভিন্ন হলেও ভিত্তিগত দিক সব সময় একই থাকে। তা হলো, নিমণ লেভেলের ডিস্ট্রিবিউটরের বিক্রিত পণ্যদ্রব্যের একটি কমিশন সর্বোচ্চ লেভেলের ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পায়। অর্থাৎ শ্রমবিহীন লাভ তারা পায়। যা ইসলামের শ্রমনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো মানুষই অপরের বোঝা বহন করবে না। মানুষ ততটুকুই পাবে সে যতটুকু চেষ্টা করে’ (নাজ্ম, ৩৮-৩৯)। আর তা বিবেক বহির্ভূতও বটে। কারণ একজন শ্রম ও সময় ব্যয় করবে আর অপরজন যাকে সে চেনেওনা সে তার শ্রমের কমিশনের অংশ ভোগ করবে, এটা অযৌক্তিক। ২. পদ্ধতিগত দিক : (ক) শ্রমবিহীন বিনিময় এবং বিনিময়বিহীন শ্রম, যা ইসলামী আইন বহির্ভূত। প্রথমত, এতে একজনের শ্রমের লাভ আরেকজন পায়, যা ইসলাম সমর্থন করে না। দ্বিতীয়ত, বিনিময়বিহীন শ্রম অর্থাৎ একজন ডিস্ট্রিবিউটরের ডান ও বাম উভয় চেইন বা নেট না চললে সে শ্রম দিয়েও পারিশ্রমিক পাবে না, যা ইসলামে হারাম। হাদীছে কুদসীতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তিন শ্রেণির মানুষের সাথে ক্বিয়ামতের দিন ঝগড়া করব। তার একজন হলো, যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করে তার নিকট থেকে কাজ আদায় করার পর মজুরী পরিশোধ করে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২২৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৪৪২; মিশকাত, হা/২৯৮৪)।

(খ) সূদের সাদৃশ্য ও দৃঢ় সন্দেহ। ইসলাম সন্দেহযুক্ত বিষয়কে সমর্থন করে না। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সন্দেহযুক্ত বিষয়কে ত্যাগ করো এবং সন্দেহমুক্ত বিষয়ের প্রতি ধাবিত হও’ (মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭২৩; তিরমিযী, হা/২৫১৮; নাসাঈ, হা/৫৭১১; মিশকাত, হা/২৭৭৩)। (গ) জুয়ার সাদৃশ্য : মহান আল্লাহ জুয়াকে হারাম করেছেন’ (মায়েদাহ, ৯০)। (ঘ) বাতিল পন্থায় অন্যের মাল ভক্ষণ করা : মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা পরস্পরের মধ্যে ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না’ (নিসা, ২৯)। (ঙ) প্রতারণা বা ধোঁকা : ব্যবসা বৈধ হওয়ার জন্য ধোঁকা মুক্ত হওয়া শর্ত। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়’ (ইবনে মাজাহ, হা/২২২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৮৭১)। (চ) বর্ধিত মূল্যে বিক্রয় : রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি বর্ধিত মূল্যে বিক্রয়ের জন্য পণ্য আটকে রাখে, সে পাপি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫; মিশকাত, হা/২৮৯২)। (ছ) একটি চুক্তির জন্য আরেকটিকে শর্ত করা : রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘একই আক্বদের (চুক্তি) জন্য আরেকটিকে শর্ত করা বৈধ নয়’ (তিরমিযী, হা/৩৫০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৬৭১)। এ ছাড়া আরও বহু কারণ রয়েছে, যেগুলো ইসলামী ব্যবসানীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই এই ব্যবসা ইসলামে বৈধ নয়।

-মানিক সিদ্দী

কুমারখালী, কুষ্টিয়া।

Magazine