উত্তর : ‘আমি তোমাদের মাঝে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি তোমরা তা শক্তভাবে ধারণ করো তাহলে পথভ্রষ্ট হবে না’-মর্মে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক. কুরআন এবং আমার সুন্নাত। দুই. কুরআন এবং আমার পরিবার বা আহলে বায়ত। প্রথমত, যে সকল হাদীছে আহলে বায়তের কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা তাদের মর্যাদা বুঝানো হয়েছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৪০৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯২৮৫; মিশকাত, হা/৬১৩১)। দ্বিতীয়ত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল হাদীছে আহলে বায়তের কথা বলেছেন, সেখানে আহলে বায়ত দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, তারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার, তারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল সর্ম্পকে বেশি জানেন তাই তারা যে বিষয়ে বলবেন, তা উম্মাতের জন্য গ্রহণ করা যরূরী এবং তাদের কথা প্রাধান্য প্রাপ্ত (রাওযাতুন নাযের, ১/৪৭০ পৃ.)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কুরআন এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার হাউযে কাউছারে মিলিত হওয়ার পূর্বে একটি আরেকটি হতে কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। সুতরাং আহলে বায়ত কোনো বিষয়ে ঐকমত্য হলে উম্মতের জন্য তা মেনে নেওয়া ভালো। উল্লেখ্য যে, আহলে বায়তের নামে শী‘আ সমাজে যত কথা প্রচলিত আছে তার অধিকাংশই তাদের নামে বানোয়াট মিথ্যা কথা। এ ছাড়া আহলে বায়ত অর্থ শুধু আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু, ফাতেমা রাযিয়াল্লাহু আনহা, হাসান রাযিয়াল্লাহু আনহু, হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে বুঝায় না; বরং আহলে বায়ত বলা হয়, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর যাদের উপর ছাদাক্বাহ হারাম ছিল তাদের সকলকেই। আর তারা হচ্ছেন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল স্ত্রী, বানু আব্দিল মুত্তালিব ও বানু হাশেমের সকলেই। তথা আলে আলী, আলে আববাস, আলে আক্বীল, আলে জা‘ফরের সকল সদস্য আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু চারজনকে আহলে বায়ত হিসাবে গণ্য করা আহলে বায়তকে অপমানের নামান্তর।
-আ. হামিদ
গাজীপুর সদর।
