কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪১) : বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র পক্ষের নিকট কোনো মেয়ের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করলে কি গীবত হবে? আবার দোষ-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও যদি ভালো বলা হয়, তাহলে কি প্রতারণা করা হবে?

উত্তর : বিবাহের ক্ষেত্রে এক পক্ষের কাছে অপর পক্ষের মাঝে থাকা দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তা প্রকাশ করাই উচিত। কারণ কোনো ত্রুটির কথা গোপন করে বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার পর যখন সেই ত্রুটি প্রকাশিত হয়ে যাবে, তখন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হবে। দুই পক্ষের মাঝে দ্বন্দ্ব-কলহ হবে এবং একে-অপরকে প্রতারক মনে করবে। ফাতেমা বিনতে ক্বায়েস তালাক্বপ্রাপ্তা হওয়ার পর ইদ্দত পালন শেষে যখন তাকে মু‘আবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং আবূ জাহ্ম রাযিয়াল্লাহু আনহু বিবাহের প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মু‘আবিয়া তো নিঃস্ব মানুষ, তার কোনো সম্পদ নেই। আর আবূ জাহম স্ত্রীকে অধিক মারধর করে। সুতরাং তুমি উসামা ইবনে যায়েদকে বিবাহ করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৮০; ইবনে মাজাহ, হা/১৮৬৯; মিশকাত, হা/৩৩২৪)। যেসব দোষ-ত্রুটি কিংবা রোগ-ব্যাধি বিবাহের উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করে, সেসব ত্রুটি ও রোগ-ব্যাধির কথা দুই পক্ষেরই একে-অপরকে জানিয়ে দেওয়া যরূরী। তা না জানালে ধোঁকাবাজ ও প্রতারক বলে সাব্যস্ত হবে। আর দোষ-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ‘ভালো’ বলা তো চরম মিথ্যাচার ও প্রতারণা। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে আমাদের ধোঁকা দিল, সে আমাদের আদর্শভুক্ত নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১; মিশকাত, হা/৩৫২০)।

-জুয়েল বিন মনিরুল ইসলাম

 পত্নীতলা, নওগাঁ।


Magazine