উত্তর : ‘পীর’ (پیر) শব্দটি ফারসী শব্দ। এর অর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ। ব্যবহারিকভাবে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ উভয়কেই ‘পীর’ বলা হয়। মূলত সূফীবাদী বা তাসাওউফপন্থীদের গুরুকে ‘পীর’ নামে অভিহিত করা হয় (পীরবাদের বেড়াজালে ইসলাম, পৃ. ৩৬)। তৃতীয় শতাব্দী হিজরীতে গ্রীক, পারসিক ও হিন্দু সভ্যতার সংমিশ্রণে পীর-মুরীদী প্রথার উৎপত্তি হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমরা একসময় তাদের ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা প্রদানকারী ব্যক্তিকে ‘পীর’ নামে অভিহিত করতো। যা এখনো বহু জায়গায় প্রচলিত আছে। ১৯৮১ সালের সরকারী হিসাব মতে এদেশে প্রায় দুই লক্ষ আটানববই হাজার ‘পীর’ রয়েছে। যারা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে ‘অসীলা’ হিসাবে পূজিত হচ্ছে। তারা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন জঘন্য বুলি, নিয়ম-নীতি ও নোংরা দর্শনের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে যেমন ধোঁকা দিচ্ছে, তেমনি ভ্রান্তিতে নিপতিত করে পকেট ছাপ করছে। জীবিত হৌক বা মৃত হৌক তাদের সন্তুষ্টির উপরে মুরীদের ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মুক্তি নির্ভর করে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এদের মতে পীরকে কামনা করা আল্লাহকে কামনা করার শামিল (নাঊযুবিল্লাহ)।
অথচ ইসলামী শরী‘আতে পীর ধরা বা মুরীদ হওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয কাজ। কারণ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ এমনকি তাবে-তাবেঈনের যুগে পীর-মুরীদীর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো পীরের অনুসরণ করার নির্দেশ দেননি। বরং মহান আল্লাহ তার ‘অসীলা’ তথা নৈকট্য অন্বেষণ করতে বলেছেন (আল-মায়েদাহ, ৫/৩৫)। এর অর্থ ‘পীর’ বা কোনো মাধ্যম ধরা নয়। বরং এর অর্থ ‘তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে’ তাঁর নৈকট্য সন্ধান করা (তাফসীরে ইবনে কাছীর, উক্ত আয়াতের তাফসীর দ্র.)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি রসূল এ উদ্দেশেই প্রেরণ করেছি, যেন আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হয়’ (আন-নিসা ৪/৬৪)। অপর আয়াতে তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তোমাদের নেতার আনুগত্য করো’ (আন-নিসা, ৪/৫৯)। যিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১২৯৮; মিশকাত, হা/৩৬৬২)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পীরও ধরতে বলেননি। বরং তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭; মিশকাত, হা/১৬৫)। অতএব, পরকালে জান্নাত পিয়াসী প্রত্যেক মুসলিম সঠিক দ্বীন পাওয়ার জন্য পীর না ধরে বরং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে তথা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে জীবন চলার একমাত্র পথপ্রদর্শক হিসাবে গ্রহণ করবে। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
-শামসুযযামান
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
