উত্তর : ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ পুরোটাই পড়বে কুরআন তেলাওয়াতের শুরুতে। চাই তা ছালাতে হোক কিংবা ছালাতের বাইরে যখনই হোক না কেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৪০০; আবূ দাঊদ, হা/৭৭৮; মিশকাত, হা/২২১৮) এবং লিখবে চিঠি-পত্রের শুরুতে। যেমন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোম-পারস্যের সম্রাটদের কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তাতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ লেখা ছিল (ছহীহ বুখারী, হা/৭)। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় যে চুক্তিনামা লেখা হয়েছিল, তাতেও তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পূর্ণ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ লেখার কথা বলেছিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩১, ২৭৩২)। আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে বাহরাইনের গভর্নর হিসাবে পাঠানোর সময় যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতেও পূর্ণ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ লেখা ছিল (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৫৪)। এছাড়া ওযূ, গোসল ও খানা-পিনাসহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। যেমন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে না, তার ওযূ হয় না’ (তিরমিযী হা/২৫; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খাবে, সে যেন বিসমিল্লাহ বলে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৭৬৭; ইবনু মাজাহ, হা/৩২৬৪)। জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তুমি তোমার দরজা বন্ধ করো। কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে বাতি নিভিয়ে দাও। একটু কাঠখড়ি হলেও আড়াআড়িভাবে রেখে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাত্রের মুখ ঢেকে রাখো। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পানির পাত্র ঢেকে রাখো’ (বুখারী, হা/৩২৮০; মুসলিম, হা/২০১২; আবূ দাঊদ, হা/৩৭৩১; তিরমিযী, হা/২৮৫৭)।
-নাজনীন পারভীন
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।
