কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৪) : ২০১৫ সালের প্রথম দিকে পারিবারিকভাবে একটা মেয়ের সাথে আমার বিয়ের কাবিন করে রাখা হয়। তার ৪-৫ মাস পরে কিছু মোহর বাকি রেখে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের কাছ হতে উপহার হিসাবে প্রাপ্ত স্বর্ণালংকারগুলো তাকে দেনমোহর হিসাবে দিয়ে দেই। যার পরিমাণ ছিল বাকি মোহরের চেয়ে অনেক বেশি। বিয়ের কিছুদিন পরে ব্যবসায় লস এবং আমার মায়ের ক্যান্সারের কারণে আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়। তখন থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে ছেড়ে দেবার জন্য তার প্রতি চাপ সৃষ্টি করে অন্যথা তাকে ত্যাজ্য করার হুমকি দেয়। এরপর শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিছুদিন আগে সে তার পিতার বাড়ি বেড়াতে যায়। তার কয়েক দিন পরেই শুনতে পেলাম কাবিননামার ১৮ নং ধারার ক্ষমতাবলে সে আমাকে তালাক দিয়েছে। তবে আমি তালাকের কোনো নোটিশ পাইনি। এ বিষয়ে আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, সে কিছু বলতে পারে না। তবে এক মৌলভীর কাছে শুনেছে যে, তালাক হয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো, এভাবে কি আমাদের তালাক হবে?

উত্তর : প্রশ্নোলিস্নখিত পদ্ধতিতে দেওয়া তালাক, তালাক বলে গণ্য হবে না। কারণ তালাক দেওয়ার অধিকার কেবল স্বামীরই আছে। স্ত্রীর পক্ষ থেকে যে তালাক নেওয়া হয় তাকে ‘খোলা’ বলা হয়। খোলা তালাকে স্ত্রীকে দায়িত্বশীলদের সামনে সংসার না করার স্বীকৃতি প্রকাশ করতে হবে। যেমন ছাবেত ইবনু ক্বায়েসের স্ত্রী করেছিলেন (আবূ দাঊদ হা/২২২৯; বুলূগুল মারাম হা/১০৬৬)। যেহেতু স্ত্রী তালাক দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানে না, সেহেতু স্পষ্ট হয় যে, স্ত্রী খোলা হিসাবেও তালাক গ্রহণ করেনি। তাই শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাদের মাঝে তালাক হয়নি।

-শাহিন আলম

তানোর, রাজশাহী।


Magazine