উত্তর : ঋতুবতী অবস্থায় মহিলারা কুরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াত করতে পারে এবং কুরআনের আয়াত ও অনুবাদ সম্বলিত অন্যান্য ইসলামী গ্রন্থ, হাদীছ ও তাফসীর গ্রন্থ, সাধারণ যিকির-আযকার ও দু‘আ-দরূদের বই-পুস্তকসমূহ স্পর্শ করতে ও পড়তে পারে। সাথে সাথে সকল প্রকার তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ঋতুবতী মহিলাগণ ঈদের খুৎবা ও দু‘আয় শরীক হতেন। উম্মু আত্বিয়্যা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ঈদের দিনে ঋতুবতী ও পর্দানশিন মহিলাদেরকে ঈদের মাঠে বের করার জন্য আমাদের আদেশ করা হয়েছে। তবে ঋতুবতী মহিলারা মুছল্লা থেকে পৃথক থাকবে এবং মুসলিমদের জামাআতে ও দু‘আতে শরীক হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০; মিশকাত, হা/১৪৩১)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি ঋতুবতী হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহ ত্বাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব অনুষ্ঠান পালন করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/২৫৭২)। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, ঋতুবতী মহিলার কুরআনের আয়াত পড়াতে কোনো দোষ নেই (ছহীহ বুখারী, পবিত্রতা অধ্যায়) ইবনু আব্বাস নাপাক ব্যক্তির জন্য কুরআন পড়াকে দোষের কিছু মনে করতেন না (ছহীহ বুখারী, পবিত্রতা অধ্যায়)। তাছাড়া অপবিত্র অবস্থায় যে কুরআন স্পর্শ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তা হলো মূল কুরআন (মুগনী শারহুল কাবীর, ২/৭৫)।
-আক্বীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।
