কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (১৯) : মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা কি যে কোনো দিন তার জন্য হাত তুলে কবর যিয়ারত করতে পারে?

উত্তর : কোনো দিন নির্ধারণ করে দলবদ্ধভাবে কবরের কাছে গিয়ে সবাই মিলে হাত তুলে দু‘আ করার যে প্রথা সমাজে চালু আছে, তার শারঈ কোনো ভিত্তি নেই। তাই কোনো দিন নির্ধারণ না করে যে কোনো দিনে, যে কোনো সময়ে সন্তানেরা একাকী মৃত ব্যক্তির জন্য ক্বিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে দু‘আ করতে পারে (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৫৫, ১/৩১৩; মিশকাত, হা/১৭৬৭)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রাত্রিতে তার নিকট রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম–এর থাকার পালা আসত, সে রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে ‘বাক্বী’-এর দিকে বের হতেন এবং বলতেন,اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِيْنَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوْعَدُوْنَ غَدًا مُؤَجَّلُوْنَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُوْنَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَهْلِ بَقِيْعِ الْغَرْقَدِ অর্থ : ‘হে মুমিন দলের বাসস্থানের অধিবাসীগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদেরকে ক্বিয়ামতের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কি তোমরা পেয়ে গেছ? অবশ্যই আল্লাহ যদি চায় আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ! আপনি বাক্বী গারক্বাদের অধিবাসীদের ক্ষমা করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৭৪; মিশকাত, হা/১৭৬৬)। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, জনৈকা ইয়াহূদী মহিলা আমার দরজায় এসে খেতে চাইল ও বলল, আমাকে খেতে দিন, আল্লাহ আপনাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাবের ফিতনা হতে পরিত্রাণ দিবেন। তখন আমি তাকে রাসূল ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম বাড়ি ফিরে আসা পর্যন্ত ধরে রাখলাম। অতঃপর রাসূল ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম যখন আসলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম! এই ইয়াহূদী মহিলা কী বলে? নবী ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, সে কী বলছে? আমি বললাম, সে বলছে আল্লাহ আপনাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাবের ফিতনা হতে রক্ষা করুন। তখন রাসূল ছাল্লাল্লা-হ আলাইহে ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং পূর্ণ হাত তুলে দু‘আ করলেন। এ সময় তিনি দাজ্জালের ফিতনা ও কবরের আযাবের ফিতনা হতে পরিত্রাণ চাচ্ছিলেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৮৩১, ২৮৯৭০, সনদ ছহীহ)।

-রওশন আলী

 বাঘা, রাজশাহী।


Magazine