কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

কুরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে তাওহীদের আলো ও শিরকের অন্ধকার

তাওহীদের আলো

তাওহীদের মর্মার্থ :

সাধারণ অর্থে ‘তাওহীদ’ হল,

العِلْمُ وَالاِعْتِرَافُ المَقْرُونُ بِالاِعْتِقَادِ الجَازِمِ بِتَفَرُّدِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ بِالأَسْمَاءِ الحُسْنَى وَتَوَحُّدِهِ بِصِفَاتِ الكَمَالِ وَالعَظْمَةِ وَالجَلَالِ وإِفْرَادِهِ وَحْدَهِ بِالعِبَادَةِ.

‘আল্লাহ তা‘আলার সুন্দরতম নামসমূহ, তার মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও পরিপূর্ণ গুণাবলী এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর একত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস সম্বলিত স্বীকৃতি’।[1] আল্লাহ তা‘আলার বাণী, وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيْمُ ‘তোমাদের ইলাহ হচ্ছেন এক আল্লাহ, তিনি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। তিনি পরম করুণাময়, অতীব দয়ালু’ (বাক্বারাহ, ২/১৬৩)

আল্লামা সা‘দী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

أَيْ مُتَوَحِّدٌ مُنْفَرِدٌ فِي ذَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ، وَصْفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، فَلَيْسَ لَهُ شَرِيْكٌ فِي ذَاتِهِ وَلَا سَمِيٌّ لَهُ وَلَا كُفُءٌ وَلَا مَثَلٌ وَلَا نَظِيْرٌ وَلَا خَالِقٌ وَلَا مُدَبِّرٌ غَيْرَهُ فَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ فَهُوَ المُسْتَحِقُّ لِأَنْ يُوَلَّهُ وَيُعْبَدُ بِجَمِيعِ أَنْوَاعِ العِبَادَةِ وَلَا يُشْرِكُ بِهِ أَحَدٌ مِنْ خَلْقِهِ.

‘আল্লাহ তার সত্তা, নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাদির ক্ষেত্রে তিনি একক। তাঁর কোন সমতুল্য বা সমকক্ষ নেই, তাঁর কোন ধরন ও নযীর নেই। তিনি ব্যতীত কোন সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালনাকারী নেই। যদি তাই হয়, তাহলে তিনিই একমাত্র উপযুক্ত ভালবাসা পাওয়ার, সর্বপ্রকার ইবাদত নিবেদনের। আর তার সৃষ্টির কেউ যেন তার সাথে কাউকে শরীক না করে’।[2]

তাওহীদ সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি উজ্জ্বল দলীল :

পবিত্র কুরআনে এবং নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীছে বহু স্পষ্ট দলীল রয়েছে। নিমেণ কয়েকটি দেওয়া হল :

(১) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ مَا أُرِيْدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيْدُ أَن يُطْعِمُوْنِ إِنَّ اللهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِيْنُ.

‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ইবাদত করবে। আমি তাদের থেকে রিযিক চাই না, আর আমি এও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে। আল্লাহই তো রিযিকদাতা, মহাশক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত’ (যারিয়াত, ৫১/৫৬-৫৮)। এর অর্থ হচ্ছে, ‘আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই একত্বের স্বীকার করবে’।[3]

(২) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِيْ كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُوْلًا أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوْتَ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ.

‘প্রত্যেক জাতির নিকট আমি রাসূল পাঠিয়েছি (এ সংবাদ দিয়ে) যে, আল্লাহ্র ইবাদত কর আর ত্বাগূতকে বর্জন কর। অতঃপর আল্লাহ তাদের মধ্যে কতককে সৎপথ দেখিয়েছেন, আর কতকের উপর অবধারিত হয়েছে গোমরাহী’ (নাহ্ল ১৬/৩৬)

يُخْبِرُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ حُجَّتَهُ قَامَتْ عَلَى جَمِيعِ الأُمَمِ وَأَنَّهُ مَا مِنْ أُمَّةٍ مُتَقَدِّمَةٍ أَوْ مُتَأَخِّرَةٍ إِلَّا وَبَعَثَ اللهُ فِيهَا رَسُولًا وَكُلُّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى دَعْوَةٍ وَاحِدَةٍ وَدِيْنٍ وَاحِدٍ وَهُوَ عِبَادَةُ اللهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فَانْقَسَمَتِ الأُمَمُ بِحَسَبِ اسْتِجَابَتِهَا لِدَعْوَةِ الرُّسُلِ قِسْمَيْنِ {فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللهُ} فَاتَّبَعُوا المُرْسَلِينَ {وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} فَأَتْبَعَ سَبِيلَ الْغَيِّ.

‘আল্লাহ তা‘আলা নিজেই জানাচ্ছেন যে, তার প্রমাণ সকল উম্মতের উপর ক্বায়েম হয়ে গেছে। পূর্বে অথবা পরে এমন কোন উম্মত নেই, যেখানে আমি রাসূল প্রেরণ করিনি। প্রত্যেক নবী-রাসূলই একই দাওয়াত ও দ্বীনের উপর একমত ছিলেন। আর সেই দাওয়াতটি হল, এককভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করা, তার সাথে কাউকে শরীক না করা। রাসূলগণের দাওয়াত গ্রহণ করার ব্যাপারে সকল উম্মত দুই শ্রেণীতে বিভক্ত: প্রথম শ্রেণী : ‘যারা সৎপথের অনুসরণ করে’ অর্থাৎ রাসূলের অনুসরণ করে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী: ‘যাদের উপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে’ অর্থাৎ ভ্রান্ত পথের অনুসরণ করে’।[4]

(৩) আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُوْلٍ إِلَّا نُوْحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَاْ فَاعْبُدُوْنِ.

‘আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূলই পাঠাইনি, যার প্রতি আমি অহি করিনি যে, আমি ব্যতীত সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। কাজেই তোমরা আমার ইবাদত কর’ (আম্বিয়া ২১/২৫)

فَكُلُّ الرُّسُلِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَبْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زُبْدَةُ رِسَالَتِهِمْ وَأَصْلُهَا الأَمْرُ بِعِبَادَةِ اللهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبَيَانٌ أَنَّهُ الإِلَهُ الْحَقُّ المَعْبُودُ وَأَنَّ عِبَادَةَ مَا سِوَاهُ بَاطِلَةٌ.

‘নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে সকল নবী আলাইহিমুস সালাম-এর রিসালাতের (মিশনের) সারাংশ ও মূল ভিত্তি হল, এক আল্লাহ্র ইবাদতের আদেশ করা, যার কোন শরীক নেই। আর এর বর্ণনা করা যে, তিনিই একমাত্র হক্ব মা‘বূদ এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত বাতিল’।[5]

এজন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُوْنِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُوْنَ ‘আমি তোমার পূর্বে যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞেস কর- আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ স্থির করেছিলাম, যাদের ইবাদত করতে হবে’ (যুখরুফ ৪৩/৪৫)

(৪) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوْا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا.

‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং মাতা-পিতার সাথে ভাল ব্যবহার করবে’ (ইসরা ১৭/২৩)

فالله عزَّ وجلَّ قضى ووصَّى وحكم وأمر بالتوحيد فقال {وَقَضَى رَبُّكَ} قضاءً دينيًا وأمرًا شرعيًّا {أَلاَّ تَعْبُدُواْ} أحدًا من أهل الأرض والسماوات الأحياء والأموات {إِلاَّ إِيَّاهُ} لأنه الواحد الأحد الفرد الصمد.

‘এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে তাওহীদ অবলম্বনের অছিয়ত ও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন’ অর্থাৎ শারঈ নির্দেশ দিয়েছেন। ‘তোমরা কারো ইবাদত করবে না’ অর্থাৎ আসমান ও যমীনের মধ্য হতে জীবিত অথবা মৃত কারই ইবাদত করবে না। ‘তিনি ব্যতীত’ কেননা তিনি এক, একক, অদ্বিতীয় এবং অমুখাপেক্ষী’।[6]

(৫) পূর্ববর্তী নবীগণ আলাইহিমুস সালাম তাঁদের উম্মতকে লক্ষ্য করে বলেন,

يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ.

‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন ইলাহ নেই’ (আ‘রাফ ৭/৫৯-৬৫)

وَالمَعْنَى اُعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ لِأَنَّهُ الخَالِقُ الرَّازِقُ المُدَبِّرُ لِجَمِيعِ الأُمُورِ وَمَا سِوَاهُ مَخْلُوقٌ مُدَبَّرٌ لَيْسَ لَهُ مِنْ الأَمْرِ شَيْءٌ.

‘এর অর্থ হচ্ছে, তোমরা এক আল্লাহ্র ইবাদত কর। কেননা তিনি স্রষ্টা, রিযিকদাতা ও সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। তিনি ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রিত, তাদের কোন কর্তৃত্ব নেই’।[7]

(৬) আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

وَمَا أُمِرُوْا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ.

‘তাদেরকে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে আদেশ করা হয়েছে তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে’ (বাইয়েনাহ ৯৮/৫)

(৭) আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

قُلْ إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ.

‘বলো, আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ (সবকিছুই) বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্যই। তাঁর কোন শরীক নেই, আমাকে এরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে আর আমিই সর্বপ্রথম আত্মসমর্পণকারী’ (আন‘আম ৬/১৬২-১৬৩)

أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ نَبِيَّهُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ لِلْمُشْرِكِيْنَ إِنَّ صَلَاتِيْ وَذَبْحِيْ وَحَيَاتِيْ وَمَا آتِيهِ فِيْهَا وَمَا يُجْرِيْهِ اللهُ عَلَيَّ وَمَا يُقَدِّرُ عَلَيَّ فِي الجَمِيعِ لِلهِ رَبِّ العَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي العِبَادَةِ كَمَا أَنْهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي المُلْكِ وَالتَّدْبِيرِ وَبِذَلِكَ أَمَرَنِيْ رَبِّي وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ أَقَرَّ وَأَذْعَنَ وَخَضَعَ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ لِرَبِّهِ.

‘আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করেছেন যে, তিনি যেন মুশরিকদের বলে দেন, আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং এ জীবনে আমি যা কিছু করি ও যা কিছু আল্লাহ তা‘আলা আমার উপর নির্ধারণ করেছেন, সবকিছুই মহান প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার জন্য। ইবাদতের ক্ষেত্রে যেমন তার কোন অংশীদারিত্ব নেই, তেমনি ক্ষমতা ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার কোন অংশীদারিত্ব নেই। আমার রব আমাকে এমনই আদেশ করেছেন। আর এই উম্মতের মধ্য হতে তাঁর বিনয়ী, নম্র ও স্বীকৃতিদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি’।[8]

(৮) হাদীছে এসেছে,

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ يَا مُعَاذُ! هَلْ تَدْرِيْ مَا حَقُّ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ قُلْتُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ حَقُّ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ أَنْ يَعْبُدُوْهُ وَلَا يُشْرِكُوْا بِهِ شَيْئًا ثُمَّ سَارَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ يَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ هَلْ تَدْرِيْ مَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ إِذَا فَعَلُوْهُ قُلْتُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا.

(৮) মু‘আয ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে মু‘আয! তুমি কি জানো, বান্দার উপর আল্লাহ্র অধিকার কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘বান্দার উপর আল্লাহ্র অধিকার এই যে, তাঁরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে আর অন্য কিছুকে তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। অতঃপর বললেন, ‘হে মু‘আয! ‘বান্দারা যখন তাদের দায়িত্ব পালন করবে, তখন আল্লাহ্র উপর বান্দার অধিকার কী, তা জানো কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহ্র উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না, যে অন্য কিছুকে তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করবে না’।[9]

‘এই মহামূল্যবান হাদীছ স্পষ্ট করে যে, বান্দার উপর আল্লাহ্র অধিকার হচ্ছে, ইবাদতের ক্ষেত্রে একমাত্র তারই ইবাদত করা, অন্য কারো নয়। তাঁর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার না করা। আর আল্লাহ্র উপর বান্দার অধিকার হল, যে আল্লাহ্র সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করেনি, তাকে শাস্তি না দেওয়া। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্র উপর বান্দার অধিকার হচ্ছে বান্দার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ ও বাস্তবায়ন করা প্রতিদানের মাধ্যমে। তাঁর কথাই সত্য, তিনি কথায় মিথ্যা ও কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেন না তাঁর সৃষ্টিজীবের মত। তিনি নিজের উপর অত্যাচারকে হারাম করেছেন আর রহমত নির্ধারণ করেছেন’।[10]

(৯) অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنْ عُتْبَانِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: .... فَإِنَّ اللهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللهِ.

উতবান ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেন,...... ‘আল্লাহ্ তা‘আলা তো এমন ব্যক্তির উপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলে’।[11] 

(চলবে)

মূল : ড. সাঈদ ইবনু আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-ক্বাহত্বানী

অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হুসাইন 


[1]. শায়খ আব্দুর রহমান ইবনু নাছির সা‘দী, আল-কওলুস্ সাদীদ ফী মাক্বাছিদিত তাওহীদ, পৃঃ ১৮।

[2]. শায়খ আব্দুর রহমান ইবনু নাছির ইবনু সা‘দী, তায়সীরুল কারীমির রাহমান ফী তাফসীরি কালামুল মান্নান, পৃঃ ৬০।

[3]. কুরতুবী, আল-জামেঊল আহকামিল কুরআনুল কারীম, ১৭/৫৭ পৃঃ।

[4]. শায়খ আব্দুর রহমান ইবনু নাছির সা‘দী, তায়সীরুল কারীমির রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃঃ ৩৯৩।

[5]. ত্ববারী, জামে‘উল বায়ান আন তা’বীলি আ-ইল কুরআন, ১৮/৪২৭ পৃঃ; তায়সীরুল কারীমির রাহমান, পৃঃ ৪৭০।

[6]. ত্ববারী, জামেঊল বায়ান, ১৮/৪২৭ পৃঃ; ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩/৩৪ পৃঃ; তায়সীরুল কারীমির রাহমান, পৃঃ ৪০৭।

[7]. তায়সীরুল কারীমির রাহমান, পৃঃ ২৫৫।

[8]. জামেঊল বায়ান, ১২/২৮৩ পৃঃ; তায়সীরুল কারীমির রাহমান, পৃঃ ২৪৫।

[9]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ছহীহুল বুখারী, ‘লিবাস’ অধ্যায়, ‘জন্তুযানে পুরুষের পিছনে পুরুষের বসা’ অনুচ্ছেদ, ৭/৮৯ পৃঃ, হা/৫৯৬৭; ছহীহ মুসলিম, ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে-এর দলীল প্রমাণ’ অনুচ্ছেদ, ১/৫৮ পৃঃ, হা/৩০; আর শব্দ বিন্যাস বুখারীর হা/২৮৫৬, ৬৫০০।

[10]. ইমাম কুরতুবী, আল-মাফহূম লিমা আশকালু-মিন তালখীছি কিতাবু মুসলিম, ১/২০৩ পৃঃ; শরহু মুসলিম, ১/৩৪৫ পৃঃ; ইবনু তায়মিয়া, মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ১/২১৩ পৃঃ।

[11]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ছহীহুল বুখারী, ‘ছালাত’ অধ্যায়, ‘ঘর-বাড়ীতে মসজিদ তৈরি’ অনুচ্ছেদ, ১/১২৫ পৃঃ, হা/৪২৫; ছহীহ মুসলিম, ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থানসমূহ’ অধ্যায়, ‘কোন ওযরবশত জামা‘আতে শরীক না হওয়া’ অনুচ্ছেদ, ১/৪৫৫ পৃঃ, হা/৩৩।

Magazine